রেডিও গ্রহণ

প্রবুদ্ধ মিত্র



বাড়ি বিক্রি করে,বিষয়হীন হয়ে আমি পথ হারাবো। আহা...

এই স্বপ্ন আঁকড়ে থাকার সময়ই দালাল সমেত খদ্দের বাবু বাড়িতে ঢুকলেন। স্থাবর অস্থাবর সব মিলিয়ে যে দাম দিলেন তার মধ্যে ঐ অস্থাবর বস্তুটিও ছিলো। আমি রাজি ছিলাম না ওটা বেচতে। আর কাস্টমারের জেদ ‘অ্যান্টিক’ সে কিনেই ছাড়বে। অতএব আমার স্বপ্নের ‘মুক্তি’ ও পথ হারানোর মাঝখানে বাধা একটি অস্থাবর বস্তু।


এই সেই অস্থাবর সম্পত্তিসমুহের অংশ। যা উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া।একটি কবেকার পুরোনো রেডিও। যা চালু করার কোনো চালু নিয়ম এর ক্ষেত্রে খাটেনা। শেষ কবে বেগম আখতার গেয়ে উঠেছিলো, ’গলি দিয়ে চলে যায়..’। ঠিক মনে পড়ছে না। বাঁ দিকে একটা গোল চাবি,ডান দিকে ঠিক একই রকম আর একটা। তার ঠিক ওপরে পাতলা কাঁচের পাত। তাতে ফ্রিকোয়েন্সি চিহ্ণিত। টেবিলের যতোটা জায়গার দখল নিয়ে আছে তা আজকের দিনে বেশ দামি। ওটা দু পাশের চাবি ঘোরালেও নিঃশব্দ। ওতে কিছু হয়না সবাই জানে। কি করে একে মেরে সিধে করতে হয় মেজদি জানতো। মার মানে আলতো থাপ্পড়। মাথার ঠিক কোন জায়গাটায় চাঁটালে শুধু বেগম আখতার কেন,একদিন তো জগন্ময় জেগে উঠেছিলো,’তুমি আজ কত দূরে …’। এ গান বেজে উঠতেই মেজদি কেমন চুপ করে গেল। উদাস শূণ্য দৃষ্টি জানলার গরাদ ছাড়িয়ে আকাশ পথে..। কে কার থেকে কত দূরে, আজও তা অমীমাংসিত থেকে গেল।

রেডিও টা একসময় গমগম করতো মহালয়ার ভোরে।

মেজদি আগের দিন রাতে ‘নব’ ঘুরিয়ে ব্যবস্থা পাকা করে রাখতো। এই রেডিওর আওয়াজেই এ পাড়ায় ‘আগমনী’ পুরোদস্তুর হয়ে উঠতো ‘ আশ্বিনের শারদ প্রাতে..’।

‘অস্থাবর’কে সরিয়ে দিলে, মানে ‘অ্যান্টিক’ বলে বেচে দিলে কি আর অসুবিধে ? উল্টে সুবিধে দুটো। এক, হাতে গরম আরো কিছু কাঁচা টাকা। আর দুই, টেবিলে খানিকটা ফাঁকা জায়গা। অতীত সরিয়ে ফাঁকা জায়গার দখল নেবে বর্তমান। এই তো সামান্য ঘটনা। তবে বর্তমানকে সবাই ‘বোকা’ বলে জানে। এজন্যই অতীত নিশ্চয়ই ‘চালাক’ বুদ্ধিমান।


একটু আগে আমার একটা টোকায় একবার রেডিও টা জেগে উঠতেই শোনা গেলো সন্ধের গুরুগম্ভীর খবর। পাঠরতা নীলিমা বটব্যালের অতি সতর্কতা মুলক উচ্চারণ, ‘ আসন্ন সূর্য গ্রহণে রাস্তায় থাকা বিপজ্জনক ‘...। এ খবর পড়া শেষ হতেই চমকে উঠেছিলাম। চোখের সামনে দেখছি রেডিও টা ‘পরবর্তী অনুষ্ঠানের ঘোষণা একটু পরেই’ বলতে বলতে টেবিলে ছেড়ে ওপরে উঠছে। সে শুধু বলছে ‘ ..একটু পরেই’। রেডিও টা ঘরের মধ্যেই শূণ্যে জায়গা দখল করতে করতে ওপরে উঠছে। জায়গা পরিবর্তনের হক তার থাকতেই পারে। হাজার হোক,সে তো অস্থাবর। কিন্তু, তাই বলে শূণ্যে ? কি এমন ঘটতে চলেছে সূর্য গ্রহণে ? দিল্লীর খবরের পরই এই আশ্চর্য ঘটনা। কদিন আগে থেকেই সূর্য কি পৃথিবীর যাবতীয় মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে শোষণ করে নিচ্ছে ?

