বাঁচা-মরার গান

শতাব্দী দাশ



কয়েকবছর আগে এক শীতের সকালে এক এপিফ্যানিক উপলব্ধি হল- ‘ধোঁয়াশা, কুয়াশা, কাদা/ ভোরবেলা গলা সাধা’-র মধ্যে শেষ বিষয়টা ডোডোত্ব প্রাপ্ত হয়েছে,এমনকি আমাদের মফস্বলেও। আমাদের ছোটবেলায় পাড়ায় পাড়ায় ঘুম ভাঙত সা থেকে সা-এ ওঠা- নামায়। সব স্বর শুদ্ধ। কোমলেরা বাদ, তীব্র মধ্যমও। সোজা পথে যাওয়া, আবার ফিরে আসা। কোনো গলা ছিল সুরে বাঁধা, কেউ বা বেসুরো। সেই গলাসাধার সাথে চা- দোকানের বাতাস-দেওয়া ধোঁয়ার , সকালের ট্রেনের বাঁশির, ভোরের স্বপ্নের কী যেন সম্পর্ক ছিল। স্বপ্নের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর হয়ে বাজত...সা রে গা মা...প্রথমে ধীর লয়ে, তারপর দ্রুত, তারপর তানের মতো নানা চলনে । তখনই ঘুম আর স্বপ্ন যেতো ভেঙে।
*****************************
আমরা ছিলাম ক্যাসেটপ্লেয়ার, ওয়াকম্যানের শেষ প্রজন্ম। জন্মদিনে, নববর্ষে ক্যাসেট মিলত তখনো। প্রতুল মুখোপাধ্যায়। সুমন। শ্রীকান্ত আচার্য। আব্বা। সানতানা। এল্টন জন। আবার সোনু নিগম। আবার কণিকা। আর অবশ্যই জর্জ বিশ্বাসও। আমরা উত্তরাধিকারের দায়িত্ব পালন করেছিলাম নিষ্ঠা ভরে। হেমন্ত, শচীন দেব বর্মন থেকে শুরু করে শ্যামল, মানবেন্দ্র, ধনঞ্জয়,সতীনাথ, সন্ধ্যা, লতা, আশা, উৎপলা সকলকেই যত্ন ভরে ঝাড়ামোছা করেছি, শীতের রোদের ওম দিয়েছি ছাতে। বড় হওয়ার পর শখ দেখে ওয়েলিংটন থেকে ‘কলের গান’-ও কিনে দিয়েছিল এক বন্ধু । কিন্তু সে অন্য কথা। আমাদেরই কৈশোরে পাঁজরের হাড়সম গুচ্ছ গুচ্ছ ক্যাসেট কিলো-দরে নিয়ে গেছিল বিষাদের খরিদ্দার। সেদিনটাও ছিল কোনো ভোরের বিষণ্ণ স্বপ্ন।

********************************
তারও অনেক আগে, শৈশব বিষাদ জানতনা। বিষাদ চিনিয়েছিল ‘বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই’ গানটি। কারণ? সুধীন দাশগুপ্ত এফেক্টসের বুনতেন। সুরই কাঙখিত মুডের জন্য যথেষ্ট হত। আশা ‘সাগঅঅঅর’ বললেই বিশালতার আভাস মেলে না কি? প্রতিটি ‘আয়’ এ একটি করে ঢেউ আছড়ে পড়েনা বেলাভূমিতে?তেমনই, কে-যেন-নেই, কে-যেন-হারিয়ে-গেছে-র বিষণ্ণতা চারিয়ে দিত গানটি, বা যতীন বাগচীর কোবতেটি। তার উপর ছিল প্রতিমা বন্দোপাধ্যায়ের সদ্য কান্না সেরে উঠে আসা গলা।
কিন্তু হেসে খেলে বেড়ানো শৈশব, ওই গানই কেন শুনতে হবে? হ্যাপি প্রিন্সের গল্পই বা কেন গিলতে হবে বারবার? একি দু:খবিলাস? নাকি কোনো গভীর বিষাদ যা সমগ্র জীবনকে চালিত করে? তারস্বরের কাছাকাছি ‘নীল দিগন্তে ওই ফুলের আগুন লাগল’ বলার পর কেন খাদে নামতে হয় ‘নীল দিগন্তে,মোর বেদনখানি জাগল’র সঞ্চারীতে? কেন ‘ফাগুণ হাওয়া হাওয়ার’ অশোক কিংশুকের পরত পরত রঙ সরিয়ে সঞ্চারীতে এসে ‘রূপসায়রের পারের পানে উদাসী মন ধায়’? ভীষণ রঙীন, ভীষণ চড়া পৃথিবীতে সঞ্চারী তাই কি অবলুপ্ত হয়েছে আজ?
