এক পার্টটাইম ভিখিরির গল্প

শিবু মণ্ডল



দু’পাশে আকাশমণি গাছে ঘেরা কালো মসৃণ পিচের চওড়া রাস্তাটির একপাশে কোম্পানির জিএম বাংলো ও অন্যপাশে কারখানা পরিসর। বাংলো শেষ হলে কোম্পানির গেস্টহাউস ও স্টেডিয়াম যা হরিদ্বারের একমাত্রও বটে আর তার উল্টোদিকে কারখানার প্রধান ফটক। স্টেডিয়াম পেরিয়ে বাঁপাশে রাজাজী ন্যাশনাল পার্কের জঙ্গল ঘেরা পাহাড় থেকে সেগুনগাছেরা হেঁটে নেমে এসে এই রাস্তার পাশেই সার সার দাঁড়িয়ে আছে দীর্ঘদেহী রাষ্ট্রীয় জওয়ানদের মতো। বসন্ত শেষ হতে হতে জঙ্গলের গাছগুলিও একেবারে ন্যাংটো হয়ে গেছে। মাটি কামড়ে পড়ে আছে শুকনো পাতা। জায়গায় জায়গায় পোড়া দেশের মানচিত্র গড়ে উঠেছে দাবানল নিভে যাবার পর। অবশিষ্ট পাতাগুলো স্ফুলিঙ্গের অপেক্ষায়। দু’শ-আড়াইশো মিটার পর কোম্পানির হাসপাতাল, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, হরিদ্বার নগরনিগমের একটি শাখা অফিস। তাই ভিড়ভাড় না হলেও রাস্তাটিতে মোটামুটি কর্মচারী ও আবাসিকদের আসা-যাওয়া লেগেই থাকে। তবে আবাসিক বলতে শুধু কোম্পানির কর্মচারী ও তাদের পরিবারই নয়;ভাগ্য সহায় হলে এখানে পাল পাল হরিণ, বারাশিঙ্গা, হাতি, বিচ্ছিন্নভাবে দু’একটি চিতা, মায় অজগর পর্যন্ত এই রাস্তায় যাত্রাসঙ্গী হয়ে যেতে পারে। আর বানর তো এখানে গৃহপালিত পশু হিসেবে পোষ মানতে শুরু করেছে। যাইহোক ছুটির দিন থাকায় রাস্তাটিতে গাড়িঘোড়া কম। হাসপাতাল থেকে প্রায় এককিলোমিটার পরে রাস্তাটি কোম্পানি পরিসর থেকে বেরিয়ে মিশেছে হিল বাইপাসের সাথে। এই রাস্তা ধরেই ছোট শিল্পাঞ্চল পেরিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় একেবারে হর-কী-পৌড়ী ঘাট পর্যন্ত। তবে আজ আমার ঘাটে যাবার কোনও কথা নয়। যদিও কুম্ভের স্নান উপলক্ষে আশপাশের অঞ্চল ও ভিনরাজ্য থেকে কাতারে কাতারে ধার্মিক ও শ্রদ্ধালুরা পুণ্যস্নান করতে আসবে। আমি ধার্মিক নই, শ্রদ্ধালুও নই। আর নিজের করা পাপের অনুশোচনা করতে করতে পুণ্য করার কথা মাথাতেই আসে না। তাছাড়া পাপ ও পুণ্য কেমন যেন ধোঁয়াশার মতো লাগে আমার কাছে। একজন চিন্তাশীল মানুষ কি কখনো পাপমুক্ত হতে পারে? প্রায় মুহূর্তেই সে কোনও না কোনও চিন্তা ও ভাবনায় গ্রস্থ হয়ে দংশন জ্বালা বুকে বয়ে বেড়ায়। এই জ্বালাও কি পাপ ও প্রায়শ্চিত্ত থেকে কম কিছু! তাই হরিদ্বারে থেকেও গঙ্গায় স্নান ও পূজা-আচ্চা করার কখনো সাধ জাগে না। তবে যখন যাই শুধু গঙ্গাদর্শন করতেই যাই আর সেক্ষেত্রে কম পরিচিত নিরিবিলি ঘাটই পছন্দ। আজ আমি যাচ্ছি সার্ভিস সেন্টারে গাড়ির সার্ভিস করাতে।
