যেভাবে মানুষ টিকে থাকে

ফারজানা শারমীন সুরভি

নেভানো চুলার সামনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি। খাবার ফুরাতে ফুরাতে আর এক মুঠি চাল এবং খানিকটা ডাল বাকি। ঘরের ভেতরের মিনি ফ্রিজে ফ্রোজেন সবজি আছে কিছু। কিন্তু একবেলা খেলেই তাও শেষ হয়ে যাবে। অনলাইনে খাবার অর্ডার দেয়ার চেষ্টা করেছি অনেকবার। অর্ডার নিচ্ছে না! দোকানে যাওয়া দরকার। সাহস হচ্ছে না। আমার মতো বীভৎস চেহারার একজন রোগীকে দেখলে লোকে নির্ঘাত পিটিয়ে মারবে! অথচ কয়েক বছর আগেও এই মানুষগুলো অন্যরকম ছিল।

মনে আছে, গত বছরের শুরুর দিকে পুলিশ একজন কৃষ্ণাঙ্গ মানুষকে মেরে ফেলেছিল। কাঁপা হাতে চেক বইতে সিগনেচার করার সময়ে, তার হাত থেকে কলমটা পড়ে যায়। ক্যাশিয়ার লোকটির দিকে তাকিয়ে ঠাণ্ডা স্বরে বলে, “স্যার! এই চেক বইটা কি আপনার?”। লোকটির ভ্রূ কুঁচকে গিয়েছিল নিশ্চয়ই তখন! অথবা এই ধরনের সূক্ষ্ম বর্ণবাদে একজন আফ্রিকান-à¦†à ¦®à§‡à¦°à¦¿à¦•ান পুরুষ হিসেবে সে অভ্যস্ত ছিল। তাই হয়তো ম্লান হেসে বলেছিল, “চেকবইটা আমার। কিন্তু আপনি আমাকে এরকম প্রশ্ন করছেন কেন”? তারপরের ঘটনাটুকু কল্পনা করতে পারি না। ক্যাশিয়ার পুলিশ ডেকেছিল। শ্বেতাঙ্গ সন্দেহপ্রঠণতার চশমাতে আফ্রিকান-à¦†à ¦®à§‡à¦°à¦¿à¦•ান মাত্রই গ্যাং ভায়োলেন্স, ক্রিমিনাল, গরীব এবং সমাজের à¦…à¦ªà§à¦°à§Ÿà§‹à¦œà¦¨à§€à Ÿ বোঝা! কেউ একজন ভিডিও করেছিল পুলিশের সাথে লোকটির এনকাউন্টাঠ°à¥¤ সে একটু বাতাসের জন্য কাঁদছিল।
“আই কান্ট ব্রিদ, অফিসার”!
শ্বেতাঙ্গ দুইজন পুলিশ নির্বিকারঠাবে পা দিয়ে শক্ত করে তার গলা চেপে ধরেছিল! মানুষটা মরে গিয়েছিল! একটু বাতাসের জন্য আঁকুপাঁকু করতে করতে! পুলিশ দুইজন হয়তো ভেবেছিলো, এই ছোঁয়াচে মহামারীর আতংকের সময়ে দল বেঁধে প্রতিবাদ করার সুযোগ বা সদিচ্ছা হবে না কারো! কিন্তু মানুষ এসেছিলো। মাস্ক পরে, হাতে প্ল্যাকারৠড নিয়ে। সাদা মানুষ। কালো মানুষ। বাদামি মানুষ। রাগে কাঁপছিল তারা। কেউ একজন একটা ইট ছুঁড়ে মেরেছিল। ওয়ালমার্টৠর দরজা বরাবর। সেখান থেকে ভাঙ্গচুর প্রথম শুরু হয়। খুব দ্রুত পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণৠর বাইরে চলে যায়। তখনো প্রগতিশীল আর রক্ষণশীলদৠ‡à¦° সংঘাত সি এন এন কিংবা ফক্স নিউজে খুব গুরুত্বপূঠ°à§à¦£ খবর ছিল। তখনো মানুষের জন্য মানুষ কাঁদত। পুলিশের গুলির সামনে বুক পেতে দিয়ে তারা অবিচারের প্রায়শ্চিত ্ত করতে চাইত।

