সাত ভাই চম্পা ও একটি মড়ার গল্প

সরোজ দরবার



শেষমেশ মড়াটা উঠেই দাঁড়াল। সে খুব বুঝতে পারছিল, অন্তত একবার উঠে না দাঁড়ালে একটা মস্ত বিপদ হতে চলেছে। কোনোভাবেই আর তা ঠেকানো যায় না।
মড়াটাকে এনে রাতবিরেতে যখন ফেলে রেখে গিয়েছিল জনাকয় দুষ্কৃতী, সাত ভাই চম্পা তখন ঘুমোচ্ছিল। সকাল হতে দেখে, ও মা! কী চমৎকার একজন মানুষ তাদের সামনে ঘুমিয়ে আছে। এ কোন মানুষের পো গো! এই বন-বাদাড়ের মধ্যে কেউ ঘুমোতে আসে! তা এসেছে এসেছে ভালো কথা। সাত ভাই চম্পা কতদিন মানুষ দেখেনি। এই বনের মধ্যে তাদের নির্বাসন হয়েছে সে কতকাল হয়ে গেল। আজ তাই মানুষ দেখে তাদের পাপড়িতে পাপড়িতে বাস খেলে যায়। হাওয়া ভারী হয়ে ওঠে।
মনের খুশিতে তারা আঁশকুড়-পাঁশকুড় গল্প করে। সে সবের কোনও মাথামুন্ডু নেই। কেউ মনেও রাখে না। তবু প্রতিদিনই তারা এমন কিছু গল্প করে থাকে। আজ একটু বেশি বেশি করেই করছে। এরকম করে অনেকটা সময় গেলে এক ভাইয়ের মনে হল, মানুষটা কি একটু বেশিই ঘুমোচ্ছে! আড় চোখে সে মড়াটার দিকে তাকিয়ে দ্যাখে। হ্যাঁ, এখনও ঘুমোচ্ছে। একজন মানুষ এমন করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নট নড়নচড়ন হয়ে ঘুমিয়ে থাকে কী করে!
কথাটা চেপে না রাখতে পেরে বলেই ফ্যালে সে। বলে, “মানুষটা কেমন অস্বাভাবিক ঘুম ঘুমোচ্ছে, না?” সঙ্গে সঙ্গে আর এক ভাই বলে, “হুঁ, আমিও তাই ভাবছিলাম।” এই ভাইয়ের ঘুম বরাবরই পাতলা। বাকিরা প্রায় সবাই কুম্ভকর্ণের দলের লোক। একবার বিছানায় পিঠ দিল তো আর হুঁশ নেই। এই লোকটাকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখে অনেকদিন আগের কথা মনে পড়ছিল তার। অনেকদিন আগের একটা গন্ধ নাকে এসে যেন লাগে তার। তেলের গন্ধ। আজ সে স্পষ্ট চিনতে পারে গন্ধটাকে। সেদিন অবাক হয়েছিল। ভেবেছিল, এমন সুন্দর জায়গায় এমনধারা ঘর জ্বালানো তেলের গন্ধ আসবে কোত্থেকে! মনের ভুল বোধহয়! তা ছাড়া চোখটা তারও লেগে এসেছিল। ভেবেছিল, ঘুমের ঘোরে কিছু একটা ভুল হচ্ছেই। এই ভেবেই কী ভুলটাই যে করেছিল সেদিন!
নিজের ঘুম পাতলা বলেই সে বোধহয় আরও বলল, “মানুষ এমন করে এমনি এমনি এতক্ষণ ঘুমোতে পারে না।”
“এ যখন এল, তখন কি তুই জেগে ছিলি?” এক ভাই জানতে চায় তার কাছে।
“না তো, কেন?”
“তাহলে জানা যেত কেমন করে এসেছিল। টলটে টলতে এল, নাকি এমনিই হেঁটে এসে শুয়ে পড়ল। নেশ-টেশা করেছে কি-না বোঝা যেত।”
“আমি সেসব কী করে জানব!”
