খাঁচা

শৌভিক দত্ত



এক
“ রোদ জ্বলা দুপুরে ,সুর তুলে নুপুরে”

নাম সরিয়ে দিলে ছবি নেই।ইচ্ছে মাখানো কিছু রুমঝুম। রূপকথা চলে যাওয়ার পর, দাঁড়িয়ে যাওয়া সার সার রাস্তার পারলৌকিক। গন্তব্যের ঘোর কেটে স্বপ্নের পোড়া দাগ ধরে হেঁটে যেতে যেতে হটাৎ কান্না নামে বৃষ্টির মতন।অযথাই। এলোমেলো।অথচ,সারা জীবন একটা পাখি হওয়ার স্বপ্নে কেটে যায়। ডানায় অফুরান আলো ভাঙ্গার ঢেউ।সাত সমুদ্র আর তেরো নদী।
“ আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা থাকে”

ফিরিয়ে আনা যেতো। অথচ সারাজীবন দুটো মানুষ যেন দুটো সেতুর দুপ্রান্তে নির্বাসিত দ্বীপের মতো শুয়ে থাকে।ভাবে সাদা কুয়াশার ভেতরে একটা নৌকো ভেসে আসবে কোনওদিন।চোখের ঘুলঘুলিতে দীর্ঘ হয় গাছ,গাছের ছায়া।এক বিরামহীন অঙ্ক কষার প্রস্তুতিতে মনে হয় ধুলোর মতো হাত থেকে ফসকে গিয়েছে সময়।শরীরে সন্ধ্যা নামছে।

দুই
“তুমহে ভি কোই উলঝন্ রোকতি হ্যাঁয় পেশকদমি সে
হমে ভি লোগ কহতে হ্যাঁয় ইয়ে জ্বলয়ে পরায়ে হ্যাঁয়”

উড়তে উড়তে কখন ডানা ঝাপটানো বন্ধ হয়ে গেছে পাখি তা জানে না।আকাশভর্তি খাঁচা, আকাশভর্তি চোরাবালি, এসময় নেমে আসতে হয়, কিছু প্রশ্নের কোনও উত্তর হয় না জেনে ক্লান্তির মতো নিঃস্ব করতে হয় নিজেকে।রথচক্র মাটিতে বসে গেলে মাটির হাড়গোড় উঠে আসে।
পাখি দেখে, নীচে পিঁপড়ের মতো মানুষেরা কিভাবে সার বেঁধে খাঁচার গর্ভে ঢুকে যায়।