সেম সাইড

অর্পিতা দাস প্রহরাজ

আশ্চর্য! একদিন জ্বর হয়েছে কি না হয়েছে, একেবারে গা কাঁপানো একটা খবর এল। ওর শ্বাশুড়ি মা আসছেন। মানে থাকবেন। জামাইয়ের জ্বর বলে কথা। তার মধ্যে মেয়ের এরকম অবস্থা। তার ওপর শ্বাশুড়ি বলতে গেলে একদম ফিট! ঝাড়া হাত-পা-মাথাও বটে। মানে ঝরঝরে মাথা। যে মাথা কাজ করে। স্কুল টীচার ছিলেন এই সেদিন পর্যন্ত। বাড়িতে এলে ভালোই লাগে। আসলে সংসারটা তো ঠিক পুকুরের মত। একঘেয়ে স্থির হয়ে থাকলে কেমন যেন মনে হয় পানা পুকুরের মত শ্যাওলা ধরে যাবে। পানা পড়ে যাবে। তার থেকে বরং বাঁধা ছন্দে একটু-আধটু ঢিল-টিল পড়লে, বেশ অনবরত ঢেউ এর পর ঢেউ উঠতে থাকলে, ভালোই লাগে। তার ওপর শ্বাশুড়ি যখন হয় ভালো রাঁধুনি। তাহলে তো কথাই নেই। কদিনের জন্য তাদের বারো মাসের মায়াবতী মাসির ইন্ডিপেনডেন্ট তরকারির হাত থেকে মুক্তি। (ইন্ডিপেনডেন্ট, মানে স্বাধীন। মানে স্বাদ-হীন।) নাঃ, শ্বাশুড়ির হাতের রান্নার ওপর চোখ বুঝে ডিপেন্ড করা যায়। এ পর্যন্ত তো সব ঠিকই ছিল। কিন্তু এই জ্বরটা আর বাধার সময় পেল না?
এহেন, জ্বরগ্রস্ত এই ব্যক্তি, গল্পের হীরোর নাম দেবোজিত। তারই শ্বাশুড়ি নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে। এবং হচ্ছে, কারণ অনুশ্রী, দেবোজিতের বৌ, প্রেগনেন্ট। এমতবস্তায় সব মেয়েরাই তার স্বাচ্ছন্দের আশ্রয়ে গা ঢাকা দিতে চায়। দুজনের সংসার, বেলেঘাটার এই ফ্ল্যাটে পাইকপাড়ার যৌথ পরিবার বাপের বাড়ির থেকে স্বাভাবিকভাবে বেশী স্বচ্ছন্দ বোধ করে অনুশ্রী। তাহলে স্বচ্ছন্দের এই আশ্রয়টাকে আর একটু সুমধুর করে তুলতে মাকেই এখানে ডেকে নেওয়া যাক! এবং পিছুটানহীন আধুনিকা এই শ্বাশুড়ির মোটেই কোন সমস্যা নেই মেয়ে-জামাইয়ের বাড়ি এসে থাকতে। বরং উলটো। এখানে এসে থাকতে উনি পছন্দই করেন এবং রিটায়ার লাইফে মাঝে মাঝে এরকম ঘর বদল করে এসে থেকে যাওয়াটাকে উনি এখন আফটার-সিক্সটির স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবেই বড়াই করে বলে বেড়ান সবাইয়ের কাছে। এই অবধিও ঠিকই ছিল। কিন্তু এর পর যে সমস্যাটা এসে দাঁড়াল সেটা একান্ত ব্যক্তিগত একটা অসুবিধে। শোয়ার অসুবিধে। আসলে যে কটা দিন শাশুড়ি বাড়ি এসে থাকে অনুশ্রী তার মায়ের সাথেই শোয়। রাতে শুয়ে শুয়ে মাঝরাত্তির অবধি গল্প করে। অমুকের মেয়ে কি বজ্জাতটাই না হয়েছে। তমুককাকু তারপর কি বলল? সমুকপিসি কি দুঃখটাই না সয়েছে সারা জীবন...