“না তোর তো এমনিতেই ঘুম পাতলা কিনা!”
ঘুমপাতলা ভাইয়ের উপর বাকিদের খুব রাগ হত গোড়ায়। সন্দ যখন হয়েছিল, কেন সকলকে জাগিয়ে দিল না সে! অন্তত একবার বলতে তো পারত গন্ধের কথা। তাহলে পালানোর একটা উপায় বের করা যেত। তারপর যত দিন গেছে ক্রমে তাদের সেই মরে যাওয়ার শোক মিলিয়ে গেছে। এখন হাসাহাসি চলে। নিজেদের মৃত্যু নিয়ে নিজেরাই হাসাহাসি করতে শিখে গেছে ওরা। এই যেমন এখন টিপ্পনি কেটেই সবাই হেসে গড়িয়ে পড়ল।
বাতাসে তাদের মাথা দোলানো হুটোপুটিতে আবার বাস ছড়িয়ে পড়ে। হাওয়া ঘন হয়ে ওঠে।
মড়াটা শুয়ে শুয়ে অনেকক্ষণ ধরেই এই মশকরা দেখছে। একবার ভাবল, উঠে দু-কথা শুনিয়ে দেয়। একজন মরে পড়ে আছে, এদের তা নিয়ে হেলদোল নেই। কেমন হ্যা-হ্যা-হি-হি করছে। দেখে গা রি-রি করে ওঠে। ওঠার চেষ্টা করে দেখল, শরীর একবিন্দু নড়ে না। এ কী জ্বালা! যতক্ষণ শরীরটা আছে, ততক্ষণ শরীর তো শরীরই। এরকম করে না নড়লে চলবে কেন! মড়াটা ভাবে, তাকে যে করে হোক উঠে দাঁড়াতেই হবে।

২)
মড়ার বউ এক জায়গায় বসে বসে কাঁদছিল। একটানা অনেকক্ষণ কেঁদে চলেছে। সেই দুপুরবেলায় বেরিয়েছিল লোকটা। সন্ধে পেরিয়ে রাত হচ্ছে, তাও ফেরে না দেখে দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। দুশ্চিন্তা বাড়তে বাড়তে রাত গভীরে কান্নাকাটি। সারা রাত কেঁদে কেঁদে সকালের দিকে একটা গোঙানির মতো আওয়াজ বেরচ্ছে তার গলা থেকে।
তাকে যে ক-জন ঘিরে ছিল, তারা ফিসফিস করছিল। একজন বুড়ো আঙুল আর তর্জনীতে বিশেষ মুদ্রা দেখিয়ে বলছিল, “পাক্কা ছ-লাখ আসবে।” আর একজন বলছিল, “কী বলিস র‍্যা, দশের নিচে আজকাল কিছু হয় নাকি!” শুনেটুনে বিরক্ত হয়ে একজন বলল, “মতিভ্রম হয়েছে তোমাদের! ছয়, দশ... দুই থেকে তিনের বেশি উঠবে না, আমি লিখে দিতে পারি...” প্রথমজন তখন মড়ার বউয়ের দিকে তাকিয়ে বলল, “তাহলে ওই ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করে কী হবে! তার থেকে বউ যদি পলিটিক্সে নেমে যায়, এই বাজারে কোটিতে কামাবে। যে দল দর দেবে, তার হয়ে মড়াটা কাজ করত বললেই চলবে।”
এই কথাটা বলার সময়, মড়ার বউ একবার বুজে আসা চোখ খুলে বড়ো বড়ো চোখে তাকাল। সে কি তার পলিটিক্সে নামার কথা শুনে নাকি তার বরের মৃত্যুকে ছুঁচো মরার সঙ্গে তুলনা করা হল সেই কারণে, কে জানে! সে একটিবার চোখ খুলেই ফের চোখ বন্ধ করে গোঙাতে লাগল।
এর মধ্যে একজন এসে খবর দিয়েছে, মড়াদের পাশের পাড়ায় কাল রাতে নাকি বোমার আওয়াজ শোনা গেছে। খুন হলেও হতে পারে।
