নিজের মুখে তাকাই

শান্তনু ভট্টাচার্য



এক বিকেলে রাস্তায় হাঁটতে-হাঁটতে অনেক কথার ফাঁকে ও আমায় বলেছিল কথাটা--- জন্মের পর সামান্য কিছুটা সময় হাতে পেয়েই মানুষ আগে খুঁজতে শুরু করে তার গন্তব্য। দূরের সেই সোনালি বিন্দুটা চোখে পড়ে গেলে তার আর কোনো চিন্তা নেই, নির্দ্বিধায় সে হেঁটে যেতে পারে বাকি পথটা। কিন্তু বিপদ হল, যখন হাঁটাপথে চোখে ধাঁধা লেগে সে হারিয়ে ফেলে সামনের গন্তব্য-বিন্দুটা!...
মাঝেমধ্যেই এটা-সেটা কথার মধ্যে দু-একটা ভারী কথা ও এনে ফেলত আমাকে শোনাবার জন্য, যেগুলো আমি শুনতাম এবং পরে ভেবে দেখতাম, শুনতে ভারী লাগলেও আসলে কথাগুলো অন্তঃসারশূন্য, শব্দ-বাক্যগুলোই যা ওজনদার। সেদিন সেরকম ভেবে আমি হাঁটাপথে গুরুত্ব দিইনি কথাটায়। পরে একদিন কথাটা আমার অবচেতন-স্তর থেকে উঠে এসেছিল চেতন-স্তরে। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম কথাগুলোকে। অনেক বার মনের মধ্যে নাড়াচাড়া করেছিলাম ওর ওই কথাগুলো--- জন্মের কিছু পরেই মানুষ তার গন্তব্য খুঁজতে শুরু করে--- আমায় ভাবিয়ে তুলেছিল এই আপাত সরল বাক্যটি।
ওই রবিবার, ওর এক বন্ধুর বাড়িতে ও নিয়ে যাচ্ছিল আমাকে। ওর সেই বন্ধু একজন শিল্পী। আমি আগে কখনো কোনো শিল্পীর বাড়ি যাইনি। জীবনে প্রথম কোনো শিল্পীর বাড়ি দেখে আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম--- খুব পুরোনো এক আড়াই তলা বাড়ি। অনেক জায়গা থেকে পলেস্তারা খসে বেরিয়ে পড়েছে ইট। যেখানে তখনো পলেস্তারা টিকে আছে সেখানে সিমেন্টের কী অদ্ভুত লতাপাতার কারুকাজ! বাড়িটার চারপাশে ছিল এলোমেলো বাগান, ঠিক বাগান বলা যায় না, ঝোপঝাড়।... আমি তো হদ্দ বেকুব, দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ কল্পনাপ্রবণ মানুষটাও বাড়ির চেহারার পাশে কল্পনা করতে পারত না শিল্পীর দৈহিক গঠন। অতি সুদর্শন এক পুরুষ সে-শিল্পী! যে-শরীরী সৌন্দর্য চোখের ওপর ভেসে থাকে অনেকক্ষণ, সেই দেহরূপ ভগবান যেন দু-হাতে দান করেছেন তাকে। শিল্পীর পরনে ছিল সাদা চোস্তা পায়জামার ওপর ঘন লাল পাঞ্জাবি। তার ছবি আঁকার ঘরটাও ছিল চমৎকার! বাড়ির বাইরের চেহারার সঙ্গে যার এতটুকু মিল ছিল না। আমি অবাক হয়ে দেখছিলাম চারদিক। শিল্পী আমাকে বসার অনুরোধ জানিয়ে প্রথমেই বলল, আমি বেশ ক-বছর ধরে একটা বিষয়েই ছবি এঁকে যাচ্ছি। যদিও বিষয় হিসাবে এটা নতুন নয়, আমার আগে পৃথিবীজুড়ে বহু শিল্পী এই বিষয়ে ছবি এঁকেছে, আমার পরেও বহু শিল্পী এ-বিষয়ে ছবি আঁকবে।... শিল্পীর কথা কানে ঢুকলেও, আমার দৃষ্টির সবটা এবং মনের অনেকটা তখন আমি হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছি দেওয়ালের গায়ে--- কত মুখোশ! বিভিন্ন রঙয়ের, বিভিন্ন আকৃতির। কী অদ্ভুত এক-একটা! কিছু মুখোশ দেখে যেমন হাসি পাচ্ছিল, তেমনি দু-একটা দেখে ভয়ে কেঁপে উঠছিল বুক। কী ভয়ঙ্কর তাদের অভিব্যক্তি! ওই নীরব অভিব্যক্তির দিকে তাকিয়ে থাকা যাচ্ছিল না বেশিক্ষণ।
