মা হাওয়ার সন্তান

জাহানারা পারভিন




মা হাওয়ার সন্তান।আমার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ। আমিই মা হাওয়ার সন্তান। আমার মায়ের নাম হাওয়া। মাকে নিয়ে কি লিখব? তার ত্যাগের বিনিময়ে আমার অর্জন? তার ভালবাসা_আমার বর্জন? তার কাছে আসা,আমার দূরে যাওয়া! বুঝতে শেখার পর থেকে আজ পর্যন্ত কত প্রসঙ্গ, কত স্মৃতি। কোনটা রেখে কোনটা বলি! গর্ভধারন থেকে জন্ম দেয়া, লালন পালন, বড় হওয়ার পর এখনো মেয়ের জীবন সচল রাখার জন্য যে অক্লান্ত পরিশ্রম, অকৃত্তিম মমতা, যে অসম্ভব আবেগ, যে অকল্পনীয় পরিচর্যা তার কতটাইবা বলা সম্ভব।সন্তানের জন্য মায়ের অবদান কি আর শব্দে বয়ান হয়, নাকি সঙ্গায়িত করা যায় মাকে!
ডাক নাম হাওয়া। জন্ম কুমিল্লার দাউদকান্দির জগৎপুর গ্রামে। ১৯৫৫ সালে। হাশর ব্যপারির প্রথম সন্তান হাওয়া। শৈশবে ৪ বছর বয়সে মাকে হারায়।সাত চাচার একান্নবর্তী, স্বচ্ছল পরিবার। মা হারানো হাওয়া দাদী তাহেরা বেগম ও চাচাদের আদরে বড় হতে থাকে। মায়ের অভাব বুঝতে দেননি নি:সন্তান বড় চাচী। পরে তার নিজের দুটো সন্তান হলেও হাওয়াকেও সন্তানের মতই দেখেছেন। সবার আদরে হেসে খেলেই কাটে শৈশব। বাড়ির পাশেই স্কুল। আর বাড়িতে লজিং মাষ্টার। তার জন্য বাড়ির পাশে আলাদা ঘর। সেখানে পরিবারের শিশুদের পড়াশোনার স্থান। তাদের পড়াশোনার দেখাশোনা করেন তিনি।তবে মাতৃহীনা বলে আদর যতটা জুটেছে শাষন ততটা নয়। তাই পরিবারের অন্যরা যেখানে পাঠে মনযোগী সেখানে হাওয়া সে দৌড়ে শামিল হয়নি। তার অমনোযোগে এক আধটু শাষন করলেও মা মরা মেয়েকে ততটা শাষন করতে বেধেছে সবার। তাই পড়াশোনার পালে খুব একট জোর হাওয়া লাগেনি। তাই একই সাথে বড় হওয়া তার অন্য চাচাত বোনদের কেউ প্রধান শিক্ষক,কেউ বীমা কোম্পানীর ম্যানেজার, কেউ কলেজ শিক্ষক, তার আপন দুই ভাই বাংলাদেশ বিমান, বঙ্গভবনের মত প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন সেখানে, তাদের সবার বড় পরিবারের প্রথম সন্তান হয়ে মা সংসারে আটকে গেলেন। তার এক জীবনের মূল্যে আমরা পেলাম সুস্থির জীবন, প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছলতা, সেখানে তার প্রাপ্তির ঘরটা শূন্যই থেকে গেল। যার যখন প্রয়োজন মায়ের কাছে আসা চাই। মায়ের চাচাতো বোন কোহিণূর খালাম্মার বর কাশেম মামা আদমজী জুটমিল শেকে শোকজ খেয়ে খালাম্মার রোষানলে পড়েছেন। মামা ঢাকা খেকে ভৈরব চলে এসেছেন। যেন মা খালাকে বোঝার। খালার ছোট মেয়ে কেয়ার জন্মের সময় মা ঘর সংসার ফেলে আদমজী জুট মিলে চলে এসছেন বোনের বাসায়। অথচ খালার মা আছেন, আছেন তার দুই বোন। কিন্তু না হাওয়াবু কেও তাদের চাই। মায়ের ছোট ভাই খোকন মামার মেয়ে বুশরার জম্মের সময় মা আবারো বেশ কদিনের জন্য সব ফেলে ঢাকায় ভাইয়ের বাসায় হাজির। কোন বোনের ছেলে বিদেশে যাবে কিছু টাকা হলে ভাল হয়ে, মা তার নিজের সঞ্চয় থেকে তাকে টাকা দেবেন। মায়ের প্রাপ্তির ঘরটা শূন্যই থেকে গেলেও সে শূণ্যতা তার মুখে লেখা নেই। ছোটবেলায় দেখা সে উজ্জল ত্বক এখন মলিন। বয়স কেড়ে নিয়েছে লাবন্য। তবে এখনো হারায়নি অমলিন হাসি প্রানের উচ্ছলতা, অকৃত্তিম মমতা, নি:স্বার্থ মন,আর বিরল সারল্য।