ডানপন্থীদৠর উত্থান নতুন কিছু নয়। গত কয়েক বছর ধরেই বর্ণবাদ, নারীবিদ্বৠষ, à¦œà§‡à¦¨à§‹à¦«à§‹à¦¬à¦¿à§Ÿà ¾, ইসলামি সন্ত্রাসবা দ, হিন্দুত্বব াদ, à¦‡à¦­à¦¾à¦¨à¦œà§‡à¦²à¦¿à¦•à à¦¯à¦¾à¦² খ্রিস্টানঠের গোঁড়ামি পৃথিবীর প্রতিটি দেশে ভিন্ন ভিন্ন মোড়কে বিক্রি হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় নীতিতে, ওয়াইট হাউজে, গণভবনে, আদালতে, আমার প্রতিবেশী বাড়িতে- সব জায়গাতে ওরা আছে। মাঝে মাঝে অফিসে যাওয়ার সময়ে বুকের মধ্যে ধুকধুক করত। সাবওয়েতে বিপরীত পাশে বসে আছে যে যাত্রী, সে কি আজকে আমাকে খুন করবে? ঠাণ্ডা নিরেট অন্ধকার চোখে তাকিয়ে বলবে, "গো ব্যাক টু এশিয়া"! অথবা কোন চাইনিজ নারীকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে বলবে, “ইউ বিচ! ফাকিং ভাইরাস স্প্রেডার! গো ব্যাক টু চায়না!” তখনো জানতাম না, এইসব সংঘাতের খবর একদিন গুরুত্ব হারাতে শুরু করবে! মহামারী আরো তীব্র আকার ধারণ করল। সে এক শরীর হিম করে দেয়া অসুখ!

খুব তাড়াতাড়ি সব কিছু বদলাতে শুরু করে। প্রথম দিকে ওয়ালমার্টৠমারামারি শুরু হয়ে যায়। খুব সামান্য একটা সুপের ক্যান, চিকেন ব্রেস্ট কিংবা চালের বস্তার মালিকানা নিয়ে। পুঁজিবাদী পৃথিবীর মানুষের জন্য সে এক নতুন অভিজ্ঞতা! ডলারের সবুজ কচকচে নোট পকেটে নিয়ে দোকানে যায় লোকে, কিন্তু খাবার নেই! শত ডলারের মিঙ্ক কোট ক্লজেটে রেখে, খাবারের জন্য হাহাকার শুরু হয়ে গিয়েছিল। কেউ কেউ ছুরি ধরে ছিনিয়ে খাচ্ছিল এক টুকরো পনির! কিন্তু তারপরেও কেউ কেউ ছিল। যারা এমপ্যাথিকৠবাঁচিয়ে রেখেছিল! স্রোতের উলটো পাশে দাঁড়িয়ে তারা চিৎকার করে যাচ্ছিল, “সব্বে সত্তা সুখীতা ভবন্তু”! গাইছিল-
“Imagine no possessions
I wonder if you can
No need for greed or hunger
A brotherhood of man
Imagine all the people sharing all the world!

You may say I'm a dreamer
But I'm not the only one
I hope someday you'll join us
And the world will be as one!”

ত্রাণ বিলি থেকে শুরু করে বিনা পয়সার মাস্ক বিতরণ; ওরা মানুষের জন্য মানুষের লড়াইয়ের ময়দানটা ছেড়ে দেয়নি তখনো। জীবনের তোয়াক্কা না করে, তারা বাঁচাতে চেয়েছিল সবাইকে। কিন্তু কতোদিন আর এইসব মানবতা টিকে থাকে! দুই বছর শেষ হয়ে যায়, কিন্তু মহামারী শেষ হয়নি।

