খুঁত

সুমী সিকানদার

তুমি ছিলে কনিষ্ঠা। অর্থাৎ কিনা ছোটবউ। যিনি মালাবদল করে তোমায় এনেছিলেন তিনি গুচ্ছের তাড়াহুড়ায় চলে গেছেন। চলে গেছেন অনেকেই যারা মুখ ফিরিয়ে ছিলেন। এ জীবন তাদের নিয়ে গেছে সময় মতোই, যে সময় আগের থেকে জানান দেয় না কোনও রাশি চক্র।

সেবার যেদিন তুমি এলে মেরুনকাতান শাড়িতে। অল্প গহনা। নাকে মুক্তোদানা। তুমি লাজনম্র পরিনীতা। আমাকে শেখানো হল তোমার নাম মনিমা। আমিও পেলাম জ্যান্ত বউ। নড়াচড়া করে। রোজ সন্ধ্যায় সাদা টুথপেস্ট আর চিকনকাঠি দিয়ে কপালের চারিপাশ সাজাতে বসি। আমার খেলার বউ পুরোন হয় না। মনিমা রাগও হয় না।
তোমার জগত ছিল দুইভাগে সমান ভাগ । একভাগ সারাদিনের চাকরি আর পরের ভাগ আমাকে নিয়ে দুনিয়ার গিন্নি বান্নি কাজ। আমাকে নিয়ে মানে আমি তোমার লেজে লেজে। যতটুকু সময় পাওয়া যায়। কতটা তোমার রান্না ঘরের কাজ। কিছুটা সময় গান ছেড়ে দিয়ে ফাঁকা ঘরে ঘুরে ঘুরে নাচ। আমিও ফ্রিল দেয়া ফ্রক পরে খাটের উপরে ঘুরে ঘুরে নাচ করতাম। পড়ে যাবার আগেই তুমি কোলে তুলে নিতে। তোমাকে হাসি মুখ ছাড়া দেখিনি। এভাবে কটা বছরের ধাই ধাই পলায়ন।

এক সময় অনেক রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল বৃষ্টিতে বুঝি, তোমাকে দেখেছি খুব শান্ত ভাবে কাঠের দোলানায় একা দুলছো। জানালার পাশে পামট্রি মাথা নাড়ে বাতাসে। তার গায়ে বৃষ্টিছঁট। তুমি একা শুস্ক চোখে পানসে মুখে। মুছে নেয়া হয়েছে নোনাজল। হাতে একটা ব্রাউন ছোট বোতল। পুরোটাই খালি। এই খালি বোতল দেখেছিলাম তোমার ঘরেও। এই সিরাপটার নাম ছোটবেলা থেকে কখনও ভুলিনি। এই সিরাপের কারণেই যত্নে গড়া ঘর তোমার নিমেষে হাওয়াই মিঠাই হয়ে গেল। একসন্ধায় শেষ হওয়া সম্পর্ক পরের সকালে পুরাই উধাও। যেন কেউ চেনে না তোমাকে। ভুলেও নাম নেয় না তোমার। আদৌ তুমি ছিলে কি আমাদের দোলনাটায়! তোমাকে আর জীবিত কিংবা মৃত কোথাও দেখলাম না।

ছোট আমি তখন আর খেলার সাথি পেলাম না । ফের একা হয়ে গেলাম জন্মমুহূর্তের মতো। টবে লাগানো টাইম ফুল, বেলী, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকাগুলোকে আমিই পানি দিতাম। শিখে নিয়েছিলাম কিভাবে ডুমো করে কাটা সামান্য হলুদ লবনে মেখে ডুব দিয়ে তেল মেখে উঠে আসে আলুর কিউব। উপরে টেস্টিং সল্ট দিতে হয় আরো স্বাদ হয় তাতে। রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর জন্য টেস্টিং সল্ট আছে। কিন্তু সম্পর্কের স্বাদ একবার তেতো হয়ে গেলে আর বাড়ে না কোনও চিনিতে। তুমি তেতো হয়ে গেলে বাসার সবার কাছে।

