গল্পের জন্ম মৃত্যু

তমাল রায়




তুমি যা দেখ সেটা লিখে ফেলাই কি গল্প? না'কি যা দেখনা তা লিখে ফেলাই গল্প? ফেল্ট টুপিটা দেওয়ালের হুকে ঝুলিয়ে পাইপে অগ্নি সংযোগ করিয়া ধুম্র উদগীরণ করিতে করিতে হোমস সাহেব কহিলেন,দেখা না দেখার মিলন সার্থক মিলনেই সফল গল্প জন্ম নেয়!

ওয়াটসন কহিলেন,যেমন? হোমস উত্তর করলেন-
- ১৯৪৬ এর ১৬আগস্ট দ গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং!
গল্প। ১৯৪৭ আগস্ট ১৪। স্বাধীনতা। গল্প!
১৯৯২,ডিসেম্বর ৬ বাবরি মসজিদ ধ্বংস। গল্প!
১৯৭৫,আগস্ট ১৫, বাংলাদেশ। গল্প!
পল্টু,ন্যাপা,রামা কৈবর্ত বা রহিম শেখ এই যে মিলেমিশে থাকা,অথবা ভায়ের বিরুদ্ধে ভাই। গল্পই তো! গল্প নয়?

কেন্দ্র থেকে বৃত্ত,বৃত্ত থেকে কেন্দ্র,অথবা স্পর্শকের অভিমুখে যে জার্নি,তাও গল্প। গল্প এই পৃথিবীর মতই গোল নয়,ইলিপ্স আকৃতির। ঠিক গোল না হয়ে,মাথা ও নীচ উভয় দিকই যে চ্যাপ্টা হল সামান্য। একে তুমি আমি বলি অসম্পূর্ণতা। এই অসম্পূর্ণতার মাঝেই লুকিয়ে থাকে গল্পের ভরকেন্দ্র। এক্সপ্লোর কর তাকে।

নিকিতা ক্রুশ্চেভ পার্লামেন্টে বক্তব্য দিতে উঠেই স্তালিনের চোদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করলেন। পেছন থেকে কে যেন বলে উঠলো,স্তালিন তো আপনার পিতা সম। লেনিন নয় স্তালিনই প্রকৃত রাশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা বলতেন এই আপনিই। সেদিন কেন প্রতিবাদ করেননি? ক্রুশ্চেভ দাঁড়িয়ে উঠে জিজ্ঞেস করলেন,কে বললেন,উঠে দাঁড়ান।

সভামঞ্চে পিন পতনের নীরবতাও শোনা যাবে। ক্রুশ্চেভ হাসলেন। ঠিক এই কারণেই আমিও...মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকেই ক্রুশ্চেভ জারি করলেন সেই কুৎসিততম ডিক্রি। লেনিন টোম্ব থেকে স্তালিনের দেহ বার করে এনে ভাসিয়ে দেওয়া হল ভোলগার জলে।
ওয়াটসন চুপ। হোমসের পাইপ থেকে ধোঁয়া উড়ে মিশে গেল উপমহাদেশের বাতাসে। বেকার স্ট্রিটে তখন সন্ধ্যে নামছে। উপমহাদেশে রাত্তির ঘন। শত শত পরিযায়ী শ্রমিক আবার ঘরমুখো...গল্পের জন্ম হচ্ছে পথের ধুলোয়,যেমন হয়!