এখন ছেলেটাও ভাল করে দেখে না। খাঁটি উত্তর কলকাতার মেয়ে অনুশ্রী। মায়ের সাথে টান দিয়ে দিয়ে ‘তবে?’ ‘ইস্‌’ ‘হুঁহ্‌’ – এরকম বলে বলে যখন এক একটা বাক্য বা ঘটনা বিচার করে, মোটেই তাকে তখন ইন্টিরিয়র ডিজাইন ফার্মে চাকরি করা একজন তিরিশ বছর বয়সী মেয়ে মনে হয় না। বরং মায়ের সমবয়সী বা একটু বয়সে ছোট পিসি বা মাসির মতোই লাগে। অদ্ভুত! আর পরিস্থিতির অনুপাতে বিচার করতে গেলে এই ভাইটাল সময়ে...মানে স্বামী-স্ত্রী যখন কুরুক্ষেত্রের সব যুদ্ধ কাটিয়ে, একে অপরের দিকে সাদা পতাকা দেখিয়ে, ভবিষ্যতের একটা চরম উত্তেজনাময় পরিণতির দিকে এগিয়ে যেতে চলেছে, যখন সারাক্ষণ ফেভিকলের মত একে অপরের সাথে আটকে থাকতে ইচ্ছে করে, তখন এই বিরল শোয়ার ব্যবস্থাটা বেশ যন্ত্রনাদায়ক নয় কি?
সমস্যাটা অফিসের মাঝ বয়েসী, সংসারকর্মে সফল এবং দক্ষ, পরোপকারি দেবুদাকে বলাতে দেবুদা এমন অসভ্যের মত খেঁক খেঁক করে হাসল যে শুনে গরম তেলে শুকনো লঙ্কা পড়ার মত চিড়িং করে গা টা জ্বলে গেল। এবং শোয়া নিয়ে আর যা সব তত্ত্বকথা শোনাল, সে সব কথা ওপেন ফোরামে বলার মত নয়। এমনিতেই কয়েক মাসে আগে বৌ প্রেগনেন্ট হওয়াতে দেবোজিত এই সংক্রান্ত ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি – সব রকমের ব্যাখ্যা এবং খ্যা খ্যা করা ইয়ার্কির শিকার হয়েছে। তার ওপর এখন এই শোয়ার প্রবলেম শেয়ার করাতে ও যে কি প্রকান্ড মুর্খামো করল, সেটা ও বেশ হাড়ে হাড়ে টের পেল। তার ওপর এখন বিশ্বকাপ ফুটবল চলছে, মানে অফিসের সব আলোচনাই ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ফিবার’-এ আক্রান্ত। ‘আরে! এই তো ক’দিনের ব্যাপার...এমনিতেই তো এই সময়ে গোল করার কোন চান্স নেই...’ বাঃ! নিজের পায়ে কুড়ুল মেরে দেবোজিত বাড়ি ফিরতে ফিরতে ভাবল, ডিরেক্ট আবেদন করতে হবে। তাতে যদি কাজ হয়।
বাড়ি ফিরে এমনিতেই খাওয়া নিয়ে এক পর্ব আলোচনা হয় আজকাল। এলেমদার মায়ের একচোট প্রশংসা করে অনুশ্রী খাবার টেবিলে নতুন নতুন পদ সাজিয়ে বলে ‘দ্যাখো তো? আজকেরটা কেমন হয়েছে?’ দেবোজিত মাস্টার শেফের বিচারকদের মত আপ্লুত বিশেষণে ভাসিয়ে দেয় টেবিল। অবশ্য সেটা জোর করে করতে হয় না। পাইকপাড়ার বাড়ির খাবারের স্বাদ খারাপ না। একাধারে শাশুড়ির প্রশংসা এবং বৌয়ের সামান্য নিন্দে করে দেবোজিত অনুশ্রীকে বেশ তারিয়ে তারিয়ে বলে যে ‘এই রেসিপিগুলো কয়েক মাসের মত স্টক করে নিচ্ছো তো? নাহলে সারা বছর তো ওই স্বাদ-হীন তরকারিই জোটে...