কিন্তু হলেও হতে পারে যে খুন, তা দিয়ে কি পয়সা আসে! খুনটা হতেই হবে। যে করে হোক মড়াটাকে পেতেই হবে। তাহলে সব তরফেই একট নিশ্চিন্তি আসে। কিন্তু এমন পাজি মড়া যে, যে এলাকায় খুন হয়েছে সেখানে থাকতে পারে না! কোথায় না কোথায় চরতে বেরিয়েছে, এখন কে খুঁজে পাবে! আর না পাওয়া গেলে সব সম্ভাবনার জলাঞ্জলি।
সকলেই চিন্তিত হয়ে পড়ে। ওরই ভিতর একজন ঝুনো মাথার লোক বলল, “এরকমটা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তোমরা সেই সাত ভাইয়ের গল্প শোনোনি?” সবাই সবার মুখের দিকে চায়। কোন সাত ভাই? ঝুনো বলে, “এককালে তাদের নিয়ে কাগজে অনেক লেখালিখি হয়েছিল।” তারপর হঠাৎ হাত উলটে বলে, “ও তোমরা তো তখন হয় জন্মাও নাই, নয় কাগজ পড়তে না; জানবে কী করে!” খানিকটা শ্লেষ করে নিয়ে তারপর ঝুনো নিজেই গল্পটা বলতে থাকে একটু একটু করে।
সাত ভাই খাচ্ছিল চাষ করে, হাল ঠেলে। একদিন তাদের কাছে এসে একজন বলল, আর কদ্দিন এমন করে কাটাবে তোমরা! চলো তোমাদের ডাক পড়েছে। সাত ভাই সমস্বরে বলে, ডাক! কে ডেকেছে? আগন্তুক বলে, ভিনদেশ থেকে তোমাদের জন্য টাকা এসেছে, চিঠি এসেছে। সাতজনই অবাক! বলেটা কী! ভিনদেশ থেকে তাদের কে ডাকবে? কেনই বা ডাকবে? আগন্তুক বলো, বা রে! তোমরা নিজেরাই জানো না যে, তোমরা রাজার ব্যাটা। ভিনদেশের রাজা তোমাদের দেখে ঠিকই চিনেছে। তাই ডেকেছে। এখন চলো আমার সঙ্গে।
সাত ভাইয়ের সব ঘুলিয়ে যায়। কিন্তু কী এক লোভে না মোহে তারা আগন্তুকের সঙ্গে বেরিয়েও পড়ে। হাঁটতে হাঁটতে তারা শোনে, তাদের ভিনদেশি রাজা বাপ নাকি সোনার চামচের কারখানা করবে এখানে। এরপর থেকে তাদের যত ছেলেপুলে হবে সবাই সোনার চামচ মুখে জন্মাবে। এই শুনে কী এক আনন্দে তারা বুঁদ হয়ে অনেক পথ হাঁটতে থাকে। ক্লেশ অনুভব করে না। গাঁ-গঞ্জ থেকে অনেক দূরে একসময় চলে আসে তারা, তাদের একটা চমৎকার ঘরে এনে ক-দিন রাখা হয়। এখান থেকেই তারা যাবে রাজার কারখানায়। দেখা হবে তাদের পিতার সঙ্গে। ভালোই কাটছিল। তারপর একদিন অকস্মাৎ সেই ঘরে আগুন লেগে যায়। সেই থেকে কেউ আর সাত ভাইয়ের খোঁজ পায় না কোনোদিন।
“কিন্তু ওই আগুনেই যে সাত ভাই মরেছে, তা কী করে বোঝা গেল?” ভিড়ের মধ্যে থেকেই উঠে এল প্রশ্নটা। ঝুনো একটু হেসে বলে, “সেইটেই তো কথা। কাগজে লিখেছিল ওই ঘরেই নাকি আসা-যাওয়া ছিল এক বড়ো নেতার। সেই নেতাকে খুন করতে গিয়েই কয়েকজন দলীয় কর্মীকে মেরে ফেলেছে দুষ্কৃতীরা। কাউকে চেনার জো নেই। সব পুড়ে কাঠ। নেতা নাকি সেই পোড়া কঙ্কাল কাগজের লোকেদের ডেকে দেখিয়েছিল।”