হাওয়ার পড়াশোনায় অমনযোগ দেখে অভিভাবকরা পাত্র খোজা শুরু করল। হাওয়া যেহেতু পড়াশোনা এগায়নি তাই তার বরকে অন্তত শিক্ষিত হতে হবে। খুজতে খুজতে ভাল ছেলের খোজও পাওয়া যায়। মেঘনার ওপাড়ে। হোমনা উপজেলার লক্ষনখোলা গ্রাম। সেখানে এরশাদ আলী ভূইয়ারবড় ছেলে আবুল কাশেম। একান্নবর্তী গৃহস্থ পরিবার। জমিজমা আছে। আট সন্তানের মধ্যে বড় সে। ভাল ছাত্র। পুরো উপজেলার প্রথম বৃত্তি পেয়েছে স্কুলে। মেট্রিক পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়েছেন মাত্র। অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল ও সংস্কৃত পরিবারে বড় হওয়া হাওয়া বিবাহসূত্রে নদী পেরিয়ে জগপুর থেকে চলে আসে লক্ষণখোলায়। গৃহস্থ পরিবার। শশুর শাশুড়ি , ৫ ননদ। তিন দুই দেবর। সবাই ছোট। মা মন দেন সংসারে। বিয়ের পর চাকরী পেয়ে আবুল কাশেম চলে যায় ভৈরবে। এক সময় তার মনে হয় স্ত্রীকে ভৈরবে নিয়ে আসার কথা। বাড়ির বউকে শহরে পুত্রের কর্মস্থলে নিয়ে যাবার প্রস্তাব ভালভাবে মেনে নেয়া হয়নি। পরে আমার বাবার চাচাত ভাই আবদুর রহমান যিনি পেশায় ইঞ্জিনিয়ার তার কথায় কাজ হয়। তিনি বোঝান কাশেমের পাশে স্ত্রী থাকলে তার দেখভাল হবে আর বাচ্চারাও পড়াশোনার ভাল সুযোগ পাবে। এরপর নতুন জীবন। ভৈরবে। বড় সংসারের কারাগার থেকে যেন মুক্তি পান হাওয়া। যৌথ পরিবার থেকে বেরিয়ে পাতা হয় ছোট্র সংসার । ষাটের দশকের শেষদিকে, সত্তরের দশকের শুরুতে, তখন হয়ত একটি দুটি করে ভাঙছে পরিবার। জীবনের প্রয়োজনে একান্নবর্তী পরিবার থেকে বেরিয়ে কেউ কেউ গড়ে তুলছে একক সংসার। আবুল কাশেম ও হাওয়ার এমন ছোট্র সংসারে ১৯৭৫ সালের ৩০ মে আমার জন্ম। বাবা চেয়েছিলেন প্রথম সন্তান হোক মেয়ে। তাই প্রথম সন্তানের মুখ দেখার পাশাপাশি প্রত্যাশা পুরণের বাড়তি আনন্দ। আমার দুবছর বয়সে জন্ম আমার ছোট ভাই রিপনের। সাত বছর পর শারমিন। আরো পরে আসে সবার ছোট্র মামুন। ১৯৮৪ সালে জুট মিলের কোয়াটারে বাসা পাওয়া যায়। রেলস্টেশনের পাশের ভাড়া বাসা ছেড়ে জুট মিলে চলে আসি। ছোট্র সংসার তখন বড় হয়েছে কিছুটা। ৪ সন্তান তাদের পড়াশোনা, দেখাশোনা, খাওয়া-দাওয়া যত্ন, সংসারের সব কাজ এক হাতে সামাল দিতে হয়। তবে বাবা পড়াশোনা ও মা বাকি কাজ দেখাশোনা করেছন। আর সীমিত আয়ের সংসারে সর্বোচ্চ বরাদ্ধ ছিল শিক্ষাখাতে। ছোট্র সংসার ছোট্র চাকরী। ছেলে মেয়েদের শিক্ষিত করে ভালভাবে মানুষ করার বড় স্বপ্ন নিয়ে ছুটে চলা বাবা মা ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় করেছেন সর্বোচ্চ বিনিয়োগ। সময়, মনযোগ অর্থ আবেগ পরিচর্যা । মা সর্বংসহা এক নারী। সংসার, সন্তানের জন্য নিবেদিতপ্রান। সকাল, দুপুর রাত শুধু সন্তান, স্বামীর জন্য। কে কি খাবে, কার কি পছন্দ, কার কি সমস্যা, তিন বেলার রান্না আর স্বামী সন্তানদের দেখাশোনারর পরর তার নিজের সময় বলে কিছু থাকত না এখনো নেই। আমাদের স্কুল ছুটি থাকতো, বাবার খাকতো সাপ্তাহিক ছুটি। মার জন্য সব দিনই কাজের। কোনা