গিয়ে দেখি আজ সেখানেও অফ্‌-ডে। ফেরার জন্য গাড়িতে স্টার্ট দিতে যাবো এমন সময় একটি বয়স্ক রোগামতন লোক গাড়ির দরজা ঘেঁষে দাঁড়াল। কাঁধের পিছনে ঝোলানো একটি প্লাস্টিকের বস্তা বামহাতে ধরা আর অন্যহাতে একটি ভাঙা স্টিলের গ্লাস আমার দিকে বাড়িয়ে ধরেছে। মাস্ক কাঁহা হে? মাস্ক? পহ্‌লে মাস্ক লাগাও’- গাড়ির জানলার নামানো কাচটা উঠিয়ে দিই। লোকটি পকেট থেকে একটি গেরুয়া রঙের কাপড়ের মাস্ক মুখে লাগিয়ে নিল। আমিও আমার থুতনিতে আটকে থাকা মাস্কটি মুখের উপর তুলে নিলাম। কী ব্যাপার জিজ্ঞেস করতে যাবো তার আগেই লোকটি বলে ফেলল- বাবু পাঁচটা টাকা দিন চা খাবো। একসময় ছিল মনে পড়ে যখন ভিখারিরা বলত একটা টাকা দিন বাবু, আর কিছু বলত না সেই টাকা দিয়ে সে কী করবে। আর এখন লোকেও দান করার আগে সতর্ক হয়ে পরখ করে নেয়। তাই ভিখারিরাও আগে থেকেই সবিস্তারে বলে নেয়, যেমন পাঁচ টাকা চেয়ে বলে চা খাবে, আর দশ টাকা চেয়ে বলে রুটি খাবে।
লোকটিকে দেখে সমর্থ মনে হওয়ায় আমি জিজ্ঞেস করলাম- ‘কোনও কাজ করোনা কেন?’
- করি তো।
- কি কাজ?
- প্লাস্টিকের বোতল কুড়াই।
- তবে ভিক্ষে করছ কেন?
- দিনে পঞ্চাশ-ষাট টাকা আয় হয়।তাতে কি চলে বাবু?
- আচ্ছা, তো অন্য কাজ করো না কেন?
- করতাম তো। টোটো চালাতাম এক মালিকের। তারপর অসুস্থ হয়ে পড়ি, আপনাকে আর কী মিথ্যে বলব, আমার আবার বাবাসীর আছে। সেসময় খুব শরীর খারাপ হল। গ্রামে চলে যেতে বাধ্য হলাম।
মনে মনে বললাম এই এক সমস্যা এইসব লোকদের একটু সুযোগ দিলেই গল্প জুড়ে দেয়। আবার ভাবলাম এদের কথাই বা কে শোনে আজকাল। আজ ছুটির দিন যে কাজে এসেছিলাম সে কাজ হল না আর এখন অন্যকোনো তাড়াও নেই। তাই দু’মিনিট দাঁড়িয়ে মানুষটির কথা শোনা যেতেই পারে- এই ভেবে গাড়িটি একটু সাইডে এক গাছের নিচে দাঁড় করালাম।
কথায় কথায় জানতে পারলাম মানুষটির নাম মুন্না। মুন্না নামটি ওর মামা রেখেছিল। সেই মামাটি এখন আর বেঁচে নেই। বাড়ি শামলির কোনও এক গ্রামে, জড়ানো গলায় কি যেন নাম বলল আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না। বাড়িতে শুধু বুড়ি মা আছে আর এক নয় বছরের ভাইপো। ছোটবেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর চার ভাইবোনকে মানুষ করতে গিয়ে মুন্নার আর বিয়ে করা হয়ে ওঠেনি। ভাইয়েরা বিয়েসাধি করে এখন যে যার কাজের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় থাকে। চাষবাসের জন্য কোনও জমি ছিল না মুন্নাদের। টোটো চালানো ছেড়ে দেওয়ার পর সে একসময় সিডকুলের একটি ফ্যাক্টরিতে প্যাকেট বানানোর কাজও পেয়েছিলো। কিন্তু গতবছর লকডাউনের পর সেই কাজও চলে যায়। পরে সব স্বাভাবিক হয়ে গেলে কাজের খোঁজে গেলে জানতে পারে সেই কোম্পানিটিই নাকি উঠে গেছে। পাঁচ-পাঁচটি কুম্ভ দেখা মুন্নার বয়স এখন প্রায় পঞ্চাশের উপর। তাই গায়ের জোর আগের মতো নেই। জিজ্ঞেস করলাম যে অন্য কোনও হালকা কাজ সে গ্রামে বসেই তো পেতে পারে। সে বলল- ‘অনেকে বলেছিল যে লোকের বাড়িতে সাফ-সাফাই এর কাজ করতে। কিন্তু বাবু আমরা তো চামার নই, কাশ্যপ গোত্র আমাদের। কী করে এইসব নীচুজাতের কাজ আমরা করব?’
