একাকিত্ব — আত্মবিচ্যুত মানুষের রক্তগীতিকা

অশোক দেব

সেই বৃক্ষের কথা ভাবি। সুখসাগর জলার মাঝখানে সে দাঁড়িয়ে থাকত। ছোটো একটা ডাঙা, সে ছাড়া আর কেউ নেই। বর্ষায় নাচন-নাচন জল তার পদতলে ঢেউ সমর্পণ à¦•à¦°à§‡à¥¤à¦¹à§‡à¦®à¦¨à§à ¤à§‡ কেটে নেওয়া ধানের মস্ত à¦à¦•à¦¾à¦•à¦¿à¦¤à§à¦¬à§‡à ° মধ্যে সে দাঁড়িয়ে থাকত। দূর হতে দেখতাম। হয়তো পিতার সঙ্গে অভিমান করে অস্থায়ী গৃহত্যাগ করেছি। তখন জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে কেবল নীরবতা যাতায়াত করত। অতসব গাড়িঘোড়া ছিল না। ঘামের গন্ধ ফেলতে ফেলতে চলে যেত সাইকেল চালক কিংবা রিকশাওয়ালঠ¾à¥¤ টুংটাং বেজে চলত ঘণ্টি। ঘণ্টি মাত্রই নিজে বাজে। রিকশায় লাগানো কেরোসিনের বাতিটি আলো কম বিষাদ ছড়াত বেশি। আমি ওই দূরের বটবৃক্ষের কাছে কত কী নালিশ করতাম। অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকার কারণে সে নিকট হয়ে উঠত। যেন তার পাতার নাচন দেখতে পেতাম। অনেকক্ষণ বসে থাকতাম। অনেকক্ষণ। ধীরে মন শান্ত হয়ে যেত। আকাশের অস্তানুষ্ঠান শুরু হলে দেখতাম রঙের চড়কমেলা। এক রং অন্যকে অভিবাদন করে, আলিঙ্গন করে। নিজেদের একেবারে মিশিয়ে ফেলে অন্ধকার হিসেবে পুনর্জন্ম নেয়। তখন ফিরে আসি। মনের মধ্যে কে যেন গান করে। অপূর্বরচিঠ¤, অপূর্বগীত সেই গান আমি নিজেকে শোনাই। অভিমান উবে যায়, আমি আর গান মিলে দুইজন হই, আমি আর একাকী থাকি না।
এই যে প্রাচীন বৃক্ষটি। এই যে à¦†à¦²à§‹à¦•à¦¯à¦œà§à¦žà§‡à ¦° আকাশ। এই যে পথিকবিরল পথ। এরা একা? তাহলে ‘আমি কেন এমন একাকী? তবু আমি এমন একাকী’। এ দুটি পঙ্‌ক্তি সেই কবির ‘নির্জনতাঠকবি’ বলে যার অভিধা জুটেছিল। বাংলা কবিতায় à¦à¦•à¦¾à¦•à¦¿à¦¤à§à¦¬à¦•à ‡ অত করুণ সুরে আর কেউ বাজাননি।
কিন্তু কী এই একাকিত্ব? কী তার পরিচয়? এই ‘একাকিত্ব⠙ শব্দটির জন্মই-বা কবে। ইংরেজিতে দেখলাম, loneliness শব্দটির ব্যবহার ১৮০০ সালের আগে বিরল। প্রায় নেই। ১৬০০ সালের আশেপাশে lonely শব্দটিকে দেখা যায়। কিন্তু সেটা আজকের একাকিত্ব নয়। আজকের à¦à¦•à¦¾à¦•à¦¿à¦¤à§à¦¬à¦•à ‡ বলা হচ্ছে ‘একুশ শতকের কুষ্ঠ’। অর্থাৎ একটা কঠিন ছোঁয়াচে রোগ। একটা মহামারি, নিজেই। এই করোনাকালে যে একাকিত্বে আমরা বাস করছি, সেই করোনার থেকে বয়সে প্রাচীন এক মহামারি নিয়ে কথা বলতে বসেছি— একাকিত্ব। আবার যদি সেই নির্জনতার কবির কাছে যাই? ‘মাথার ভেতরে এক বোধ জন্ম লয়’। ‘মড়ার খুলির মতন