ঘরে আমি একা আর উর্ধগামী শব্দতরঙ্গ বাহি এক যন্ত্র। আমি চেষ্টা করে তার গতি রোধ করতে পারতাম। কিন্তু আশ্চর্য হয়ে দেখছি আমার শক্তিও ক্রমশ কমে আসছে। ‘একটু পরেই’ ...কি ঘটনার ঘোষণা হবে তা নিয়ে যথেষ্ট উৎকণ্ঠা। তার ওপর উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া একটা সামান্য ভালোবাসার চিহ্ণকে আগলে রাখার দায় তো আমারই।

মেজদি বলেছিলো, ‘ আর কিছু পারিস না পারিস শিবু,রেডিওটা হাতছাড়া করিস না’।


আমি,শিবনাথ সারা জীবন পিছিয়েই রইলাম। মেজদি ’পিছিয়ে’ থাকা ভাই টাকে যাবার আগে যাবতীয় অস্থাবর সম্পত্তি বুঝিয়ে দিয়ে গেলো। এই দাস পরিবারে চার জনের অংশিদারি কমতে কমতে যখন প্রায় একে এসে ঠেকবে বলে মনে হচ্ছে, সে সময়টায় আসলে মেজদি দিন গুনছে। একদিন দুপুরে আমাকে বললো, ‘এ যে ব্রম্ভান্ডের ডাক রে।সামলাই কি করে বল ?’

কি সামলাবে ? কিসের ডাক ছোটবেলায় এসব বোঝার আগেই বাবা সর্বানন্দ বাসের ধাক্কায় সংসারের প্রথম বাতিটা নিভিয়ে দিয়ে গেলেন। সে যাই হোক। আমি জেনেছিলাম উনি ফিরবেন কোনো এক সময়। আপাতত তিনি আছেন,মেজদির কথা মতো রেডিওর মধ্যে। ছ সাত বছর বয়সে না ফেরার গল্প আমার মাথায় ঢোকেনি। মেজদির ঐ অভয়বাণী কি শুধুই সান্ত্বনা ছিলো ?


দুই

----


-’শিবনাথ দাশ এ বাড়িতে থাকেন’ ?

- থাকতেন, এখন নেই। আপনি ?

- আমি স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে আসছি। উনি কতদিন এ বাড়ি ছেড়ে গেছেন ?


শেষ প্রশ্নটা একটু গলা চড়িয়ে। তা হতেই তো পারে। গলা না চড়ালে স্পেশাল ব্রাঞ্চ ব্যাপারটা বোঝানো যাবেনা। আমার মাথাটা ন্যাড়া আর গায়ে জড়ানো কাঁচা। চিনতে পারেনি বোধহয়। আমি তো বলে দিলুম ‘উনি’ থাকেন না। সে যাত্রা মায়ের জন্যে বেঁচে গেলাম। প্যাঙক্রিয়াসে ক্যানসার নিয়ে উনি চলে গেলেন “বিপ্লবী” ছেলেকে বাঁচিয়ে দিয়ে। আমি যে দেওয়াল লিখেছিলাম সে তো মাত্র দুটো বা তিনটে। আমার মধ্যে কোনো আগুন ছিলো কি না নিজে বুঝতে পারতাম না যদ্দিন ঐ ‘ওয়ালিং’ এ না জড়িয়েছি। হাতের লেখাটা কিন্তু মেজদিই ধরে বেঁধে দাঁড় করিয়েছিলো ছোটবেলায়।

আমার মুরোদ বলতে ঐটুকু। কোনো অ্যাকশানে কখনোই ছিলাম না। দু তিনটে ওয়ালিং এ কি করে যে খাতায় নাম চলে গেল আজও মাথায় ঢোকেনা। পরে মনে হয়েছে আশপাশে সবাই বোধহয় মুখোশ পরে আছে। কাউকে বিশ্বাস হতোনা। মানুষ আর ‘একশো পাঁচ’ দুটো আলাদা সত্বা। মানুষের মুখোশে কে যে কখন খবরের সাপ্লাই লাইন হয়ে উঠছে, বুঝতে পারতাম না মাইরি।

বলতেই তো পারতাম, ‘কি বলার আছে বলুন, আমিই সে।’

কিন্তু, ঐ যে বললাম। হাজার হোক মা তো। জীবিত বা মৃত। মা বাঁচিয়ে দিয়ে গেল। দরজা খুলে সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হবার আগেই স্পেশাল খোচড়ের পেছনেই দেখি মা দাঁড়িয়ে আছে। আমার মৃত মা বললেন,

-শিবু, তুই কিন্তু এখন ‘শিবনাথ’ নয়। মাথায় রাখিস। মাথা তো ন্যাড়া..’

