মা বারমাসী

শিপা সুলতানা




কুঁচো চিংড়ি, সিঁদেল শুঁটকি, ঝাল ঝাল নাগামরিচ দিয়ে আন্না মুকির ঝুল। বড়ো বড়ো সাতকরা কেটে বোয়াল মাছের ভুনা।
নতুন আলু, নতুন ধনেপাতা দিয়ে মাগুর মাছের তরকারি মানে আমার আম্মা। বিয়ে বাড়িতে গেছি, ভুরিভোজ করাই নিয়ম, আমরা অল্প অল্প খেয়ে বাড়িতে ফিরে আসছি মায়ের হাতের সিমের তরকারি নয়তো সর্ষে ইলিশ খেতে। ইলিশ তো নয়, মায়ের ঘ্রান খেতেই অভুক্ত ফিরে ফিরে আসা...

ফাল্গুনের মিঠামিঠা ভোর এক সময় চড়চড়ে দুপুরে এলিয়ে পড়লে উঠানের গাঁদা ফুলের বনে আগুন লাগবে। নিরীহ নিরীহ ফুলের দলে ধুন্ধুমার বেঁধে যাবে এক লহমায়। জানলার পাশে শুয়ে শুয়ে মাথার ভেতর ঢুকে পড়বে গরম গরম মিষ্টি মিষ্টি ঝাঁঝালো সুঘ্রাণ। দূরে পলাশ গাছের গায়ে অবিরাম ঘর খোঁদাই করে যাচ্ছে এক কাঠঠুকরা, দম নেবার সময় নেই তার। তখুনি উত্তরের নিয়তি পাহাড়ের মাথা ছুঁয়ে ভেসে ভেসে আসবে একসারি কোমল বাতাস। তার গায়ে লেগে থাকা পেয়ারার ফুল, লেবুর ফুল, কমলার ছোট ছোট ফুল উড়ে উড়ে যাবে কার না কার বাড়ি। আমি তন্ময় হয়ে চেয়ে থাকি বৈদ্যাটিলার পানে। কোনো পরদেশী নয়, মরে যাওয়া কোনো শৈশব বান্ধব নয়, পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা দুপুরের মা'ই যেন কই থেকে কই উড়ে উড়ে মাথার উপর, মুখের, বুকের উপর ফাল্গুনের হাওয়া হয়ে লেপ্টে গেলো জনমের তরে...