দেয়ালে পিঠ যার ঠেকে একা সেই বোঝে সে বাঁচতে চায় না বাঁচাতে।
বিয়ের পর থেকে তোমার দোষের সীমা ওজনের দাঁড়িপাল্লা নেই।তোমার নাম জিপ্তা । এটিও দোষের নাম। নাম হবে মাইশা , আয়েশা , রেহনুমা । তা না জিপ্তা। এটা কোন ভদ্র ঘরের মেয়ে নাম? হিন্দু হিন্দু গন্ধ। বেচারা তোমার বাবা মা আর বুঝি নাম খুঁজে পায়নি । তোমার ছোটবোনকে তাদের পছন্দ ছিলো। তার নাম বিপাশা। তাও ভালো নদীর নাম। কিন্তু বোন বুদ্ধি করে আগেই তার ক্লাসমেইটের সাথে পালিয়ে বিয়ে করায় তোমাকেই আসতে হলো আমাদের বাড়ির বউ হয়ে। এও বড় দূর্বিপাক।
তুমি যেন ঠিক বউটি নও। তুমি উড়নচন্ডী । তোমার রুটি তেড়াবেকা আর তুমি তাই নিয়ে মোটেই চিন্তিত নও। পোলাও-রোস্ট পারো না। ডালের বড়ি, চালকুমড়োর মোরব্বা দিতে জানো না। সেবা করো না শশুর- শাশুড়ির। তারা চুড়ান্ত আশা করে বিদ্বান ছেলে বিয়ে দিয়েছেন । সকল আশার দোরে ছাই।

ছেলেকে যে ইচ্ছে করেই বিয়ে দিয়েছেন তাও নয়। মামাতো বোনের সাথে দিন রাত লেপ্টে থাকতো উকিল ছেলে । এক সাথে পড়া, অংক বোঝা, কিসব আলাদা ঘরে দিনরাত ফিসফাস। কর্তা বললেন ছেলেকে হয় বিয়ে দাও নইলে তোমার ভাইয়ের মেয়েকে এ বাড়ি আসতে বারণ করে দাও। আমি তোমার বাপের বাড়ির কারো সাথে ছেলের সম্বন্ধ করতে রাজী নই। ফলে বাড়ির বুদ্ধিমতি মা, কণে দেখা শুরু করলেন। কিন্তু নিজের ছেলেকে রাজী করানো মুশকিল। বাপের পছন্দ তার পছন্দ নয়। কন্যা বেশ কালিমাখারঙ্গের। এদিকে পুত্রটি সূর্যের ন্যায় উজ্জ্বল। নামও সুরুজ।

কি রকম ভাবে সম্ভব তা ছেলের বাবা মাও ভাব্তে লাগলেন। কিন্তু এখানেই দেবেন , কারণ তারা ঘর সাজিয়ে দিচ্ছে বলে কথা। ''রঙ দে কি হবি??'' উপটন দিলেই বিয়ের কনের রঙ খুলতে থাকে সবাই তা জানে। ছেলের মা সয়ং মেয়ের মা ‘কে দুই বেলা ফোনে বুদ্ধি পরামর্শ দিতে লাগলেন। বুঝলেন না বেয়াইন সাহেবা। কন্যাকে যেন সবাই এক বারে দেখতে পায়। নইলে শুধু আমার ছেলে বিয়েতে দেখা গেলে কেমন তরো হবে বলেন দেখি। সুরুজ এবং জিপ্তার বিয়ে হয়ে গেল। এক প্রকার জোর করেই বিয়ে দেয়া হলো এক পাড়া লোক খাইয়ে। প্রথম প্রথম বউ এর পরিবারের সাথে সখি সখি সম্পর্ক ছিলো। কিন্তু পরে নিজেদের ফাঁপা ছেঁদো বেড়িয়ে পরতেই বাড়ির মা বাবা সহ আরো আরো কারো বিনা তেলে ফোস্কা পড়তে লাগলো।