প্রথমবার ন্যাড়া হওয়া সমস্যা ছিলোনা। বাবার বেলায় আমি খুব ছোটো। কিন্তু,মা যখন যান, আমার ভেতরে তখন আগুনের নানা খেলা। প্রথমে ঠিক করেছিলাম মাথা কামাবো না। মৃদু প্রতিবাদ কে মেজদি পাত্তা দেয়নি। আগুন, মানে আমার ভেতরের আগুন থেকেই তো মুখাগ্নি হলো মায়ের। এরকম ভাবতে ভালো লেগেছিলো।



দু বার ন্যাড়া হবার মাঝখানে চারপাশ কেমন এলোমেলো হয়ে গেল। যে স্কুলের দেওয়ালে শিক্ষা ব্যবস্থার বাপ বাপান্ত করে ‘বুর্জোয়া’ বলেছিলাম, সেখানে এখন পরিবেশের রঙিন গাছপালা ঝকঝক করছে। যে দেওয়ালে ‘ভোট বয়কট’ করতে বলেছিলাম, সেখানে ভোট প্রার্থীর নামে সুদৃশ্য প্রচারে বারবার বদলেছে পার্টি, চিহ্ন আর টিকিট পাওয়া ক্যানডিডেটের নাম। কয়েক দশকে বহুবার ধর্ষিত হয়েছে শিবনাথ দাশের শেষ হাতের স্পর্শ। বার বার সাদা ধোলাইয়ে সেই ‘সময়’ চাপা পড়ে আছে অর্ধ শতাব্দী ব্যাপী। কালের চিহ্ন মহাকালে গিয়ে ঠেকেছে এ পাড়ায় আমারই হাতে।



- ‘জমির দাম হু হূ করে বাড়ছে রে শিবু।’

কানে বার বার কে বা কারা বাজিয়েই চলেছে এক ফাটা রেকর্ড।

-’ কতবার বলেছি আমি কিছু জানিনা।অঙ্কটা ঠিক বুঝলাম না বলেই তো এই লাফড়া জীবনে এদ্দিন ফেঁসে আছি।’

আরে অঙ্কটা এমন কিছু নয়। দু কাঠা সাত ছটাক মাত্র। শিবু না বুঝলেও অঙ্ক কষে শিবুর বাবারা জীবনের খাতা খোলেনি,এমন নয়।


শিবুর বাবা + শিবুর মেজকাকা + ছোটকাকা = বুলু ওস্তাগর লেনের একতলা ভাড়া বাড়ির দু কামরা।

পিঠোপিঠি ভাইয়েরা সকলেই মালকোঁচা ধুতিপরা সাহেবের নুন খাওয়া কেরানি।

কোলকাতায় জাপানি বোমার খবর হয়ে গেছে তদ্দিনে।

মোসাহেবির বদলে রকের আড্ডায় শুধু ব্রিটিশদের গুষ্টির দশমী পুজো।


“ সা রে গা মা পা ধা নি

বোম ফেলেছে জাপানি

বোমের ভেতর কেউটে সাপ

ব্রিটিশ বলে বাপরে বাপ “


সত্যিটা হলো শিবুর বাবা সর্বানন্দ দাস পরিবারের একমাত্র বৃটিশ দাস কিছুটা হলেও একটা পাকা ব্যবস্থার পক্ষে ছিলেন। তাই পুরোনো ভাড়া বাড়িটাই কিনে নিলেন। যা সম্ভব হয়ে ছিলো রকের আড্ডায় বাড়িওলা ভাড়াটের অটুট জোট। ভবানীবাবু প্রায় বাবার বয়সী। কিন্তু বন্ধুত্ব বয়স মানেনি।

‘ আগে তো শালা সাহেবরা যাক,তারপর ভাবা যাবে বিষয়ের কথা।’বাড়িওলা হাবেভাবে এমনই বুঝিয়ে ছিলেন। জাপানি বোমায় যদি সব গুঁড়িয়ে যায় ? ভয় ও নিখাদ বন্ধুত্ব, এসব মিলিয়ে জলবৎ দামে সর্বানন্দ ভাড়াটে থেকে বাড়ির মালিক হলো দাঙ্গার বছরের আগেই।

দু কাঠা সাত ছটাক সব মিলিয়ে। এমন বাড়িওলা কে মাথায় তুলে রেখে দিলো সর্বানন্দ। ওপরের তলাটায় বাড়িওলার ছোটো পরিবার আজীবন থেকে গেল। এটাই ছিলো বিক্রির শর্ত। লেখাপড়া ছিলো। আর একতলায় সর্বানন্দরা তিনভাই ও বিধবা মা। কিন্তু বাড়িওলা ভাড়াটের কোনো গোপন শলা ছিলো কি না এই কেনা বেচায় কেউ জানেনা।

যুদ্ধ, দাঙ্গা ও স্বাধীনতা পেরোতেই ভবানীবাবু শান্তিতে চোখ বুঁজলেন। রেখে গেলেন মৃগী রোগী অসুস্থ স্ত্রী, একমাত্র মেয়ে। যাকে সকলে রোগা শিবানী বলে জানতো এবং এতো দিনে জামাই থেকে ঘরজামাই হয়ে ওঠে সর্বানন্দ।

