বৃষ্টি মুখরতায়

স্বকৃত নোমান



জাদুকরি সুরের এমনও কিছু গান আছে, শহরের চার দেয়ালের বদ্ধকক্ষে শুনতে বসলে সুরের গভীরে ডুব দেয়া অসম্ভব বলে মনে হয়। নাগরিক কোলাহল সুরকে প্রায় অসহায় করে তোলে। চোখ বন্ধ করে তখন সুরের গভীরে ডুব দেয়ার মতো একটা কাল্পনিক পরিবেশ তৈরি করে নিতে হয়। কোনো কোনোদিন ভোরে চেয়ারে হেলান দিয়ে গান শুনতে শুনতে চোখ বন্ধ করে কোনো এক পাড়াগাঁয়ের নিঝুম প্রান্তে শান্ত নদীর তীরে ছোট্ট একটা ঘর, যেখানে ঝরাপাতা আর পাখিদের কলকাকলি ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই―এমন একটা কাল্পনিক পরিবেশ তৈরি করে নেই। তবু অতৃপ্তি থেকে যায়। ইচ্ছে করে চলে যাই কল্পনার সেই গ্রামে, যেখানে আষাঢ়ের ঝুম বৃষ্টি নামবে, আর আমি স্মার্টফোনে গানগুলো চালু করে জানালা খুলে বৃষ্টির ছাট গায়ে মাখতে মাখতে সুর-সমুদ্রে ডুবে যেতে থাকব।
কিন্তু পূর্বজন্মের কোনো পাপের প্রায়শ্চিত্য কি না কে জানে, এমন একটা শহরে বসবাস করি, যেখানে প্রতি মুহূর্তে জীবনের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। এই শহর যেন একটা যুদ্ধের মাঠ। প্রতি মুহূর্তে এখানে ধুন্ধুমার লড়াই চলছে। একিলিসে হেক্টরে, রামে রাবণে, অর্জুনে দুর্যোধনে। এই যুদ্ধের মাঠ থেকে কল্পনার সেই বৃষ্টিমুখর গ্রাম কেবলই ইউটোপিয়া মনে হয়।
আমার মতো অল্প বেতনের চাকরিজীবীর পক্ষে জীবনকে যাপন করার মতো সময় তো খুব একটা হয়ে ওঠে না। আমি আসলে জীবন কাটাই। কোনোরকমে। টেনে-খিঁচে। মাসটা যাতে দ্রুত শেষ হয়ে যায় মনে মনে এই কামনা করি। রোজ ভোরে ঘুম থেকে জেগে নেয়ে-খেয়ে অফিসের উদ্দেশে ছোটা, বাসের জন্য দীর্ঘ সময় রাস্তার কড়া রোদে দাঁড়িয়ে থাকা, যেই না একটা বাস এলো অমনি বাথানের গরুর মতো ঠেলাঠেলি করে ওঠা, মিনিটের পর মিনিট বাসের রড ধরে বাদুড়ের মতো ঝুলে থাকা, অনির্দিষ্ট সময়ের জ্যামে আটকে থেকে সারা শরীর ঘামে ভিজিয়ে তোলা। তারপর নির্দিষ্ট সময়ের দশ-বিশ মিনিট দেরিতে অফিসে পৌঁছা। আট ঘণ্টার ডিউটি শেষে বাসায় ফেরার জন্য আবার একই লড়াই।
সপ্তাহের ছয় দিন চলে এ লড়াই। একদিন মাত্র ছুটি, শুক্রবার। এদিনেও কি ব্যস্ততার শেষ আছে? চাকরির পাশাপাশি সংসারও তো আছে। থাকতে হয়। অর্থের পেছনে দুরন্ত গতিতে ছোটার পেছনে প্রধানতম কারণ তো একটাই, সংসার। বুদ্ধের শরণ নিয়ে ভীক্ষুর অথবা ত্রিশূল আর লোটা হাতে মাথায় জটা বেঁধে সনাতনী সন্ন্যাসীর জীবন বেছে নিলে সংসারের কোনো পিছুটান থাকত না। বুঝে হোক কিংবা না বুঝে, সংসারের বৃত্তে যেহেতু আটকা পড়েছি, আমৃত্যু ঘুরপাক খেতেই হবে। এ এক মায়াবী বৃত্ত। মুক্তি নেই।