- তাই বলে এখানে এসে ভিক্ষা করো?
- না বাবু আমি সারাসময় ভিক্ষা করিনা। যখন হাতে টাকা পয়সা থাকেনা তখনই খাবার খাওয়ার জন্য দু’একজনের কাছে পাঁচ-দশ টাকা চেয়ে নিই। আপনাকে আর কী মিথ্যে বলব, ছোটভাইয়ের প্রয়োজনে আমি গ্রাম-প্রধানের কাছ থেকে আমার আধার কার্ড জমা রেখে সুদে পাঁচ হাজার টাকা ধার নিয়ে দিয়েছি। ভাই তো আমাকে দেখেই না, আর সেই ধারের টাকাও শোধ দেয় না। এখন আমাকেই সেই টাকা শোধ করতে হবে। সেই দুঃখে মাঝে মধ্যে একটু নেশা করে গঙ্গার ঘাটে পড়ে থাকি।
- তুমি আবার মদ-গাঁজা খাও?
- না না বাবু আমি মদ খাই না। ও সব তো বাবালোগ্‌ নেয়। আমরা ডেনড্রাইট নিই, আমি আর জুনেদ। ও আমার সাথেই থাকে বিট্টু হোটেলের সামনে ফুটপাথে। শালা ওই মুল্লাই আমাকে প্রথম এই নেশা ধরিয়েছে। এখন আর ছাড়তে পারছি না।
বাবালোগ্‌রা মদ খায় শুনে আমার কৌতূহল বেড়ে গেল। আজকাল খবরের চ্যানেলগুলিতে তো মাঝে মধ্যেই সন্‌সনি্‌ নিউজ আসে বাবালোগ্‌দের কত কেচ্ছা-কাহিনী নিয়ে। তবে মুন্না যাদের কথা বলছে তারা গেরুয়াধারি, গলায় ও হাতে মোটা রুদ্রাক্ষের মালা সুশোভিত ভবঘুরের দল। এরা কোনও কাজকর্ম করে না। দরকারও পড়ে না। এরা বাঁ হাতে পেতলের কমন্ডল ও ডান হাতে একটি ছড়ি নিয়ে হরিদ্বার, হৃষীকেশের ঘাটে ঘাটে, মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে বেড়ায়। কমণ্ডলটি দান গ্রহণের জন্য আর ছড়িটি বানরবাহিনীর হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য।সারাদিনে এরা ভালই দান-দক্ষিণা অর্জন করেন। হ্যাঁ এটা তাদের অর্জন। এরা মনে করে যে পূর্বজন্মের কোনও ঋণ থেকে মুক্ত হবার জন্যই তীর্থযাত্রীরা তাদের মত সাধু-সন্ত-ভিখিরিদের দান করে থাকেন। এখন যেমন মুন্না আমার কাছ থেকে কুড়ি টাকা পেয়ে বলেই ফেলল- ‘ কে জানে হয়ত আপনার কোনও ঋণ ছিল আমার কাছে, তাই ঈশ্বরের ইচ্ছায় তা পূর্ণ হল আজ।’
আমি অবাক হইনি মুন্নার কথায়। এখানে এসব দেখেশুনে অভ্যস্থ হয়ে গেছি। তবুও পাঁচ টাকার পরিবর্তে আমি বিশ টাকা দিলাম তাকে। না মুন্না কোনও ভেকধারী ভিখিরি নয় অথবা সেই কৌশল রপ্ত করার মত চালাকি তার মধ্যে নেই এটুকু আমার অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেতে পারলাম। সে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করে আর বাকিটা পূরণ করে লোকের কাছে হাত পেতে। আজ যেমন তার ঝুলিতে মাত্র দু’তিনটি প্লাস্টিকের বোতল জমা হয়েছে। বেলা এগারোটা বাজতে চলল সে এখনও কিছু খেয়ে উঠতে পারেনি টাকা না