এক বছর ঘুমোবো না, স্বপ্নে দেখে কপালের ঘাম

বহতা অংশুমালী



"এক বছর ঘুমোবো না, স্বপ্নে দেখে কপালের ঘাম/ ভোরে মুছে নিতে বড় মূর্খের মতন মনে হয়"

এই লাইনদুটো নাহয় সুনীল প্রেমিকাকে স্বপ্নে দেখে লিখেছিলেন, পরদিন ঘোর রৌদ্রের চিৎকারে ডুবে যেতে যেতে স্বপ্নের ঢেউহীন শব্দহীন সমুদ্রে নীরার নোনতা অনুভব মনে করতে । তবু অনেক মানুষের কাছে এই বাক্যবন্ধটি অন্য দ্যোতনা নিয়ে আসে। যে নিদ্রা ক্লান্তিহরা, সমস্ত দিনের কাজের শেষে যে অন্ধকারের আদরে মানুষের চোখে নেমে আসে, মানুষকে শান্তি দেয়, সেই ঘুমই কারোর কারোর কাছে বিভীষিকা হয়ে ওঠে। আমি আজ সেই সব মানুষের জন্যে লিখবো যাঁরা এক বিশেষ ধরণের মনোরোগে আক্রান্ত এবং যাঁদের কাছে দুঃস্বপ্নের বিভীষিকা তাঁদের রাতকে বড় কষ্টকর বড় অসহনীয় করে তোলে। যদি এই লেখাটি নিছক সাহিত্যকৃতি না হয়ে এমন সব মানুষদের কষ্টের কিছু উপশম করতে পারে, তাঁদের কিছু শান্তি দিতে পারে, তবে আমি আমার চেষ্টাটুকুকে সার্থক মনে করবো।

ঘুমের সময়ে মাথার গিন্নীপনা

দিবাস্বপ্ন বাদ দিলে, স্বপ্ন তো ঘুমের সময়েই আসে তাই না? তাহলে স্বপ্নের এবং দুঃস্বপ্নের কথা বোঝার আগে নাহয় একটু ঘুমের কার্যকারিতার কথা বুঝে নিই। শোওয়া আর ঘুম কিন্তু এক নয়। শুলে আমাদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ও মাংসপেশীরা আরাম পায় বটে, কিন্তু ঘুমোলে আমাদের অস্তিত্বের কর্তাব্যক্তি, আমাদের মাথার বারবাড়ির ভদ্রলোক একটু শান্তি পান। তখন মাথার অন্দরমহলের গিন্নীটি বেরিয়ে পরেন ঝাঁটা গোবরজল নিয়ে। এই গোবরজলটি হলো সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (cerebrospinal fluid) বা সি.এস.এফ. । বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে ঘুমের সময়ে মাথার মধ্যে এই তরলটি খুব দ্রুত পাম্প করা হয়ে থাকে। আর তখন মাথার কোষগুলিও কিছুটা ছোট হয়ে যায়, বিশেষ করে ইঁদুরদের ক্ষেত্রে। আর আমাদের সবার আন্তর্কোষীয় বর্জ্য পদার্থগুলিকে এই সি.এস.এফ এর মাধ্যমে ধুয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এবার বুঝুন কেন রাত জাগলে আমাদের এত্ত কষ্ট হয়! মাথা তার বিষাক্ত বর্জ্যগুলোকে তাহলে বয়ে বেড়ায় যে! তাই তো সে এত কাঁইমাই করে আমরা রাত জেগে সিনেমা দেখলে রোজ রোজ। কিন্তু মাথার গিন্নী খালি ঝাড়ামোছাই করেন না। তিনি মাথার ভাবনাচিন্তা গুলোতে হেঁটে বেড়ান। দেখেন কোন স্মৃতিগুলো কাজের। কোনগুলো নেহাতই বাজে। কোন স্মৃতি গুলোকে মাথার নিউরন আলমারির সামনের তাকে রাখতে হবে যাতে জীবনের যুদ্ধে টুক করে চাইলেই তারা টুপ করে নেমে আসে, আর কোনগুলোকে পিছনের তাকে গুঁজে দিলেও চলে। কথায় আছে না, "পুস্তকস্থা তু যা বিদ্যা পরহস্তগতং ধনম। কার্যকালে সমুৎপন্নে ন সা বিদ্যা ন তদ্ধনম।" যে জ্ঞানকে মাথা দরকারের সময়ে কাছে পেলোই না, তার আর কাজ কী? "ন সা জ্ঞানম" আমার কথায়। তাই এই গৃহিণীপনা। সেইজন্যেই, ঘুমের সময়ে মাথার একধরণের কাজ বড্ড বেড়ে যায়। মাথার হিপ্পোক্যাম্পাসে বেশ তীক্ষ্ণ তরঙ্গে সিগন্যাল সৃষ্টি হয় তখন। সেই তরঙ্গ ব্রেনের নিউরনদের মাঝখানে যে সাইন্যাপ্স আচে না, সেইখানে হালকা দোলা লাগায়। আহা সেই দুলুনিতেই না, আমাদের কিছু কিছু স্মৃতি আবার রিপ্লে সিনেমার মতন ফিরে আসে। সাইন্যাপ্সের এই দোলাই আমাদের স্মৃতি ও তজ্জনিত শিক্ষা আর জ্ঞানের জন্যে দায়ী, জানেন! আর, আর কি জানেন তো, এই স্মৃতির দোলাই আমাদের স্বপ্ন, আমাদের সিনেমাচঞ্চল নিদ্রার আদি কথা। তাই না, এত রকম প্রাণী ঘুমোয়! হাতি ঘুমোয় তিন চার ঘণ্টা, ইঁদুর আবার চোদ্দ ঘণ্টা টানা। আবার তিমিমাছ আধা মাথাকে জাগিয়ে রেখে অন্য আধাকে ঘুম পাড়ায়। হুঁ হুঁ বাবা। সমুদ্রের জীবন তো সহজ নয় যে যখন তখন পঞ্চেন্দ্রিয়কে তুচ্ছ করে ঘুমোলেই হলো! কে মারে কে কাটে। তাই প্রতি দিন মাথার দুটো ভাগ হাফ হাফ ঘুমিয়ে কাজ সারে। বুঝলেন মশাইরা?