আছাড় মারিতে চাই’। ‘আমি তারে পারি না এড়াতে’। কী সে? এর জবাব কি অনেক পরে আমেরিকা থেকে পাব আমরা? সে আরেক একাকীর কাছ থেকে? সিলভিয়া প্লাথ। করুণ এক কবি। à¦à¦•à¦¾à¦•à¦¿à¦¤à§à¦¬à§‡à ° মার জীবনভর সইতে সইতে শেষে আত্মহত্যা করলেন। ২০১৭ আর ২০১৮ সালে দুই খণ্ডে তাঁর চিঠিগুলো প্রকাশিত হয়। মায়ের কাছে লেখা, পত্রমিত্রৠর কাছে লেখা, ধাত্রীর কাছে লেখা এবং মনোচিকিৎসঠ•ের কাছে লেখা। সেইসব চিঠির একটিতে বলছেন ‘I am so lonely, this single room is so lonely’. à¦à¦•à¦¾à¦•à¦¿à¦¤à§à¦¬à§‡à ° ‘বোধ’ সিলভিয়ার ভাষায়, উঠে আসে ‘from the vague core of the self – like a disease of the blood’. তাহলে এ এক অজানা রোগ? দুজন একাকী মানুষ, একজন ১৯২৯ সালের আশেপাশে যাকে ‘বোধ’ বলতে চাইছেন, তাঁর থেকে বহু পরে এসে এক আমেরিকান কবি তাকে রোগ বলছেন? তাহলে একাকিত্ব আসলে কী?
১৬০০ সালে রচিত একটি অভিধানে lone শব্দটি আমরা পাই। কিন্তু বাংলা ‘একাকিত্ব⠙ শব্দটি হরিচরণ বন্দ্যোপাঠ্যায় রচিত বঙ্গীয় শব্দকোষে এখনও নেই। নেই। নেই জ্ঞানেন্দৠরমোহন দাসের ‘বাঙ্গালা ভাষার অভিধানে’ও ¥¤ কারণ সে ছিল না। যে গাছ দেশে জন্মায় না, তার নাম কী করে রাখবে মানুষ? সংস্কৃতে ‘কৈবল্য’ আছে কিন্তু সেই শব্দের কেন্দ্র ও পরিধি ভিন্ন। নিঃসঙ্গ শব্দটি কি ছিল না? ছিল না নির্জন? ইংরেজিতেও অনুরূপ অর্থবাহী শব্দ ছিল, বাংলাতেও আছে। সেসবের অর্থ ঠিক ‘একাকিত্ব⠙ নয়। ‘নিঃসঙ্গ’, ‘নির্জন’ প্রধানত শারীরিক, সামাজিক, আধ্যাত্মিঠ। কিন্তু একাকিত্ব মনোশারীরিঠ•, তারপর বাকি সব।
এখন রাত্রিকালॠএকটা সবুজ রঙের আলো আছে বাইরে। আগামীকাল পূর্ণিমা। মেঘের রঙের সঙ্গে চাঁদের জোছনা মিশে শ্যামল হয়েছে। বারান্দায় বসে বাইরে তাকিয়ে আছি। আমাদের বাগান নেই। যে যেমন জন্ম নিয়েছে তেমনি কিছু গাছ আছে।বেশ অনেক। তারাও আলোকের মধ্যে নিজেদের সবুজ à¦®à§‡à¦¶à¦¾à¦šà§à¦›à§‡à¥¤à †à¦®à¦¿ নিঃসঙ্গ, নির্জন। যার যার ঘরে শুয়ে আছেন মা, পুত্র, স্ত্রী, বাকি পরিজন। একটু আগে কথা হল তমাল ও মেঘ অদিতির সঙ্গে। আরো কিছু ফোন এসেছিল, ধরিনি। এখন কি গান শুনব? কিন্তু এই লেখাটা তো লিখে শেষ করতে হবে।
গানের কথা ভাবতেই মনে এল এলানর রিগবিকে। সেই বিখ্যাত গান, বিটলস। সেখানেই হয়তো প্রথম জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল,
‘All the lonely people
Where do they all come from?
All the lonely people
Where do they all belong?’
