অথর্ব

অনিন্দ্য বড়ুয়া



বনের রাজা তথা পশুর রাজা সিংহ খেয়াল করলো- ইদানিং তার শিকার ফসকে যাচ্ছে প্রায়ই, উপোস থাকতে হচ্ছে মাঝে মাঝে। সেই কবে মায়ের সাথে শিকার ধরা শেখার সময় এমন হতো শৈশবে, বড় হওয়ার পর আর কখনো এরকম হয়নি। ভাবতে গিয়ে সিংহ বুঝতে পারল বয়স হয়েছে তার, ফুরিয়ে আসছে শক্তি। তবে এটা অন্যান্য পশুরা যতই দেরিতে বুঝতে পারবে ততই তার মঙ্গল। ধূর্ত সিংহ এরই মধ্যে বের করে ফেলেছে সহজে শিকার ধরার ফন্দি। তার চেলা শেয়ালকে পাঠিয়ে সব পশুদের জানিয়ে দিয়েছে প্রতি সন্ধ্যায় সবাইকে হাজিরা দিতে হবে রাজার গুহার সামনে। হাজিরা দিয়ে অংশ গ্রহণ করবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। প্রতিযোগিতায় যে হারবে শুধু সেই হবে রাজার আহার। এতে করে সাহসী আর শক্তিমান পশুরাই টিকে থাকবে বনে। রাজার প্রস্তাবে অন্যান্য পশুরাও সহজেই রাজি হয়ে গেল। তারা ভাবলো- এইতো ভালো, প্রতিদিন কাউকে না কাউকে যেতেই হয় রাজার ভোগে, অথচ প্রাণভয়ে কান খাড়া রাখতে হয় সবাইকেই, এতে করে পেট ভরে খাওয়া আর চোখ ভরে ঘুম দেয়া কোনটাই হয় না কারোই। সেদিন থেকে সন্ধ্যার পর পশুরা রাজার গুহার সামনে হাজির হলে পশুরাজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে লাগলো তার রুচি অনুযায়ী, যেদিন তার ষাঁড়ের মাংস খেতে ইচ্ছে করে সেদিন ষাঁড়কে লড়াই করতে হয় মোষের সাথে। এতে করে সিংহ সুবিধা পায় দু’দিক থেকেই, প্রথমত পরাজিত পশুকে খেয়ে তার কথা রক্ষা করে, দ্বিতীয়ত আধমরা ষাঁড়টি প্রাণভয়ে পালাতে চেষ্টা করলেও ছুটতে পারে না খুব বেশি দূর। পরদিন ভালুকের সাথে লড়াই করতে হয় আগের দিনের বিজয়ী মোষকে, সহজেই হেরে যায় আগের দিনে ষাঁড়ের গুতোয় চোট পাওয়া মোষ। হরিণ খেতে ইচ্ছে করলে হরিণকে বলা হয় খরগোশ তিন লাফে যতটুকু যায় একলাফে ততটুকু যেতে। প্রাণপণে চেষ্টা করেও তা করতে না পেরে হরিণ কাঁপতে কাঁপতে জড়বৎ হয়ে পড়ে থাকে সিংহের সামনে। এভাবে চলতে চলতে একদিন পড়লো খরগোশের পালা। তাকে বলা হলো বানর দু’পায়ে হেঁটে যতটুকু যেতে পারে ততটুকু হেঁটে যেতে। যেহেতু খরগোশ দু’কদমের বেশি যেতে পারলো না সেহেতু তাকে যেতেই হলো পশুরাজের পেটে। তুলতুলে খরগোশের মাংস খেয়ে সিংহ গেল মজা করে ঘুমোতে। রাত একটু গভীর হতেই সিংহ বুঝতে পারলো তার ভুলটা; তুলতুলে মাংস এরই মধ্যে হজম হয়ে গেছে! ‘ইস্, কমপক্ষে দুটো খরগোশকে প্রতিযোগিতায় নামানো উচিত ছিলো’- ক্ষুধায় কাতরাতে কাতরাতে ভাবলো সিংহ। ইচ্ছে করলে রাত-দুপুরেও কোন কোন পশুর পালে হামলা করা যায় কিন্তু নীতি ভঙ্গ করলে কাল সন্ধ্যা থেকে কেউ রাজ দরবারে হাজিরা দেবে না। তখন না খেয়েই মরতে হবে। ভাবতে ভাবতে সিংহ চলল লোকালয়ের দিকে। যদি গৃহপালিত একটা গরু বা ছাগল পাওয়া
