মা

প্রণব আচার্য্য



১.
শব্দই ব্রহ্ম। আবার শব্দ-ই শেকল। এই যেমন, আমি তাকে ভালোবাসি—এ বাক্যটিতে আমি ও তার মধ্যকার সম্পর্কটি সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে ‘ভালোবাসা’ নামক শব্দ ও তার অর্থের বিপুল অপচয়ের মধ্যে। অথবা কুকুর ঘেউ ঘেউ করে ডাকে— এখানেও কুকুরের ভাষা ঘেউঘেউয়ের মধ্যে আটকা পড়ে গেছে।

পৃথিবীর ভাষা নীরবতার মধ্যে অসীম রূপ নিয়ে লীন হয়ে আছে। ব্রহ্মনাদের আগে তাই জলমগ্ন ভুবনে ভাষা ছিল মুক্ত। সে ভাষায় নক্ষত্ররাজি চিনে নিয়েছে নিজস্ব কক্ষপথ।

শব্দ ভাষার সেতু। কিন্তু তা অসীম গন্তব্যে নয়। কত লক্ষ শব্দ খেলা করে বাংলা ভাষায়? কত লক্ষ সেতু বন্ধন তৈরী করে স্থির হয়ে আছে ভাষার ব্যবধানে?— জানেন ব্যাকরণবীদ।

২.
কবে, শৈশবে এক কিশোর জামগাছের উঁচুতে বসে ঈশ্বরের বদলে মা বলে ডেকেছিল। কী মধুর ছিল সে মাটির টান... শূন্যতায় সেই ধ্বনি মিশে গিয়ে আজও সংগীত হয়।

মা মা মা—জগতের শূন্যতায় শব্দহীন গান

মা মা মা—শাক্যধ্যানের মতো শোকার্ত সঙ্গীত

ত্রিভুবনে কোন ঈশ্বর নেই। কোন শব্দ নেই—নেই নীরবতা ও অপরাপর কম্পন। আর কোন কথা নেই। ভাষার আদি রূপ—তার ডালে বসে সেই যে কিশোর জামফল হাতে খসে পড়েছিলো... পড়তে পড়তে... ব্রহ্মাণ্ডের সব জল মুছে গিয়ে... উদ্ভাসিত হয়েছিলো মেদিনী বিপুল।

মা মা মা—পৃথিবীর অশ্রুবিন্দু, নোনা জলে হয়ে গেছে সাগর।