কে যে বেশি বুদ্ধি ধরে তা নিয়ে প্রতিবেশীর মাথাব্যথা চিরকাল রয়ে গেল। শ্বশুর না জামাই ? দু কাঠা সাত ছটাকের দামে যে লুকিয়ে ছিলো অনেক কিছু।

সম্পর্ক এমনই যে তা কোলকাতার মাটি কাঁপানো বোমা, ভাতৃদাঙ্গা বা সাহেব তাড়ানো ‘ফ্রিডম ফাইট’ জনিত ব্যাপার স্যাপারে সামান্য টলেনি। বাড়িওলা ভাড়াটের চিরকালীন দ্বন্দও জায়গা খুঁজে পায়নি। শিবানী ও সর্বানন্দর সংসারে একে একে জীবনের নানা যোগ বিয়োগ ঘটেছে। শোক আর আনন্দে অনুপাত তিন- দুই। মানে তিনটে মৃত্যুশোক ও দুটো জন্ম আনন্দ।


বসন্তের বাতাস পেঁপে গাছের সবুজ পাতায় মৃদু ঠেস দিতে দিতে ফুটপাতের ওপর একটা ছায়া দীর্ঘায়িত করেছে। পেঁপে ফুটে থাকে অজস্র। দু কাঠা সাত ছটাকের ভেতর থেকেই উঠে এসেছে যার কান্ড ও শাখাবিস্তার। দেশ স্বাধীন হবার অনেক বছর বাদে ‘রোগা শিবানী’ মা হয়েছিলো। রেডিও টা বাড়ি আসার পরের দিনই স্বপ্না জন্মেছিলো।

রেডিও টার বহিরঙ্গ কাঠের বড়ো বাক্স। সামনে পাতলা কাঁচের পাতে অনেকগুলো তরঙ্গ চিহ্ন। এই কাঁচপাতের ওপরেই দু প্রান্তে বসানো দুটো গোলাকার ধাতব চাবি বা ‘নব’। কাঁচের পাতের ওপরে গোটা বাক্সের বাকি অংশ জুড়ে মোটা কাপড়ের টানটান পর্দা। হলুদাভ এবং কোমল। এইখান থেকেই যাবতীয় স্বর ভেসে আসে। কোথা থেকে এই অদ্ভুত মানুষেরা কথা বলে, গান গায়, যন্ত্রে সুর তোলে তা ভেবে তা ছোটো থেকে বড়ো হতে হতে বিস্ময়ে বারবার ভেবেছে ছোট্ট মেয়েটি। ইথার তরঙ্গের ভেলকিতে ভেসে আসা এই যাদু বহু দামের। মহা মূল্যবান, যা কোনো দিনও হাতছাড়া না করার শপথ নিয়ে নেয় মেয়েটি। এ যেন মহাবিশ্বের যোগাযোগের ছোট্ট কুঠি। দু কাঠা সাত ছটাকের মধ্যে কতটুকুই বা তার জায়গা। যে করে হোক তা বাঁচাতেই হবে। এর ‘মা’ হয়েই তার শিশু বয়সের সব খেলা।


পাঁচ বছর বয়েসে ছোট্ট স্বপ্না আর এক খেলার সাথীকে যখন আবিষ্কার করলো তখন তার আনন্দ আর ধরেনা। কিন্তু, শিবুর জন্ম দিয়েই শিবানী শয্যাশায়ী হয়ে পড়লো। একে রক্তাল্পতা,তার ওপর প্যাংক্রিয়াস গোলমেলে। এতেআর যাই হোক,জীবন থাকেনা। ফলে পাঁচ বছর বয়সেই ছোট্ট স্বপ্নার খেলায় সে হয়ে উঠলো দুই সন্তানের ‘ জননী’।শিবু আর রেডিও তার দুই সন্তান। তার দৃঢ় ধারণা ছিলো তার মা শাসন বা নির্দেশ দেবে বিছানায় শুয়ে থেকেই। খেলার ছলে শিবুর ‘মা’ হয়ে থাকাতে কোনো অন্যায় নেই। আর ঐ অদ্ভুত যন্ত্র যেন তার প্রশ্রয়েই বেঁচে আছে। ভোরের সানাই থেকে রাতের ধ্রুপদী গান।একটার পর একটা।

বাস্তুবিদরা কোন্ বস্তু কোথায় থাকবে তার নিদান দেন বলে জানা আছে। ঘরের যে নির্দিষ্ট জায়গাটা রেডিও টার জন্য বরাদ্দ, সেটা নির্ভুল। আগে যেখানেই থেকে থাক, স্বপ্না পরে ওটার সঠিক জায়গা করে দেয়। শোবার ঘরে দক্ষিণ দিকের জানলা বরাবর চার ফুটের একটা টেবিলে ওটা রাখা। শিবু ছোটবেলা থেকেই তা দেখে আসছে। একই জায়গায় থাকতে থাকতে বস্তু একটা প্রাণ পায় বলে ধারণা বদ্ধমূল হয় তার।