কি পড়ালেখার দেমাগ বাবা। ছাট্টিফিকেটের মাথায় বাড়ি। শিক্ষিত মেয়ের কাছে কি ছেলে বিয়ে দিতে আছে ! তার কি ঘরের লক্ষ্মী হয়েছে কোনও কালে? ছেলেপুলে না নিয়ে বছরের পর বছরের ধিরিঙ্গি বাজি। কেন বাপু। থিতু হবে কবে? বাড়িতে ছেলেপুলে না থাকলে সেটা কোনও বাড়ি? বাড়িটা বাড়ি রইলো না। তোমার জন্য। গিন্নিমা জিপ্তাকে শুনিয়ে শুইয়ে গাইতেন, "ধন ধন বাড়িয়ে ফুলের বন। এ ধন যার ঘরে নাই তার কিসের জীবন।"

চাকর বাকরেররা পর্যন্ত গিন্নিমকে খুশী রাখতে তোমাকে ইনিয়ে বিনিয়ে শোনাতো। পইড়ে পইড়ে জামাই বউ মদ খায় । তায় বিষ । হারাম হারাম। কতটা বিষ ঢেলে দিলে এতটা বছর পরো সম্পর্কটা রাখা যায় না।

তোমাদের বন্ধুত্ব হয়ে যাওয়া নিতে পারে নাই গুরুজন। ভেবেছে এই বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ফের বিয়ে দেয়া যায়। কতটা খেয়েছিলে সেই বোতলের তরল আমি শিশু বয়সে বুঝিনি। শুধু বুঝি। তাতো নয় যতোটা তাকে তোমরা খেয়েছিলে তার চেয়ে বেশীটা তোমাদেরকেই গিলে ছিলো সেই তরল কিংবা তথাকথিত হারাম ব্রাউন বোতলটা।
তুমি ধীরে ধীরে চলে গেলে উদ্ভ্রান্ত। তুমি ছেড়ে গেলে লোক লোকান্ত, অঞ্চল, শহরতলী জেলা অবশেষে দেশ। তুমি ফিরে তাকাওনি। তুমি মান্নিকে ভুলে গেলে, যে তোমার বা তুমি যার খেলার সাথি। চার বছরে যাকে কোল তুলে নিয়ে ছিলে। চোদ্দ বছরে তাকে ছেড়ে গেলে মনিমা। ঘর দোর চিলেকোঠা গোল বারান্দা, টমেটসসের ভেতর থেকে উদ্ধারকৃত আলুর চিপস। মনিপুরি শাড়ির সাথে মিথ্যে মুক্তোর সত্যি মালা।

নতুন যখন এসেছিলে বউয়ের থুঁতনিই ছিলো খাঁজকাটা। তাকে একটু উঁচু করে দেখছি। বউ ধরতে পেরে আমার কী দাপট! ফ্রক পরা মুডি । মাথায় জরিচুমকি দেয়া হেয়ার ক্লিপ । আমি বউয়ের মুখটা উঁচু করে ধরে আছি। রকমই ছিলো ছবিটা। কিযে অপূর্ব লাগছিলো সে ছবিটায় , আমি তোমাকে দেখেই বলে ফেলছিলাম ''লালবউ''।এ্যলবামের ''লালবউ এ্যলবাম থেকে বেরিয়ে জলজ্যান্ত আমার সামনে এসেছিলো । এসেই কোমরে আঁচল দিয়ে খেলা শুরু। আমি অবিশ্বাসে চোখ বড়বড় করে বলতাম আজ পড়তে হবে না মনিমা? তুমি বলছো ''কক্ষনো না। আজ মান্নি শুধু খেলবে।''
ঠিকানা চাইলে যে পেতাম না তা নয়, চাইনি। থাক। সন্তানের ডাকই মায়ের ঠিকানা। তুমি শুনবেই , হয়তো একটু দেরী হবে।তবু জানি শুনবেই।

