গান আসলে জলের মত, বহমান

অধীশা সরকার



আমি গান গাইতে পারি না। এই না পারাটা মাঝে মাঝে আমাকে খুব বিমর্ষ করে তোলে, যখন কোনো অসামান্য বসন্তের বিকেলে মনে হয় হাওয়ায় সুর ভেসে বেড়াচ্ছে…ঠোঁটে তুলে নিলেই হত। অথবা অঝোর বাদলের রাতে জানালায় দাঁড়িয়ে মনে হয়, সুর ছাড়া কোনো শব্দ এখন মানাবে না কিছুতেই। প্রেমিকের সঙ্গে খুনসুটির মূহুর্তেও গানের চেয়ে ভালো সহযোগী আর কেই বা হতে পারত? সেসব মূহুর্তরা নৈঃশব্দে ডুবে থেকেছে আমার জীবনে। সেইসব মূহুর্তেরা, যখন সঙ্গীতকে অতিক্রম করা বা অস্বীকার করা অসম্ভব হয়ে ওঠে। এছাড়াও, সমস্ত সিনেমায় ছোটবেলা থেকে নায়িকাকে গান গাইতে দেখে দেখে, আর গান-জানা মেয়েদের স্কুলের ফাংশানে প্রাধান্য পেতে দেখে-দেখেও, গান না জানা মেয়ের মনে এই বাবদ একধরণের হীনমণ্যতা তৈরী হওয়া অস্বাভাবিক নয়। যেন সুর লাগাতে না পারা এক ধরণের অভিশাপ। অথচ হয়তো গাইতে না পারার কারণেই আমি আবার খুব মনোযোগী স্রোতা। গান গাইতে পারে এমন যে কোনো মানুষ খুব সহজেই মুগ্ধ করে ফেলতে পারে আমাকে। আমি সুর-তাল-লয়ের সুক্ষ্ম হিসেব তেমন বুঝি না। কোন রাগ বা রাগিনী, জানি না। সুর কি ঠিক লাগল? বলতে পারব না। তবে আদিমতম মানুষ যেভাবে সঙ্গীতে আকর্ষণ বোধ করেছিল, আমিও ঠিক সেভাবেই আকর্ষিত হই। যে গান মনের গভীরে কোথাও একটা টলটলে উপচে-পড়া অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে পারে… সে যে গানই হোক, যেমনই হোক, আমি অকৃপণ মুগ্ধতা দিয়ে থাকি তাকেই।
কিছুদিন আগে জোশ জোনস-এর লেখা একটা প্রবন্ধ পেলাম ‘ওপেন কালচার’ সাইটে। প্রবন্ধকার বলছেন, খৃষ্টপূর্ব চোদ্দশ শতাব্দীতে প্রাচীন সুমেরিয়ার উগারিৎ শহরে রচিত হয়েছিল পৃথিবীর প্রথম সঙ্গীত। ১৯৫০ সালে একটি পাথরের ট্যাবলেট উদ্ধার করা গেছে, যার লিপি নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করতে গিয়ে ১৯৭২ সালে অ্যান দ্রাফকর্ন কিমার দেখলেন সেটা সম্ভবত একটি অতি প্রাচীন প্রার্থনা সঙ্গীতের নোটেশন। আরও পরে, ১৯৮৮ সালে, রিচার্ড ফিঙ্ক তাঁর ‘আর্কিওলজিয়া মিউজিক্যালিস’-এ প্রকাশিত প্রবন্ধে লিখলেন, এই সঙ্গীতটি সাতটি নোটের একটি ডায়াটোনিক স্কেল, যা তিন হাজার চারশো বছর পুরনো। অর্থাৎ গ্রীক সভ্যতার উদ্ভবের অনেক আগেই মানবসভ্যতায় সঙ্গীতের উদ্ভব ঘটেছিল। কিন্তু সঙ্গীত কী মানবসভ্যতার আবিষ্কার, কাঠকয়লার উনুন বা চাকার মত? মনে হয় না। মানব ‘সভ্য’ হতে শুরু করার অনেক আগে থেকেই সঙ্গীত