নিখুঁত ক্লাব

গ্রাসিয়েলা মোন্তেস (অনুবাদ)জয়া চৌধুরী



ফ্লোরডা অঞ্চলের লোকজন সেখানকার গল্প শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু সেটা তো আমার দোষ না। ফ্লোরিডায় যেসব ঘটনা ঘটে সেগুলো কেউই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
এই যেমন নিখুঁত ক্লাবের গল্পটার কথাই ধরুন না কেন।
এই সব কারণেই ফ্লোরিডার নিখুঁত লোকজন ক্লাবটাকে গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আপনাদের কেউ কেউ হয়ত জিজ্ঞেস করবেন কারা কারা নিখুঁত মানুষ ছিলেন? ইয়ে , দেখুন ফ্লোরিডার নিখুঁত ক্লাবের লোকেরা অন্য যে কোন জায়গার নিখুঁত মানুষ জনের মতই ছিল। যে কেউই তাদের এভাবেই কল্পনা করে নিতে পারেন।
যেমন ধরুন- নিখুঁত মানুষেরা মোটাও হয় না, আবার রোগা টিংটিঙে তো কখনই না।
না তালঢ্যাঙা লম্বুও নয়, আবার বেঁটে বাঁটকুলও কোনভাবেই বলা যায় না।
তাদের সবকটা দাঁত সারি সারি সাজানো থাকে। আর তাদের মধ্যেও “কখনো ওরে না” এমন টাইপের মানুষেরাও কখনই দাঁত দিয়ে নখ কাটে না।
তাদের পায়ের পাতা সমান নয় মানে ফ্ল্যাট ফুট নয়। আবার গোড়ালি শূন্যে উঁচিয়েও হাটে না তাঁরা।
তারা ভীতু নয়। নাক গলানো টাইপের লোকও নয়।
হা হা করে ছাদ ফাটিয়ে অট্টহাসি হাসে না তারা। আবার কাঁদতে কাঁদতে তাদের ফোঁত ফোঁত করে নাকে শিকনি ঝুলতেও থাকে না।
নিখুঁত লোকেদের সবসময় পরিপাটি করে চুল আঁচড়ানো থাকে। সবসময়ই তারা বলে “দয়া করে”...মানে “ দয়া করে বসবেন”...”দয়া করে সরবেন”...”দয়া করে ঝুঁকবেন”.... “দয়া করে...” তারা কখনো মুখ ভর্তি খাবার নিয়ে হাঁউমাউ করে কথা বলে না।
এটা জেনে নেওয়া জরুরী যে ফ্লোরিডায় নিখুঁত লোকেরা সংখ্যায় তেমন বেশি কিছু নয়, আমরা যতটা বলছি। এটা তার চেয়েও ঢের বেশি কিছু। এরা তেমন তো নয়ি বরং এক্কেবারে সামান্য কয়জন। এতটাই কম যে সে দেশে কতগুলো রাস্তা ছিল যেমন অগুস্তিন আলভারেস রোড...সেখানে তো একজন নিখুঁত মানুষকেও দেখা যেত না। এমনকী ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়েও চোখে পড়ত না। তবে তারা সামান্য কজন ছিল। এবং সেই সামান্য কজনই একটা ক্লাব গঠন করবে বলে সিদ্ধান্ত নিল। কারণ গোটা পৃথিবী আনে যে নিখুঁত লোকেরা নিখুঁত লোকদের সঙ্গে আড্ডা দিতে ভালোবাসে। নিখুঁত লোকেদের সঙ্গেই খাওয়া দাওয়া করতে ভালোবাসে। এমনকী নিখুঁত লোকদেরকেই বিয়ে করতে ভালবাসে।