তুমি থাকো আমার মিথ্যে মিথ্যি রুপোর পানেরবাটায় গুছানো কাটা সুপারি হয়ে। আমি শখ মতো খুলে খুলে দেখবো।আমার একপ্যাচে পরা শাড়ির আঁচলে থাকবে রংচটা চাবির ছড়া। গিন্নিবান্নি মান্নি আমি। তুমি মামনি না বলে আমাকে মান্নি ডাকতে ।
তবে জানো তো । দেখা না পেলে কি হবে, ঐ যে কথা থেকে যায়। গানও। বউ থেকে রাতারাতি মা হয়ে যাওয়া আমার প্রিয় মানুষ তোতাপাখি হয়ে গেলো। আমার মতে তুমি আমার সমবয়সিই ছিলে, ফাইভে পড়া। মানে আমি যখন যেরকম বয়স তুমিও সেরকম। যখন আমার ১০ তখন তোমার দশ যখন আমার ১৪ তোমার চোদ্দ। মেয়ের চেয়ে বেশি বড় যেন তোমার হতে নেই।

নেচে গেয়ে ছায়া হয়ে ঘুরে ঘুরে যখন পড়ার সময় যেত ,তখন তোমাকে অনেক বড় কেউ ভাবিইনি। তুমি তো আমার সমান ১০ বছরের মেয়ে। খালি একটু লম্বা আর একটু বেশী সুইট। আর বড় বলে শাড়ি পরো। এই তো।

কী যে মিষ্টি তোমার মুখ। আমার এখনো আঁকতে ভুল হয় না । ভাবতে ভুল হয় না। রেখাগুলো টেনে দেই দু'যুগের অধিক সময়ের ছন্দপতনে।

মানুষের মুখ সুন্দর লাগে ব্যবহারে। তখন কি করে যেন এটা বুঝেছিলাম। তাই মানুষের মুখ নয়, হাতের স্পর্শ খুঁজে বেড়াই দূর থেকেও।

বিকেলে নতুন নতুন নাস্তা বানানো চলছে। তুমি রাঁধুনী আমি যোগানদার। আমার সে কী ভাব । আমি কি ছোট নাকি? এই মাত্র গরম তেলে আলু ফেলেছি, সেটা চড়চড় করছে দেখো। চিপস বানাতে পারি তো। টিকিয়াও পারি। সুযোগ পেলেই ক্যাসেটে পুরোনো দিনের গান ছেড়ে মজা করে নাচানাচি। দরজা হালকা করে ভিড়ানো । খাটটা যেন স্কুলের স্টেইজ । আমরা সেজেগুজে নাটক করছি একের পর চরিত্রে। মেকআপ ও করিয়ে দিতে , টারসেল দিয়ে নিজেও বেঁধে নিতে হাতখোঁপা ঈষৎ নামানো।
আমাদের অসম বন্ধুত্বের কখন শুরু হয়েগেছিলো তা মনে নেই তবে শেষটা বড় বেশী মনে আছে। সেটা দরকার ছিলো না।

এভাবে আর কাউকে পাইনি যে কেন তাও বলতে পারিনা। অনেকেই তো মা। কিন্তু বাচ্চাদের মন বোঝার শিশুমন সবার নেই।

তিনি মা ছিলেন না, আবার তিনিই মা ছিলেন।

যত দূরেই থাকো কিছু কিছু কথা ফেলে গেছো যা ঠিক হয়নি।

কেননা এত বছরেও সে সব নিতে আসোনি , আমি মুখস্ত খাতার পাতা হয়ে গেছি ভুল বানানে। আমি যে গুছিয়ে রেখেছিলাম ডাইরি ভরা কথা, পুরনো মার্কশিট ( তাতে কোন সাবজেক্টে যেন লাল দাগ দেয়া ছিলো) লুডুর ছক্কা , আরো কত কিছু ভাঙ্গা টুকরা সম্পর্কের দুঃসম্পর্ক।

