বিট্যুইন দি লাইনস

অনিন্দিতা ভৌমিক





গলি দিয়ে ছিটকে আসছে পরিত্যক্ত আলো। একটা লাল বল...সামনে... খোলা বইটির ভেতরের দিকে। এই ভ্রমে যদি আমরা কেন্দ্রীয় বিন্দুর উপর দৃষ্টি স্থাপন করি এবং চোখ দুটিকে প্রান্তের দিকে নিয়ে যাই, তাহলে পাশাপাশি অবস্থান দেখা যায়। দেখা যায় কিছুটা ছড়ানো জায়গা - যার কোনো দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা ঘনত্ব নেই। শুধুই বিস্তৃতি। শূন্যস্থানের ধারণার পূর্ববর্তী, ফলে কখনও বইটির বাইরের অথবা ভেতরের দিকে দেখি স্থিরবিন্দুর বৈশিষ্ট্য। অথচ শুধু অন্ধকার হাতড়ে নেওয়ার তীব্রতা ছাড়া আর কেউ নেই যে প্রত্যক্ষ করবে এই পরিবেশ। পেন্সিলের ডগায় চাপ দিয়ে বুঝে নেবে শৈত্য ও ব্যথার অনুভূতি। আর তখনও গড়িয়ে যাচ্ছে লাল বল। সহ্য হয়ে আসা কুয়াশার ফাঁকে ফাঁকে, তার উপরের অংশ অনেকটা বড় দেখায়...
#
সাময়িক এই গলার স্বর আদিম নির্দেশ নিয়ে আসে। কামড়ে ধরে নিয়ে আসে বুনো স্বভাব। সমস্ত সমাধি ঢেকে ফেলার পরও যেভাবে মনে থেকে যায় ফুঁপিয়ে ওঠার কথা। মনে থেকে যায়, এখনও অনেকটা দূর যেতে হবে কোনো সমতল রেখা ছাড়াই। আর স্মৃতিহীনভাবে শুয়ে থাকা স্নায়ুদের আমরা খুঁড়ে নিতে থাকি। হাজার বছরের অক্ষিপটের নিচে ছুঁয়ে থাকি স্বাভাবিক চেতনা। গঠন ও উপাদানের প্রকৃতির উপর যেটুকু সমানভাবে নির্ভর করে।
#
“ Dream is the royal road to the unconscious…অর্থাৎ আস্তে আস্তে ঘুমে ঢলে পড়া এবং বিপরীতভাবে ঘুম থেকে আস্তে আস্তে জেগে ওঠার উপলব্ধিকেই চেতনা বলা যায়। ঘুম ঢলে পড়া মানে বস্তুজগত থেকে ক্রমশ মানসিকভাবে দূরে সরে যাওয়া, আর জেগে ওঠা মানে ওই জগতের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। বস্তুজগতের সঙ্গে এই বিযুক্তি ও সংযোগের তুলনা দিয়েই চেতনাকে বোঝা যায়। ঘুম থেকে জেগে ওঠার সময় যে একটি উপলব্ধি হয় তা হল চেতনার নিদর্শন।”
#
তথ্যের এই মোড় এড়িয়ে চলে যাচ্ছি
কিছু বলতে চাওয়া হয়েছে যে বয়ানে
তার ঘুমের গায়ে নীল শুভেচ্ছার গায়ে
দেখছি ভালো হয়ে ওঠা
পরমুহূর্তেই যা স্বচ্ছন্দে ফিরে আসতে পারে
ঘড়ির শব্দের ভেতর ঝুলিয়ে রাখতে পারে
তাল, লয় ও বিলম্বিত পাহাড়ি রাস্তা




#
স্বপ্নবৃত্তান্তের বিভিন্ন অংশ নিয়ে অবাধ আলোচনা করলে আমরা মূলত কতগুলো চিন্তার সন্ধান পাই। যা অব্যক্ত অংশ। যা স্বপ্নের ভেতরে ঘটে যাওয়া রূপান্তরমাত্র। স্মৃতির পর্দায় গাঢ় হয়ে থাকে। মুছে দিতে থাকে ইচ্ছা ও বিচারশক্তি। আর অনুষঙ্গের প্রভাবে একে অন্যের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে প্রতিরূপগুলি। মনে হয় বাইরের জগতের উপস্থিতি খুব ধারালো, খুব গভীরভাবে গেঁথে আছে মগজের কোষে। আমরা তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করতে শুরু করি। চেতন ও অচেতনের মধ্যবর্তী মানসিক স্তরে বুঝে নিতে চেষ্টা করি তার স্বরূপ, তার প্রকৃত বিশ্বাসযোগ্য ধারণা।
#
অন্যকারো আদলে বসে থাকছি এবার। সামান্য মাথা ঝুঁকিয়ে জানিয়ে দিচ্ছি অবচেতনের প্রতি এই আনুগত্য আসলে তো রাসায়নিক বিক্রিয়া বিশেষ। নিজেদের তৈরি অনীহায় যাকে মুছে ফেলা যায়। আর যথেচ্ছ সমাবেশের কথা লুকিয়ে রাখা যায় চোখের ভেতর, মজ্জার ভেতর, হাড়ের তীব্রতার ভেতর।
#
মেঝেতে ছড়িয়ে থাকার বৈধতা নিয়ে কথা হয়
সদৃশ থেকে ভাগ করে নেওয়া হয়
ত্বকের মতো বিবরণ
যেভাবে কিছুটা দৃশ্য থেকে বাদ পড়ে যায়
যেভাবে কোনো দৃশ্য সামনে এসে পড়ে
#
অথচ নির্জ্ঞানে সবকিছুই বর্তমান
দেওয়ালের গায়ে ইঁট ঘষে ঘষে
যোগফল লিখে রাখে
আর এভাবেই আবারও একটা পাহাড়ি রাস্তা হোক
কারো মুখ ফিরে আসুক স্মৃতিযোগ্য অনুপাতে
#
নেমে আসা তখনও খালি পড়ে আছে। কতগুলো সংখ্যার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভাবছি একটা যুদ্ধ-বিরোধী স্লোগানের ঝুলে থাকার কথা। সমীকরণ এবং শ্রেণীকরণের পরেও যেখানে হাতের বোতাম খোলা। অনুরূপ চিত্রের ভেতর যার ফলে হাওয়া চলাচল করতে পারে। আর কলার বরাবর আমরা তাকে পরিচিত ঘামের প্রতি আসক্ত বলে বর্ণনা করি। কিন্তু ব্যবধান যদি বেশি হয় তাহলে গতি দেখতে পাব না। শুধু দেখব প্রতিরাতে গলার খুব কাছে আপাতশর্তের উপর নির্ভর করে আলো জ্বলে উঠছে...একটার ভেতরে আরেকটা...মুগ্ধ হয়ে উঠছে হাতের পেশি...
#
কথা বলছে কেউ। পোশাক পড়ে নিচ্ছে সোজাসুজি একটা বাক্সের উপর আটকে থাকা শরীরে। কাঠ চেরাই-এর গন্ধের দিকে মুখ করে ভাবছে কৌশলগত সিদ্ধান্তের কথা। যে অনুভূতি প্রবল, যে অনুভূতি অতীত ...তার খোলা জুতোর দিকে তুলে রাখা লম্বা লম্বা শ্বাস ও হাতড়ে বেড়ানো ধারাবিবরণীর কথা। আর তখনও গড়িয়ে যাচ্ছে লাল বল...আলোর দিকে...এইমাত্র শেষ হয়ে যাওয়া কুয়াশার দিকে...

ছবিঋণ – ইন্টারনেট