এই নিখুঁত ক্লাব ছিল ফ্লোরিডার তৃতীয় ক্লাব। অন্য দুটো ক্লাবের নাম সান্তা রিতা খেলাধুলো ক্লাব আর খুয়ান বি খুস্তো সামাজিক ক্লাব।
সান্তা রিতা খেলাধুলো ক্লাব ছিল পুরোপুরি একটা ফুটবল ক্লাব। শনিবার শনিবার বিকেলে ফ্লোরিডার লোকজন দিয়ে সেখানা ভরে যেত। কারণ শনিবারের বিকেলগুলোতে সেখানে “তেতো কমলালেবু” দলের সঙ্গে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ হত।
খুন বি খুস্তো সামাজিক ক্লাবটা ছিল আসলে নাচের ক্লাব। শনিবারের রাতে ফ্লোরিডার মানুষ সেখানে তাদের প্রেমিকাদের নিয়ে যেতে ভালবাসত। কারণ সেখানে ফ্লোরিডার রক প্রেমী মানুষ জনের সাথে লাল হলুদ সবুজ মালা পরে তারা নাচত।
কিন্তু নিখুঁত ক্লাবের ব্যাপারটাই ছিল আলাদা।
শুরু করার জন্য তাদের না ছিল কোন স্টেডিয়াম না কোন মাথার ওপর আচ্ছাদন দেওয়া জায়গা। সেটা ছিল ওয়ারনে রোডের ওপর একটা বাড়িই স্রেফ। বাড়িটায় বিশাল বিশাল জানলা।। একটা লোহার দরজা, যাতে কালো রঙের লম্বা লম্বা শিক লাগানো। আর সামনের বাগানটাতেও কোন জেরেনিয়াম ফুলের গাছই ছিল না। এমনকী ডালিয়া কিংবা মারগারিটা ফুলের গাছও না। শুধু রোগা রোগা লিকলিকে কতগুলো পাম গাছ। সাদা গোলাপে ভর্তি একটা গোলাপ বাগান আর বিশাল বিশাল পাতাওয়ালা রবার গাছ।
শনিবারের রাতগুলোয় সেখানে নিখুঁত লোকেরা চকচকে টাই আর ইস্ত্রী করা শার্ট প্যান্ট স্যুট পরে আসত। যেহেতু তারা নিখুঁত সময় প্রেমী তাই সকলেই এক্কেবারে একসঙ্গে এসে পৌঁছত।
শনিবারের রাতগুলোয় নিখুঁত ক্লাবটাকে বরাবরই ফ্লোরিডার লোকজন ঘিরে রাখত। আর সেই কারণেই যখন ঘটনাগুলো ঘটত মানে যা যা ঘটবার কথা সেই সব ঘটনা ঘটত, সেগুলো বলবার জন্য সেখানে অনেকেই উপস্থিত থাকত।
ফলে সেখানে নিখুঁত লোকেরাই থাকত। আর তারা এমনই নিখুঁত যে টেবিলের চারধারে একসঙ্গে সবাই বসত। তাদের নিখুঁত ট্যান করা রোদে পোড়া ত্বক। রোদে পুড়ে ট্যান হওয়া, কেননা তখন গ্রীষ্ম কাল চলছিল। ক্লাবের ঘরগুলিই শীতল, সুগন্ধে পরিপূর্ণ। তখন সেই সব ঘটনাগুলো ঘটত যা যা ঘটবার কথা ছিল।
টেবিলের চারপাশে তারা বসত। সেই টেবিলের ওপরে পাতা থাকত টেবলক্লথ আর তাঁর ওপরে রাখা থাকত চকচকে পালিশ করা ডিনার সেটের বাসনকোসন। তারা সুসভ্য সুভদ্র ভঙ্গীতে ধীর স্থিরভাবে খাবার খেত। প্রতিটি গ্রাস চিবিয়ে চিবিয়ে খেত। মৃদু মৃদু হাসত। তাদের দেখে কখনই মনে হত না তারা ক্ষুধার্ত। তারা হুড়োহুড়িও করত না আবার গালে খাবার রেখে ঝিমোতও না। রেগে ফেটেও পড়ত না। ইচ্ছ্বাসে ফেটেও পড়ত না। হিংসেও করত না। শীতল নির্বিকার ও থাকত না।
