মীন-মকরের ঘর

সুজন সুপান্থ



বসন্ত আসছে। হিম পেরিয়ে-ফুটি ফুটি করা সমস্ত কলি ফুল হয়ে আসছে। কেবল আসা বসন্তের দুপুর পেরোলেই পুষ্পদহ বিলের ধারে ময়ূরকণ্ঠী রোদ। ভীষণ ব্যথায় গলায় আটকে থাকা সমুদ্রসমান কান্না বিলের জলে ছুড়ে দিতে গিয়ে দেখি, রোদ আর শিরশিরানি হাওয়ার ভেতর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে মোহর রেওয়াজ করছে শামুকের সুর। তার চোখ থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে জল। সেই জল শুষে যেন নিজেকে জাগিয়ে তুলছে উলুবনের ঘাস। দূরে দাঁড়িয়ে মোহরের কণ্ঠে শুনি শামুকের সুর। দেখি, সেই সুর এই বুকের খুব গভীরে ঢুকে কেমন বলতে না পারা মমতার মতো ছড়িয়ে পড়ছে সবখানে। দোল খাওয়া উলুবনের আড়াল থেকে এই চোখ দেখে ফেলে মোহর, ব্যথা দেখতে পারে না। তার আগেই সুর ভেঙে সে ছুটে যেতে চায় পুষ্পদহর জলে। জলে ধুয়ে নিতে চায় কাজলচোখের জল। ধরে ফেলি। শামুকের মতো গুটিয়ে নিতে চায় শরীরকে, নিজেকে। কীসের ভয়ে, বলে না। হাওয়াদের মতো মূক ও বধির মোহর। তার লাল হয়ে যাওয়া চোখের জল মুছে দিলে শান্ত হয়ে আসে। এই হাতের স্পর্শে নিশ্চিন্ত হয়। সে টলমলে জল পেরিয়ে আমার চোখের দিকে তাকায়। আমরা পুষ্পদহর জলে নত হয়ে ধুয়ে নিই যৌথ চোখের জল।

একটা পথ হারানো সন্ধ্যায় মোহরের সঙ্গে পরিচয়। দুজনেই চরানো ছাগল ছেড়ে বুনোফুল তুলতে গিয়ে একা হয়ে পড়েছিলাম। চেনা রাস্তা থেকে নির্জনে, ছাগল থেকে দূরে আর নিজের থেকেও খুব একা হয়ে পড়েছিলাম। আমরা জানি না, পথ হারানোর শোকে কান্না পেলে কেন হুট করে সূর্য ডুবে যায়। অন্ধকারে ভয় লাগে। অন্ধকারে পথ খুঁজে পাই না, গাভিন ছাগল খুঁজে পাই না আর খুঁজে পাই না ঘর। অনেকটা অচেনা হলেও দুজনে ভরসা রাখি যৌথ স্পর্শের ওপর। আমরা দুজন দুজনের গায়ে হেলান দিয়ে চুপ করে কাঁদতে কাঁদতে আনোখা পথ হাঁটি। এক সময় পথ চিনিয়ে দেয় পুষ্পদহ বিল। আমরাও চিনে নিতে থাকি অচেনা ভুবন।

এরপর চরানো ছাগল ফিরে আসার অপেক্ষাটুকু নিয়ে কেশর তুলতে বিলের পাড়ে গেলে মোহরের সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। সরল ফসলের খেত পেরিয়ে বিলের ধারে পা ভিজিয়ে চুপচাপ ঝিনুক কুড়ায়। হঠাৎ খিদে পেলে ঝিনুক ভেঙে গিলে নেয় সবটুকু জল আর শাঁস। তারপর আমরা ঘাসের ওপর বসে অনুবাদ করি ফুল-হাসি-ফড়িং-প্রজাপতি ও পুষ্পদহর জলের সুর। আমরা চোরকাঁটা মুখে দিয়ে শুনি বিদির গান। এই গানে গলা ব্যথা হলে লুকিয়ে থাকি। কাউকে বলি না। পরস্পর ছুঁয়ে ছুঁয়ে দিই ব্যথা। ধীরে, শান্ত জলের স্রোতের মতো এক সময় গলা থেকে ব্যথা নেমে যায়। সেই থেকে ব্যথা হলে ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকি, মুখরিতা রোদে দেখি বেলাজ ফুলের হাসি।

