প্রাকৃতিক সত্য ও অন্যান্য

ওবায়েদ আকাশ



১. প্রাকৃতিক সত্য
***********

মায়ের মুখ থেকে শোনা প্রতিটি গল্পই
প্রাকৃতিক সত্যে ভরপুর

আমার মায়ের প্রতিটি কথাই জানি
কোথাও না কোথাও কোনো গভীর অরণ্য কিংবা
সামুদ্রিক অবয়ব নিয়ে বেঁচে আছে

জানি যে, মায়ের প্রতিটি কথা কিংবা
একটিও বাক্যাংশ আমার স্মরণে থাকবার কথা নয়
কিন্তু তার কবরের পাতাবাহার ও শেফালি ফুলেরা
প্রত্যহ নিয়ম করে
তাদের রঙ ও গন্ধ পাঠিয়ে থাকে —

ভেবে তাদের বলি — প্রতিটি সূর্যাস্তকালে
আমার মায়ের মুখ কতদূরব্যাপী বিস্তৃত থাকে?

তখন কেউ কেউ যেমন মায়ের হাতের রান্নার
শংসা রচনা করে, কেউ কেউ আবার
মায়ের মুখে শোনা গল্পে
পৃথিবীকে প্রাকৃতিক করে তোলে





২. যাকে বিদায় জানানো হলো
*******************

যাকে বিদায় জানানো হলো এবং
বিদেহের লালিত্য ছায়ায় বাকিকাল
ক্রমোজ্জ্বল ভূমিকায় থেকে যাবেন বলে
বলাবলি হলো
তিনি সর্বোচ্চ উচ্চারিত নাম
আমার মায়ের ভূমিকায় উজ্জ্বল

হঠাত্ই মর্ম খুলে নৈঃশব্দ্যের ধ্যানে
মনোযোগ ফিরিয়ে দিয়ে
অদূরের মাঠে তাকিয়ে থেকে বললেন
যে যার গন্তব্যকে মাদুরের মতো বিছিয়ে রাখে
ব্যক্তিগত ছায়ায়

অহেতু দূরের গন্তব্য একবার দূরত্ব বাড়িয়ে
পরক্ষণেই মিলিয়ে যায় নিকট অজানায়

একবার মাত্র মাকে অজানায় হারাতে দেখে
চিরকালের ব্যবহার্য করে
বুঝে নিয়েছি প্রতিদিনের সাংসারিক ছায়ায়



৩. অভিবাস

মা আজ কান্নার জলে ভাসছেন
চিঠি লিখি—
শোনো মা
বকুল আমার ভীষণ বিরক্তিকর ফুল
যখন তুমি কাঁদবে, বকুলতলায়
কখখোনো নয় মা
আমার চিরুনি হতে তোমার দীর্ঘ দুটি চুল
মেঝের ওপর গড়িয়ে পড়ে গেল —
তুমি দীর্ঘকাল পর গড়ানো অশ্রুর ভেতর
কেমন করে ভেসে যাচ্ছো মা!

আজ কিংবা কাল
আরো যে সব নালিশগুলো তোমার কাছে পৌঁছে যেতে পারে
তা যেমন এই যে, কী করে আমরা
হাড়ের চিরুনি, ধাতব বর্শায় (বর্ষায়) অভ্যস্ত হয়ে উঠছি —

এই শহরে ভনভন করছে মাছি
তুমি কান্নার মতো নোনাস্রোত চোখে
কোনোদিন জেনে যেতে পারো
মাছিরা গুনগুন করে নিরন্তর কাঁদে

****