তারা এতটাই আলাদা ছিল বাকীদের থেকে যে ফ্লোরিডাবাসীদের অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল নিয়মিত সেই ক্লাবে গিয়ে নিখুঁত মানুষ দেখবার। ইয়ে “দেখবার” কথাটার মানে এমন ভাবেই বলা যে নিখুঁত ক্লাবে শুধু নিখুঁত লোকেরাই যেতে পেত। তাই বাকিদের বাইরে থেকেই দেখতে হত।
এটা নিশ্চিত যে সন্ধ্যা সাতটার কাছাকাছি সময়ে সান্তা রিতা খেলাধুলো ক্লাবের ম্যাচটা ঠিক যখন শেষ হত , দেখা যেত ওয়ারনে রোডের ওপর বন্ধুরা গ্যাং বেঁধে যাচ্ছে। আর আটটার কাছাকাছি সময়ে খুয়ান বি খুস্তো সামাজিক ক্লাবে নাচবার জন্য যাচ্ছে। প্রেমিক প্রেমিকারা জোড়ায় জোড়ায় ওয়ারনে রোডের ওপর দিয়ে আড়চোখে নিখুঁত ক্লাবের দিকে উঁকি ঝুঁকি দিতে দিতে হেঁটে যাচ্ছে। লোহার দরজার ওপর ফ্লোরিডাবাসীরা সবাই লেপটে থাকত। তাদের সংখ্যা অগুনতি... পাহাড়ের মত। কিন্তু তাদের কেউই নিখুঁত নয়। সেখানে সারা মুখে অজস্র বলিরেখা ভরা কুঁচকানো ত্বকের ক্লেমেন্তিনা ম্যাডাম, ব্রাউলিয়োর নাতি, যে একটু ট্যারা ছিল, মুদি দোকানীর বেঁটে বাঁটকুল ছেলেটা , আরা গায়ে মেচেতার দাগ ভরা আন্তোনিয়া... দাঁতে ব্রেস লাগানো কমবয়সী ছেলের দল, ছেলেরা যারা সর্বক্ষণ দাঁত দিয়ে নখ কাটে, এমন সব ছেলেরা যারা মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাক করে পেচ্ছাপ করে, নাকে শিকনি ঝুলতে থাকা ছেলের দল, সেইসব ছেলে যাদের দাঁতের ফাঁকে মেলানিজ স্যান্ডুইচের কনা লেগে থাকে , কারণ তারা সব সময়ই ক্ষুধার্ত, সেইসব মেয়েগুলো , হাওয়ার কারণে যাদের চুল সদাই এলোমেলো...এই সব রকম লোকজন।
একটা আরশোলা চলে এল সেখানে।
একটা কালো মসৃণ চকচকে আরশোলা। একটা নিশিন্ত ভঙ্গীর নিখুঁত আরশোলা। ধীরে ধীরে ওটা মাড় দেওয়া টেবিলক্লথের গা বেয়ে সে উঠতে লাগল। তারপ্র হাঁটা শুরু করল। নিখুঁত। অচঞ্চল। শান্ত। বাটি ডিশ গ্লাসের মাঝখান দিয়ে ওটা হাঁটা শুরু করল।
ওটাকে যে প্রথম দেখতে পেয়েছিল সে হল সাদা জ্যাকেট আর স্ট্রাইপ দেওয়া একজন নিখুঁত লোক। একজন নিখুঁত মানুষ যার চুলগুলো লালচে। আরশোলাটা কাছে এগিয়ে আসছিল শান্ত পায়ে। লোকটার ডিশের দিকে। সেটাকে শ্রী লাল রঙা নিখুঁত বাবু পা দিয়ে চটাস করে একটা চাঁটি মারলেন। মানে বড্ড বেশিই তাড়াহুড়ো করে মারলেন। কেননা চেয়ার উল্টে পড়ল, সাজানো ডিশটা কনুইয়ের ধাক্কায় উল্টালো আর সেটা মেঝের ওপর ঠাঁই করে আছাড় খেল। বাঁক দেওয়া সুন্দর পানীয়ের গ্লাসে রেড ওয়াইন ঢালা ছিল সেটা হুড়হুড় করে পড়ল শ্রী সাদা পোশাক পরা নিখুঁত বাবুর গায়ে।