সংসার মানেই স্ত্রী-সন্তান। চাইলে সংসারটা স্ত্রী দেখেশুনে রাখতে পারে। কিন্তু সেও তো চাকরিজীবী, বিশ্বায়নের এই কালে মোটামুটি ভালোভাবে বেঁচে থাকার তাগিদে তাকেও চাকরি করতে হয়, সপ্তাহের ছয়দিন তারও অফিস। ফলে গোটা সংসার ছয়টা দিন আমাদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। ছুটির দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে থলে হাতে বাজারে যাওয়া, ফিরে এসে জমে থাকা আধোয়া কাপড়গুলো ধোয়া, নখ কাটা, মাথার চুল ছোট করা―এসব ছোটখাটো সাংসারিক কাজ সারতে সারতে দুপুর গড়িয়ে যায়। বিকেলে স্ত্রীকে নিয়ে পার্কে অথবা শপিংমলে না গেলে তো পুরো সপ্তাটিই তার মাটি।
অতএব, আমার মতো নিম্ন মধ্যবিত্ত নাগরিকের পক্ষে চাইলেই ছুটির দিনে এই বিরক্তিকর, একঘেঁয়ে শহরের বাইরে কোথাও গিয়ে ঘুরে আসার মতো বিলাসিতার ইচ্ছাটা পূরণ করা সম্ভব হয় না।
তবু একটা ছুটির দিনের অপেক্ষায় থাকি, যেদিনটা শুধুই আমার। গোটা দিনটাকে আমি ইচ্ছেমতো উপভোগ করব। অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে মাস কেটে যায়, বছর কেটে যায়, অথচ দিনটা আসে না। ফলে, দিনটা আমার কাছে অবাস্তব হয়ে ওঠতে থাকে।
সেদিন ভোরে, ছুটির দিন ছিল, গাবতলী থেকে বাসে চড়ে বসি। চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী বাস। টিকিট কাটলাম যদিও রাজশাহীর, কিন্তু রাজশাহী আদৌ যাব কি না জানি না। আসলে যাত্রাটা গন্তব্যহীন। যেখানে দেখব মুক্ত নীলাকাশ, দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ, স্বচ্ছ জলের দিঘি, ফুটন্ত পদ্ম, চরতে থাকা গরুর পাল, পাখিদের ওড়াওড়ি, ফড়িংয়ের লাফালাফি―ঠিক সেখানেই নেমে পড়ব।
পাশের সিটের যাত্রীটি সম্ভবত ছাত্রী। কানে হেডফোন লাগিয়ে মোবাইল ফোনে গান শুনছে। রক গান, যতটা অনুমান করতে পারি। বিশ্বায়নের এই কালে কলেজ-ভার্সিটি পড়–য়ারা বিদেশি গান শুনবে এটাই স্বাভাবিক। এখন কি আর মান্নাদের যুগ আছে! প্রজন্মের ঝোঁক এখন ইংরেজির প্রতি। বিশ্বজয় করতে হলে এই ভাষা জানতেই হবে।
বাস চলতে থাকে। আমার চোখ জীবনানন্দের শ্রেষ্ঠ কবিতায়। ছাত্রজীবনে বিচ্ছিন্নভাবে তার কিছু কবিতা পড়েছিলাম, কয়দিন আগে ঢাকার নীলক্ষেত থেকে মাত্র চল্লিশ টাকায় শ্রেষ্ঠ কবিতার বইটা কিনি। পাঠে এতটাই নিমগ্ন ছিলাম, সাভার-নবীনগর-বাইফাইল পেরিয়ে বাস কখন যমুনা সেতুর কাছে এসে পৌঁছল টেরই পেলাম না। পকেটে মোবাইলটি কেঁপে না উঠলে ব্রিজ পার হয়ে গেলেও টের পেতাম না। অফিসের এক ফিল্ড ইনচার্জ বগুড়া থেকে ফোন করেছে। তার কাছে জানতে চাইলাম চলনবিলে তার পরিচিত কেউ আছে কিনা, রাত যাপনের মতো কোনো হোটেল-মোটেল আছে কি না। নেই, জানাল সে।
তার সঙ্গে আলাপ শেষে মোবাইলটি পকেটে রেখে আমি যখন আবার কবিতায় নিমগ্ন হব, পাশের যাত্রীটি প্রথমবারের মতো আমার মুখের দিকে তাকাল, ‘আপনি চলনবিলের কোথায় যাবেন?’