ছিল। সুর, তাল, লয়, সবই ছিল। আদি মানবদের আশেপাশেই। তাদের কর্ণের গোচরেই ছিল, প্রকৃতির হাজাররকমের শব্দের মধ্যেই। শুধু পাখির ডাক নয়, পশুর গর্জন বা আর্তনাদেও সঙ্গীত রয়েছে, অথবা বজ্রপাতের শব্দ, বৃষ্টির শব্দ তো বটেই, পাথর গড়িয়ে পড়ার শব্দ, পাতার শরীরে হাওয়া লেগে তৈরী হওয়া ধ্বনি। এরকম আরো অনেক শব্দ, যা শুধুই শব্দ আমাদের কাছে, তার মধ্যেই সঙ্গীতের রুট রয়ে গেছে।
এটা প্রথম বুঝতে পারি শিলাজিৎ মজুমদারের ‘ফিসফিস’ অ্যালবামটা শুনে। শিলাজিৎকে আমি গায়কের চেয়েও বেশী একজন মিউজিশিয়ান মনে করি। ‘ফিশফিশ’ এবং ‘সর্বনাশ’ এই দুটো অ্যালবাম নিয়ে তেমন আলোচনা হতে শুনি না সঙ্গীত-রসিকদের মধ্যে। অথচ এই দুটো অ্যালবাম বাংলা সঙ্গীতের দিকবদল ঘটিয়েছে বলেই মনে হয়। কাঁচ ভাঙ্গার শব্দ, ফার্নিচারের ক্যাঁচকোঁচ, বাসন মাজার শব্দ, কল থেকে জল পড়ার শব্দ, একজন মায়ের উদ্গ্রীব হয়ে তার ছেলের ঘরের দরজা ধাক্কানোর শব্দ, টেলিফোন রিং, ফোনের এনগেজ-টোন… এই সমস্ত শব্দ দিয়ে মিউজিক তৈরী হয়েছে ‘ফিশফিশ’ অ্যালবামটায়। যে শব্দগুলো মধ্যবিত্ত জীবনের দৈনন্দিনের মধ্যে গেঁথে আছে অথচ খেয়াল হয় না, কীভাবে ওই শব্দগুলোর মধ্যেই রয়ে গেছে সঙ্গীত… সুর, লয়, তাল, সবই… শুধু তা এতই অন্তরে গেঁথে আছে যে তার জন্য আলাদা করে ইউটিউব খোলা হয় না… তাই খেয়াল হয় না। এই শব্দগুলোকে সঙ্গীতের আবাহনে ব্যবহার করা হয়েছে বাংলায়… কিন্তু সেভাবে এই নিয়ে আলোচনা হতে দেখিনি… এই দিকবদলকারী পদক্ষেপ নিয়ে। ‘এক্সপেরিমেন্ট’ শব্দটা বাংলা গানের ক্ষেত্রে বড্ড লিবারালি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু পরীক্ষা ও নিরীক্ষার পেছনেও একটা দৃঢ় দর্শন থাকা উচিৎ, বা দ্রষ্টা। এক্ষেত্রে সেটা ছিল। বাঙালি পাত্তা দেয়নি, সেটা দুঃখজনক।
আমার এও মনে হয়, সঙ্গীত খুবই শারীরিক। সঙ্গীতকে হয়তো এই কারণেই ‘পিওরেস্ট ফর্ম অফ আর্ট’ বলা হয়। বিঠোফেনের নবম সিম্ফোনি, বা হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বাঁশির কোনো লিরিক দরকার নেই। সঙ্গীত নিজেই একটা ভাষা। যে ভাষা মানুষের শরীরের সঙ্গে কথা বলে। কিছু গান অবশ করে ফেলে, সে অবশ হওয়ার ভাব তো শরীরেই আসে। যেমন মুনলাইট সোনাটা শুনলে মনে হয় চোখে চোখ রেখে বসে আছে একটা অজগর। তখন শরীরের নড়ার ক্ষমতা থাকে না। আবার বড়ে গুলাম আলি’র মালকোশ শুনলে গরমকালের সন্ধ্যেবেলা হঠাৎ বয়ে যাওয়া হাওয়ার ঝাপটা লাগে শরীরে। নূরান সিস্টার্স যখন ‘ও লাল মেরী পট রাখিও খ্যায়াল...’ বলে গর্জে ওঠে, তখন আচমকা বজ্রপাতে যেভাবে বুক কাঁপে ঠিক অমনটাই হয়, একদম অমনই। যখন আনুশে আনাদিল ‘আমি অপার হয়ে বসে আছি...’ ধরেন, মনে হয় কালবৈশাখীর পূর্বাভাসে কালো হয়ে ওঠা আকাশের নীচে শুয়ে আছি। আবার মুকেশ-লতা জুটির ‘এক পেয়ার কা নগমা হ্যয়...’ শুনলে কেমন মনে হয়, কোনো বন্ধু বুকে জড়িয়ে ধরে পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। ঠিক যেমন মৌসুমি ভৌমিক যখন গেয়ে ওঠেন, ‘দয়া করো...এই খরায় আমার সমস্ত দেহ পুড়ে পুড়ে ছাই...’ মনে হয় চোখে কি একটা পড়েছে, চোখ জ্বালা করতে থাকে... আর যখন ‘আমার বাড়ির পাশে তোমার বাড়ি হবে...’ গেয়ে ওঠেন মৌসুমী, তখন মনে হয় বুক খালি করে সমস্ত জল বাষ্প হয়ে যাচ্ছে। আবার পার্বতী বাউল যখন ‘কিছুদিন মনে মনে...’ বলে একতারার টান দেন, মনে হয় ঘাসের ওপর শুয়ে আছি... মাথার ওপর একটা অনন্ত আকাশ আর একটা অবিরত বয়ে চলা নদী ছাড়া আর কিচ্ছু নেই। আবার ‘লাগ যা গলে কে ফির ইয়ে হঁসী রাত হো না হো...’ শুনলে শরীর তৃষিত হয়... ‘অভি না যাও ছোড়কর...’ শুনলে প্রথম চুম্বনের অনুভূতি হয়। অন্যদিকে কোল্ডপ্লে’র ‘প্যারাডাইস’ গানটা পা’দুটোকে প্রবল উস্কানি দেয় হাঁটতে... নিরুদ্দেশের পথে।
এই সমস্ত মনে হওয়াই ভীষণ শারীরিক। মস্তিষ্কের প্রয়োজন-না-হওয়া শারীরিক অনুভূতি। যেজন্য সঙ্গীত মানুষকে প্রধানত আরাম দেয় এবং আক্রান্ত করে। এই শিল্প চেতনার অনেক গভীরে বাসা বেঁধে থাকা বোধকে নাড়া দিতে পারে। আন্দ্রেই তারকোভস্কি’র ‘স্যাক্রিফাইস’ ছবিতে একটি দৃশ্য আছে যেখানে নায়ক নিজের বাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে। সেই দৃশ্যে গোটা আড়াই মিনিট ধরে অডিও ট্র্যাকে এক অকথ্য সাইলেন্স... শুধু আগুনে পুড়ে যাওয়ার চড়চড় আওয়াজ। সিনেমার গ্রামার ভাঙা দৃশ্য তো বটেই, কিন্তু একজন সিনেমা-নভিস, একজন অতি সাধারণ দর্শকের মনেও, অথবা শরীরেও, একটা চুড়ান্ত ভেঙ্গেচুরে যাওয়ার অনুভূতি তৈরী করে ঐ দৃশ্যটার সাউন্ডট্র্যাক। আগুনে পোড়ার শব্দ এক অতি আদিম বোধের সঙ্গে বাঁধা আছে মানুষের শরীরে। সেইখানে ধাক্কা দেয়। ক্রমাগত ধাক্কা দিতেই থাকে। এই শব্দও সঙ্গীত। যে কোনো শব্দ যা অনুভূতির দরজায় আঘাত করে তাইই সঙ্গীত। যেমন ঘুঘুপাখির ডাক। যেমন টুংটাং বেজে বৌদ্ধ মন্দিরের ঘন্টা। যেমন ঝিঁঝির ডাক। যেমন সাইলেন্স। নৈঃশব্দ। সেও শব্দ। হয়তো পৃথিবীর চেয়েও পুরনো শব্দ। আর সাইলেন্স না থাকলে সাউন্ড থাকতে পারে না। তাই নৈঃশব্দও এক সঙ্গীত। নৈঃশব্দ আমার প্রিয় সঙ্গীত।