এই ফাঁকে স্রশোলাটা, ব্যাটা সম্ভবত কালো রঙের তবে নিশ্চিতভাবেই সাহসী, টেবিলটার চারপাশে পাঁই পাঁই করে হাঁটা চালিয়েই যেতে লাগল। তবে কোন কোন ডিশ ডিঙিয়ে যাবার সময় চমকে পথ ভুল করে ফেলছিল অবশ্য।
পরিবর্তে নিখুঁত লোকদের দেখে মনে হচ্ছিল তারা বেজায় চমকে একেবারে ব্যোমকে গেছে। সেখানে অন্য অনেকেই ছিল তাদের কেউ চেয়ারের মাথায় চড়ে বসেছিল আর প্রাণপণ চিৎকার করছিল- কেউ আছো? সাহায্য করো...প্লিজ...দয়া করো ...হেল্প। আবার কেউ ঘরের কোণে বসে বসে অখন্ড মনোযোগে দ্রুত দাঁত দিয়ে নখ কেটে খেয়ে যাচ্ছিল। কেউ কেউ তো আবার কাঁদতে কাঁদতে ফোঁত ফোঁত করে নাকের শিকনি টানছিল। কেউ মাটিতে পড়ে ছিল চিৎপাত আবার কয়েকজন বিশুদ্ধ ভয়ের চোটে অট্টহাসি হাসতে শুরু করছিল।
টেবিলক্লথটাকেও ঠিক আগের মত দেখাচ্ছিল না। ভাঙা কাপ ডিশ চামচ আর উল্টোনো গ্লাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছত্রখান হয়ে পড়েছিল। আর ঠিক তখন ধীর স্থির প্রশান্ত সমাহিত ভঙ্গীতে কালো নোংরা ক্ষমতাশালী আরশোলাটা তাঁর রাস্তা বরাবর হেঁটে যাচ্ছিল।
যে সব ফ্লোরিডাবাসী দরজার শকে হেলান দিয়ে দেখছিল, ব্যাপারটা তারা প্রথমে বুঝতে পারে নি। আরো ভালভাবে দেখবার জন্য তারা প্রথমে ধাক্কাধাক্কি করছিল। প্রথম্ম সারিতে যারা ছিল তারা বিষয়গুলো পিছনের সারির লোকদের জানিয়ে যাচ্ছিল। অ্যানিবাল, যে ছেলেটি প্রীতি ফুটবল ন্যাচগুলোর ধারাবিবরণী দেয় সে লোহার শিক বেয়ে দরজার মাথায় চড়ে বসেছিল, আর সেখান থেকেই ঘটনাগুলোর ধারা বিবরণ দিয়ে যাচ্ছিল।
- “শ্রী চৌখুপ্পি কাটা নকশাদার জামা নিখুঁত বাবু চিৎ হয়ে পড়ে গেলেন। শ্রীমতি রুয়েদা নিজের পায়ে উঠে দাঁড়াতে চাইছেন, টলতে টলতে এগোচ্ছেন...এবং ধপ করে পড়ে গেলেন...শ্রীমতি মুক্তোর নেকলেস পরা নিখুঁত বিবি তার পরচুলা হারিয়ে ফেলেছেন...এখন মেঝের ওপর তিনি গড়াগড়ি খাচ্ছেন...তার পরচুলাটাকে খুঁজতে গিয়ে মেঝে হাতড়াচ্ছেন আর হামাগুড়ি দিয়ে এগোচ্ছেন। শ্রী নীল স্যুট পরা নিখুঁত বাবু ভদ্রমহিলার গায়ে ধাক্কা খেলেন...।নিজের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারছেন না...এই... এই...জাঃঃ পড়েই গেলেন...আর সঙ্গে সঙ্গে তার বাঁধানো দাঁতের পাটিও ছিটকে পড়ে গেল। গন্ডগোলের মাঝে টেবিলের কোণায় সেটা ধাক্কা খেয়েছিল একটু আগেই...”