তিন

-----

হ্যাঁ, মেজদি ছিলো শুধু দিদি না। আমাকে মায়ের শাসনে রাখতো। কিন্তু,ছ বছরে পা দেবার কিছুদিন বাদেই ‘ স্থানীয় সংবাদে’ জানা গেল ‘ পথ দুর্ঘটনায় মৃত প্রৌঢ়।’

পরে জানা গেল উনি সর্বানন্দ দাশ। আমার বাবা।আমি কিছুই বুঝিনি। শুধু জেনেছিলাম রেডিওতে উনি কথা বলবেন অনেক দিন পর হয়তো। মানে উনি ফিরবেন।


আমি কখনোই বেচা কেনায় দক্ষ ছিলাম না। বাবার মৃত্যু সব এলোমেলো করে দিলো মেজদির জীবন। অসুস্থ মা আর আমার পড়াশোনার খরচ চালাতে দু কাটা সাত ছটাকের বাড়িটায় প্রথম হাত পড়লো। দলিল ভেঙে দু টুকরো হলো। একতলা বেচে দিয়ে আমরা দোতলায়। মেজদিই হয়ে উঠলো কষ্টের সংসারে কত্রী। আর এই সময়টাতে কখন যে আমি একটু একটু করে রেগে উঠেছি,নিজেই বুঝিনি।

শুধু অঙ্কের ভয়ে সায়েন্স পড়া থেকে পালিয়ে বেঁচেছিলাম। কোনো রকমে একটা পাশ চাই বা চাই না। কোনো মাথাব্যথা ছিলো না ভবিষ্যতের। কারণ, শিক্ষাব্যবস্থা যে “বুর্জোয়া” ! দেওয়ালে লিখেওছিলাম ক্লাশ নাইনে। বিছানায় শুয়ে মা অনেক চেষ্টা করেছিলো,মিথ্যে বলবো না। “বিপ্লবী” ছেলেকে পথে আনতে।


-’ শিবু, নিজের পায়ে আগে দাঁড়াতে হয়। তারপর দেশোদ্ধার।’

- ...

-’ তোকে পুলিশ লকআপে ভরলে কিছু করার থাকবে না ।’

- …


কানে কিছুই ঢুকতো না। নেশার মতো পেয়ে বসে ছিলো অস্ত্র রাজনীতি। ‘হিরো’ হবার বাসনা।ঘরের খেয়ে বনের মোষ...। ছি ছি। পরে ভেবে খারাপ লেগেছে সব থেমে যাবার পর। আমার কোনো রোজগার ছিলোনা।মেজদিরও নয়। বাড়ি বেচার পয়সার সুদে চলতো আমাদের। টানাটানির সংসারে মেজদিকে দেখলাম শুধু বিবাহযোগ্যা হয়ে বসে থাকতে। রেডিওর গানে গলা মেলাতে মেলাতে আইবুড়ো থেকে যাওয়া।

রেডিও টা যে সময় আমার সবচেয়ে বেশি কাজে লাগতো আমার সেটা ছিলো ‘চেয়ারম্যানের’ দেশের খবরের কারণে। স্বপ্ন দেখাতো। দেখতামও।

মা চলে যেতে আর পুলিশের হাত থেকে ঐভাবে বেঁচে যেতে ছোটবেলার ধারণা টা আর একবার মাথাচাড়া দিয়েছিলো। মা ইথার তরঙ্গে মিশে আছে ঐ রেডিও তে, বাবার কাছে। কোনো একবার কোনো এক সময় উনি ফিরবেন। রেডিওর ভেতর থেকে কথা বলবেন।


কতোই বা বয়স হবে মেজদির যে এই অসময়ে ‘ব্রহ্মাণ্ডের ডাক’ আসবে। যার ফলে ঐ কাতর অনুরোধ, ‘রেডিও টা বাঁচিয়ে রাখিস’। আমি একটা সময় বুঝতে পেরেছিলাম জমির দাম হু হু করে বাড়লে আমাদের এই বাড়িটাও হাতছাড়া হবে। তাই কানের চারপাশে কারা যেন তা নিয়ে ফিসফিস করলেই বিরক্ত হতাম।


-’আমি কিছু জানিনা। অঙ্ক বুঝিনা।’

-’ অঙ্ক তো সহজ রে শিবু, তোর বাপ বাড়িওলা কে টুপি পরিয়ে যে সম্পত্তি খাড়া করেছিলো তা ভাঙিয়েই তোকে খেতে হবে। তোর তো আর কিছু হবার নয়।’