হেঁ হেঁ’। এতে অনুশ্রী মেকি রাগ দেখালেও শাশুড়ি কিন্তু মেয়েকে কোন তোয়াক্কা না করে বেশ হাল্কা হেসে কলার তুলে প্রশংসাগুলো ঘাড়ে মেখে নেয়। আজকেও সেই মত খাবার টেবিলের পর্ব চুকল। দেবোজিতের সেই যে কদিন আগে একটু জ্বর জ্বর ভাব হয়েছিল, যেটা শাশুড়ি আসাতে ঘাম দিয়ে পালিয়ে গেছে তৎক্ষণাৎ, সেই কারণে আজ মুর্গির স্টু রান্না হয়েছে। বেড়ে হয়েছে স্টুটা। অবশ্য কারণের মধ্যে আর একটা যোগ হয়েছে। ‘বুঝলে দেবো’ শাশুড়ি মিশুকে গলায় বলল... ‘আমার বোধ হয় তোমার থেকে জ্বরটা লেগে গেল’। মায়ের কথা ছিনিয়ে নিয়ে অনুশ্রী বলল, ‘হ্যাঁ দ্যাখো না...সারাদিন হাঁচি আর গায়ে ব্যাথা...টেম্পারেচার তেমন নেই...কিন্তু গলায় ব্যথা খুব...এই অবস্থাতেই মা বলছে নাকি ফিরে যাবে...’ দেবোজিত বিশম খেল। ‘অ্যাঁ! না না...মানে...ফিরে যাবেন কেন? বেশ তো...তা ছাড়া এই অবস্থাতে কি কেউ যায়?...কক্ষনো না!’ অনুশ্রীর মুখে এক গাল হাসি! ‘হ্যাঁ, আমিও তো তাই বলেছি মাকে!’ ইস্‌ কপাল যখন খারাপ যায়! না, এভাবে হবে না...অ্যাপিলটা তাও করে রাখতে হবে।
খেয়ে দেয়ে উঠে অনুশ্রী বেডরুমে এসে টুকটাক কথা সারতে লাগল দেবোর সাথে। দেবো সুযোগ বুঝে খপ করে অনুকে আবেদন জানিয়ে ফেলল কুঁই কুঁই করতে করতে... ‘শোনো না...আর কতদিন এভাবে সেম সাইড গোল করে যাবে বলো তো?’ অনু হেসে, অপ্রস্তুত হয়ে, ‘মানে? কি যা তা বলছ?’ ‘কি যা তা? তা মা থাকবেন থাকুন, কিন্তু তাই বলে তুমি ওঘরেই শোবে? কেন...এঘরে শুতে নেই বুঝি?’ ‘কেন?’ মিষ্টি করে ঝাঁঝিয়ে উঠল অনু, ‘তোমারই বা এত ইয়ে কেন?’ দেবোর কুঁই কুঁই-পনা আরো বেড়ে গেল, ‘ইয়ের কি আছে? আমার তো এমনি এমনি! হরলিক্‌সের মতো’। অনু আরও মিষ্টি করে হেসে বলল ‘যাঃ!...মা থাকলে আমার কি রকম একটা লাগে...তাছাড়া মায়ের সাথে তো কথা বলার সবসময় সুযোগ পাই না...সবসময় তো মা আসেও না বলো...তার ওপর শরীরটাও খারাপ...রাতে কখন কি লাগে...’। উফ্‌ অনুর হাসি দেখে দেবোর ইচ্ছে করল ওকে পুরো কুচলু মুচলু করে দেয়...কিন্তু সে গুড়ে বালি। কিছুক্ষণ কাজ টাজ করে অনু কি সুন্দর মায়ের কাছে শুতে চলে গেল। এবং রোজের মত আবার আজ রাতের গল্প পর্ব শুরু করে দিল, আবার। শাশুড়িটাও কি রকম আহাম্মক দ্যাখো! কি সুন্দর জামাইয়ের থেকে জ্বর আদায় করে...যেন রেললাইনের পাটার মত মাঝখানে থেকে লাইন দুটোর মধ্যে চিরকালীন মর্মান্তিক একটা ব্যবধান সৃষ্টি করে কি আনন্দটাই না পাচ্ছে! নাঃ, আজকের রাতের পর মনটা আরও খারাপ হয়ে গেল দেবোজিতের।
