‘মেলা যাইরে’ ও আমাদের উন্মাদনা

হাসনাত শোয়েব



গান মূলত আমাদেরকে একটা সময়ের সাথে যুক্ত করে। সেই গান দিয়ে আমরা ঐ সময়টাকে আবিস্কার করতে পারি।এমন অনেকগুলো গান আছে যা বিভিন্ন সময়ের স্মারক হয়ে আসে।এভাবেই গানের মধ্যে দিয়ে আমরা বেঁচে থাকি। সেই সময়গুলোকে বাঁচিয়ে রাখি। এরকমই কোন একসময় আমরা শুনি ফিডব্যাকের ‘মেলা যাইরে’ গানটি। হয়তো আমরা পহেলা বৈশাখকেই আবিস্কার করি এই গানটি দিয়ে।
কখন শুনেছিলাম এই গানটি? সন-তারিখ ঠিক মনে নাই। তবে পহেলা বৈশাখে যে এই গান প্রথম শোনা হয় নাই সেটা মনে আছে। পহেলা বৈশাখ নিয়ে হলেও এই গানটি একসময় প্রায় প্রতিদিন শোনা হতো। যদিও এখন আর আগের মতো শোনা হয়না, এখন কোন গানইবা অত শোনা হয়! ব্যস্ততা কেড়ে নিয়েছে গানের দিকে সমস্ত জার্নি। সেই যাই হোক, ‘মেলা যাইরে’ ছিল শেষ পর্যন্ত একটা উন্মাদনার নাম।গানটি লিখেছিলেন তৎকালীন ফিডব্যাকের ভোকাল এবং বাংলা ব্যান্ডের আরেক বিপ্লবী নাম মাকসুদুল হক।
‘মেলা যাইরে’ ছিল সে সময় ক্লাসিকাল বাঙিলায়ানার প্রতি একটি আঘাত। এই গানের লিরিকের কিছু কিছু জায়গা রাবীন্দ্রিক ঘরানার বৈশাখী মননকে সরাসরি আক্রমণ করেছে। যেমন ‘বখাটে ছেলের ভিড়ে ললনাদের রেহাই নাই’। এরকম লাইন বাংলা গানে এর আগে কখেনো লেখা হয়নি। যদিও এই লাইনকে ঘিরে পরবর্তীতে ইভটিজিংকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তবে সময়ের বিবেচেনায় সে গানটি ছিল গানের চেয়ে বেশি কিছু। পহেলা বৈশাখ এই গানের আগে এবং পরে দুটি আলাদা ন্যারেটিভ সামনে নিয়ে আসে। তরুণদের মধ্যে এখনো পহেলা বৈশাখ মানে মাকসুদের কণ্ঠে গাওয়া তুমুল জনপ্রিয় এই গানটি। ১৯৯১ সালে তৈরি হওয়া এই গানটির আবেদন ২৬ বছর পরও এতটুকু ম্লান হয়নি।পহেলা বৈশাখ বললে রবীন্দ্রনাথে ‘এসো হে বৈশাখ’র পাশাপাশি যে গানটির কথা মনে পড়ে তা গলো ‘মেলা যাইরে’।
তবে এই গানই কেবল নয়, এই গানের গায়ক মাকসুদের লড়াইও বাংলা ব্যান্ডকে প্রভাবিত করেছে অনেকদূর। যতদিন সক্রিয় ছিলেন, তাকে লড়তে হয়েছে ক্লাসিকাল স্যুডো বাঙিলায়ানার বিরুদ্ধেও। তাই বাংলা ব্যান্ড, পহেলা বৈশাখ, মেলা যাইরে, মাকসুদ এই নামগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পহেলা বৈশাখ মানে ‘মেলা যাইরে’ এই ন্যারেটিভটাও সত্য রয়ে যাবে আরো অনেকদিন।