আমার যে কিছু হবার নয়, তা আমি জানি। দেওয়াল লিখতে মাঝে মাঝে এখনো ডাক পড়ে ভোটের সময়। এ পার্টি সে পার্টি সব আমার কাছে একই। আমি কখনোই এসব ডাকে সাড়া দিইনি। স্বপ্নটা যদি আবার কোনোদিন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সেই ভরসায়। সাদা চুন কতবার যে ঢেকে দিয়েছে আমার সব দেওয়াল লেখা। যা একান্ত আমার ছিলো বলেই না মহামান্য প্রশাসন তখন বাড়ির দরজায় কড়া নেড়েছিলো ভালোবেসে।


তা, সে তো গেল আমার কারিকুরি। বাবা টুপি পরানোর কোন্ মুন্সিয়ানায় এই বন্দোবস্ত করেছিলো তা আজ আর জানার উপায় নেই। এ অঙ্ক বাবা শিখিয়ে যাননি বলে আমার কোনো আক্ষেপ নেই।

তবু, সহজ ভাগ দিয়ে এটা শুরু হয়েছিলো। যেমন, দু কাঠা সাত ছটাক ভাগ দুই, মানে এক কাঠা সাড়ে তিন ছটাক। দোতলাটা বাবা চলে যাবার পর মা’র পরামর্শ আর মেজদির তত্বাবধানে ঐ সহজ ভাগ অঙ্কে প্রথম বেচা হয়।

রেডিওতে তখন চিন-ভারত, কম্যুনিষ্ট পার্টি ভাগ, নেহেরু ...। এসব শুনছি আর তার মধ্যেই ইস্কুলের পাঠ শুরু হয়েছে আমার।


‘ আমাদের ছোটো নদী চলে আঁকে বাঁকে..’


তা নেহেরু মারা গেছে বলে নাকি ছুটি পাওয়া যাবে এই আনন্দে কবিতাটা মুখস্থ হয়ে গেল। আ হা হা হা …


‘ বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে..’


ছুটতে ছুটতে বাড়ি এসে একতলায় ঢুকতে গিয়ে হোঁচট খেলাম। সেই প্রথম ভিটে মাটির টান টের পেয়ে চোখ ছলছল করে উঠেছিলো।আমার খেয়াল ছিলো না যে দুদিন আগেই একতলাটা হাতছাড়া হয়েছে।


বন্ধ দরজার তালা চাবি থেকে ভেসে আসছিলো শিশুকাল। রেডিওতে দরাজ গলায় হেমন্ত…’ এই দুনিয়া ঘোরে বন্ বন্ বন্…’

আমার যা জানার কথা নয় তা হলো কত টাকা এর ফলে আমাদের তিনজনের ভবিষ্যতের জন্য গচ্ছিত হলো। রোজগার হীন একটা সংসার হটাৎ সচল হয়েছে, এটুকু বুঝতে অসুবিধে হয়নি। আমার নতুন বই আর টিফিন নিশ্চিত হয়েছে। মেজদির শাড়ি আর গানের খাতা বা শুয়ে থাকা পঙ্গু মায়ের ওষুধ তো ছিলোই। বাড়িতে ফ্রিজ, নতুন আলমারি।

একতলাটা আমার প্রিয় ছিলো অন্য কারণে। জানলা দিয়ে দেখতাম পেঁপে গাছ থেকে ঝুঁকে পড়ছে সদ্য বেড়ে ওঠা ফল। হাত বাড়ালেই যার নাগাল। আর রেডিওতে গান বাজলে তার আওয়াজ রাস্তা থেকে শোনা যেত।

‘বিরাজ সত্য সুন্দর..

অর্ধেক বাড়ি নেই। টানাটানি বাবলা গাছের আঠা হয়ে লেগেই থাকে এসব সংসারে। রেডিও তখন একতলা থেকে দোতলায় উঠেছে। মেজদি তার জায়গা বেছে রেখেছে।আমার ভেতরেও দপ করে মাঝে মাঝে জ্বলে ওঠে আগুন। না পাওয়া ব্যাপারটা মাথাচাড়া দিচ্ছে যখন তখনই কাগজ আর রেডিও জুড়ে শুনছি কারা যেন ‘সশস্ত্র..’ হতে চাইছে। আমি ইস্কুল পালিয়ে বাড়িতে ঢুকে শুনতে পাই রেডিওর আওয়াজ। রাস্তা থেকে আর ততটা শোনা না গেলেও দোতলায় ওঠার মুখে কানে আসে,

‘ আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে..’