পরদিন অফিসে হাবে ভাবে মনের দুঃখটা আবার হঠাৎ করে মুখে চলে এল দেবোজিতের। এবার কিন্তু পরোপকারি দেবুদা মনযোগ সহকারে সবটা শুনল। শুনে ঘাড় নেড়ে বলল, ‘নাহ্‌ চান্স নেই। কেলোটা তুমিই পাকিয়েছো। তোমার জ্বরটা যে এইভাবে রিবাউন্স খেয়ে তোমাকেই ফাঁসিয়ে দেবে, এটা তো আর আগে ভেবে দ্যাখো নি...এবার ঠ্যালা সামলাও! এখন কিচ্ছুটি করার নেই...যদি না...’ ‘যদি না?’ ‘যদি না কোন এমার্জেন্সি টেমার্জেন্সি এসে যায়’। দেবো উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘সেটা কি করে আসবে?’ ‘আরে...ভাগ্যে থাকলে নিজে থেকেই উপায় এসে দরজার কড়া নাড়া দেবে..দ্যাখ না!’
বিষন্ন মুখে দেবো বাড়ি ফিরল সে রাতে। তখনো জানত না দরজার কাছে কে অপেক্ষা করছে। বাড়ি ঢুকেই অনুর দুশ্চিন্তাগ্রস্থ মুখ। কি হল? ‘আরে দ্যাখো না...মা যে জ্বর জ্বর করছিল...সেটা বোধহয় জ্বর না...’ জ্বর না? যাক্‌! ‘ওহ, যাক বাঁচা গেল’ দেবো হাঁপ ছেড়ে বলে উঠল। ‘না! বাঁচা যায় নি!’ অনু যথেষ্ট ব্যগ্র। ‘মানে?’ দেবো বুঝতে পারছে না অনুর কথা। ‘মানে, জ্বর না...আরও বড় কিছু হয়েছে মায়ের?’ ‘কি হয়েছে?’ দেবো ঘরে ঢুকে এগিয়ে দেখতে যেতেই অনু ঝট করে দেবোকে টেনে নিল। ‘মায়ের বোধ হয় পক্স হয়েছে’। মায়াবতী মাসি তাই বলছে। ফুসকুড়ির মত হয়েছে সারা গায়ে...পিঠে। এটা নিশ্চই পক্স।‘ ‘অ্যাঁ? মানে...এবার কি হবে?’ এটা ভালো হয়েছে না খারাপ, সেটা বোঝার মত দেবোর এখন অবস্থা নেই। ততক্ষণে শাশুড়ি ভেতর থেকে বলে উঠেছে ‘কি আর হবে বাবা? এ অবস্থায় আমি তো আর এখানে থাকতে পারি না! এ রোগ তো খুব ছোঁয়াচে!’ দূরে রান্না ঘর থেকে উঁকি মারছে মায়াবতী মাসি। দেবোর মনে হল মাসিকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে! এই মাসি যে স্বাদ-হীন খাইয়ে খাইয়ে তাদের জীবনকে বিস্বাদ করে তুলেছিল, তার হাত ধরেই কিনা শেষে গিয়ে তাদের জীবনে এই স্বাধিনতাটা এল! উফ্‌ মাসির জবাব নেই! এবার বোঝো! যে জ্বরকে হাতিয়ার করে শাশুড়ি এই গৃহযুদ্ধে জয়ের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন, এখন সেই জ্বরই ঘুরে এসে সেম সাইড গোলের মত ওনাকে গো হারান হারিয়ে দিল! একেই বলে ভাগ্য! দেবুদা, তুমি ঠিকই বলেছিলে!