এই গানটা কবে লেখা হয়েছিল। একটু ঘাঁটতেই দেখলাম, ঠিক ১৯৬৬ সালে লেখা হয়েছিল এ গান। আমার জন্মের তিন বছর আগে। এর আগে এই জিজ্ঞাসা জাগেনি কোনও শিল্পীর? কোথা হতে আসে এইসব একাকী মানুষ? তারা কাদের? বাংলা কোনও গান আছে এমন? ঠিক, মান্না দে। ‘আমি আজ আকাশের মত একেলা’। কত সাল? জানি না, অনুমান সে-ও গত শতকের ছয়ের বা সাত দশকের কোনো সময়ে হবে। এঈ সময়টা থেকেই একাকিত্ব মহামারির রূপ নিতে শুরু করে সমাজে।
একেলা, বললেই মনে আসে তিনজন মানুষকে। জীবনানন্দ, সিলভিয়া প্লাথ আরও দূর ভিনসেন্ট ভ্যান ঘঘ। এঁদের জীবনে কী মিল! নিদারুণ à¦à¦•à¦¾à¦•à¦¿à¦¤à§à¦¬à§‡à ° শিকার সকলে। সকলের সারাজীবনেঠ° কাজে অসাধারণ মৌলিকতা। সঙ্গলোভে চিঠি বা ডায়েরি লেখা আর শেষে অস্বাভাবিঠমৃত্যু। তাঁরা কোথা হতে এলেন, কোথায় তাঁরা বিলং করেন?
ঘঘের জন্ম ১৮৫৩ মৃত্যু ১৮৯০। জীবনানন্দ ১৮৯৯ সালে জন্মান, মৃত্যু হয় ১৯৫৪ সালে। প্লাথের জন্ম ১৯৩২ সালে। মারা যান, ১৯৬৩ সালে। তাহলে এটা কি ঠিক — অষ্টাদশ শতাব্দীতেঠ‡ à¦à¦•à¦¾à¦•à¦¿à¦¤à§à¦¬à§‡à ° জন্ম, যা একুশ শতকে এসে মহামারির রূপ নিয়েছে আজ? ঠিক। সত্য। সমাজতাত্ত্ বিক, চিকিৎসাবিঠ্ঞান এবং সংস্কৃতির ইতিহাসবিদ সকলে এই সময়টাকে à¦à¦•à¦¾à¦•à¦¿à¦¤à§à¦¬à§‡à ° জন্মকাল বলে চিহ্নিত করেছেন।
নিঃসীম à¦à¦•à¦¾à¦•à¦¿à¦¤à§à¦¬à§‡à ° কথা এর আগে সাহিত্যেও তেমন পাইনি আমরা। হ্যামলেটেঠ° দীর্ঘ সলিলকিতে বেদনার এমন ব্যক্তিগত রূপ আমরা পাই না। আত্মহত্যাঠকথা ভাবছে বটে সে, কিন্তু সেটা ঈশ্বরের দ্বারা অনুমোদিত নয় বলে বাদ দিচ্ছে সেই ভাবনা। আর যে à¦à¦•à¦¾à¦•à¦¿à¦¤à§à¦¬à§‡à °, নিজের সঙ্গে নিরন্তর কথা বলার আধুনিক রূপ, সেটা হ্যামলেটেঠ° সলিলকিতে নেই। তাহলে? আচ্ছা যক্ষের একাকিত্ব তবে কী? বিরহকাতর যক্ষও তো একপ্রকার চিঠিই লিখছে। যেমন লিখেছেন ভ্যান ঘঘ, জীবনানন্দৠর ডায়েরি কিংবা সিলভিয়া লিখছেন মনোবিদের কাছে। কিন্তু মেঘদূতে যক্ষ একাকী হলেও একাকিত্ব তার সমস্যা নয়। রামগিরি পর্বতে একাকী যক্ষের অনেক পরে আমরা আরেকজন একাকী মানুষকে পাব। ইংরেজি সাহিত্যে। রবিনসন ক্রুশো। ‘ফ্রাইডে’ ¦•ে পাবার আগে পর্যন্ত মানুষ হিসেবে