A monologue on Mother

ব্রতীন ভট্টাচার্য



মা গো আমি হীনদীন তোমার কী গুণকীর্তন করিব, কেন না মাতা মাত্রেই হয় আধার, গুণেরই কি বা। আহা আমার চন্দ্রশোভা চারিপার্শ্বে যাহা আচ্ছাদিল, তাহা তোমারই কি গুণে কি বা কলঙ্কে। মাতঃ আমি সমস্ত অর্জিত কলঙ্কে ও পুণ্যে মনঃ ও কায়ায় তোমার আরাধনা করি। আমার পাপজিহ্বাগ্রে সুবাণী অধিষ্ঠিত হৌন।

এ জগতসংসার যখনি আবিল নহে, তোমার গর্ভপুষ্করিণীতে ভ্রমতঃ তোমারই খাদ্য আহারিতেছি, কি বা সেই স্বরবর্ণশব্দসমূহ যাহা তোমা-হইতে আমার প্রথম দীক্ষাস্বরূপ। মাতা আমি সমস্ত বর্ণেশব্দে তোমার মন্ত্র উচ্চারণ করতঃ সদাভ্রাম্যমাণ। অরঙ্গ আশ্রয়ে মুমূর্ষুপ্রায় আমি অসঙ্গীত ভালোবাসিলাম কেন না সকল তোমা হইতে আসিল তাহা সঙ্গীত জ্ঞান করি। শ্বেতকৃষ্ণ আচ্ছাদনে আমি তোমা পানে চাহিলাম আমার রক্ষা হৈল মাতা আমি সুর শুনিলাম তাহা সঞ্জীবনীপ্রতিম।

অমান হৈতে আন্তরিকতম অমানাভাবে পূর্ণ জীবন লভিলে আহা প্রগাঢ় সংকট তথাপি কত না মেষস্বপ্ন প্রতিভাত হয় বস্তুত প্রকৃত স্বপ্ন সভ্যতার শকটস্বরূপ জানি। তোমা-দ্বারা মৎস্যপুষ্টি তোমার করুণা মাতা তোমা-ভিন্ন ধারণ অসম্ভবে আমি রহি সুঋণী। সে-হর্ম্ম্যটি বিশিষ্ট তথাপি তাহা ও পিতৃজীবন তাহা অপেক্ষাও অ-দৃষ্ট সুন্দরতর এই আশ্বাস বোধ হয়। আহা সেথা না কত পুষ্প কত না প্রভাব। আমি আত্মীয়ানাত্মীয় বন্ধুপরিজন স্বপ্নোৎকর্ষে দূর রাখিলাম আমি পৃথক পথে চলিব কেন না সর্ব পথে মনুষ্যের দর্শন হয় নবতর পথ হৈল আমার পথ।

সংসারের সমস্ত পাপাভিশাপ তোমা পরে বর্ষিত হইবে যাহা আমাতে ন্যস্ত হইয়াছে অথবা কালক্রমে মাতা আমি তোমাতে বিশ্বস্ত রহিয়াছি বুঝ কি বুঝ না নিজ আহার্য আমি ক্রমে যদিচ গ্রহিলাম আহা সে অমৃত। আমি তোমার মেষস্বপ্ন পালনে প্রতিশ্রুত রহিলাম তুমি বুঝ কি বুঝ না।

অপরিতলের মনুষ্য গ্রহিলাম যেহেতু তোমার দৃষ্টিতে কি বা আমি শক্তিধর হৈ। তথাপি এ-জীবে বিশ্বাবিষ্ট করিবে সে-ইচ্ছা তোমার অনিবার্য হয়। তোমার আজ্ঞা লঙ্ঘিলাম, আহা সুখান্তর বড়ো মধুর এ-ভাবনা কিছু অনিত্য তবু। রৌপ্য যাহা হারায়, পরিবর্তে রাখি এক সহস্র একশত রৌপ্য চৌর্যবৃত্তি অস্বস্তির কলঙ্কের তবু। অর্জনে ঘৃণা ও বিদ্বেষ বিশেষ বীরত্ব - আমি ঘৃণা দূর রাখি রৌপ্য, সুখ নহে, দিলাম। সুখান্তর তাহার অংশে আমি তোমা পূজিলাম তুমি গ্রহণ করো।

তোমার অপার দয়ায় আমি বিজিতদের করুণা বন্টন করিয়াছি স্বীয় সসাগরা বিশ্বের অধিরাজ আমি তোমার কীর্তি গাহি প্রসন্ন হও। স্বর্গের অতীত জন্মভূমি-অপেক্ষা অধিকতর তোমারই শিক্ষাবলে আমি নিষ্ক্রমণে বাহিরিলাম ফল-শস্য- প্রবৃত্তি অভিজ্ঞতা করিলাম তোমার বন্দনা করি।

মাতঃ আমি তোমা পূজি জন্মাবধি শিক্ষার সংস্কারে যদিচ পথ দূর গিয়াছে সেই স্বপ্নের পথ মাতা আমার বিন্দুটি হয় স্থান-পরিবর্তনশীল। তথাপি সর্বনাশ হয় জীবনের ভাগ মাতা আমি সর্বনাশ তোমা সঁপি তোমার উপস্থিত স্নেহ কামনা করি। আমি সৃজিলাম এ সর্বহন্তারক বিশ্ব তোমার তাহা নহে মাতা আমি তোমার আশিস প্রার্থনা করি আমাদিগে উদ্ধার করো পূতপবিত্র করো আমাদিগের সন্তান রক্ষা করো। আমরা ভবিতব্য আশ্লেষ অবহেলা কার্যত প্রস্তুত করিব কেন না মৃত্যু হয় আমাদিগের ভবিতব্য।