থাকার জন্য। তাই মনে হল যে ওকে কিছু নাস্তা করার মত টাকা দিলে এটা প্রকৃতই সাহায্য করা হবে। আর বাকি ও যেটা মনে করে শান্তি পায় পাক। তবে ওর ওই ঋণতত্ত্বের প্রতি ভরসা দেখে বোঝা যায় যে সেও ভেকধারী সাধুদের মতো খুব শীঘ্রই পেশাদার দানগ্রহণকারী হয়ে উঠবে। আর তা তার কথাতেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সে বলল কোনও এক বাবাজী তাকে চেলা করার জন্য রাজি হয়েছে। মুন্না রোজ রাতে ওর গুরুকে একটা হাফ দারুর বোতল যোগাড় করে এনে দেয়। কয়েক লক্ষ টাকার মালিক নাকি ওর গুরুদেব। গত বছরই চারধাম থেকে ফিরে এসে ওকে ওর গুরুদেব আশি হাজার টাকার বান্ডিল দেখিয়ে বলেছিল- ‘ দেখ্‌ চারধামে যে সব তীর্থযাত্রীরা যায় তারা সব মোটা পার্টি, তাই দানও মোটা পাওয়া যায়। একেকজন যাত্রির কাছ থেকে একশ দু’শ কোনও ব্যাপারই নয়।’ সেই থেকে মুন্না ওর গুরুদেবের পেছনে লেগে আছে। তবে এখনই গুরুদেব অত সহজে মুন্নাকে গেরুয়া বেশ দিতে রাজি নয়। ‘ঈশ্বর যেমন ভক্তদের পরীক্ষা নেন তেমনই গুরুও চেলার অনেক পরীক্ষা নেন।’ - বলে মনে মনে একবার গুরুদেবকে প্রণাম করে নেয় মুন্না।এর আগেও যে চেষ্টা করেনি সে তা নয়। সে এক অন্য গুরুর গল্প। মুন্না তখন টোটো চালাত। মুন্নার সেই গুরুরও এক গুরু ছিল যে নাকি হরিদ্বারেই কোনও এক ছোট আশ্রমে থাকে। তবে মুন্না তাঁকে কখনো দেখেনি। তাঁর নাকি অনেক ক্ষমতা। কেউ কেউ গুরুর মনমতো সেবা-যত্ন করে গুরুর আশীর্বাদে সাট্টা খেলে মালামাল হয়ে গেছে।
- ‘হর-কী-পৌড়ী তে সাট্টাও চলে নাকি?’- আমি বেশ অবাক হই।
- ‘ সব চলে বাবুজী। কিন্তু আড়ালে আড়ালে। আরেকটা কথা বলি শুনুন, এখানে প্রায় সব বাবারই ঘর-সংসার আছে। আর যাদের নেই তারা মাঝে মধ্যেই লন্ডিয়া নিয়ে মস্তি করে।’ দুইহাতে অশ্লীল মুদ্রায় সেই মস্তির মানেও বুঝিয়ে দেয় মুন্না।
- ‘ তাই নাকি?’ এসব কেচ্ছা-কাহিনীর কোনও প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে এই প্রথম আমার আলাপ। আমি আশ্চর্য হই।
- আপনাকে আর কি মিথ্যে বলব, আমার সেই আগের গুরু, ও-ই ওসব যোগাড় সাপ্লাই করত ওর আশ্রমের গুরুদেরকে। একদিন তো সে আমাকে এক কমবয়সী লউন্ডা যোগাড় করে দিতে বলল। আমি ভাবলাম আশ্রমের কোনও কাজের জন্য বোধহয়। কিন্তু শালা বাবাজীর নাকি ‘ওসব’(একহাতে আবার সেই অশ্লীল মুদ্রা) করার জন্য চাই। আমি তো শুনেই ভয় পেয়ে গেলাম বাবুজী।তারপরেই শালা সেই বাবাজীর পাল্লা থেকে বেরিয়ে আসি।
- তুমি বেরলে কী হবে? আবার তো আরেক বাবার লেজ ধরেছ!