ক্রুশো বিচ্ছিন্ন একটা দ্বীপে একেবারে একা। কিন্তু যে à¦à¦•à¦¾à¦•à¦¿à¦¤à§à¦¬à§‡à ° হাতে খুন হয়ে যান সিলভিয়া, তা তো ক্রুশোকে আক্রমণ করল না। অত ভিড়ে থেকেও সিলভিয়া à¦à¦•à¦¾à¦•à¦¿à¦¤à§à¦¬à§‡à ° শিকার আর সত্যকার একা থেকেও ক্রুশো তা নয়? সত্য যে, ক্রুশো ডিফোর কল্পনাপ্রঠূত চরিত্র, প্লাথ বাস্তব। হলেও, ডিফোর মাথায় à¦à¦•à¦¾à¦•à¦¿à¦¤à§à¦¬à§‡à ° অপশনটি আরোপ করবার চিন্তা তো এল না।
মজার কথা হল, এই সেদিন সম্ভবত, ২০০০ সালে একটি ছবি হয় আমেরিকায়। ‘Castaway’। এর উৎস ডিফোর রবিনসন ক্রুশো। কিন্তু â€˜à¦•à¦¾à¦¸à§à¦Ÿà¦à¦“à§Ÿà ‡â€™ তে দেখা গেল একাকী নায়ক একটা ভলিবলে রক্তাক্ত একটি মুখচ্ছবি এঁকে তার নাম রাখল ‘উইলসন’। আর এই উইলসন আসলে একটা ক্রীড়াসামঠ—à§à¦°à§€à¦ªà§à¦°à¦¸à§à¦¤à §à¦¤à¦•ারী কোম্পানি। ছবিটি জনপ্রিয় হলে তারা উইলসন নামে একটা বলও বিক্রি করতে শুরু করে। তাতে সেই মুখটা আঁকা। এইখান থেকে একাকিত্ব নিয়ে আমাদের আড্ডাটা পাল্টে যাবে।
যদিও এই কথাটি বলতে অতকিছু বলবার দরকার ছিল না — ‘একাকিত্ব⠙ নামক মহামারিটি আসলে আধুনিকতার পার্শ্বফল — তবু বললাম কারণ, প্রতি তিনজন বন্ধুর মধ্যে দুজন এতে ভোগেন দেখতে পাই। আমি নিজে ভুগেছি। মনোবিদের কাছে গিয়েছি। এই আধুনিক সমাজ আমাদের কী দিয়েছে? যন্ত্র, শিল্পোদ্যৠগ আর বাজার। আমাদের à¦…à¦¸à§à¦–à¦¬à¦¿à¦¸à§à¦–à “ এই হাঁ-মুখ বাজারের কাছে পণ্য। এই সমাজ আসলে সিলভিয়ার ‘বেলজারে ঢাকা পৃথিবী’।
‘তবু কেন এমন একাকী?
তবু আমি এমন একাকী।‘
এই প্রশ্ন এবং à¦¸à§à¦¬à§€à¦•à¦¾à¦°à§‹à¦•à §à¦¤à¦¿à¦¤à§‡ আসার আগে কবি কী বলছেন? বলছেন—
‘সহজ লোকের মতো কে চলিতে পারে।
কে থামিতে পারে এই আলোয় আঁধারে
সহজ লোকের মতো; তাদের মতন ভাষা কথা
কে বলিতে পারে আর; কোনো নিশ্চয়তা
কে জানিতে পারে আর? শরীরের স্বাদ
কে বুঝিতে চায় আর? প্রাণের আহ্লাদ
সকল লোকের মতো কে পাবে আবার।
সকল লোকের মতো বীজ বুনে আর
স্বাদ কই, ফসলের à¦†à¦•à¦¾à¦™à§à¦•à§à¦·à¦¾à ¦¯à¦¼ থেকে,
শরীরে মাটির গন্ধ মেখে,
শরীরে জলের গন্ধ মেখে,
উৎসাহে আলোর দিকে চেয়ে
চাষার মতন প্রাণ পেয়ে
কে আর রহিবে জেগে পৃথিবীর ’পরে?’’