ছুটির দিন ছিল না। শুধু কাজ আর কাজ। তার ক্যালেন্ডারে অবসর বলে কিছু নেই। বিকেলের অবসরে আশেপাশের অন্য চাচীরা যখন একটু ঘুমিয়ে নিয়েছেন আড্ডা দিচ্ছেন পরস্পর সুখে দুখের গল্পে মা হয়ত তখনো বাড়তি কোনো কাজ খুজে নিয়েছেন, কোন নতুন কাথা পেড়ে বসেছেন, কিংবা পিঠা তৈরীর আয়োজনে। পুত্রের শার্টের বোতাম খসে গেছে, বা কোনো কাপড় রিফু করা চাই। এইসব অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে তাকে নিজের কাছে আসা প্রাসঙ্গিক অবসর মাটি করতে দেখেছি। একটু বসে ধাতার ধাত নেই তার। একটু সুস্থির হয়ে নিজের মুখোমুখি বসা।
পাশাপাশি সবা্র খোজ রাখা চাই। পাড়া প্রতিবেশীদের সাথে মন খুলে মিশেছেন। এ বাসায় ওবাসায় গিয়েছেন। বড় বাড়ির মেয়ে, যৌথ পরিবারে বড় হওয়ার সুবাদে সবার সাথে মিলেমিলে থাকার অভ্যাস ছোটেবেলা থেকে রপ্ত হয়েছে। জুট মিলের কোয়ার্টারে বেশ কিছু পবিবারের বাস। তাদের সবার সাথে ওঠাবসা ছিল মায়ের। তবে সবচে খাতির ছিল দূরে নদীপাড়ের শ্রমিক কলোনীর নারীদের সাথে। তাদের বিপদে আপদ পাশে দাড়িয়েছেন। কার বাসায় চাল নেই, কার সন্তানের পরীক্ষার ফি দেয়া হয়নি, কার দুপুরে খাওয়া হয়নি এইসব সমস্যা তার কানে আসত। সোজা চলে আসত আমাদের বাসায়। তাদের খাওয়ানো, টাকা ধার দেয়া, বাবাকে না জানিয়েই কখনো কখনো চলত এসব। মিলের বুয়া, দারোয়ান, বাগানের মালি সবার জন্য মায়ের দুয়ার খোলা। তাদের জন্য থাকা সময়, চা পানের প্রশ্রয় সত্যি বলতে কি সব সময় যে আমাদের ভাল লাগত তা নয়, বিশেষ করে ম্যানেজারের বাংলো থেকে আসা অতিথিরা, বা অফিসারদের স্ত্রী ছেলে মেয়েরা আসলে যতটা স্বাভাবিক সৌহার্দ পেতেন ততটাই মৌনতা পেতেন বুয়া, সুইপার, মালি, বা শ্রমিকের স্ত্রীরা এলে। এদের মলিন পোশাক আর গালভরা দু:খগাথায় আমাদের বিরক্তি আসলেও মা তাদের কথা মন দিয়ে শুনতেন। সম্ভব হলে পাশে দাড়াতেন। মা ছিলেন তাদের প্রিয় ও ভরসার মানুষ। আজ এতগুলো বছর পর বুঝি সেইসব বৈশিষ্ট সংক্রামিত হয়েছে তার সন্তানেদের মাঝেও। একজন নারী ছিলেন ফ্যামিলি প্লানিং এ চাকরি করতেন। পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে নারীদের বোঝাতেন পরিবার ছোট রাখার কথা। প্রায়ই দুপুরে দেখেছি আমাদের বাসায়। দুপুরের খাবার খেয়েছেন। কখনো কখনো মা তাকে চাল দিতেন। হয়ত তার তখনো বেতন হয়নি। ঘরে বেকার স্বামী। পুরো পরিবারের দায়িত্ব তার কাধে। তার এক পুত্র স্কুলে আমার সহপাঠি ছিল। আর একজনের কথা বলি। নিয়মিত আসতেন বাসায়। প্রতি শুক্রবারে ময়মনসিংহ থেকে যে ভিক্ষুকরা ভৈরবে দলবেধে আসতেন। তিনি তাদের একজন। তার সাথে মায়ের সখ্যতা হয়। একসময় একাই আসেন। শুক্রবার হলে তার আমাদের বাসায় আসা চাই। দুপুরে আমাদের সাথে খান। গল্পগুজব করেন। তারপর বিকেলে ফিরে যান ময়মনসিংহ। এই বৃদ্ধাকে আমরাও সমীহ করেছি। তাকে মায়ের এত পাত্তা দেয়ার কারণও আছে। এই নারীর সাথে তার বড়মার চেহারার বেশ মিল। মায়ের বড় চাচী যাকে বাড়ির সবাই বড় মা ডাকত। ফর্সা, চিকন স্বাস্থ্য। মুখের ভাজ। প্রথম প্রথম আমরাও শিশুরাও অবাক হতাম। একজন ভিক্ষূক এমন সুন্দর হতে পারে! শুনেছি তিনি গৃহস্থ ঘরের বউ। কপালের ফের। তাই ভিক্ষা করতে হয়। জুট মিলের বাসাতেও আসতেন তিনি। আমি ছুটিতে বাড়ি গেলে দেখে খূব খুশী হতেন। যেন নিজের নাতনীকে দেখেছেন। এক সময় তার আসা বন্ধ হয়ে যায়। মা মন খারাপ করেন। ধরে নেন মারা গেছেন হয়ত। জুট মিলের পরিসরে মা পেলের তার যৌথ পরিবারের আমেজ।