দুপুর থেকে সারাটা বিকেল মোহরের সঙ্গে আল ধরে, পুষ্পদহর পাড় ধরে হেঁটে হেঁটে বেড়াই। শুনি বুনোফুলের গান। একদিন ফুল হওয়ার বাসনায় দুলে ওঠা শিখি। মোহরের প্রজাপতি আর ফড়িংয়ের পাখনা জমানোর শখ। তাই খুঁজে খুঁজে মৃত প্রজাপতি আর ফড়িংয়ের পাখনা জোগাড় করি। হুট করে সন্ধ্যা নেমে এলে মন খারাপ হয় মোহরের। সন্ধ্যার অন্ধকার তাড়াব বলে একটা বিকেল আমরা আমরা সূর্যের আলো তুলে জমিয়ে রাখি লাউয়ের খোলের ভেতর। সেই আলো ছড়িয়ে দিই সন্ধ্যার সুরেলা অন্ধকারে। কিন্তু না, সন্ধ্যার অন্ধকার আরও অন্ধকার হয়ে উঠলে আলো বিষয়ে সমস্ত সংশয় কেটে যায়। আবারও মন খারাপ হয় তার। তুমুল মন খারাপের ভেতর ছোট্ট খোঁপায় বেঁধে দিই পলাশ ফুলের লাল। হেসে ওঠে মোহর। নিজের ঠোঁটে তার ওই হাসি নিয়ে ঘরে ফিরি।

অন্য পাড়ার দূরের মতো মোহর বয়সে একটু বড়। তবে অতটা নয়, যতটা বড় চান্দু দা। চান্দু দা গ্রামে গ্রামে বিয়ের আসরে গানের দলে জোগালির কাজ করে। কাজ না থাকলে সারা দিন পুষ্পদহ যাওয়ার আগে ডুমুর গাছের নিচে বসে ফচকেমি করে। একদিন বেতফল পেড়ে দেওয়ার কথা বলে চান্দু দা ঝোপের আড়ালে নিয়েছিল। অনেক আদর করবে বলে প্যান্ট খুলে দিয়েছিল। কাউকে বলতে বারণ করে আবার আসতে বলেছিল। কাউকে বলে দিলে জিভ কেটে নেবে, আমার পোষা ছাগলের গর্ভের ছানা মেরে দেবে সব—বলেছিল কানে কানে। বুঝি যে অসভ্যতা, তবু এই ভয়ে নিজেকে চান্দু দার মনে হতে থাকে। তাই ভৈঁরো পিসির মতো ছোট্ট গামছায় আগলাতে থাকি বুক। কচি ধানগাছের পাতা দিয়ে হাতে বাঁধি চুড়ি। কানে গুঁজে রাখি দুপুরমণি ফুল আর কপালে লাগিয়ে দিই জবা ফুলের রেণু। দূর থেকে মোহর এসব দেখে আর হাসে। কিছু বলতে পারি না বলে তার হাসিতে কান্না আসে। তাকে এড়িয়ে চলার বাহানা খুঁজি। সে পিছু ছাড়ে না। তাই দুজন পাশাপাশি চুপচাপ থাকি। ভৈঁরো পিসি বা মোহরের মতো নয়, তবু সন্ধ্যার আগে টনটন করতে থাকে আমার না ফোটা স্তন। ব্যথা বাড়ে ভেতরে। এবার আর মোহরকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকি না, ভয় নিয়ে থাকি। ভয় হয় জিভের, ভয় হয় আমার ছাগলের পেটের ভেতরে থাকা ছানাদের নিয়ে। ব্যথা কমাতে মোহরকে না জানিয়ে কেশরের সঙ্গে চারটি চিনিপাতা ঘষে ঘষে খেয়ে নিই। কমে না। দাঁতে দাঁত চিপে বাড়ি ফিরি। রাতে স্বপ্নে দেখি—আমার জিভ কাটা। কে যেন মেরে ফেলেছে আমার ছাগলের পেটের ভেতরে থাকা তিনটি ছানা। তাদের শোকে কাঁদতে পারছি না। কাটা জিভ নিয়ে কথা বলতে পারছি না। মোহরকে বলতে পারছি না কিছু। কান্না শেখায়নি কেউ, তবু দেখি মোহর কাঁদছে হাউমাউ। তার চোখের পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে আমার কাটা জিভের রক্ত। ভোরের একটু পরে ঘুম ভাঙলে আমিও সবাইকে আড়াল করে কেঁদেছি হাউমাউ।