স্বপ্ন আমার বিনি পয়সার সিনেমা

আচ্ছা স্বপ্ন আমরা "দেখি" কেন বলতে পারেন? ওমা, ভাষাকে হেলা ফেলা করবেন না। এই স্বপ্ন "দেখা", যে সে দেখা নয় দিদিমণি। তার অনেক দ্যোতনা। জানেন, স্বপ্নের জন্য ব্যবহৃত শব্দগুলো কত রকম ভাষায় কাছাকাছি? লিথুয়ানিয়ান ভাষায় "sapnas", ওল্ড চার্চ স্ল্যাভোনিক ভাষায় " sunu", পুরনো ইংরেজিতে swefn, আর প্রোটো-ইন্দো ইউরোপিয়ান ভাষায় "swep-no" ! বাব্বা। কম ব্যাপার! এত ভাষায় এই জিনিসের জন্যে একই রকমের শব্দবন্ধ! তাই যদি ভাষা বলে আমরা "স্বপ্ন দেখি", তাহলে নিশ্চয়ই "দেখি"। তার পরে কথা নেই। চলুন দেখি, বিজ্ঞান কী বলে! হ্যাঁ। তাই তো! বিজ্ঞানে ঘুমের দুরকম ভাগ। সাধারণ ঘুমে, যেখানে মাথা খুব ধোয়া মোছা ঝাড়াঝুড়ি করছে, সেখানে "non-rapid eye movement (NREM) sleep" মানে শান্ত চোখ নাড়ানাড়ির ঘুম, আর " rapid eye movement (REM) sleep" বা চোখ নাড়ানাড়ি ঘুম আমাদের আট ঘণ্টা ঘুমের মধ্যে চার পাঁচ বার ঘুরে ফিরে বদলে বদলে আসে। আর এই "চোখ নড়ানড়ি" ঘুমের সময়ে আসে স্বপ্ন কুহকিনী। মানে আমারা জাগা অবস্থায় যেভাবে দৃশ্যগুলোকে মাথায় নিই, ঘুমনো অবস্থায়ও সেভাবেই "দৃশ্য" গুলি ঘাঁটি। মানে আমাদের স্মৃতির দৃশ্যগুলিকে। তাই " https://www.nature.com/articles/ncomms8884" এই বিশ্ববিখ্যাত বৈজ্ঞানিক জার্নালের লেখাটিতে বোঝানো আছে, কেমন করে ঘুমের সময়ে যাঁরা পাহাড়ে চড়ার বা মইয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখেছেন, তাঁদের চোখ-ও vertical movement বা উপর-নীচের নড়ানড়ি দেখায়। অন্যদিকে, যাঁরা স্বপ্নে দেখেছেন যে কারা যেন দুজন একে অন্যের দিকে খুব পচা টোম্যাটো ছুঁড়ছিলো (দুঃস্বপ্ন নাকি এটা?) তাঁদের চোখ আনুভূমিক সরণ দেখিয়েছে ঘুমোবার সময়ে। মজার না?
তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন যে মানুষের চোখ ঘুমের সময়ে যেন স্বপ্নে তৈরি দৃশ্যগুলোকে সত্যিই দেখে। এই দেখা শুধুমাত্র মস্তিষ্কে "motor discharge" নয়।