আজ সকালেই অফিস যাওয়ার আগে দেবো শাশুড়িকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে। অফিস থেকে ফিরে বেলেঘাটার ফ্ল্যাটটাকে যেন ভিক্টোরিয়ার মাঠের মত লাগছে দেবোর। চারিদিকে বাঁধনহারা প্রেমের গন্ধ। অনু ফিরে অবধি কোন কথা বলছে না। হয়ত মায়ের জন্য একটু মন খারাপ। দেবোর কিন্তু কোন দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। নিজের মনে গান গাইতে গাইতে ফ্রেশ হল। টিভিটা চালিয়ে ডিনার টেবিলে বসে ডিনার সারল। আজ আর্জেন্টিনার দারুন খেলা আছে। খেয়ে দেয়ে ঘরে ঢুকে দেখে অনু খুটুর খুটুর করে কিছু একটা করছে। কি সুন্দর, অনুর এই কিছু একটা করার দৃশ্যটা দেখে দেবোর হরলিক্সের মত এমনি এমনি অনুকে কুচলু মুচলু করে দেওয়ার ইচ্ছেটা চাগাড় দিয়ে উঠল। এমন সময়ে হঠাৎ মায়াবতি মাসি ঘরের দরজার কাছে সন্দিগ্ধ চোখে দাঁড়িয়ে আছে কেন? ‘মাসি, কিছু বলবে?’ অনু জিজ্ঞেস করল। ‘বৌমা...তোমার কপালে এই ফুসকুড়িগুলো কবে উঠল গো!’ ‘অ্যাঁ? কোথায় দেখি দেখি!’ তক্ষুনি তিনজনে মিলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনুর শরীরে নানা অ্যাঙ্গেল থেকে চিরুনি তল্লাশি চালাল। মায়াবতি মাসি আবার এক নিষ্ঠুর সত্যকে আছাড় মেরে সবার সামনে এনে ফেলল। ঠিকই। অনু আক্রান্ত। মায়াবতী মাসি বিধিনিষেধ শুনিয়েই যাচ্ছে, ‘বৌমা, তুমি কিন্তু এখন দাদাবাবুকে ছুঁয়ো না...দাদাবাবু, তুমি অন্য ঘরে শোও...’ ঠিক এই মূহুর্তে দেবোর ফোন বাজল। শাশুড়ি। জানতে পেরেছে বুঝি? ‘কে দেবো? এই শোনো না...আমার না...পক্স হয়নি। আমি শিওর হতে না পেরে এইমাত্র ডক্টর ব্যানার্জিকে দেখিয়ে এলাম। এগুলো ওই গরমে ফুসকুড়ির মতো বেরিয়েছে, আর কিছু না। দ্যাখো তো, কিরকম তাড়াহুড়ো করে চলে আসতে হল!’ অনু বোকার মত দেবোর দিকে তাকিয়ে। দেবোর কানে ফোন। মায়াবতী মাসি অপরাধ, স্বাধীনতা, পরাধীনতা, সব রকম মিশ্রিত একটা মুখ করে দেবোর মুখের সামনে কিম্ভূতকিমাকারভাবে দাঁড়িয়ে। ড্রয়িং রুমে এখনও টিভি চলছে। পাঁচ-ছ জন সেরা ফুটবলারদের মাথার ওপর দিয়ে ঘুরিয়ে দূর্দান্তভাবে বল উঠিয়ে একটা অসাধারন ফ্রী কিক দিয়ে গোল পোস্টে বল ঢুকিয়ে দিয়েছেন লিওনেল মেসি...স্টেডিয়াম কাঁপিয়ে আওয়াজ উঠেছে - ‘গোওওোওল’!!