- ‘ না বাবু এই বাবাজী অনেক ভালো আগেরটার চেয়ে। মদ-গাঁজার নেশা থাকলেও মেয়েছেলের নেশা নেই। আর বাবাজী বলেছে আমাকে সামনের শ্রাবণে চারধাম নিয়ে যাবে। এ আমার অনেক দিনের ইচ্ছে।এখন তার আগে আমাকে প্রধানের বাকি টাকা শোধ করে আধার কার্ডটা তুলে নিতে হবে। চারধামে তো আবার আধার কার্ড ছাড়া যাওয়া যায় না! জনমানব থেকে অনেক দূরে সেই শুনশান হিমালয়ে নাকি শিব পার্বতীকে ‘অমরকথা’ শুনিয়েছিল। কিন্তু দুটি কবুতর সেই কথা লুকিয়ে শুনে নেয় আর তারা অমর হয়ে যায়। এখনও আছে সেই পাখি দুটি জানেন! ঈশ্বরের কৃপা না হলে নাকি কেউ যেতে পারে না সেখানে।’ মুন্নার চোখ দুটি পাখির চোখের মত স্থির হয়ে যায়।
বুঝতে পারলাম মুন্না অমরনাথ আর কেদারনাথ গুলিয়ে দিচ্ছে। ভাবলাম থাক ওর বিশ্বাস ওর কাছে থাক। আবার পরমুহূর্তেই ভাবলাম যে না সঠিক তথ্যটা জানিয়ে ওর ভুল ভাঙ্গানোটা উচিত।বললাম - ‘শোন তুমি যেটার গল্প বলছ ওটা চারধাম নয়, অমরনাথ। আর চারধাম হল- গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, কেদারনাথ, ও বদ্রীনাথ। গঙ্গোত্রী হল যেখান থেকে গঙ্গা নদী উৎপন্ন হয়েছে, যমুনোত্রী হল যেখান থেকে যমুনা নদী উৎপন্ন হয়েছে। আর কেদারনাথে শিব পঞ্চপাণ্ডবকে দর্শন দিয়েছিলেন। মহাভারতের যুদ্ধের পর...’
- ‘বাবু আমার ভীষণ ক্ষিদে পেয়েছে, তারপর আপনি জানেন তো যে আমার আবার বাবাসীর আছে। আমি আজকে যাই। এরপর বিট্টু হোটেলের সামনে যেকোনো দিন আমাকে সন্ধ্যাবেলা পেয়ে যাবেন। এলে আরও আলাপ হবে। আজকে আসি, ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুক’ – আমার গল্প মাঝখানে থামিয়ে দিয়েই মুন্না একটা বিড়ি ধরাতে ধরাতে হর-কী-পৌড়ীর দিকে চলে গেল।
আর আমি ওর একটু লেংড়িয়ে লেংড়িয়ে চলার দিকে চেয়ে ভাবছি ওকে টাকা দিয়ে কি অন্যায় করলাম? তারপর ভাবলাম আর যাই হোক ও তো আর দশটা পাঁচটা সাধারণ ভিখিরিদের মতন নয়। আমাদের সামাজিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিই ওকে ভিখিরি করেছে। আর সামান্য হলেও ভালো ও মন্দের পার্থক্য তো বোঝে! নানা সামজিক চিন্তা ও ভাবনা মুন্নাকেও সামান্য হলেও দংশন করে নিশ্চয়ই।