কেন এমন দেখলাম? আমি কি এই চাই? Sigmund Freud কো মারো গোলি, বলি তোমায় ভাই :

এবার আমি আসি আসল কথায়। দুঃস্বপ্নের কথায়। ফ্রয়েড বলে যিনি মহান মানুষ জন্মেছিলেন, তিনি আমার খুব অপছন্দের লোক, যদিও আপনারা অনেকে তাঁকে পুজো করেন। না, মানে তিনি কিছু ভালো কাজ করতে চেয়েছেন মনোবিজ্ঞানে। কিন্তু ক্ষতি করে গেছেন আমার মতে, এবং আরো অনেকের মতে, তার চাইতে ঢের বেশী। বেটি ফ্রিডম্যানের মতে, বহু আমেরিকান মহিলা ফ্রয়েডের ভয়ে তাঁদের alienation এর কথা বলতেন না। মানে উনিই মহিলাদের মানসিক সমস্যাকে ব্যাখ্যা দিতে "penis envy" ইত্যাদি উৎকট থিওরি দিয়েছিলেন কিনা! কি জানি মশাই, আমরা তো জন্মে ওই বস্তুটির জন্যে কাউকে হিংসে করি নি! যাই হোক। সেই মহাত্মা দিলেন তাঁর অমোঘ বাণী স্বপ্নের ব্যাপারে । বলে বসলেন যে, মানুষ যা চায় তাই সে তার অবচেতনে লুকিয়ে রাখে আর স্বপ্নে তাই দেখে। মিথ্যে না পুরোপুরি! যেমন আমি স্বপ্নে আমার কিশোরবেলার প্রেমিকটিকে মাঝে মাঝেই দেখেছি জানেন? দেখেছি, এক ফুল গাছের তলায় আমি ফুল কুড়োচ্ছি। আর সে দাঁড়িয়ে দেখছে। ভোর রাতের প্রায়ান্ধকার ফুল গাছ। আর সেই ফুল কোড়ানো আর দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যেই যা বলার না বলার সব হয়ে চলেছে ব্যথার সিগন্যালে। আপনিও ত এমনই দেখেছেন কোন ভালোবাসার মানুষকে, ভালোবাসার জিনিসকে অনেকবার। ঠিক! কিন্তু স্বপ্ন তো আর এক রকম নয়! স্বপ্নের বুনন এমনও হয়, যে আপনার মস্তিষ্ক পাঁচটি স্মৃতির জায়গায় ঝাঁটা মারছে। ধরুন স্মৃতি নম্বর ১) হলো যে বাহুবলীকে কাটাপ্পা ছুরি মারছে (কেন? কেন মারছে? সেএএ আমি বলবেক নাই। গাঁটের পয়সা ফেলে দেখে আসুন")। স্মৃতি নম্বর ২) হলো আপনার আপিসে নতুন জয়েন করা মহিলা বস আপনাকে বকছে আর আপনার খুব রাগ হচ্ছে। ৩) নম্বর স্মৃতি হলো যে গুরাগাঁও এ চারটি দানব একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে, তাকে মেরে ফেলছে। ১) এবং ২) নম্বর স্মৃতি তো সিনেমা আর খবরের কাগজ থেকে নেওয়া তাই না? তবু স্মৃতি তো বটেই!
এবার, যখন আপনি সত্যিকারের জীবনে কিছু দৃশ্য দেখেন, তখন আপনার মাথা সেই দৃশ্যগুলিকে জুড়ে আপনাকে একটা গল্প বানিয়ে দেয়, যে গল্প বেশীরভাগ ঠিক, কিছুবার ভুলও হয়। যেমন আপনি যদি দেখেন যে একটা আরশোলা মেঝেতে উপুড় হয়ে ছটফট করছে, আর আপনার গিন্নী অদূরে ঝাঁটা হাতে লাফাচ্ছেন, তার থেকে আপনি বুঝে যান আরশোলাটি নিচ্চয় গিন্নীর গায়ে চড়ার দুঃসাহস করেছিল বিনা অনুমতিতে (যা কিনা আপনি কক্ষনো করেন না)। তাই সে মৃত্যুপথযাত্রী !