এভাবে বড় হতে থাকি আমরা। ভাইবোনরা এইচ এসসি শেষ করে ভৈরব ছেড়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকায় আসতে থাকি। ঢাকায় আমাদের নতুন জীবন। বড় সন্তান বলে সবার আগে পরিবার ছেড়ে আমি আমি। ১৯৯২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর রোকেয়া হলে শুরু হয় আমার নতুন জীবন। আমার পর আসে রিপন ও এমবিএ করেছে । তারপর শারমিন ভর্তি হয় ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ে , ইংরেজীতে। সবশেষে আসে সবার ছোট মামুন ও পড়েছে একাউন্টিং। এইচএসসি পাশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ইডেন কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ফরম আনা, পুরন করে আবার জমা দেওয়া প্রতিবার ঢাকা এসেছি মায়ের হাত ধরে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ে ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন বিকেলে এসে সিট প্লান দেখে যাওয়ার সময় মাই ছিলেন আমার সঙ্গী। আর ভর্তি পরীক্ষার পুরোটা সময় বাইরে দাড়িয়ে থাকেতেন মা। বাবা অফিসের কাজে ব্যস্ত। তার আমার সাথে আসার উপায় নেই। তবে তার পরিকল্পনা ও সাধনা এবং মার পরিচর্যা সব কিছুর জন্যই ছেলেমেয়েরা পড়াশোনায় ভাল কেছ। মা সাত সকালে অন্য সন্তানদের জন্য রান্না সেরে আমাকে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। কখনো দিনে ঢাকায় এসে কাজ সেরে সেদিন রাতে ভৈরবে ফিরেছি। কখনো থেকে গেছি আত্মীয়ের বাসায়। মার ছোট বোন সালমা খালার কল্যানপুরের বাসায়ই থেকেছি বেশিরভাগ সময়।
ঈদের ছুটি ছাড়া সব ভাইবোনদের একসাথে বাড়িফেরা হত না। তাই ঈদের জন্য অপেক্ষা। ঈদে সব সন্তান বাড়ি ফিরলে উৎসবে ভরে উঠত ঘর। ছুটি শেষে যখন হলে ফিরতাম গাছের কলা, পিঠা, মুড়ি মুড়কি আরো কতটি দিয়ে ব্যাগ ভরে উঠত। বিরক্ত হলেও পরে দেখতাম রুমমেট ও বন্ধুরা এসব খাবার বেশ উৎসাহ নিয়ে খাচ্ছে। ঘরের চারপাশে বেশ ফাকা জায়গা ছিল। এসব জায়গায় সবজি ও ফলমুলের চারা লাগাতেন মা। মৌসুমী সবজি, সীম শষা, কুমড়ো, লাউ পুইশাক, পেচতা টমেটা কলা তাজা খাওয়ার সুযোগ হয়েছে। মিলের বিশাল পুকুরে ছুটির দিনে মাচা বেধে মাছ শিকার করতেন বাবা। মা সেই মাছ রান্না করতেন। মায়ের মুড়িঘন্টের সে কি স্বাদ। এখন মা আছেন, আছি আমরাও নেই তাজা মাছ। রাজধানীতে আসার পর । সময় বড় দ্রুত পালিয়ে যায়। এখনো দুহাতে আমার সব কিছু আগলে রেখেছেন মা। অথশ্বের ছায়া হয়ে আছেন মাথার ওপর। মা আছেন বলেই এখনো বাড়ি ফিরে এখনো কিছুটা অবসর। অফিসের কাজের ব্যস্ততায়, কিংবা লেখালেখির সময়ে আমার ঘর, সংসার সন্তান সবকিছু আগলে রাখেন মা। আমার সৌভাগ্য মা এখন আমার প্রতিবেশী। আমরা এখনো একই ভবনে, পাশাপাশি থাকি..