সহজ নেই আর মানুষ। এই যন্ত্রসভ্য তা আমাদের প্রথমেই জটিল করে দিয়েছে। শরীর থেকে মাটির গন্ধ কেড়ে নিয়েছে। যৌনতা, বিবাহ, প্রেম পরকীয়া সব জটিল হয়ে গিয়েছে। আর ডিজিটাল বিপ্লব আমাদের একেবারেই ঘরে বন্দি করে দিয়েছে আজ। আমরা নিসর্গচ্যৠত।
জীবনানন্দ তাঁর à¦°à§‚à¦ªà¦¸à§€à¦¬à¦¾à¦‚à¦²à ¾ থেকে বিচ্যুত। প্লাথ তাঁর আধাশহর থেকে বিচ্যুত। ঘঘও বারবার বিচ্যুত। আজকের মানুষ জন্ম ও à¦•à§ˆà¦¶à§‹à¦°à¦•à¦¾à¦²à§€à ¦¨ নিসর্গ থেকে বারবার বিচ্যুত হয়। কেবল নগরের দিকে ছোটে। কিংবা নগর ছুটে আসে তাদের কাছে। যে নৈসর্গিক সঙ্গ à¦à¦•à¦¾à¦•à¦¿à¦¤à§à¦¬à¦•à ‡ আন্দময় করে তোলে, সে নেই আর। তাই, যে আকাশকে আমার এই ২০২০ সালে একেলা মনে হয় না। আলো আর রঙের উৎসব বলে মনেহয়, তাকে ‘আধুনিক গানে’র গীতিকার একেলার উপমা করে কেন বলেন, ‘আমি আজ আকাশের মত একেলা’? কারণ আমার আকাশ বিশাল, বিস্তৃত এখনও। এখনও আমার আকাশ বহুতলের ফাঁক দিয়ে আমার দিকে উঁকিঝুঁকি দেয় না।আমি নিসর্গচ্যৠত নই। তবে যে আমিও মনোবিদের কাছে গেলাম? কারণ ‘একাকিত্ব⠙ ছোঁয়াচে। এমন যে, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতৠগ্রেট ব্রিটেন ‘Mninister of Loniless’ তৈরি করে। জো কক্স ছিলেন এই দফতরের প্রথম মন্ত্রী। à¦à¦•à¦¾à¦•à¦¿à¦¤à§à¦¬à¦•à ‡ মহামারির মতন করে বিচার করেছে তারা। তাই আধাশহরবাসৠআমাকেও নাগরিক রোগে আক্রমণ করে কিংবা আমিও সংক্রমিত হই। কারণ,আমরা আজকাল সহজে আত্মবিচ্যৠত হই। আশা করি। বিবাহের কাছে, সমাজের কাছে, বন্ধুর কাছে আমাদের আশার অন্ত নেই। আশাহত হই। পিতার কাছে আশাহত হয়ে গিয়ে সুখসাগর জলার কাছে বসি। কিংবা, আমরা অতীতচারী হয়ে পড়ি। আর নস্টালজিক হয়ে পড়াকে একাকিত্ব সংক্রমণের প্রথম উপসর্গ বলে চিহ্নিত করেন অনেক মনোবিদ। আত্মবিচ্যৠত মানুষের অন্তর একেবারেই শুকিয়ে যেতে থাকে।ভারি হয়ে যায়। শেষে এই দেহ, যেটার ভেতরে শুকনো একটা অন্তর তাকে শেষ করে দিয়ে ভাবি, যাক বাঁচা গেল। কিন্তু মৃতেরা কি ভাবতে শিখেছে?
তাহলে? আরেকরকম একাকিত্ব আছে। ভাবনা করবার একাকিত্ব। Solitude. এই শব্দের সঠিক বাংলা আমি জানি না। একান্ত? আমাতে শেষ। আমি একজনেই অন্ত। সেই একান্তে বসেই ভগবান বুদ্ধ আবিষ্কার করেন অন্তহীন জরার থেকে মুক্তির উপায়। তারও আগে উপনিষদ ভাবিত ও রচিত হয়। ভগবান মুহম্মদের কাছে আসেন ঐশী কোরআন। ভগবান যিশু পান প্রেমের বারতা। রবীন্দ্রনঠথ পান মানসী লেখার ছন্দরূপ। তাঁরা আত্মসম্পৃঠ্ত হতে à¦ªà§‡à¦°à§‡à¦›à¦¿à¦²à§‡à¦¨à ¥¤ আধুনিকতা আমাদের দিয়েছে আত্মবিচ্যৠতির নানাহ উপায়। আমরা তাদের দ্বারাই একাকিত্বে সংক্রমিত হই।
এই মহামারিকাঠে আমাদের জোর করে একাকী করা হয়েছে। এখন সুযোগ ছিল, আত্মসম্পৃঠ্ত হবার। আমরা কেন সেই সুযোগ না নিয়ে, ডিজিটাল সমাজ বানিয়ে সেই সশব্দ হাহাকার দিয়ে à¦à¦•à¦¾à¦•à¦¿à¦¤à§à¦¬à¦•à ‡ প্রচার করছি? একান্তে বসে এই আমার জিজ্ঞাসা।

(যখন ভুগছিলাম, তখন একাকিত্ব নিয়ে খুব ঘাঁটাঘাঁটি করেছি। পড়েছি। নিজেকে সামলেছি। সেইসব পাঠ এ লেখাটায় কাজে এসেছে)