বেশভূষায় শহুরে, তবে তার চেহারায় এমন একটা প্রাকৃতিক ছাপ, তাকানো মাত্রই স্বচ্ছজলে ফুটে থাকা নীলপদ্মের একটা দৃশ্য ভেসে উঠল চোখে। আমার যাত্রা তো নিরুদ্দিষ্ট, কী উত্তর দেব? বললাম, ‘ঠিক কোথাও না। আসলে আমি কখনো চলনবিল দেখিনি। বর্ষার চলনবিল নাকি খুব সুন্দর। যতটা পারি দেখে রাতেই আবার ঢাকায় ফিরব।’
মুখ ঘুরিয়ে সে বাইরে তাকাল। তাকিয়ে থাকল খানিকক্ষণ। তারপর বলল, ‘তা কি হয়! চলনবিলের সৌন্দর্য দেখতে হলে একটা রাত তো আপনাকে থাকতে হবে। বিকেলের সূর্যাস্ত আর ভোরের সূর্যোদয় দেখবেন। রাতের চলনবিল অঞ্চলে নৈঃশব্দ কতটা গভীর হতে পারে, বুঝতে হলে তো রাতটা থাকতেই হবে।’
‘থাকার মতো আসলে আমার কোনো জায়গা নেই, ফিরতেই হবে,’ বললাম আমি।
তার সঙ্গে আলাপ জমে ওঠে। প্রসঙ্গ চলনবিল। শৈশবে বিলের উত্তাল ঢেউয়ের গর্জনে ঘুম ভাঙত তার, এখন আর আগের মতো ঢেউয়ের উত্তালতা নেই। লাখ লাখ ঘনমিটার পলি পড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে বিলটা। নদীর তীর দখল, অপরিকল্পিত বাঁধ-রেগুলেটর, রেললাইন, সড়ক-মহাসড়ক এবং ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে বিলের জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে। দেশি ঊনচল্লিশ প্রজাতি মাছের বেশির ভাগেরই বিলুপ্তি ঘটেছে।
এসব আর নতুন কী, নদী-নালা-খাল-বিলের এই দুর্দশার প্রতিবেদন তো পত্রপত্রিকায় প্রায়ই পড়ি, টেলিভিশনেও দেখি। আমরা সভ্য হচ্ছি, অর্থাৎ মানুষ থেকে আমরা রোবটে পরিণত হচ্ছি। যতদিন পর্যন্ত না পরিপূর্ণ রোবট হয়ে ওঠব, প্রকৃতি নিধন চলতেই থাকবে।
তার বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে হেসে বলল, ‘উল্লাপাড়া থেকে তের মাইল পশ্চিমে, যাবেন?’
আমি অপ্রস্তুত হয়ে পড়ি। বাসে, চলন্ত ট্রেনে, রাস্তায়, উৎসবে, মিছিল-মিটিংয়ে, এখানে-ওখানে নারীর শ্লীলতাহানির এই দুঃসময়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছাত্রীটি অল্প পরিচয়ের আমাকে কি না তার বাড়িতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে বসল! আমি সানন্দে রাজি হয়ে গেলাম। মুহূর্তে তার গ্রামটির একটা কাল্পনিক দৃশ্য এঁকে নেই : নদীর তীরে বাড়ি, টিনের ঘর, ঝুম বৃষ্টি, জানালার পাশে বসে আমি বৃষ্টির ছাট গায়ে মাখছি, আমার স্মার্টফোনে বাজছে ঠাকুরজির অমৃত বাণী, ‘আসিছে সে ধারাজলে সুর লাগায়ে, নীপবনে পুলক জাগায়ে...।’
বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যায় জাদুকরি সুরের যে গানগুলো শুনব বলে বহু বহু দিন প্রতীক্ষা করেছি, আজ বুঝি তার অবসান হতে যাচ্ছে! কিন্তু বাইরে তাকিয়ে মনটা বিষাদে ছেয়ে গেল। কড়া রোদ পৃথিবীটাকে ঝলসে দিচ্ছে, বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না। দুদিন আগে ঢাকায় মিনিট পনেরো স্থায়ী বৃষ্টি হয়েছিল, পরের দুদিন সুদে-আসলে তার শোধ নিয়ে নিয়েছে রোদ।
তবু আমি তার সঙ্গে যাব বলেই মনস্থির করলাম। প্রকৃতির ওপর তো আমাদের হাত নেই। এমনও তো হতে পারে, সারা দিন পৃথিবীটা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে শেষ বিকেলে আকাশ কালো করে ঝুম বৃষ্টি নেমেছে। বাংলার চিরায়ত প্রকৃতি তো এমনি। বৃষ্টি হয়ত আজও নামতে পারে।