আবার আপনার গিন্নী দেখলেন আপনার হাতে রক্ত। পায়ে রক্ত। সামনে সাইকেল থেকে পড়ে একটা লোক কাতরাচ্ছে। তিনি এক নিমেষের জন্যে আপনাকে দুঃসাহসী মারকুটে ভাবতে চাইবেন। কিন্তু না, আপনার হাতে মাছের থলে। আহা এ মেছো রক্ত! তখনি এই নিমেষের ভাবনাটি ভুল প্রমাণিত হবে! লোকটি চলে যাবে অন্যদিকে। গিন্নী বারান্দা থেকে অপসৃত হবেন। কিন্তু মোদ্দা কথা এই যে, মাথা আপনার দেখা দৃশ্যগুলিকে জুড়ে তাদের সম্পর্কে একটা গল্প বলে আপনাকে। তাই তো? এখন যদি ঘুমন্ত মাথা দেখে ১)ছুরি->২)ধর্ষক->৩)আপি ের রাগী মহিলা বস আর আপনার বকা খাওয়া, সে ভাববে আমি এগুলো একসাথে দেখলাম কেন? আসলে যে মাথার অন্য স্তরের এক কর্মী দোলা দিয়ে দিয়ে স্মৃতি ঝাড়ছে তা তো এই স্তরের মাথা জানে না। (মাথার কত স্তর তা জানতে অবশ্যই পড়ুন, বিশ্ববিখ্যাত স্নায়ুবিদ Vilayanur Subramanian Ramachandran এর "The Tell-Tale Brain: A Neuroscientist's Quest for What Makes Us Human")। তাই সে স্বপ্ন তৈরী করলো যে আপনি মহিলা বসের বকুনি খেয়ে, রেগে দিয়ে তাকে ধর্ষণ করে, তাকে ছুরি মেরে, মানে সে যাতা। আর স্বপ্নের শেষে ঘাম মুছতে মুছতে আপনি প্রবল মনোকষ্ট নিয়ে ভাবলেন, "আমি কি এরকম? আমি কি তাই চাই?"। হায় রে। ফ্রয়েড ব্যাটার দোষ! সে সব কথায় অবচেতন, সুপ্ত যৌনেচ্ছা এইসব কপচে গেছে। আর আপনি মশাই ভদ্রলোক, নিরীহ প্রাণ মানুষ, সারাদিন নিজেকে খারাপ ভেবে, আত্মগ্লানিতে! ভাবা যায়? কোন মানে হয়? স্বপ্ন স্বপ্নই। তাকে নিয়ে নিজের চরিত্রের, ভাগ্যে্‌ ইচ্ছের, অনিচ্ছের বিচার করবেন না প্লিজ। বুঝলেন তো? স্বপ্ন কিভাবে তৈরি হয়? পুরনো স্মৃতি ফিরে আসে, ভালো আর খারাপ স্মৃতি জুড়ে যায়। নতুন স্মৃতি উঠে আসে। তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে গল্প তৈরি হয়। এতরকম কাণ্ড! তাকে নিয়ে ভেবে তাই কোন লাভ নেই। স্বপ্নের উদ্দেশ্য জাগরণকে বিরক্ত করা নয়। ওটা একেবারে বাজে সাইড এফেক্ট। Synesthesia ব্যাপারটা জানেন? পঞ্চেদ্রিয়ের বিভিন্ন অনুভূতি একাকার হয়ে যায়, কোলরিজ (Coleridge) আফিম খেয়ে লিখে ফেলেন "Kublai Khan" সেই অসাধারণ কবিতা! মানে synesthesia মাথার বিভিন্ন অসম্পর্কিত জায়গার মধ্যে এমন যোগসূত্র তৈরি যে আপনার মনে হয় "নোনতা মেয়ে", "মচমচে কুড়মুড়ে ছড়া", "দুর্গন্ধময় ভাবনা" এইসব। অর্থাৎ রূপ, রস, বর্ণ, গন্ধের অনুভূতি একাকার হয়ে যায়। স্বপ্নে সেই Synesthesia, এরও হাত আছে। গুগল করুন মশাই!