********************************
বিনিদ্র রাতের পর বরফ পাহাড়ের মাথা যখন রাঙা হয়, সেই মিথ্যে আবীরের নাম মিয়া কি টোড়ি। কোমল ঋষভ, কোমল গান্ধার, কোমল ধৈবত। যাবতীয় কোমলকে এক এক করে বাদ দিতে পারলে জীবন বিলাবল ঠাটে সহজ চলন নিত। কিন্তু সংবেদনা থাকে, কোমলতা থাকে, ছেঁটে ফেললেও থেকে যায়। শুদ্ধস্বরে গলাসাধার প্রাত্যহিকীর চেয়ে ঢের বিচিত্র হয়ে ওঠে বাঁচা, কড়ি কোমলের আনাগোনায়। ঠিক যেভাবে মারওয়া রাগে সমুদ্দুরের ধারে সন্ধে ঘনায়। হয়ত পায়ে ঢেউয়েরা আদর বুলিয়ে দিচ্ছে। হয়ত একপাটি বেওয়ারিশ চটি দূরে বালিতে মুখ গুঁজে প’ড়ে। হয়ত ভাবছি এগোব, না এগবোনা। সেই উৎকন্ঠা আর উদ্বেগের নাম মারওয়া।
******************************
খটখটে দুপুরে একলা পথ হেঁটেছি অনেক। পার্কে বসেছি। আবার হেঁটেছি। খুব কষ্ট হলে সিনেমাহলের ঠান্ডায় ঘুমিয়ে পড়েছি। নদী পেরিয়ে এমনিই অন্যপারে গেছি, আবার ফিরেছি। মাথার মধ্যে নাছোড় একটা রক হাতুড়ি পিটেছে সর্বক্ষণ । ‘হাউ ডাজ ইট ফিল/ হাউ ডাজ ইট ফিল/ টু বি উইদাউট আ হোম/ লাইক আ কমপ্লিট আননোন / লাইক আ রোওওওওওলিইইইইং স্টোওওন’! ফেরার খুব সাধ ছিল। শুধু ঘর ছিলনা। অচেনা অজানা কোনো ঘরের জন্য মনখারাপ ছিল। ‘হিরাইথ’ যাকে বলে ইংরিজিতে। প্রতিটি লাইন আমাকেই খোঁচা দিত। আমাকেই ‘মিস লোনলি’ বলে ডাকত। ডিলানের ইলেক্ট্রিক গিটার ভেঙে ফেলা যায়না? হার্মোনিকা ছুঁড়ে ফেলে দিলে হয়না? মন দিয়ে শুনলে সেই গানই আবার শেখায়, ‘When you ain’t nothing, you got nothing to lose / You are invisible now, nothing to conceal/ How does it feel...to be your own.../ like a ro-o-o-o-o-l-i-ing st-o-o-o-ne’...আর একটা একটা করে শিকল খসে পড়ে। ধোঁয়া ওঠা মাথা শান্ত হয়। শান্ত দৃষ্টি নিরাসক্ত হয়। নিরাসক্তি কঠিন আর বেপরোয়া হয়ে ওঠে। স্বাধীন হয়। সব হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ‘আমি’তে পৌঁছনো হয়। একটা গান একটা জীবন হয়ে ওঠে।
******************************
কোহেন বলেছিলেন, ‘ I am a platform on your way ‘.বহুদিন হতভম্ব হয়ে সেই প্ল্যাটফর্মেই বসেছিলাম। কোহেন অনন্য শরীর বেয়ে অনন্য মন ছোঁয়ার কথা বলেছিলেন। বন্দরের প্রেমিকার কথা বলেছিলেন। সেই যেমন করে নিলোফার ইয়াসমিন অতুলপ্রসাদী গেয়ে ওঠেন ‘আমি বাঁধিনু তোমার তীরে তরণী আমার’। ‘হাজার চুম্বনের মতো গভীর’ কিছুর কথা কোহেন যখন বলেন,আমরা প্রেমের নিরাকার শরীর বুনি। কোহেন বলেন,তাই আমরা প্ল্যাটফর্ম খুঁজি জিরোনোর, বা হতে চাই। ডিলানও বলেছিলেন ‘I came from the wilderness, a creature void of form/ Come in ,she said / I’ll give you shelter from the storm’. দিনের শেষে বোঝা যায়, প্ল্যাটফর্মের বেঞ্চি আসলে কোহেনের গানই, ঝড়ে বাহু প্রসারিত করে যদি কেউ ডাকে, তবে তা ডিলানের কবিতাই, শরীরী মানুষ নয়। হাজার চুম্বনের মতো গভীর কিছু যদি থেকে থাকে, তবে তা গানই। গানেরাই বিষাদদিনে শুঁয়োপোকা শরীর ঘিরে কেমন পেলব কিন্তু অভেদ্য আবরণ বুনে চলে। তার ভিতরেই রূপান্তর, ধীর নিরাময়, বেঁচে যাওয়া, ফিরে আসা।