সঙ্গীত যে শুধু ‘ভালো’ অনুভূতিই তৈরী করবে এমন সরল বিশ্বাস না রাখাই ভালো কিন্তু। কারণ যে কোনো জিনিস যা অনুভূতি তৈরী করতে পারে তা যে কোনো ধরণের অনুভূতিই তৈরী করতে পারে। সঙ্গীত আদতে নৈর্ব্যক্তিক। তার কোনো কু বা সু নেই, নেই কোনো প্রেফারেন্স। সে স্বয়ংসম্পূর্ণ, এবং নির্বিকার। তার অভিব্যক্তি নির্ভর করে তার প্রয়োগের ওপর। হিটলারের প্রচার র‍্যালিতেও সঙ্গীতের এক অনস্বীকার্য্য ভূমিকা ছিল একসময়ে। সাঁওতালদের মদ্যপানের আসরেও সঙ্গীত একইরকম ক্রিয়াশীল। অন্যদিকে যুদ্ধের দুন্দুভিও সঙ্গীত, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা জাতীয় সঙ্গীত। আবার সেই একই জাতীয় সঙ্গীত বেজে ওঠে স্কুলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও। সঙ্গীত বড় ভয়ঙ্করভাবে নির্বিকার।
এর একটা অসাধারণ উদাহরণ রয়েছে পিয়ের পাবলো পাসোলিনির ‘সালো’ ছবির শেষ দৃশ্যে। সেই দৃশ্যে ইটালি’র ‘রিপাব্লিক অফ সালো’র একটি সেক্স ক্যাম্পে মুসোলিনী-পন্থী লিবার্টিনরা টর্চার করে করে, আস্তে আস্তে, রসিয়ে রসিয়ে হত্যা করছে কিছু শিশু ও কিশোরকে। ঘটনাটা ঘটছে একটা খোলা ময়দানে। ময়দানের পাশেই এক প্রাসাদ থেকে রিপাব্লিকের দুই সৈন্য, যারা এই গোটা সিস্টেমটা চালু রাখতে সাহায্য করে, তারা জানলা দিয়ে এই দৃশ্য উপভোগ করতে করতে ওয়াল্টজ নাচছে, জিয়াকোমো পুচিনি রচিত এক অসামান্য ইরটিক সোনাটা’র তালে তালে। যদি দৃশ্যটা না দেখে শুধু সঙ্গীতটি শোনে কেউ, সে এক আরামের আবেশে ডুবে যাবে। এরপর যদি সিনেমার ওই দৃশ্যটি সহ সে সঙ্গীতটি শোনে, হয়তো তার জীবনের অন্যতম এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হবে তার। ওই দৃশ্যে ওই বিশেষ মিউজিক ব্যবহার না করলেও দৃশ্যটা কি একইরকম নৃশংস দেখাত? বোধয় না। শিল্পী নৃশংসতার আপাত ভিজুয়ালের সঙ্গে খুব সুক্ষ্মভাবে এখানে জুড়ে দিয়েছেন এই ‘পিওর ফর্ম অফ আর্ট’-এর নৃশংসতাও। শিল্পের নৃশংসতা। যা শিল্পীকেও ছেড়ে কথা বলে না। দর্শক বা শ্রোতাকে তো না’ই। ‘সালো’ রিলিজ করার কিছুদিন আগেই পাসোলিনিকে হত্যা করা হয়। এত বেশীরকম ঠান্ডা সত্যি মানুষ সহ্য করতে পারে না হয়তো।
