ভুলের উপর ভুল সাজিয়ে

রুমা মোদক



প্রিয় কাকচক্ষু জলের মতো ভালোবাসাতো নয়ই, অসহ্য হয়ে উঠা একঘেয়ে ঘৃণাও নয়, ভিখিরি জীবনের করুণা নয়, তোমাকে দাঁড় করিয়ে রেখেছি আবশ্যিক নো ম্যানস ল্যান্ডে। পাড়ি দিতে হলে অনিবার্য গতকাল থেকে প্রত্যাশার আজকে কিংবা আজ থেকে সম্ভাবনার আগামীকালে হঠাৎ থমকে যাবো আদিম নারীর মতো, বরফ পড়া রাতে নিভে গিয়েছিলো যার পাথরে পাথর ঘষে জ্বালানো আগুন, কিংবা হৃদয়ে পুরবো বান্নি থেকে কেনা চড়কির আনন্দ, সন্তান দুধভাতে থাকলে যেমন নিশ্চিন্তে পাশ ফিরে শোয় জননী।

এক সেলেব একদিন এক দেবতার ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লিখেছিলো চরিত্রহীন। আহা জননী আমার, কী অপার্থিব পবিত্র বিশ্বাসে মগ্ন হন ধ্যানে। আমার মাকে মনে পড়ে দূর পাহাড়ে ফেলে আসা ডালপালা ছড়ানো একলা বৃক্ষটির মতো। পথ হারিয়ে শরীর এলিয়ে দেয় কতো মুসাফির, ফিরে চল বলে ডাকে আবার পথ। পথিক আসে পথিক যায়, জননী বসে থাকে একলা ধ্যানে নিঃসঙ্গ পাহাড়ের চূড়ায় তবু পথিকের পথ চেয়ে।

ইঁদুর দৌড়ে সামিল হতে পারিনি বলে এগিয়ে গেলো কতো চামচিকা। প্রথম কী হতে চেয়েছি কখনো চেনা কিংবা অচেনা পথের রিলে রেসে। তবু উপরে এসে পড়েছে এক পৌরাণিক দায়, সম্মিলিত শক্তি, দশভুজা, দশ রকম অস্ত্র। দেবীকে কেউ কি জিজ্ঞেস করেছে কোনদিন? দেবী কি চেয়েছে এই প্রত্যাশার চাপ নিতে ইচ্ছা কিংবা সক্ষমতা রয়েছে কিনা তার?

ছিলোনা, ছিলোনা মোটেই। তাই ট্রাফিক সিগনালে আটকে পড়া প্রথম যান হয়েই থাকতে হয়েছে তার। আহা জীবনের অসীম মূল্যবান একটা মুহূর্ত। একটা মুহূর্তের জন্য আটকে গেছে প্রথম প্রাপ্তি সকল। দ্বিতীয় হয়েই আজন্ম শোধ দিতে হয়েছে নিয়তির।

মুখোশ কি ভুল হয়? কিংবা মুখোশটাই ভুল! এক মুখোশ কেন ঢেকে রেখেছে অকৃত্রিম ব্রণ কিংবা মেচতা কিংবা জন্মদাগ। অতঃপর নিঁখুত অভিনয়ে ভাগ্যাহত হেমলেটের মতো কেবল জীবনকে এক রঙ্গমঞ্চ জেনে অভিনয় করে যেতে হচ্ছে দিনমান। প্রমাণ দিতে হয়েছে বারবার, এই আমার প্রকৃত চেহারা, মুখোশ নয়, মেকাপ নয় আসল, আদি অকৃত্রিম। তারপর উড়ে আসা সঙ্গম প্রত্যাশী মৌমাছিদের এড়িয়ে নিজেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো অসহায়ত্বে সমর্পণ করতে হয়েছে পুনঃপুন। আর এই বিচ্ছিন্নতার রক্তক্ষরণ থেকে বুঝি মুক্তি নেই আজীবন।

আখ্যানহীন গল্প বলতে গিয়ে আমি লিখেছি আসলে জীবনের আখ্যান। জীবন এর প্লট, জীবনই শৈলী, জীবনই ভাষা, জীবনই কেন্দ্রীয় চরিত্র।

শেষ নেই এর....বহমান...পরম্পরা...।