পানীয় জলের অভাব দেখা দেয় একদিন। কল খুললে জল নেই, এই আশ্চর্য দুর্যোগে সবাই স্তম্ভিত হয়ে যায়! পৃথিবীর জল ফুরিয়ে আসছে, এ কথা গত পঞ্চাশ বছর ধরে শুনে আসছে মানুষ! কেউ বিশ্বাস করেছে। কেউ করেনি। যেহেতু কল খুললেই জল আসে, তাই এইসব জলবায়ু পরিবর্তনেঠগল্পকে একটি à¦…à¦ªà§à¦°à§Ÿà§‹à¦œà¦¨à§€à Ÿ আধা-সত্য হিসেবে ধরে নিয়েছিল। কেউ কেউ এইসব লিবারেলদেঠ° ‘হোক্স’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। না! জলের সমস্যা শেষ হয়নি! রাষ্ট্র তড়িৎ গতিতে আইন পাশ করে! পানির রেশনিং শুরু হয়। রাষ্ট্র ঠিক করে দিবে, তুমি কতোটুকু জল পান করবে! গণতন্ত্র একটি কিতাবী তত্ত্ব হয়ে যাচ্ছিল দিন দিন! কলমের এক খোঁচাতে প্রেসিডেনৠà¦Ÿ à¦à¦•à§à¦¸à¦¿à¦•à¦¿à¦‰à¦Ÿà ¿à¦­ অর্ডার সাইন করে যাচ্ছিল! একের পরে এক! মানুষের মুখে মাস্ক পরতে হত, মহামারি শুরুর পর থেকে। এইবার মানুষ জিহবাতে খাঁচা পরতে শুরু করল। ততোদিনে টিকে থাকার যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। একটু পানি- একটু খাবারের জন্য একজন আরেকজনের গলাতে ছুরি চালিয়ে দিতেও প্রস্তুত! শোনা যেত, ক্ষমতাবানৠরা এই সংকটের মধ্যেও বাথটাবে উষ্ণ পানি ভরে বাবল বাথ নিতেন! শ্বাসকষ্ট শুরু হলে, ডাক্তারের এপয়ন্টমেনৠট পাওয়া যেত না। মেডিক্যাল ভেন্টিলেটঠ° বরাদ্দের রাজনীতিতে আমাদের মতো মানুষ তলানিতে ছিল। প্রথমে ক্ষমতাবান এবং অর্থবানদেঠ° বাঁচাতে হবে। তারপরে à¦¶à§à¦¬à§‡à¦¤à¦¾à¦™à§à¦—à ¦à§‡à¦° পালা। সবশেষে কালো আর বাদামি মানুষ! বাইরে বের হলে বমি চলে আসত! লক্ষ লক্ষ কালো আর বাদামি লাশের তীব্র পচা গন্ধে। বাজারে যাওয়ার জন্য বের হয়ে লাশের চোখের দিকে তাকাতাম না। চোখে চোখ পড়লেই মুশকিল! মস্তিষ্কেঠ° কোন এক কোণে যদি এখনো মানুষকে বাঁচানোর তীব্র তাড়না লুকিয়ে থাকে, তবে রাতে ঘুম হবে না। অন্য অনেকের মতো হয়তো মাথা বরাবর পিস্তল ধরে এই পাপের প্রায়শ্চিত ্ত করতে ইচ্ছা হবে। কেউ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হয় না এখন! ভাইরাসটা কুড়ে কুড়ে মানুষের মাংস খায়। সে বড় ভয়ংকর মৃৃত্যু! তবু কেউ কেউ বের হয়েছিল। হয় ক্ষুধায় মৃত্যু, না হয় ভাইরাসে মৃত্যু। রাশিয়ান রুল্যাটের মতো এক বিপজ্জনক খেলা খেলছে সবাই।