যায় তবে মন্দ হয় না। মানুষকে তার আবার ভীষণ ভয়, এই জীবনে মানুষের হাতে পড়ে মরতে মরতে বেঁচে গেছে অনেকবার। তার বাবাকে গুলি করে মেরে বাঁশে ঝুলিয়ে কীভাবে নিয়ে গিয়েছিল দু’পেয়ে মানুষেরা তা ভাবতেই গায়ের সব রোম খাড়া হয়ে গেল সিংহটার। একটু থামলো, পেট মুচড়ে উঠতেই ভয়ের স্মৃতিকে দূরে সরিয়ে রেখে বিড়ালপায়ে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেল এক কৃষকের ছাগলের খোয়াড়ের পাশে। খোয়ারের ঘুলঘুলিতে চোখ রাখতেই আগুনের গোলা মনে করে ছাগলের দল ব্যা-এ-এ, ব্যা-এ-এ করে পাড়া মাথায় তুলল, ছাগলের চিৎকার শুনে ঘেউ ঘেউ চিৎকারে গ্রাম মাথায় তুলল কুকুরের দল। কুকুরের চিৎকার শুনে লাঠি বল্লম সড়কি মাথার উপর তুলে হই হই করে বের হয়ে এলো মানুষের দল। শিকারের আশা ছেড়ে ছুটতে শুরু করলো সিংহ। ছুটে আর যাবে কোথায়? চারিদিক থেকে ছুটে আসছে মানুষ আর কুকুরের কোলাহল। অবস্থা বেগতিক দেখে সিংহ ঢুকে পড়লো অর্ধনির্মিত জানালাবিহীন এক স্কুল কক্ষে, কক্ষের একপাশে জড়ো করে রাখা হয়েছে শন-কাঠ-পুরানো বেড়ার দঙ্গল, দেয়াল ঘেষে সেই বেড়ার আড়ালে লুকিয়ে রইলো। আশায় আশায় থাকলো বদের হাড্ডি কুকুরগুলি ফিরে গেলে সেও ফিরে যাবে বনে। কিন্তু সকাল না হওয়া পযর্ন্ত* স্কুল ঘিরে কুকুরগুলি চিৎকার করেই গেল, যদিও এক সময় মানুষের সাড়া-শব্দ আর পাওয়া গেল না তবুও সিংহ ভাবলো মানুষ নামের ভয়ানক ধূর্ত প্রাণীগুলি হয়তো চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে বল্লম বন্দুক বাগিয়ে। রাতেতো পালানো গেলই না, দিনের বেলাতেও গ্রামের পথে বের হতে সাহস করল না সিংহটা, বেড়ার আড়ালে বসে অপেক্ষা করতে থাকল পরবর্তী সন্ধ্যার। এক সময় সিংহ দেখল কিছু ছেলে মেয়ে কোলাহল করতে করতে এসে বসেছে কক্ষটায়, তার খুব ইচ্ছে হল কয়েকটার ঘাড় মটকাতে, প্রাণের ভয়ে ইচ্ছেটাকে আবার দমনও করল সাথে সাথে। এক সময় শিক্ষক এসে শুরু করলেন কবিতা পড়াতে। ক্লাস চলতে চলতে সিংহটাও একটা কবিতা বানিয়ে ফেলল- “আকাশে গরজায় মেঘ; নীচে পশুরাজ সিংহ, পেটে তার কী যে ক্ষুধা! খেতে চায় কিছু মিংহ।”
তারপর শুরু হল অংক ক্লাস। এক-দুই-তিন ছাড়া কিছুই বুঝল না সিংহ। ‘একটি তৈলাক্ত বাঁশ বাহিয়া একটি বানর মিনিটে তিন ফুট উঠে দুই ফুট নামে, কতক্ষণে বানরটি পনর ফুট উঁচু বাঁশের মাথায় ঝুলানো কলার নিকটে পৌঁছাইবে?’ এমন প্রশ্ন শুনে সিংহের মাথাটাই হয়ে গেল গরম! বনে এত গাছ থাকতে বেকুব বান্দর কেন তৈলাক্ত বাঁশে উঠতে যাবে আর কলাগাছে কলা না ধরে বাঁশের আগায় কেন কলা ধরতে যাবে ভেবে পায় না সে।
