পাখিভোর ও জন্মদিন

তমাল রায়



তারপর,বৃন্দগান শেষ হলে যে যার বাড়ি ফিরে যেতো অক্ষর,অক্ষররা। দরজাগুলো তখন একে একে বন্ধ হয়ে আসছে। নিভে আসছে আলো। লংশটে এক বিস্তীর্ণ অন্ধকার। প্যান করছে ক্যামেরা। কোথাও কোনো আলো নেই… দুপুরগুলো থার্মোমিটার ভেঙে ফেলার পর উত্তাপ হারিয়েছিলো। সকালের কথা থাক আজ। পিচ রাস্তায় কেবল লরি পিষে গেছে শিমুল, পলাশ, রাধাচূড়া... শ্বাস যা যতটুকু বিষাক্ত, লেড যুক্ত বজ্রকালির নির্ঘোষ। সসপ্যানে দিন ফুটছে,শুকিয়ে যাচ্ছে যা কিছু তরলতা। সিঙ্কোনা তামুক গড়গড়ায় কেবল বিপ্রতীপ ব্যারাকিং। পাখি উড়ে যেতে যেতে ফ্রিজড। পাহাড় ভাঙছে দূর দার। নদী কি যেন এক চিঠি আসার অপেক্ষা করতে করতে,শুকিয়ে কাঠ। কেবল ট্রান্সমিশনে একঘেঁয়ে পৌণপুনিক গোঁ শব্দ। পড়ে আছে সেই সেতুটা আজও ভাঙা। জুড়লে ওপারে আপেল বাগান,বসন্ত ক্ষেত,দীপাবলি। পথ গুলো যত মন্দির মসজিদ খুঁজলো,তার চেয়ে যদি….


আপাতত এ বধির ও মূক অপেক্ষা ক্যানভাসে এক নীল নিস্তব্ধতা। একটা মাফলারের নির্মাণ চলাকালীন উলের বলটা লাফাতে লাফাতে দরজায়,শীত আসছে...চেয়ারের পাশে চেয়ার। কাল পরীক্ষা,সকাল হলেই দৌড় আর দৌড়,উনুনে ভাত ফুটবে,গরম ভাতের পাশে ধোঁয়া ওঠা সবজি,আর আলুসেদ্ধ...জুতো, মোজা, ইউনিফর্ম। চেয়ারের পাশে চেয়ার রাত জাগছে...উত্তপ্ত কপালে ভিজে জলপট্টি,বার বার। জ্বর বাড়া বা না বাড়ার সাথে জলপট্টির অভাবজনিত কোনো সম্পর্ক নেই। থার্মোমিটার উত্তাপ মাপছে। লিখে রাখছে উদ্বিগ্ন হাত...টলমল পায়ে হেঁটে যেতে যেতে পড়ে যাবার আগেই,নির্ভরতার হাত ধরে নিলো। হাঁটা এখন বিশ্বাস পাচ্ছে...ক্যানভাসে কিছু দীর্ঘশ্বাস,কিছু অপেক্ষা...চেয়ার কমছে,টেবিল,বিছানা মুছে গেল,জানলা দিয়ে একটা মলিন আলো ধীর গতিতে প্রবেশ করছে,আর আঙুল ছেড়ে যাচ্ছে আঙুল। বিষণ্ণ,ক্লান্ত হাত শূন্যে উঠে কি যেন খুঁজে,বেমালুম পড়ে গেল বেবাক।

'প্রজাদের জন্য পাতা জুড়ে লেখা হয় রাজাদের যুদ্ধ ও রাজত্বের আজব কাহিনী ‘কিন্তু মা কি একা একা চিলাহাটি বর্ডার পেরিয়ে আসতে পারবে? ধর্মপুস্তকের বাইরে যা,লেখা হয়;সব যুদ্ধ মায়েদের। সাদা ফুলগুলি শেষ পর্যন্ত পারিবারিক দীর্ঘশ্বাস ছাড়া অন্য কিছু নয়’ আজ একুশে ফেব্রুয়ারি। দূরে কোথায় যেন শাঁখ বাজছে। আজান...ভোর হচ্ছে….একটি পাখি ডানা মেললো ভোরের অকৃত্রিম আকাশে। আজ একুশ। আমার,আমাদের মায়ের জন্মদিন।



[উদ্ধৃত অংশটি বিজয় দের 'সীমান্ত' কবিতা থেকে গৃহীত]