“তাহলে তো সাত ভাইয়ের বাড়ির লোক নেতার থেকে অনেক টাকা পেয়েছিল...” ভিড়ের যেন কৌতূহলের শেষ নেই। অশ্লীল কৌতূহল। ঝুনো আবার হাসে। বলে, “কিন্তু দলের খাতায় তো সাত ভাইয়ের নাম ছিল না। নেতা একখানা শহিদ বেদি করেছিল বলে শুনেছিলাম। সেখানে কারও নাম ছিল না। শুধু লেখা ছিল, মৃত কর্মীদের স্মৃতির উদ্দেশে।”
সেই হয়ে গেল সাত ভাই হাপিশ। কে যে বিদেশি রাজা, কে তাদের বাপ, কোন সোনার চামচ তাদের দিত সেই রাজা বাপ, কিছুই বেচারারা জানল না। সেই সময় অনেকেই সন্দেহ করত, আস্ত ক-টা লোক পুড়ে মরল, কেউ পালানোর চেষ্টা করল না কেন! ঘটনাটা সত্যি তো! তখন কেউ কেউ বলেছিল, সেদিন রাতে দামি দামি প্রচুর মদ খেতে পেয়েছিল তারা। শুনেছিল, তাদের রাজা বাপ পাঠিয়েছে এই অফুরন্ত পানাহার। এরপর থেকে তাদের আর এসবের অভাব হবে না কোনোদিন। ওই খাওয়াই কাল হল। সেই তাদের শেষ খাওয়া। হয়তো ঘুমের ভিতর কেউ দাহ্য তেলের গন্ধ পেয়েছিল, কেউ হয়তো উঠতে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু এখন আর কে তার সাক্ষ্য দেবে! মোদ্দা কথা, সাত ভাই এক নিমেষে উধাও হয়ে গেল।
এখন, এই মড়াটারও সেই দশা হয়েছে কি-না, সেটাই ভাববার। ভিড়ের ভিতর ভাবনা জমতে থাকে। এমন সময় মড়ার বউ, ঝিমুনি ফেলে আবার সজোরে চেঁচিয়ে ওঠে। বলে, “তুমি কোথায় গেলে গো! একটাবার ফিরে এসো...”
৩)
দেখতে দেখতে এই দিনটারও আয়ু ফুরিয়ে আসে। ফের অন্ধকার নামে। চাঁপার বন এখন শান্ত। সাত ভাই ফের ঘুমিয়ে পড়ে। একটা মিশুকে হাওয়া মাঝে মাঝে ওদের ছুঁয়ে যাচ্ছে।
এর মধ্যে ঘুম-পাতলা ভাই খেয়াল করে, নিচে কীসের যেন একটা খসখস আওয়াজ। ত্বরিতে সে তাকিয়ে দ্যাখে, মড়াটা এখন এই অন্ধকারে প্রাণপণ ওঠার চেষ্টা করছে। হ্যাঁ, মড়া-ই। আর কেউ না জানুক, সে জানত, এ কোনও ঘুমন্ত লোক নয়। এ বিলকুল একখানা মড়া।
ঘুম-পাতলা ভাই দ্যাখে, মড়াটার পা নড়ছে। হাত নড়ছে। কিন্তু মাথাটা সে কিছুতেই তুলতে পারছে না। মনে হয়, ওর মাথায় পিছন দিক থেকে মারা হয়েছিল। রক্তে মাখামাখি হয়ে গিয়েছিল মাথাটা। সেই অবস্থায় ফেলে দিয়ে গ্যাছে। রক্ত মাটির সঙ্গে মিশে এমন কাদা হয়ে গেছে যে, মড়াটা কিছুতেই মাটি থেকে মাথাটা তুলতে পারছে না।
বেশ কিছুক্ষণ কসরতের পর মড়াটা একসময় সত্যি সত্যিই উঠে দাঁড়াতে পারল। তখন তাকে অবাক করে দিয়ে সেই ভাই ফিসফিসিয়ে বলল, “এই অবস্থাতে কোথায় চললে?”