Obsession এর রোগীদের দুঃস্বপ্নঃ

আপনি নাহয় একদিন একটু কষ্ট পেয়ে ওই ধর্ষণ মার্কা ফালতু স্বপ্নগুলোকে ভুলে যান। কিন্তু সবাই তা পারে না। অবসেসিভ কম্পালিসিভ রোগের রোগীরা একেবারেই পারেন না। এঁদের মস্তিষ্কে কিছু অংশ অতি প্রতিক্রিয়াশীল হয়। এঁদের মাথায় কিছু বিশেষ পথে ("Cortico-basal ganglia-thalamo-cortical loop") একই চিন্তা বারবার ঘোরে। বিশেষ করে সেইসব চিন্তা, যা এনাদের সামাজিক ধার্মিক মানবিক গঠন অনুযায়ী ভয়ের, অন্যায়ের, কিম্বা পাপের। এমন কোন চিন্তা, শুধুমাত্র একবার এনাদের মাথায় এলেই, সহস্র লক্ষবার তা মাথায় ঘুরতে থাকে। তখন এনারা বড়ই অসহায়। যদি মাথার একটি অংশই অস্তিত্বের শত্রু হয়, " সে বড় সুখের সময় নয়, সে বড় আনন্দের সময় নয়. তখনই. পা থেকে মাথা পর্যন্ত টলমল করে, দেয়ালে দেয়াল, কার্নিশে কার্নিশ" (শক্তি চট্টোপাধ্যায় উদ্ধৃত)। তা এনারা, যদি এসব ভুলভাল স্বপ্ন দেখেন, তাহলে তো হয়েই গেল। সারাদিন এনারা তখন মনোকষ্টে ভোগেন, নিজেদেরকে দোষেন। মনে করেন স্বপ্নের কর্মটিই তাঁদের আসল চরিত্রের পরিচায়ক। ই সব মানুষকে, আর বিশেষ করে এমন মানসিক অবস্থার শিকার যেসব মানুষ তাঁদের আমার সবিনয় নিবেদন এই যে, স্বপ্নের সঙ্গে আপনার চাওয়া পাওয়ার কোন রৈখিক সম্পর্ক নেই। তাই ভাইয়ো বহেনোঁ, স্বপ্ন দেখুন, হাসুন, কাঁদুন! কিন্তু স্বপ্নকে বিশেষ পাত্তা দেবেন না।
শেষের কথা কয়টি- খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ বছরে, মেসোপটেমিয়ার রাজা গিলগামেশ স্বপ্নের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতেন সত্যিই। দেবী ইনানা গিলগামেশকে স্বপ্নে কত না কথা বলতেন। তিনি আবার সেগুলির বিশ্লেষণ করিয়ে তাদের লিখিয়ে রাখতেন খোঁচা খোঁচা কিউনিফর্ম লিপিতে। ইহুদী ধর্মের বই "Book of Genesis", এবং বাইবেলে, এমন অনেক স্বপ্নের ব্যখ্যামূলক গল্প বলা আছে। স্বপ্নের বিশ্লেষণ কোন নতুন কথা তো নয়। অতি প্রাচীন তার ইতিহাস। ইজিপ্টের মানুষেরা তো সম্রাট রামেসেস দুই এর শাসনকালে একটা "স্বপ্নের বই" ই লিখে ফেলেছিলেন যাতে একশো আট খানা স্বপ্নের ব্যাখ্যা আর তাদের ভালো মন্দ প্রভাবের শ্রেণিকরণও করা হয়েছিল। কিন্তু আজ রকেটের যুগ। মানুষের কোষ ক্লোনিং এর যুগ। আসুন এগোই। ভালো স্বপ্ন আনন্দ দিক। দুঃস্বপ্ন কে বলি "চলো টাটা বাই বাই"!