একদিন পর আবারও পথে একা পেয়ে চান্দু দা আমাকে টেনে নিয়েছিল বাঁশের আড়ার ভেতর। জিভ দেখেছে আমার। সদ্য পুরুষফুল ফোটা এই শরীরে চান্দু দার শরীর খুব ব্যথা দিয়েছিল। ঘিনঘিনে ভিজে গিয়েছিল সব। কান্না এসেছিল। হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল দেখে প্রশ্ন করেছিল মোহর। ব্যথা ও বিলাপ নিয়ে তাকে শুধু বলেছি—চান্দু দার আদরে এত ব্যথা হয় কেন? মোহরের নাক-মুখ কেঁপে ওঠে। কাঁপুনিতে কিছু বলতে পারে না সে। কৃষ্ণবটের পাতায় করে বরই মাখা নিয়ে এসেছে আজ। গুমরে ওঠা বুকের ভেতর দিয়ে বরই মাখা ঝাল গিলতে কষ্ট হচ্ছে। তাই মোহর আমাকে চুপচাপ ছুঁয়ে আছে খুব। এত ব্যথা নিয়ে নিজেকে আর চান্দু দার ভাবতে ইচ্ছে করে না। ইচ্ছে করে নিজেকে মোহরের জন্য ভাবি। মোহরকে বলেছি—‘আর কখনো ভৈঁরো পিসির মতো ছোট্ট গামছায় আগলাব না বুক; হাতে দেব না কচি ধানগাছের পাতার চুড়ি।’ কানে গুঁজে রাখা দুপুরমণি ফুল আর কপালের জবা ফুলের রেণু ছুড়ে দিই পুষ্পদহর জলে। বয়ে চলা জলের শব্দ সেসব দূরে নিয়ে যায়। আমি দেখি, সেসব আর দেখা যায় না জলে।

এই চোখের জল মুছে দিয়ে ব্যথা কমাতে মোহর আমাকে নিয়ে নেমে যায় পুষ্পদহর কোমর সমান জলে। ব্যথা কমে এলে আমরা জলের কলহে উবু হয়ে দেখি টলটলে চোখ। তার ভেতরে মাছেদের খুনসুটি। আরও গভীরে কী? মোহর জানিয়েছে, মীন ও প্রেমের দেবতা মকরের ঘর। নিজেকে মীন ভেবে সে জানিয়েছে আরও, একদিন ঘর হবে আমাদেরও। তাহলে আমি কী মকর? আমার ব্যথায় আলতো ছুঁয়ে দিতে দিতে সে হেসে উঠেছিল। ওই হাসিতে নির্ভর করে নিশ্চিন্ত হয়েছিলাম। ব্যথা কিছুটা কমে আসায় বিকেলে ঘুম পেয়েছিল খুব। মোহর বসে মেলে দিয়েছিল কোল। সেখানে বিকেল বেলা ঘুমের ভেতর ভোর নেমেছিল। সেই ভোর পেরিয়ে চোখ মেলে দেখি, সুহানা সাঁঝের ভেতর মোহর খুঁজছে আমাদের নিজস্ব ঘরের পথ।