শিল্পী তার চিত্র রচনার নেপথ্যে যে-ব্যাখ্যা দিয়েছিল, তা অনেকটা এরকম : মানব সভ্যতার একেবারে শুরু থেকেই মানুষ তার নিজের অভিব্যক্তি নিয়ে ভেবেছে। সেই অভিব্যক্তিকে চাপা দিতে উপায় খুঁজতে শুরু করেছিল মানুষ। সেই উপায় খোঁজার মধ্যে দিয়েই মানুষ একদিন পেয়েছিল মুখোশের সন্ধান। মুখোশের মধ্যে দিয়ে নিজের অভিব্যক্তি লুকিয়ে ফেলার সুযোগ পেয়ে স্বস্তি মিলেছিল মানুষের। তারপর থেকেই মুখোশ তৈরি করে চলেছে মানুষ, এঁকে চলেছে মুখোশের ছবি। মুখোশের নেশা থেকে মুক্তি নেই মানুষের---
এটা মুখোশের ইতিহাস নাকি শিল্পীর আপন ধারণা, তা অবশ্য আমি জিজ্ঞাসা করিনি।
আমার খুব ইচ্ছা করছিল, শিল্পীর কাছ থেকে একটা মুখোশের ছবি চাইতে, কিংবা অল্প দামে কিনে নিতে। ইচ্ছেটা মনে নিয়েই সেদিন বেরিয়ে এসেছিলাম পুরোনো বাড়িটা থেকে। শিল্পীর কাছ থেকে আমার মুখোশ কেনার ইচ্ছা শুনে ও খুব উৎসাহী হয়ে বলেছিল, নিশ্চয়ই কিনবে। দেখবে, ঘরের দেওয়ালে একটা মুখোশ ঝুলে থাকলে ঘরটা বদলে যাবে, আর ঘর বদলানো মানে জীবনও বদলানো!
ওর উৎসাহ আমাকে আরও উৎসাহিত করেছিল। একটা মুখোশের দাম ন্যূনতম কত হতে পারে সে-হিসাবে জড়িয়েছিলাম বারবার। তারপর কিছু টাকাপয়সার বন্দোবস্ত করে যখন একদিন ওকে শিল্পীর বাড়িতে মুখোশ কিনতে যাওয়ার কথা বললাম, ও বলল, তা আর সম্ভব নয়।
কেন?
ও বলল, শিল্পী আর পৃথিবীতে নেই। একমুঠো ঘুমের ট্যাবলেট গলায় ফেলার আগে নিজের আঁকা সব মুখোশ পুড়িয়ে দিয়েছে সে।
কেন?
ও বলল, তা জানি না। আর জেনেই-বা কী হবে!
আমারও মনে হয়েছিল, ঠিকই, জেনেই-বা কী হবে!...পরে, সারাজীবন পাশে থাকার অঙ্গীকার করে তখন সবে আমার সবুজ ঘরে এসেছে ইরাবতী; আমি ওকে বলেছিলাম, ইরা, আমাদের ঘরের দেওয়ালে একটা মুখোশ টাঙাব, কেমন!
না হেসেই ইরা বলেছিল, আচ্ছা, কিন্তু মুখোশটা যেন তোমার মুখের মতো দেখতে হয়।
ইরার কথার মধ্যে রসিকতা থাকলেও, পরে আমার মনে হয়েছিল, কথাটার মধ্যে রয়েছে আরও গভীর কিছু।... কিন্তু কী সেটা? আমি আর তা জিজ্ঞাসা করার সাহস দেখায়নি। একদিন বিষয়টা ফিরিয়ে আনার জন্য ঘটনাটা বলেছিলাম ওকে--- জানো, অনেক আগে আমাদের এক তলার ঘরে একটা মুখোশ ছিল, সাদা রঙের মুখোশ। যার ঠোঁট দুটো ছিল ঘন লাল। দু-চোখের চারপাশে ছিল বেগনে রেখা। কী অদ্ভুত দেখতে ছিল মুখোশটা! ওটার দিকে তাকাতেই ভয় করত আমার। মা-ও পছন্দ করতেন না মুখোশটাকে। কিন্তু সেটা দেওয়াল থেকে খুলে ফেলেও দিতেন না। অনেক পরে, ধুলো-কালিতে যখন মুখোশটা নষ্ট হয়ে এল, তখন একদিন বাবা সেটা দেওয়াল থেকে নামিয়ে ছুড়ে ফেলে দিলেন বাইরে। বাহাত্তর ঘণ্টা সেটা পড়েছিল বাড়ির বাইরে, খোলা নর্দমার পাশে। পড়ে থাকা সাদা মুখোশটা আসতে-যেতে চোখে পড়ত আমার। ওটার ওপর চোখ পড়া মাত্রই কেঁপে উঠত বুক। মনে হত, যেন ভিন গ্রহ থেকে আসা মানুষ সাদৃশ্য কোনো প্রাণীর কাটা মাথা পড়ে আছে নর্দমার ধারে। ভেবেছিলাম, বৃষ্টি এলে কাগজের মুখোশ ভিজে-ধুয়ে মিশে যাবে নর্দমার কালো জলে। কিন্তু তা হয়নি। তিন দিন পর আমি ধীর পায়ে, সকলের নজর এড়িয়ে মুখোশটা তুলে এনেছিলাম বাড়ির ভেতরে। তখন কাটা মাথার ভয় উবে গেছে আমার মন থেকে, বরং কেমন এক দুঃখ বোধ হচ্ছিল মুখোশটার দিকে তাকিয়ে! মনে হয়েছিল, মানুষের অভিশাপেই হয়তো কোনোদিন মুখোশের চোখে মণি জুটবে না। খানিক পরেই ভাবলাম, তা না হওয়াই মঙ্গলের। পৃথিবীর সব মুখোশ যদি কোনো একদিন দৈববরে তাদের দু-চোখে দৃষ্টি পেয়ে বসে, তবে তা হবে এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। বাতাসে জীবাণু ছড়ানোর মতো সে-ঘটনাতেও দুলে যাবে মানব সভ্যতা--- নিজের এই আজগুবি ভাবনায় রাগ ঘনিয়ে উঠেছিল আমার মনের মধ্যে। আমি দাঁতে দাঁত চিপে দু-হাতে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলেছিলাম মুখোশটাকে। সাদা টুকরোগুলো মেঝে থেকে কুড়িয়ে ছড়িয়ে দিয়ে এসেছিলাম নর্দমার কালো জলের ওপর। কী আশ্চর্য, সে-দিন রাতেই হু হু ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে এক পশলা বৃষ্টি নেমে এসেছিল শহরে। পরের দিন সকালে দেখেছিলাম, মুখোশের স্যাঁতসেঁতে সাদা টুকরোগুলো ছড়িয়ে রয়েছে এপাশে-ওপাশে---
আমার দীর্ঘ মুখোশ-কাহিনি মন দিয়েই শুনেছিল ইরাবতী। চোখে পড়ার মতো কোনো অভিব্যক্তি মুখের ওপর না নামিয়ে, কিছুটা বাড়তি সময় নিয়ে বলেছিল, তার মানে, মশা ছাড়াও তুমি একটা মুখোশও খুন করেছ জীবনে।
আমি আর কিছু বলিনি। কিন্তু প্রাথমিক ধাক্কার পর কথাগুলো আমাকে ঠেলতে-ঠেলতে নিয়ে গেল অন্য জায়গায়। আমার সামনে তখন বেঁটেখাটো, ভোলেভালা সেই মানুষটা। সাদা পায়জামার ওপর সাদা পাঞ্জাবি ছাড়া আর কোনো পোশাক যে গায়ে তুলত না। চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-নক্ষ ত্রের অবস্থান বিচার করে প্রিয়জনদের ভবিষ্যৎ প্রকাশ করত যে। যে-লোকটা একদিন ফোঁসফোঁস করে গরম নিশ্বাস ফেলে আমায় বলেছিল, বড়ো হলে এ-বাড়ি ছেড়ে চলে যাস, অন্য কোথাও গিয়ে থাকিস। এ-বাড়িটা ভালো নয়, দেখিস,একদিন এ-বাড়িতে খুব খারাপ কিছু একটা ঘটবে!