কই, বাবার গলা তো শোনা গেলনা। অন্যমনস্ক হয়ে মাঝে মাঝে ভাবি, রেডিওর রহস্য। এই একটা জিনিসই এতগুলো প্রাণ কে ধরে রেখেছে বললে ভুল হয়না। সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকা একজন প্রৌঢ়া, একজন সেবা করতে করতে যাঁতাকলের শ্রমিক যুবতী আর এই কেরিয়ার ছুট হতে চাওয়া অধম- তিনজনের সাধারণ চাহিদা এই বেতার যন্ত্র। যার মধ্যে পছন্দের প্রিয়জনও নাকি মৃতবৎ আছেন।


চার

-----


যখন বুঝলাম ‘সশস্ত্র বিপ্লব’ আর হলো না। তখন মেজদি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। জিন বাহিত অন্ত্ররোগ,যা মা থেকে মেয়ের মধ্যে জারিত।

-’ আমি বিয়ে করবো না ‘- কতবার যে মেজদির মুখে শুনেছি একথা তার ইয়ত্তা নেই। বোধহয় ওর আয়ুটা ও মেপে নিয়েছিলো। গানের মধ্যে এক কল্পনায়ক মেজদির জীবনে বোধহয় এসে গিয়েছিলো।

আমিও কেমন ঠান্ডা মেরে গেলাম চারপাশ সাঁই সাঁই গতিতে বদলাতে দেখে।

বুঝতে পারছিলাম একটা কম্পিটিশন চালু হয়েছে। কি হবে এসবে মাথা গলিয়ে তা আমার খাটো বুদ্ধিতে ঢুকছিলো না।

জমির দাম বেড়ে গেলে মানুষ কেমন বোকা হয়ে তার পেছনে ছুটতে থাকে দেখে ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। মেজদি অসুস্থ আর মা মরণাপন্ন, এই ছিন্নভিন্ন দিনে শিবনাথ দাস আর কিইবা করতে পারে ?

এক কাঠা সাড়ে তিনছটাক ভাগ দুই। আরে, এর বেশি অঙ্ক যে আমার মাথায় ঢোকেনা। দুটো মানুষের সংসার সচল রাখতে দুটো ঘর,রান্নাঘর,ছোট্ট দু ফালি দালান আর বাথরুম ধরে রাখা যাবেনা। তাই কাটাছেঁড়ায় দাঁড়ালো একটা ঘর, একফালি দালান আর বাথরুম। মাপে কতো দাঁড়ালো ও নিয়ে আমার মাথা খারাপ কখনো ছিলোনা। দলিল খন্ড বিভক্ত আর একবার হলো,এই যা।


শুধু সন্ধের নীলিমা বটব্যালের খবর না শুনলে কেউ নিজেকে স্মার্ট ভাবেনা। আমিও ভাবিনা। কিন্তু খবর শুনতে শুনতেই একদিন ওটার আওয়াজ থেমে গেল। চমকে উঠলো মেজদি। আমিও বেশ চিন্তায় পড়ে গেলাম। বুঝলাম এর স্বাভাবিক মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে। যখন হঠাৎ আওয়াজ টা বন্ধ হলো তখন খবরে জানা গেল, ….মঙ্গলের দিকে দ্রুত ছুটছে ‘স্পেশ সাটল’....

আর বাংলার নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নিশিকান্ত মাস্টার জাতীয় শিক্ষক হয়েছেন….

আওয়াজ বন্ধ হতেই মেজদি ওটার মাথায় সামান্য চাপড় মারতেই আবার ….দিল্লি অভিযানের ডাক…. বিশ্বকাপে ব্রাজিল…

যাঃ। আবার থেমে গেল।


অধৈর্য হয়ে ঐ দিকে তাকিয়ে থেকে ভাবছি, পরিবার টা ছোটো হতে হতে তিনটে চরিত্রে ঠেকেছিলো।মেজদি, আমি আর এই রেডিও। মেজদি বলছে, আমাদের পারিবারিক হয়ে উঠেছিলো ওটি। এই তিনজনের সংসারে একজনের ডাক এসেছে ‘ব্রম্ভান্ডের’। সে কাতর হয়ে বলছে স্থাবর বেচে শেষ হয়ে যাবে একদিন। দু কাঠা সাত ছটাক কমতে কমতে শূণ্য হলেও, যাবতীয় অন্য সব বেচে দিলেও ঐ একটা অস্থাবর জিনিস যেন অক্ষত থাকে।


কি করবে শিবু ? সে এই সেদিন অবধি নিশ্চিত ছিলো যন্ত্রটির মধ্যে মৃতেরা জীবিতের মতো আচরণ করে।

এর মধ্যে সর্বানন্দ দাশ আছেন। শিবানী দাশও আছেন। এবং তার মেজদিও আছেন। কখনো আবার বেজে উঠলে এদের সঙ্গে কথা হবে। এই একফালি ঘর ও একটি স্নানঘর সমেত দাম উঠছে হু হু করে। তার কানে বাজছে সেই দামের হুঙ্কার।