এবার চান্দু দাকে এড়িয়ে ভিন্ন আলপথ ধরে পুষ্পদহর দিকে যাই। সেখানে মোহরকে পেলে সাহস বাড়ে। কিন্তু মোহরের কণ্ঠে কেন আজ শামুকের সুর? শামুকের মতো কেন গুটিয়ে নিতে চাচ্ছে শরীরকে, নিজেকে। কীসের ভয়ে? জোড় করি। শেষমেশ বলেছে, চান্দু দার কথা। অসভ্যতা করেছে খুব। সারা শরীরে ব্যথা। ব্যথায় জড়ো হয়ে আছে দুই পা। তার ব্যথার কথা শুনে কেঁদে ফেলি। পালাতে ইচ্ছে করে। কিন্তু মোহরের ব্যথা ফেলে, কান্না ফেলে পালাতে পারি না। সে খুব করে ছুঁয়ে থাকতে বলে। চান্দু দার মতো নয়, যেভাবে জল ছুঁয়ে থাকে জলের শরীর-সেভাবে। তাতেও ব্যথা কমে না। জানিয়েছে, অসহ্য ব্যথায় তলপেট ছিঁড়ে যাচ্ছে। এক সময় কুঁকড়ে যাওয়া শরীরের সব ব্যথা মেলে ধরে মোহর। তার তলপেট ছুঁয়ে দেখি, ছুঁয়ে দেখি জবাফুলের মতো নাভি। আরও নিচে হিম সুরধারা। সেই সুরে বয়ে যায় মধুময় হাওয়া। হাওয়ায় নিমফুলের ঘ্রাণ। তার সমূহ ব্যথা সারাইয়ের জন্য বিষকাটালি আর বনতুলসির পাতা থেঁতলে লাগিয়ে দিই ক্ষতে। ধীরে, ব্যথা কমে আসে।

পরদিন দুপুরের পর পুষ্পদহর পাড়ে দেখি আমার পোষা ছাগলের পেছনে গর্ভের ফুল ফুটে আছে। একটু দূরে চান্দু দার নজর এড়িয়ে মোহর তিনটি ছানাকে বিলের জলে পরিষ্কার করছে। গর্ভ ফুল পড়ে গেলে সেই ফুল মাটিতে পুঁতে রাখি। মোহর বলেছে, মানুষ কেবল এই প্রয়োজনের ফুলের মতোই। একদিন সবার দরকার ফুরিয়ে যায়। মানুষ বা ফুলের চেয়ে জল-মীন-মকরের জীবন ভালো। সেখানে নিজের পেছনে কোনো ছায়াও থাকে না।

মোহরের শরীরে চান্দু দার দেওয়া ব্যথা কমেছে, তবে এখনো আছে। ভয়ে এ কথা জানায়নি কাউকে। আজ আবারও বিষকাটালি আর বনতুলসির রস দিতে বলেছে। সঙ্গে দিই কচি ধানের দুধ। দেখি তার বুকে ফুটে আছে নাম হারানো ফুলের কুঁড়ি। বলেছে সে, যদি চাও প্রজাপতির মতো তুলে নাও ফুলের দরদ। বলেছি তাকে, আগে যেতে হবে মীন-মকরের দেশে। এই বলে তার বুকে ছড়িয়ে দিই মৃত প্রজাপতির পাখনার রং, হেসে ওঠে মোহরের সমূহ জখম। এই হাসি নিয়ে আমরা ঘাসের ওপর শুয়ে থাকি চুপচাপ। ঠিক এলাচের ভেতর যেভাবে পাশাপাশি শুয়ে থাকে এলাচের দানা।

ব্যথা আরও কমে এলে দুজনে পুষ্পদহর জলে মিনতি করি, চান্দু দার ভালো না হোক। বিয়ের আসরে তাঁর বাজানো বাঁশির সুরের ভেতর ঢুকে পড়ুক পাগলা বাঁশির সুর, সেই সুরে তার গলা ব্যথা হোক। তাঁর নাম ধরে ডেকে উঠুক কু-ডাকের পাখি। একদিন তাঁর নামে খই ছিটিয়ে উঠুক হরিধ্বনি—সেদিন খুব করে কেঁদে নেব শোকে। তারপর আমরা একজন আরজনকে ছুঁয়ে থেকে জলের গভীরে, যেন ভুলে যাই ফিরে আসার পথ—এতটা গভীরে নেমে যাব। আর, সেখানেই হবে গড়া হবে মীন-মকরের ঘর।