ক্যাসেট অফ করে করে গানের কথা লিখে দিয়েছিলে যাতে আমি ভালো করে গলায় তুলতে পারি। আমিও দ্রুত তুলে নিয়েছি গলায়, তোমার অনেক প্রিয়গান।
'সময় হলে যেতে যে হবে
সেখানে কারোর কোন দাবী নেই।
পাছে ভুল বোঝ ভুল করে খোঁজ
দুটি হাত ধরে বলে গেলাম ,
আমি চলে গেলাম। ''

চমৎকার এবং সুকঠিন এই গান মাত্র ১২ বছর নয়মাসে শুধু তোমার কারণে শিখে ফেলেছিলাম।
তুমি কেন এত ভালোবাসতে যে আর ফিরেই আসোনি।
জীবিত থেকেও যে জীবনভর নেই, তার সাথে কি নামে আর সম্বোধন থাকে বলো। কী নাম তার রাশিতে ধনুকা হয়ে রয়।

দৃশ্য থকে সরে গেছো, তো কি হলো। অদৃশ্যের ক্ষমতা স্পর্শের চেয় ঢের বেশী জানো তো ! আমি চঞ্চল মাঝে মাঝে তোমা্র নাকের বাঁশীর পরে শান্ত হয়ে জমে থাকা মোলায়েম মুক্তা ছুঁয়ে দেখতাম।

আমার মাথার এক দঙ্গল চুল তুমি তেল দিয়ে ঠাস বুনন করতে বসে গেছ ফিতে দাঁতে আটকিয়ে। মাথা নাড়লেই মৃদু চাঁটি , বেনীর আগায় সাদা ফিতের দাঁতকপাটি। দৃশ্যগুলোতে রঙের অভাব নেই সেই সাদা কালো যুগেও। পুরনো পোকায় ধরা টেলিভিশনের স্ক্রিনের মত ঝিরঝির করেনা।

এখনও তোমার সম্বোধন নিলাম না। তুমি কে হও তুমি জানো। তুমি ভাল আছো জেনেছি সামাজিক মাধ্যমে। তুমি সুখে আছো জেনেছি চোখের চাহনিতে। কিছু বয়স বেড়েছে মায়ায়। সেই মায়ায় যখন আমাকে তুলে নিয়েছিলে রক্তাক্ত বিছানা থেকে। পালটে দিয়েছিলে সময়ের চাদর আমাকে শুদ্ধ পরিচ্ছন্ন করে জানিয়েছিলে আমি বড় হলাম এবার। তিড়িং বিড়িং লাফ দড়ি খেলা বারণ। আর বারণ ছেলেদের সাথে কথাও যখন তখন। আমি কিছু বুঝি না বুঝি ডানে বামে বেশ করে মাথা নাড়াই।

তুমি ভাল থাকবে সেই চেয়েছিলাম। সেই চাওয়া পূরনও হলো তবে সব ভেঙ্গে চুরে চূর্ণ হবার পর। যিনি এনে ছিলেন তিনি ডুব দিলেন সকল কথা বলার সুযোগের তোয়াক্কা না করে। তিনি সব জেনে উধাও হলেন কালের সরঞ্জামকে ভ্রুকুটি করে । এখন তাকে দেখতে আসার ঢল। তুমি নেই তার পাশে , কাজল্লেপা সজল চোখে। থাকার কথা তো আগেই ঘুচে গেছে। তুমি বহুদূরের পরিযায়ী। বহু বেদনার আনতসারি।

তুমি কখনো শান্ত ভাসো , কখনো বহতা।তুমি কাদম্বরী কিংবা চারুলতা। প্রেম পেয়েছিলে কিনা বোঝোনি। সময় হারানো প্রেমকে ফের পাওয়া এক রকমের হারানোই। যা হারিয়ে যায় তারে আগলে রেখে রইবে কত আর...