সে তো একসময় ভেবেই নিয়েছিলো জমি বাড়ি বিষয় তার বিষয় নয়। মুক্তির স্বপ্ন দেখায় কোনো ভুল ছিলো না সেদিন। আজও নয়। সে ক্রমশ ঝাড়া হাত পা হয়ে আবার স্বপ্ন দেখবে মুক্তির। কিন্তু, বাধ সাধছে এই আঠারো ইঞ্চি বাই আট ইঞ্চির সামান্য ভুমি। যেটাকে বেচা যাবেনা।


পাঁচ

----


মেজদির বারণ আর শেষ কয়েক ছটাক বেচার বাধা অবশেষে থেকেই গেল। রেডিও টা শিবু হাতছাড়া করবে না, পরিস্কার জানিয়ে দিলো সন্ধের খবরের পরই।

মুখোমুখি সম্মুখ বিতন্ডায় বিক্রেতা শিবু ও ক্রেতা ‘উনি’। যিনি সমস্ত পুঁজির ধারক ও বাহক। এ যেন শতাব্দির শেষতম দ্বন্দ। কারণ,সামনেই এগিয়ে আসছে ‘ওয়াই টু কে ‘...

মুহুর্ত থেমে আছে যন্ত্রটি। শিবু শোনার জন্য কান পেতে আছে।

এক্ষুণি যে বললো, পরবর্তী ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে। ইতিমধ্যেই সূর্য গ্রহণের খবর আতঙ্ক ছড়িয়েছে পথে ঘাটে। ঘরে একা শিবু অপেক্ষা করছে। বাইরে রাস্তায় সাকরেদ পরিবেষ্টিত ‘উনি’।



একটু পরেই বিনা আঘাতে রেডিও টা থেকে ভেসে এলো,

-’ আমি সর্বানন্দ বলছি …

মুক্তির স্বপ্ন দেখা মানুষেরা সূর্য গ্রহণের অবিশ্বাস্য বিকিরণে এক হয়ে প্রভূত শক্তির অধিকারী হবে…


এই ঘোষণায় শিবু চমকে উঠে রেডিওর কাছে ছুটে যেতেই ওটা ক্রমশ আরোও ওপরে উঠতে লাগলো। অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো শিবু। সে ভাবলো, জমি নিরপেক্ষ ভাবে শূণ্যে ভেসে থাকবে রেডিও টা…

আরো কয়েক মুহুর্ত এভাবে কেটে যাবার পর আরো একবার ভেসে এলো আর এক পরিচিত স্বর …

-’ এতদ্বারা জানানো হচ্ছে যে যারা স্বপ্ন দেখে তাদের কখনো মৃত্যু নেই…আসন্ন গ্রহণ সেটাই নিশ্চিত করবে…

শিবু একটুও বিচলিত না হয়ে শান্ত গলায় ডেকে উঠলো, “ মা “...এ স্বর তো ওর মায়ের।

এবং, সে লক্ষ করলো মাটির সঙ্গে তার দুরত্ব তৈরি হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি উল্লেখযোগ্য হ্রাস পাওয়ায়।

একটু একটু করে শিবু দু কাঠা সাত ছটাকের অবশিষ্টাংশ থেকে বেরিয়ে রেডিওর ইথার তরঙ্গে ভেসে উঠলো। হটাৎ তার সামনে ভেসে উঠলো সেইসব হারিয়ে যাওয়া সঙ্গীদের মুখ। যাদের যাবতীয় স্বপ্নকে ‘মৃত’ ঘোষণা করা হয়েছিলো।


-’যারা স্বপ্ন দেখেননি কখনো তাদের নতুন করে তা দেখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে …’

এই আরেক অন্য মহিলা কন্ঠের এই ঘোষণার জন্যই যেন শিবু অপেক্ষা করছিলো।

‘মেজদি’...বলে সে চাপা আওয়াজ করলো। রেডিওর তরঙ্গের সঙ্গে তা মিলে গেল। শিবুর জমে থাকা একরাশ স্বপ্ন তরঙ্গে মিশে গেলো। যা যে কোনো সময়ে ধেয়ে আসবে। তাহলে বহুদিনের বিশ্বাসটা এদ্দিনে সত্যি হলো। রেডিওতেই ছিলেন তার হারানো প্রিয়জনেরা।


পৃথিবীতে এক অবিশ্বাস্য গ্রহণে সব স্বপ্ন আবার নতুন করে জমাট বাধলো। শিবু প্রচন্ড খুশি হয়ে বিড় বিড় করে ঘোষণা করলো,”রেডিও গ্রহণ “।

ঠিকই,তরঙ্গ কেন্দ্রিক বলেই বোধহয় এরকম নাম। যা আগে কখনো শোনা যায়নি।

গ্রহণ দশক থেকে দশকে মাঝে কখনো কখনো ফিরে আসে। আমাদের শুধু চোখ খুলে রাখতে হয়।