মোহর আমাকে নিয়ে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল মানুষ থেকে দূরে। সেখানে যদি ছায়া হয় খুব, তবে জলের গভীরে। সেখানেই আমরা একা একা কাটিয়ে দেব পুরোটা জীবন। কিন্তু ছাগলের ছোট ছোট ছানাগুলোর জন্য আমার মায়া হতে থাকে। মোহরকে বলেছি, ছানাগুলো আরেকটু বড় হোক, আমার মতো মাতৃহীন হলেও যেন একা একা আলপথ ধরে ঘরে ফিরে যেতে পারে। তত দিনে বড় হবে আমাদের সমস্ত ফুলের কুঁড়ি। ফুল হবে। দুজনে প্রজাপতি হয়ে তুলে নেব দুজনের ফুলের দরদ। যদি আরও খিদে পায় তবে ঝিনুকের শাঁস, কেশর কিংবা খেয়ে নেব জলের বুদ্‌বুদ।
এই স্বপ্নে আমাদের অনেক দিন কেটে গেছে। আমাদের সমস্ত ফুলের কুঁড়ি ফুল হয়েছে কি হয়নি—আর দেখিনি। তবে ছাগলের ছানাগুলো একা একা চিনে গেছে ঘরে ফেরার পথ। এরই মাঝে একদিন সকালে শুনি, কু-ডাকের পাখি জেগে ওঠার আগেই চান্দু দার সঙ্গে মোহর পালিয়েছে বহুদূরে। তার সিঁথিতে ছিল চান্দু দার লাগানো সিঁদুর, হাতে পলাহীন নতুন শাঁখা। এই কথা শুনে গুমরে উঠেছিল বুকের ভেতর। চান্দু দাকে নিয়ে কি তাহলে সে জলের গভীরে গেছে—এই ভেবে ছুটে যাই পুষ্পদহর পাড়ে। না, সেখানে কোনো চিহ্ন নেই তাদের। কান্না আসে খুব। থামাতে পারি না, তাই জলের গভীরে নামি। জলে ডুব দিলে কান্না থেমে যায়। এরপর থেকে কান্না পেলে পুষ্পদহর জলই মুছে দিয়েছে এই চোখের জল।

কান্না থেমে গেলে ফুলের কাছে যাই। ফুলের সঙ্গে পোকার প্রেম দেখি। ফুল নড়ে ওঠা হাওয়া ধরে রাখি। ধরে রাখা হাওয়ায় মনে মনে বলি, যে আমাকে ছেড়ে গেল দূরে, তার সংসার মধুময় হোক। পুরোনো ব্যথার কথা ভেবে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলি, হে নাথ, চান্দু দার দণ্ড দাও। ভুল রমণের দায়ে সে যেন পায় আজীবন সন্ধ্যার অন্ধকার।

এরও অনেক দিন পর একদিন মূক ও বধির হয়ে ফিরে আসে মোহর। ভৈঁরো পিসির কাছে জেনেছি, তাঁর শাঁখা ভাঙা হাতে ছিল রক্তের দাগ। জলে ধোয়া কপালে ছিল আঘাতের চিহ্ন। চান্দু দার দণ্ডের কথা জেনে গেছে সবাই। এবার নিশ্চিন্ত হয়ে নিজস্ব ঘরের খোঁজে পুষ্পদহর জলে নেমেছিল সে। তারপর একা একা ভুলে গেছে পাড়ে ফেরার পথ। সন্ধ্যায় উলুধ্বনির আগে জলের ওপর ভেসে উঠেছিল মোহর। বাসন্তী হাওয়ায় হাওয়ায় কান্নার রোল। খই ওড়া বাতাস পেরিয়ে হরিধ্বনি আসছে। চোখ ভেসে যাচ্ছে জলে। জলে গভীরের দিকে ভেসে যাচ্ছে মোহরের না জন্মানো শিশুর শোকে টাটকা শিমুল ফুল...