****************************
ভারি ক্লিশে হলেও সত্যি, রবীন্দ্রনাথের গান আদতেই সেই উত্তরণ,যা ব্যক্তিগত দৈন্যকে তুচ্ছ ভেবে অতিক্রম করতে শেখায়। একটা বিশাল প্যাটার্নের সামান্য এদিক ওদিক যে মূল ডিজাইনে ফারাকমাত্র ঘটায় না, এই আশ্বাস দেয়। দাদু গাইত- ‘তরঙ্গ মিলায়ে যায়, তরঙ্গ উঠে/ কুসুম ঝরিয়া যায়, কুসুম ফুটে।’ রক্তের সম্পর্কে কেউ না,পাড়াতুতো দাদু। অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য, পাড়ার ছেলেমেয়েদের শখের ইংরিজি মাস্টার। একমাত্র ছেলে নাকি বল কুড়োতে গিয়ে লরিচাপা পড়েছিল, ছ’ বছর বয়সে। তারপর থেকে যত্নভরে বহু কুসুম ফুটিয়েছিলেন। দেবব্রত বিশ্বাসেরও আগে দাদুর গলায় এ গান শুনেছিলাম, তাই তা তারই গান হয়ে গেছে। রবীন্দ্রনাথের গানেদের সাথে একেকজন গায়ক, এক এক জন মানুষ কেমন যেন জড়িয়ে। চিন্ময় চট্ট্যোপাধ্যায় ‘আজি যত তারা তব আকাশে’ গাইলে নিজস্ব নশ্বরতার প্রতিটি অনুপরমাণু চরাচরে ছড়িয়ে যায়, তারা অবিনশ্বর হয়। নাস্তিক চৈতন্যে প্যানথেইসমকে ধরা কঠিন হলে ঈশ্বরকে ভিন্নরূপে খুঁজতে হয়। ‘জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণাধারায় এস ’ মৌসুমি ভৌমিকই মরমে পৌঁছে দেন। আর তা শুনতে বসে নেমে আসতে পারেই শিশুর মুখ, আত্মজার হাসি। হাত বাড়িয়ে সেই গান,সেই মুখ, সেই হাসি টেনে তুলতে পারে নিম্নাভিমুখী ঘূর্ণি থেকে। গানই বর্ম হয়ে ওঠে। বিক্রম সিং যেমন করে আকাশের মত চাইতে বলেন, গাইতে বলেন, বাতাসের সুরে কাঁদতে বলেন, তেমন ভাবে পারলে একান্ত বেদন নিসর্গে ছড়িয়ে যায়, প্রশমিত হয়। আবার সুমন যেদিন গেয়েছিলেন, ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট হলে, ‘আমি চঞ্চল হে,আমি সুদূরের পিয়াসী’, সেই দিন থেকে সে গান তাঁর হয়ে গেছে-কারণ সে ছিল হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ‘সুদূর’ এর চেয়েও বেশি ‘সুদূর’। এরকম করেই, কত যে গান, কত কত যে গান,শুধুমাত্র জর্জ বিশ্বাসের গান! তিনিই মেঘদূত। বনে বনে ছায়া ঘনায় তারই ইশারায়। পুরাতন হৃদয় নবীন হয়ে ওঠে। জীবন মরণের সীমানা ছাড়িয়ে হেঁটে যাওয়ার পথে তাঁরই অমোঘ ডাক।
********************************
আমাদের নব্বই আর শূন্যদশকে সকালে দেখা হত সুমনে। সুমনে দেখা হলে সখ্য হত, হত প্রেম। সুমন শুধু গান নয়, ছিল দৃশ্য। নীল অপার্থিব আলোর নীচে নিমগ্ন সুর। কখনো সেন্টার স্টেজে গিটার হাতে, কখনো স্টেজের একপাশে পিয়ানোয়। আজ বহুদিন পর স্টেজে রাগী পদক্ষেপগুলো ভুলে গেছি বয়সের উচ্ছ্বাস কাটলে, ধ্যানমগ্ন শিল্পীই জেগে আছেন। বাঘের মতো সময়ের টুঁটি চিপে ধরেছিলেন যিনি, তিনিই কীকরে শিল্পে এমন সুশান্ত, তা এক রহস্য। সুমন শুধু গান নয়, শিক্ষক, যিনি নিষ্ঠাভরে শুনতে শেখান, ‘কান’ তৈরি করে দেন। কথায় আগুন ঝরত, কিন্তু যে দিনগুলো কথাহীন, শুধু গানময়, সেদিনগুলি স্বর্গীয়। ‘গান তুমি হও আমার মেয়ের ঘুমিয়ে পড়া মুখ’ শুনে সকলেই তখনো না জন্মানো মেয়েটিকে ভালোবেসেছি। গাঙুড় কাবেরী গোদাবরী ছুঁয়ে আমাদের সামান্য ভালোবাসা অসামান্য হয়েছে। আবার প্রেম ভেঙে গেলে ‘না পাওয়ার রঙ’ গালে লেপে দিয়েছে গান। সেই সব স্বপ্ন ছিল, না আজ দিনটা দু:স্বপ্ন, জানিনা। ‘জানিনা বয়স হলে কেন চুলে এত পাক ধরে’। ছেলেবেলার সেই বেহালা বাজানো লোকটা, চলে গেছে গান শুনিয়ে, চলে গেছে বেহালা নিয়ে...