কেঁপে উঠেছিল আমার বুকের ভেতরে ঝুলে থাকা লালচে হৃৎপিণ্ডটা। মনে হয়েছিল, খাঁচায় থাকা আমার সদ্য পোষা ময়নাটা মরে যাবে কিংবা উড়ে যাবে--- কিন্তু তা হয়নি। বাড়ির কারও কিছু হয়নি। শুধু আমার সেই কাকামশাই, কোন এক ক্ষীণ সম্পর্কের নিরিখে যে আশ্রিত ছিল আমাদের বাড়িতে, সে মরে গেল একদিন। বিষ খেলে মানুষকে কেমন দেখতে লাগে, তা দেখার কৌতূহলে আমি বিপজ্জনক দ্রুততায় সিঁড়ি ভাঙছিলাম ওপর থেকে। যখন ওই সবে ভেঙে ফেলা দরজার খুব কাছে চলে গিয়েছি, তখন একটিও কথা না বলে, কোনো ভূমিকা না রেখে হেমলতা দেবী হাত ধরে আমায় টেনে এনেছিলেন তিন তলায়, ঠেলে দিয়েছিলেন ঘরের ভেতরে। ঘরের মধ্যে থেকেই আমি শাঁখা-পলা-চুরি পরা তাঁর ব্যস্ত হাতে দরজায় ছিটকিনি লাগাবার শব্দ পেয়েছিলাম। খুব রাগ হয়েছিল আমার। রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলাম ময়না পাখিটার ওপর। খাঁচার দরজা খুলে সেটাকে বাইরে এনে উড়িয়ে দিয়েছিলাম ঘরের জানলা দিয়ে।
বিষ কেমন দেখতে হয়, নীল? বিষ কেমন খেতে, খুব তেতো? কাকামশাই কি জলে গুলে বিষটা খেয়েছিল? বিষটা কোন দোকান থেকে কিনেছিল কাকামশাই?--- খুব সম্ভব এই সব প্রশ্নগুলো যখন আমি ভাবছি, তখন বাড়ির বাতাসে ভেসে উঠেছিল একটা শব্দ--- খুন।... কে খুন করল কাকামশাইকে। প্রশ্নটা গল্পের গোয়েন্দাদের মতো ভাঁজ করে রেখেছিলাম মনের গোপন সিন্দুকের এক কোণে। তারপর আরও অনেক কিছুর মতোই হারিয়ে গিয়েছি ভাঁজ করে রাখা সে-প্রশ্ন, শুধু থেকে গিয়েছিল একটা আবছা প্রশ্ন-চিহ্ন। কিন্তু সেই প্রশ্ন-চিহ্ন একদিন স্পষ্ট হয়ে উঠল, যে-দিন দেখলাম শব্দশূন্য গাঢ় রাতে বাবু ইন্দুমাধব খুব ধীর পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন সর্বদা সাদা থানে শরীর ঢেকে রাখা কাকিমার ঘরের দিকে! মধ্যরাতে গুনগুনিয়ে পড়া তৈরির ওই মুহূর্ত থেকে ওই কালচে প্রশ্ন-চিহ্নটা ক্রমশ স্পষ্ট হতে শুরু করেছিল আমার মস্তিষ্কের অন্ধকার।
একদিন, এটা-সেটা এলোমেলো সব কথার মধ্যে ও যখন বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত আমাকে শুনিয়ে যাচ্ছিল, তখন আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলাম, আচ্ছা, তুমি কখনো তোমার ওই শিল্পী-বন্ধুকে খুব কাছ থেকে মুখোশ আঁকতে দেখেছ?... উত্তর খুঁজতে সামান্য সময় নিল ও। তারপর বলল, একদিন দেখলাম আমার ওই বন্ধু সাদা কাগজের ওপর পেন্সিল জাতীয় ছোটো কালো খড়ি দিয়ে একটা চোখ আঁকছে, পাশে আর একটা চোখের আকার আগেই এঁকে রেখেছিল সে। পরে একদিন গিয়ে দেখলাম সেই দু-চোখের পাশ দিয়ে একটা পুরুষ মুখের আদলজুড়ে সে নীল রঙ চাপিয়ে দিয়েছে। ঠোঁট দুটো রেখেছে লাল। যদিও আমি চোখ-ঠোঁট বা তার রঙ নিয়ে তাকে কোনো প্রশ্ন করিনি। আগ্রহ জাগেনি তখন। পরে যখন ওই মুখোশটা দেখতে ইচ্ছা করল, তখন দৌড়ে গিয়েছিলাম ওর বাড়ি, কিন্তু ততদিনে শিল্পীর ঘর থেকে ক্রেতার ঘরে পৌঁছে গেছে ওই নীল মুখোশ।
ওর এই সব কথার বিপরীতে আমি কিছু বলিনি। তবে যে-কারণে খুব কাছ থেকে মুখোশ আঁকতে দেখার কথা জিজ্ঞাসা করেছিলাম, পেয়েছিলাম তার উত্তর। আমার আগেই মনে হয়েছিল, শিল্পীরা যেকোনো মুখোশের আগে চোখ দুটো এঁকে নেয়--- চোখ দুটোই সব। তা সে-মুখোশের রঙ লাল, নীল, হলুদ, সবুজ, সাদা, কালো যা-ই হোক না কেন!
পরে,ও আমাকে একদিন জিজ্ঞাসা করেছিল, মুখোশ নিয়ে আমার এত আগ্রহ কেন?
আমি কোনো উত্তর দিইনি। চুপ করে তাকিয়ে থেকেছিলাম দূরে, আমার পিতৃদেব বাবু ইন্দুমাধব এবং মাতৃদেবী হেমলতা দেবীর তৈলচিত্রের দিকে।