কোঁচকানো জামা, এলোমেলো চুল, নোংরায় সারা গা মাখামাখি , ভ্যা করে কাঁদতে কাঁদতে নিখুঁত বাবু বিবিরা বাড়িটা থেকে বেরিয়ে ওয়ারনে রোডে গিয়ে দাঁড়াল। ফ্লোরিডাবাসীরা তাদের বের হতে দেখেছিল। তাদের প্রায় সবাইকে তারা চিনেই উঠতে পারছিল না। কেউ কেউ এক্কেবারে ফ্যাকাশে। অন্যদের মনে হচ্ছিল বুড়ো। কাউকে কাউকে তো ভাল করে তাকিয়ে দেখলে বোঝা যাচ্ছিল যে তারা সোজা ভাষায় মোটকু। আর প্রত্যেকেই ভয়ের চোটে একেবারে মরেই যাচ্ছিল।
প্রচন্ড ঠাট্টায় ফ্লোরিডাবাসীরা সবাই হেসে উঠছিল।
তাদের মধ্যেই যারা একটু বেশি সংযত তারা মৃদু মৃদু হাসছিল। আর মানুষ গুলোকে স্বাগত জানাচ্ছিল। গল্পের শেষে দেখা যাচ্ছে যে লোহার দরজার এ পাশটায় থেকে যাওয়াটা ততটা খারাপ নয়।
একথা বলাই বাহুল্য যে ঠিক সেই দিনই নিখুঁত ক্লাবের সমাধি ঘটে।
সে অঞ্চলের লোকেরা বলাবলি করে যে শনিবারের বিকেলগুলোয় কোন কোন সদস্য আসে এখন যারা ক্লান্ত আর ক্ষুধার্ত। আর তারা সবাই সান্তা রিতা খেলাধুলো ক্লাবের লোক। আর অন্যরাও যায়, যাদের চুল এলোমেলো হয়ে আছে। তারা খুয়ান বি খুস্তো সামাজিক ক্লাবের লোক।
তারা এও বলে যে আজকাল ওয়ারনে রোডে জেরেনিয়াম ফুল ফুটে ছেয়ে থাকে।
আর মনে হয় জায়গাটা এখন আগের চেয়ে ঢের বেশী ভালো হয়েছে।
লেখক পরিচিতিঃ
গ্রাসিয়েলা মোন্তেসঃ
ভারতের স্বাধীনতার সালে মানে ১৯৪৭ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনোস আইরেস শহরে তাঁর জন্ম। অনুবাদক- সাহিত্যিক গ্রাসিয়েলা মোন্তেস আর্জেন্টিনার ফ্লোরিডায় বড় হল। শিশু সাহিত্যিক মন্তেস একটি সাংস্কৃতিক পত্রিকা “লা মাঞ্চা” বা “আবর্জনা” পত্রিকার সপাদনা করছেন দীর্ঘ দিন ধরে। ১৯৮০ সালে লাসারিইও পুরষ্কার পান। হান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন পুরষ্কারের জন্য তিনবার মনোনীত হন। শিশু সাহিত্যে তাঁর অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে পায়োনীয়র সম্মান পান। এতাবৎ ৭০ টির বেশি বই লিখেছেন ছোটদের জন্য।