*********************************
সুমন বাংলার শেষ রাজনৈতিক শিল্পীও বটে । গান তো শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, গান রাজনৈতিকও। ঠিক যেমন করে মনখারাপ শুধু ব্যক্তিগত নয়, রাজনৈতিকও। খোলা আকাশের তলায় ‘পথে এবার নামো সাথী, পথেই হবে পথ চেনা’ শুনে আমরা রাজনৈতিক পরাজয় যুঝেছিলাম। মিছিলে গেয়েছিলাম, ‘তু জিন্দা হ্যায় তো জিন্দেগি কে জিত পে ইয়াকিন কর’। গানের পরতে পরতে মিছিলের ঘ্রাণ থাকে। সমকালের সাথে বোঝাপড়া তৈরি করতে, ভালবাসতে, টিকে থাকতে, মুখ ফিরিয়ে না থাকতে বাধ্য করে গান। সেও আরেক রকম উত্তরণ। আত্ম থেকে ব্রহ্মণে নয়, ব্যক্তি থেকে সমষ্টিতে। প্রচন্ড নিরস একটি ছেলে কীভাবে যেন গেয়ে ফ্যালে অনেকখানি আবেগ ঢেলে ‘অ্যায় মেরে প্যারে ওয়াতন...তুঝপে দিল কুরবান’! তার উত্তরণ ঘটেছে বলেই না! বিপ্লবের গান শুধু অ্যাড্রিনালিন তাড়িত নির্ঘোষ নয়। আসলে তাও প্রেমেরই গান। কে যেন বলেছিলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের গানে পর্যায় গুলিয়ে গেলে জানবে, একই গান চোখ বুজে গাইলে পূজার, চোখ খুলে গাইলে প্রেমের’। আর সেই গানই মুষ্টিবদ্ধ হাত উপরে তুলে গাইলে বিদ্রোহের হয়ে যেতে পারেনা কি? নাহলে জর্জ বিশ্বাস সকলকে চমকে দিয়ে কীকরে গেয়ে উঠতে পারতেন বামপন্থী সমাবেশে- ‘ওই ফুলের আগুন লাগল/ নীল দিগন্তে’ ?
কখনও জানব না, সেই রাজনৈতিক ফেক প্রোফাইলটি কার, যে প্রচন্ড দু:সময়ে শুনিয়েছিল ‘Venceremos’ , চিলির বিপ্লগীতি।
‘With just a leap, I will find /
You again/
I am passing from my defeat’s well/
Venceremos (We will win).
ভালো হোক তার।
**********************************
ব্যক্তিগত আর রাজনৈতিকে ফারাক করা ভুলে গেছি যারা, গানের কাছে তারাও নতজানু। গান থাকলে অন্ধস্কুলে প্রতিদিন ঘন্টা বাজে। বাচ্চারা পরীদের নাম উচ্চারণ করে। কোনো এক চ্যারিটি স্কুলে ঢোকার সময় একদিন সত্যিই শুনেছিলাম ‘আব্বা’র সেই স্বপ্নগান- ‘I have a dream a song to sing/ To help me cope with everything/ If you see the wonder of a fairy tale/ You can take the future even if you fail/ I believe in angels…’ আর সেদিন থেকে আমি এঞ্জেলে বিশ্বাস করি। গ্রিকরা অলিম্পাস পাহাড় থেকে ভেসে আসা ডিভাইন মিউজিকের কথা বলতেন। ভারতীয়রাও বলেন অনাহত নাদের কথা, ওম্ ধ্বনির কথা। সেই অতিজাগতিক গান বেয়ে নেমে আসুক অলৌকিকেরা। তা হতে পারে অন্য পৃথিবী, অন্যতর সমাজ, অন্য গানের ভোর। কিংবা হতে পারে,তার বড় বড় চোখ,শ্যামলা গা , ঝুঁটিমাথা আর প্রচুর বকমবকম। বাঁচার যুগ্যি হোক পৃথিবী।