আমার কাছে যদিও, মূলত গানের লিরিক বেশী প্রিয় হয়ে ওঠে। হয়তো সুর যে সাঙ্ঘাতিক অনুভূতির প্লাবন তৈরী করে তাকে মুঠোয় ভরতেই কোথাও লিরিকের আছে দয়াভিক্ষা করি আমরা। বাঙালি হওয়ার সুবাদে সে ঐশ্বর্য্য আমাদের অফুরান। রবীন্দ্রসঙ্গীত লিরিকপ্রধান সঙ্গীত। শুধু সুর নয়, লিরিক দিয়েও মস্তিষ্ক পেরিয়ে অনুভূতির দরজা অবধি পৌঁছনো, এটা রবীন্দ্রনাথের মত আর খুব কম লোকেই পেরেছেন। ‘আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে...’ শুনে যে আমার গা শিরশির করে সে কিন্তু শুধু ‘কোমলগান্ধার’-এর জন্য নয়। ‘আমারে যে জাগতে হবে...’ লাইনটার জন্য। অথবা ‘আমার সকল নিয়ে বসে আছি সর্বনাশের আশায়...’ শুনে যদি বুক কাঁপে... সেটা ওই গানের প্রত্যেকটা কথা মস্তিষ্ক পেরিয়ে শরীরেও পৌঁছয় বলেই।
একটা সময় ছিল যখন সুমন চট্টোপাধ্যায়ের গানও প্রায় একইভাবে মোহগ্রস্ত করত বাঙ্গালিকে। ‘তোমাকে চাই’ বা ‘জাতিস্মর’-এর মত পপুলার গান ছাড়াও সুমনে এমন অনেক গান ছিল যা শুধু লিরিকের বাক্যনির্মাণের কারণেই বড় প্রিয়। তাছাড়া সুর তো আছেই। কৈশোর ও যৌবনের অনেকখানি সময় সুমননির্ভর তথা সুমন-মুগ্ধ ছিল। কিন্তু সুমন চট্টোপাধ্যায়ই হয়তো এই ভাবনার জীবন্ত নিদর্শন যে শিল্পী আর তার শিল্প আসলে আলাদা নয়, তারা একটাই সত্বা। শিল্পীর নৈতিক পতন ঘটলে তার শিল্পও আর সে উচ্চতা ছুঁতে পারে না।
গান নিয়ে রোম্যান্টিসিজমের প্লাবন আনা বাঙালির ঐতিহ্য। কিন্তু সঙ্গীত আসলে নিজে খুব রোম্যান্টিক নয়। ঐ যে বললাম, নৈর্ব্যক্তিক। তাকে যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সে তা’ই। অনেকটা জলের মত। যে পাত্রে তাকে ধরা হয় সে পাত্রের আকারই ধারণ করে। শেক্সপিয়ার বলেছিলেন, “If music be the food of love, play on.” এই বক্তব্যে একটা ‘ইফ’ আছে। যে ‘ইফ’টা বিশাল বড়। মিউজিক সর্বদা শুধু ভালোবাসার খাদ্যই নয়। কখনো সে ঘৃণারও খাদ্য। তবে তাকে ভালোবেসে খেলে স্বাদ পাওয়া যায় বটে।
ইদানিং যে কোনো ধর্মীয় সঙ্গীত শুনলেই আমার অস্বস্তি হয়। অথচ ছেলেবেলার স্মৃতিতে সরস্বতীর স্তব মনকে শান্ত করেছে, আজানের শব্দে ভোরবেলার স্নিগ্ধতা পেয়েছি। এখন আর পাই না। এখন যা পাই, তা হল ভয়। অন্যদিকে মনে পড়ে, ব্রেখট কী বলেছেন। “In the dark times will there be singing? Yes. There will be singing about the dark times.” তাই, ভয় করলে জগজিৎ কউর-এর গলায় খৈয়াম শুনি, “কব ইয়াদ মে তেরা সাথ নেহি, কব হাত মে তেরা হাত নেহি...”, অথবা শুনি জগজিৎ সিং গাইছেন মির্জা আসাদুল্লাহ খান গালিবের কবিতা... “হজাঁরো খোয়াইশেঁ অ্যা্যসি, কে হর খোয়াইশ পে দম নিকলে...”