বাস থেকে নেমে টেক্সিতে চড়ে গ্রামীণ হাট-বাজার পেরিয়ে, আবার রিকশায় চড়ে, তারপর তিন মাইল পায়ে হেঁটে দ্বিতীয়বারের মতো খেয়াঘাট পেরিয়ে, আবার দু-মাইল হেঁটে পড়ন্ত দুপুরে তাদের গ্রাম জয়ন্তপুরে পৌঁছে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই মেঘে মেঘে ছেয়ে গেছে সমস্ত আকাশ। মেঘের রঙ দেখে মনে হলো একবার যদি বৃষ্টি শুরু হয়, দুদিনেও থামবে না।
জয়ন্তপুর গ্রামের যে দৃশ্যটি আমি কল্পনায় এঁকেছিলাম তার সঙ্গে বাস্তবের খুব বেশি ফারাক নেই। বাড়ির কাছে নদীর পরিবর্তে একটা বিশাল দিঘি, ফারাক শুধু এই। চারদিকে পাটক্ষেত। পশ্চিমে যতদূর চোখ যায় চলনবিল। পুরো গ্রাম নৈঃশব্দের একটা গাঢ় চাদরে ঢাকা। বাতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজ আর ক্ষণে ক্ষণে ডাহুকের ডাক আর মাছেদের ঘাই আর হাঁস-মুরগির ডাক ছাড়া যান্ত্রিক কোনো কোলাহল নেই। পল্লীবাংলায় এমন কুমারী গ্রাম এখনো আছে, আমি ভাবতে পারিনি। ছোটবেলায় গ্রাম বলতে যা বুঝতাম, গ্রামের সেই সংজ্ঞা তো এখন পাল্টে গেছে। ধুলায় ধূসরিত কাঁচা রাস্তাগুলোকে কালো পীচের বোরকা পরিয়ে, মাছ উৎপাদনের জন্য পুকুরগুলোতে রাসায়নিক খাবার দিয়ে স্বচ্ছ জল দূষিত করে, মাটি আর বাঁশ-ছনের বদলে ঘরগুলোকে ইট-সিমেন্টের প্রাসাদ বানিয়ে আমরা ধীরে ধীরে সভ্যতার দিকে এগুচ্ছি। কেননা প্রকৃতির বুকে সওয়ার হয়ে সভ্যতা এগোয়।
সন্ধ্যা নামছে। পাখপাখালির ঝাঁক গন্তব্যের ফিরছে। দূরে কোথায় উলুধ্বনি শোনা যাচ্ছে। অচেনা একটা যুবতীর সঙ্গে এতদূর এসেছি, রাতে তার বাড়িতে থাকলে গ্রামের লোকজন নানা কথা বলবে। কেন তাকে বিপদে ফেলব? আমি তাকে ফেরার কথা বললাম। সে হাসতে হাসতে বলল, ‘কোথায় ফিরবেন এই অসময়ে? সন্ধ্যার পর তো খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে যায়। বর্ষার নদী সাঁতরাবেন কেমন করে? ভাসিয়ে যমুনায় নিয়ে ফেলবে।’
বিশাল বাড়ি তাদের, অন্তত সাত-আট পরিবারের বসবাস। কাচারিঘরের খাটে আমি গা এলিয়ে দেই। ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসছে। জোঙরা মাথায় উঠোন পেরিয়ে সে একটা কাচের বাটিতে তালের পিঠা নিয়ে এলো। পিঠার গন্ধ আমাকে আরো বেশি স্মৃতিকাতর করে তুলল। অবিরাম বৃষ্টি সব ভাসিয়ে দিচ্ছে। মানুষ তো প্রকৃতিরই সন্তান। মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা প্রকৃতি বুঝতে পারে। বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যায় বৃষ্টির ছাট গায়ে মাখতে মাখতে জাদুকরি সুরের গান শোনার যে বাসনাটা বহুদিন ধরে বয়ে বেড়াচ্ছিলাম, তা আজ পূরণ হতে চলেছে। প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইলটি বের করে ঠাকুরজির গানগুলো চালু করে দেই। জানালার পাশে বালিশে হেলান দিয়ে আমি সুরের গভীরে ডুব দেয়ার চেষ্টা করি।
কী আশ্চর্য, গানের প্রতি আমার কোনো খেয়াল নেই। বারবার চেষ্টা করেও সুরে মনোযোগ দিতে পারি না। প্রাকৃত ছন্দ-লয়ে প্রকৃতি বৃষ্টির তবলা আর বাতাসের বাঁশিতে অপূর্ব সংগীতের যে সুর তুলেছে, তার কাছে ঠাকুরজির গানগুলো বড় বেশি অসহায় বোধ করতে থাকে। প্রকৃতি সবচেয়ে বড় জাদুকর। হায়, এত এত দিনের স্বপ্ন তবে বৃথা! সে বলল, ‘ঠাকুরজি যে উৎস থেকে গানগুলো লিখেছিলেন আপনি তো সেই উৎসের কাছে চলে এসেছেন। মোবাইলটা বন্ধ করে দিন।’
বিস্ময়ে আমি তার মুখের দিকে তাকাই। সে সশব্দে হাসছে। বৃষ্টিধারার সঙ্গে তার হাসি মিলে অপূর্ব সংগীতের সৃষ্টি করেছে। আমি মোবাইলটা বন্ধ করে দিলাম। মুগ্ধচোখে দিঘির জলে বৃষ্টির অপূর্ব নৃত্যের দিকে তাকিয়ে থাকি এবং বৃষ্টির ছন্দ-তালের প্রাকৃত সুরে ডুবে যেতে থাকি।
#