দোকানের ফ্রিজারে মাছের তাক খালি এখন। শিশুদেরকে মাছ চেনাতে হলে, ইংরেজি বই খুলে 'ফিশ' দেখাতে হয়। এতো দূষিত পানি, মাছের লাশ মানুষের লাশের পাশে ভেসে উঠে! আমাদের মতো ছোটলোকের বাচ্চারা, মহামারীতে মশা-মাছির মতো মুখ থুবড়ে মরছিল। দার্শনিকেঠ° মতো তখন একদিন আমার স্বামীকে প্রশ্ন করেছিলাম, “যদি আর মাত্র কয়েকজন মানুষ থাকে, তখন মানুষ কোথায় দাঁড়াবে! কার পাশে বসবে! ছোটলোকেরা যদি আর ফিরে না আসে, মহামারীর পরে ক্ষমতাবানৠরা কার রক্ত খেয়ে বছরের পর বছর ধরে বেঁচে থাকবে?” এইসব দার্শনিক প্রশ্নের উত্তরে ভ্রূ কুঁচকে তাকিয়েছিল আমার স্বামী। কোন উত্তর দেয়নি। লক ডাউনের পরের কয়েক মাস আমরা যেন একজন আরেকজনের শত্রূতে পরিণত হয়েছিলাম। এরপর হাই পাওয়ার ড্রাগসের পরবর্তী প্রতিক্রিৠার মতো আমাদের সম্পর্কে অবসাদ নেমে আসে। নীরবতা হয়ে গিয়েছিল একমাত্র ভাষা। আমাদের গল্পে কোন কথা থাকে না। শুধু ভ্রূ কুঁচকানো। শুধু প্রেমহীন চোখ! ডিভোর্সের মতো প্রাতিষ্ঠা নিক প্রক্রিয়াঠজন্য দৌড়াদৌড়ি করা তখন বিলাসিতা মাত্র! আমার কন্যার বয়স দশ। তাকে অস্তিত্বেঠ° সংকটে ফেলতেও ইচ্ছা করেনি।

গত তিন মাস ধরে একা একা এই এপার্টমেনৠটে আছি। ছুটির দিনে বিছানাতে গড়াগড়ি করা আমার প্রিয় কাজ ছিল একসময়। এইসব এখন প্রাচীনকাঠ²à§‡à¦° কোন অবাস্তব মিথ মনে হয়! মেরাজের ঘোড়া কিংবা হনুমানের লেজের আগুনের মতোন! অথচ আমার স্বামী ছিল। একজন কন্যা ছিল। পরিবার নামের প্রতিষ্ঠান ে প্রবল বিশ্বাস ছিল। তারপরে একদিন ভাইরাসটা আমার শরীরে ঢুকে পড়ে। আমাকে একটা জানালাহীন রুমে প্রায়-বন্দঠকরে রাখা হয়। কেননা আমি তখন জীবন্ত ভাইরাসে রূপান্তরিঠহয়েছি! প্রথম প্রথম আমার স্বামী অস্থির হয়েছিল। আমার কলিজার টুকরা দশ বছরের মেয়েটা কেঁদে কেঁদে আম্মুকে ডাকছিল। কিন্তু ঐ যে বললাম, শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই টিকে থাকতে চাই। পুত্র-কন্যঠ¾-স্ত্রী-স্ব ¦¾à¦®à§€-পিতা-মাঠ¤à¦¾à¦° জীবনের বিনিময়ে হলেও! তাই এক সকালে আমার স্বামী দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আমাকে বলল, আমাদের কন্যার নিরাপত্তার জন্য হলেও আমার কোথাও চলে যাওয়া উচিত! অথচ মহামারীর শুরুর দিকে সে আমাকে বলেছিল, মরলে সবাই একসাথে মরব! অসুখের প্রথম ধাপে ছিলাম আমি। প্রবল শ্বাসকষ্টৠর মধ্যে মনে হচ্ছিল, আমার হ্যালুসিনৠশন হচ্ছে। এই মানুষটার সাথে পনের বছর সংসার করেছি! à¦­à¦¾à¦²à§‹à¦¬à§‡à¦¸à§‡à¦›à ¦¿à¥¤ তার সন্তান পেটে ধরেছি! ব্রেকফাস্ঠŸà§‡ তার প্রিয় প্যানকেক বানিয়ে দিয়েছি। পরিবার নামের প্রতিষ্ঠান তবে এত ঠুনকো! এত নড়বড়ে!

আমি চলে এসেছিলাম। চলে আসা ছাড়া অন্য উপায় ছিল না অবশ্য! সরকার থেকে আমাদের মতো মানুষদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য কিছু বাড়ি বরাদ্দ হয়েছে। সেরকম এক পরিত্যাক্ঠবিল্ডিং-এ আমার জায়গা হয়। এই বিল্ডিংটা আগে ইউনিভার্সঠ¿à¦Ÿà¦¿à¦° ডর্ম ছিল। এখানে বিশ-বাইশ বছর বয়সী তরুণ তরুণীরা রাত-বিরাতে উদ্দাম গান বাজিয়ে নাচত। ফাইনাল পরীক্ষার সময়ে ঊর্ধশ্বাসৠসিলেবাস শেষ করার জন্য মরিয়া হয়ে যেত! এইসব কি সত্যিই ঘটেছিল কোনদিন! আমার কেন যেন বিশ্বাস হতে চায় না! এখন একদা-প্রাণঠ¬à¦¨à§à¦¤ এই বিল্ডিং-এ আমার মতো আধা মানুষ- আধা পশুদের বাস। অবশ্য এখন কি মানব সম্প্রদায়ৠর সবাই একেকজন পশু নয়? সভ্যতার মুখোশ-টুখো ¦¶ সব খসে পড়ছে। যেমন করে অসুখের দ্বিতীয় ধাপে, আমার মাংস খসে খসে পড়ছে।

দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে কেউ। পিপহোল দিয়ে তাকালে, বাইরে অল্পবয়স্ক একজন মেয়েকে দেখি। মেয়েটিকে দেখে মনে হচ্ছে, ভারসাম্য বজায় রাখতে তার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। তার মুখ হা হয়ে আছে। গলার মধ্যে ঘড়ঘড় শব্দ হচ্ছে।
“কী চাই?” রুক্ষ স্বরে বলি। মানুষের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয়, ভুলে গিয়েছি কবেই!
“পানি। একটু পানি।”
মেয়েটির আকুতিতে আমার মন ভিজে না! নীরব হয়ে যাই। সে দরজায় ধাক্কা দিয়েই যেতে থাকে। সময়ের সাথে সাথে ধাক্কার আওয়াজ মিইয়ে যায়। অপেক্ষা করি, শব্দটা পুরোপরি থেমে যাওয়ার। যতো তাড়াতাড়ি দম আটকে এই আপদটা মরবে, ততো ভালো! পানি আমি দিতে পারব না। আর মাত্র এক লিটার পানি আছে আমার কাছে। মেয়েটি থামে না। হা করে শ্বাস নিতে নিতে, ফিসফিস করে বলে, “প্লিজ, পানি। একটু পানি। এক চুমুকের বেশি আমি পানি খাবো না। কথা দিচ্ছি”!

আমার মন খারাপ হয়। মস্তিষ্কেঠ° কোন এক কোণে কি এখনো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তীব্র তাড়না লুকিয়ে আছে? নিজেকে বুঝাই, এ তো এমনিতেই মরে যাবে! এরকম একজন সাব-হিউম্যঠ¾à¦¨ স্পেশিসের বেঁচে থাকার চেয়ে আমার বেঁচে থাকাটা দরকার। তখন আমি ঘরে পড়ার ট্রাউজার আর গেঞ্জিটা খুলে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াই। এখন আমার নগ্ন শরীর দেখা যাচ্ছে। অসুখের তৃতীয় ধাপে মাংসের ফাঁকে ফাঁকে পোকা দেখা যায়। তৃতীয় ধাপ কি শুরু হয়ে এলো? মানুষের বেশভূষা খুলে-টুলে, চার হাত-পায়ে হামাগুড়ি দেয়া শুরু করি আমি! বাইরে মেয়েটির গলার স্বর ধীরে ধীরে বুজে আসছে। আর তখন ঘরের ভেতরে আমি নিজেকে একটা পশু হিসেবে কল্পনা করছি। হামাগুড়ি দিতে দিতে বাটি থেকে পশুদের মতো চুমুক দিয়ে পানি পান করি। মানুষ হওয়ার বড় যন্ত্রণা! মানুষ হলে, মানুষের পাশে না দাঁড়ালে পাপবোধ হয়! আমি সজ্ঞানে তাই পশু হওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। পিরামিডের সূঁচালো মাথায় দাঁড়ানোর কসরত করব আমি। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত! পিরামিডের নীচের দিকে যারা দাঁড়িয়ে আছে, তারা মরে যাক! আমি তাদের ঘাড়ে পা দিয়ে হলেও বেঁচে থাকব! হয় আমি মানুষকে খাবো, না হয় মানুষ আমাকে! তবু টিকে থাকতে হবে!

ঘর জুড়ে পশুর মতো হামাগুড়ি দিতে দিতে হিসহিস শব্দ করি। আর ক্ষমা করে দেই আমার স্বামীর স্বার্থপরত া!