মড়াটা একটু চমকাল। তারপর ভাবল, যে মরেই গ্যাছে, মৃত্যু যার অভিজ্ঞতায় আছে সে আবার চমকায় কেন! কীসের ভয়! তারপর বুঝল, এই চমকানো মানুষ হয়ে থাকার দীর্ঘ অভ্যেসের কারণে। সেও ফিসফিসিয়ে বলে, “যেখান থেকে এসেছি সেখানেই ফিরব। তুমি এখনও জেগে কেন?”
“আমি জেগেই থাকি। একবার ঘুমিয়ে পড়ে ভুল করেছিলাম। আর করি না।”
“তোমরাও ভুল করেছিলে! তা, তোমাদের কে ডেকেছিল?”
“ভিনদেশের রাজা নাকি চিঠি দিয়েছিল। আর, তোমায়?”
“আমায় তো বলল, দেশের ভিতর থেকেই ডাক এসেছে। দেশের রাজা ডেকে পাঠিয়েছে দেশের ভিতর থেকে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে হবে বলে।”
দু-মুহূর্ত দুজনেই চুপ করে থাকে। তারপর দুজনেই হেসে ফ্যালে ফিক্‌ করে। চম্পা ভাই জিজ্ঞেস করে, “তা সব যখন হয়েই গেছে, সবকিছু বুঝতেই পারছ, তবে আবার ফিরছ যে বড়ো!”
মড়াটা এবার চুপ করে থাকে বেশ কিছুক্ষণ। তারপর প্রশ্ন করে, “একটা জিনিস বলো, হিসেব মতো, খাতায়-কলমে তুমি তো মরোনি?”
চম্পা ভাই বাকিদের দেখিয়ে বলে, “শুধু আমি কেন? আমরা কেউই মরিনি। ছিলাম, এখন আর নেই। স্রেফ উধাও হয়ে গেছি।”
মড়াটা বলে, “আমিও তা-ই। উধাও হয়ে গেছি রাতারাতি।”
“তাতে কী হল! এমন তো কত হয়েই থাকে...”
মড়াটা বলে, “সে-ই তো ভাবি। তাহলে আমাদের হয়ে প্রতিবার মরেটা কে?” বেশ খানিকক্ষণ দুজনেই চুপচাপ। মড়াটা আবার বলে, “আমার কী মনে হয় জানো, আমাদের সঙ্গেই বারবার কেউ একজন মরছে। কিন্তু তাকে তো উধাও হতে দেখি না। সে তার মানে মরেও বেঁচে আছে। একটা গলা-পচা মড়াকে ওরা দিব্যি বাঁচিয়ে রেখেছে বলে আমরা সবাই কেবল মরে যাচ্ছি। আবার হয়তো কাউকে মরতে হবে। কিন্তু আমরা যদি না ফিরি, সেই আসল মড়াটাকে কি কিছুতেই চেনা যাবে, বলো?” মড়াটা একটু থামে। তারপর নিজের মনেই বলতে থাকে, “তাকে না চিনতে পারলে বড়ো বিপদ হয়ে যাবে। একবার অন্তত ফিরতেই হবে, বুঝলে। পারলে তোমরাও আমার সঙ্গে এসো।”
বলতে বলতে উত্তরের অপেক্ষা না-করেই থ্যাঁতলানো মাথা নিয়ে টলমল করতে করতে এগিয়ে চলে মড়াটা। নির্জন বন-বাদাড় পেরিয়ে লোকালয়ের দিকে। তখনও অন্ধকার চতুর্দিক। ভোর হতে বেশ বাকি।
~