এরপর ইংরেজি ক্লাস। শিক্ষক শেখাচ্ছেন কোন পশুর নাম ইংরেজিতে কী হয়। ছাত্ররা বলল এসব তাদের নিচের ক্লাসেই শেখা হয়ে গেছে। শিক্ষক বলল শেখা হলেও আবার শিখতে অসুবিধা নেই।
ক্লাসটা সিংহের ভালই লাগল, সে ভাবল- ‘যাক বাবা; বুড়ো বয়সে হলেও তার আর তার প্রজাদের ইংরেজি নামগুলি শেখা হল।’ নিজের ইংরেজি নামটা এতোই পছন্দ হল যে, লায়ন লায়ন বলে ল্যাজ তুলে কিছুক্ষণ নাচতেও ইচ্ছে হল তার। ভাবতে গিয়ে বেচারার মন আবার খারাপও হল, বন নয় বলে; নিজের বাড়ি নয় বলে একই দিনে কতগুলি ইচ্ছে তাকে দমন করতে হচ্ছে। এমনিতে মন খারাপ তার উপর কুকুরের ইংরেজি নাম ‘ডগ’ শুনতেই মেজাজ গেল খিঁচড়ে। এই ব্যাটা ডগদের জন্যই তার আজ এই অবস্থা। ‘নামের আবার বাহার কী! ডগ, কচুর-মাথার ডগ, সারাদিন ভগ্ ভগ্ করে কুত্তারবাচ্চা কুত্তা আবার নাম পেয়েছে ডগ! বনে যাই আজ, তোদের জাতভাই বনকুকুর খেয়েই পেট ভরাব’- মনে মনে গজরাতে গজরাতে ভাবল সিংহ।
সন্ধ্যা নামার একটু পরে একছুটে জঙ্গলে পালিয়ে গেল সিংহ। বিগত রাতের এতকিছুত আর কেউ জানে না, জানে শুধু একজন- শেয়াল। রাজার নীতি পরিবর্তনের পর পরই সে গোপনে রাজার উপর নজর রেখে চলছিল। গতরাতে সিংহকে লোকালয়ের দিকে যেতে দেখেই সে বুঝে নিয়েছে ঘাপলাটা কোথায়। সান্ধ্য সভায় সবাই হাজির হবার পর পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা নিয়েও সিংহ কবিতার উপর একটা ছোটখাট ভাষণ দিয়ে শুরু করল তার স্বরচিত কবিতা পাঠ- “আকাশে গরজায় মেঘ, নীচে পশুরাজ সিংহ, পেটে তার কী যে ক্ষুধা! খেতে চায় কিছু মিংহ।”
কবিতা শুনে শেয়াল ছাড়া সবাই থাবাতালি আর খুড়তালিতে বনভূমি মুখর করে তুলল। তালি যেন আর শেষ হতেই চায় না। পশুরাজ থাবা তুলে সবাইকে থামিয়ে শেয়ালকে উদ্দেশ্য করে বলল- ‘কী ব্যাপার, তুমি তালি দিলে না কেন?’ শেয়াল বলল- ‘পুরাটা বুঝে তারপর দেব বলে।’ ‘এত সুন্দর বাংলা তাও বুঝনি! এর পরত ইংরেজিও হবে। ঠিক আছে বল- কী বুঝনি?’ সিংহ জানতে চাইল গম্ভীর কণ্ঠে। শেয়াল বলল- ‘ঐ যে, ‘মিংহ’ শব্দটা বুঝিনি।’ পণ্ডিতিচালে সিংহ বলল- ‘ওহ্, তাই বল। বুঝবে কী করে? তোমরাত আর ছন্দ-অন্ত্যমিল-কাব্যভ ষা এসব শিখইনি। ‘মিংহ’ হল মাংসের কোমল রূপ আর এটা হল কাব্যভাষা। ঠিক আছে কাব্যভাষা নিয়ে অন্য একদিন আলোচনা হবে। দেখি এবার সবাই যার যার ইংরেজি নাম বল।’ সিংহের আদেশের সাথে সাথেই হরিণ বলল- ‘ডিয়ার।’ ভালুক বলল- ‘বিয়ার।’ থাবাওয়ালা খরগোশ বলল- ‘হিয়ার।’ খুরওয়ালা খরগোশ বলল- ‘র্যা বিট।’ গন্ধগোকুল বলল- ‘সিভিট।’ বানর বলল- ‘মাংকি।’ গাধা বলল- ‘ডাংকি।’ ভারী গলায় ষাঁড় বলল- ‘অ-অ-অ-ক্স।’ শেয়াল বলল- ‘ফক্স।’ মোষ বলল- ‘বা ফে লো।’ কুকুর বলল- ‘ভগ্।’ সিংহ অবাক হয়ে ভাবল- ‘আমি রাজা হয়েও এত দিনে নিজের ইংরেজি নামটা জানলাম না, অথচ গরু-গাধা সবাই নিজের ইংরেজি নাম শিখল কী করে!’ আসল ঘটনা হল শেয়াল প্রায়ই লোকালয়ে যায় শিকার ধরতে, শিকারের জন্য সময়ের অপেক্ষায় থাকার সময় মানুষের ছেলে মেয়েদের পড়তে বা পড়াতে শুনে প্রায়ই, তাদের মুখে শুনে শুনেই শিখে নিয়েছে সব পশুদের ইংরেজি নাম। বনের পশুদের পণ্ডিতি করে সে ইংরেজি নামে ডাকত বলেই সব পশু জানত তাদের ইংরেজি নাম। ব্যাপারটা জানত না শুধু সিংহ। হিতে বিপরীত হতে পারে ভেবে শেয়াল কোন দিন তাকে ইংরেজি নামে ডাকেনি। সবাই কৃতজ্ঞতা ভরে শেয়ালের দিকে তাকাচ্ছে দেখে সিংহ বুঝতে পারল এসব শেয়াল পণ্ডিতের কাজ। ভাবল- ‘আজ যখন কুকুর খাবার নিয়ত করেছি তখন কুকুরই খাব, শেয়াল ব্যাটাকে শিক্ষা দেব কাল।’ এটা ভেবেই কুকুরকে ধমক দিয়ে বলল- ‘এ্যাই ব্যাটা, শুদ্ধ করে নাম বল।’ কুকুর মরিয়া হয়ে বলল- ‘ভগ্, না মানে- ভক্।’ কুকুরের কসরত দেখে শেয়াল বলল- ‘ওতো জানে ওর ইংরেজি নাম ডগ কিন্তু ওর মাদারটাং হচ্ছে-ভগ্ বা ভক্। ডগ কিছুতেই ওর মুখে আসবে না।’ সিংহ রাগে ফেটে পড়ে বলল- ‘বেশি মাস্টার হয়েছ না? আজ কুকুর আর তুমি দুজনেই আমার খাবার হবে। এটা আমার নির্দেশ।’ শেয়াল মোটেই ভয় না পেয়ে বলল ‘মহারাজ, আপনার আদেশ শিরোধার্য তবে মরার আগে আপনার মত মহাজ্ঞানী প্রভূর কাছে একটা শব্দের ইংরেজি জানতে ইচ্ছে করছে।’ সিংহ চোয়াল চেপে বলল- ‘খিদেয় আমার জান যায়! কী জানতে চাস্ তাড়াতাড়ি বল হারামজাদা।’ ‘মহারাজ জানতে চাই- “অথর্ব ” শব্দটার ইংরেজি কী ? মুচকি হেসে বলল শেয়াল। সিংহ আরো রেগে বলল- ‘অথর্ব! অথর্ব আবার কোন প্রাণী?’ শেয়াল বলল- ‘মহারাজ এটা কোনো প্রাণী নয়, আবার সব প্রাণীই অথর্ব হতে পারে। কোনো প্রাণী যখন দুর্বল হয়ে শিকার ধরতে না পেরে বন ছেড়ে লোকালয়ে দৃষ্টি দেয় তখন সে হয় অথর্ব।’ এতটুকু শুনেই সিংহে মাথায় রক্ত গেল চড়ে! রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলল- ‘তবেত তুইই হলি মহা অথর্ব। আজীবন লোকালয়েই শিকার করে গেলি।’ কথার সুযোগ পেয়ে অন্য পশুদের প্রতি কপট ভালোবাসা প্রকাশের জন্য শেয়াল বলল- ‘মহারাজ, সে আপনার ভুল ধারণা। বনের পশুদের আমি নিজের মত ভালোবাসি বলে কারো ক্ষতি করি না কিন্তু যারা শক্তি হারিয়ে…..’ সব জারিজুরি ফাঁস হয়ে যাচ্ছে দেখে কালবিলম্ব না করে তবেরে…বলে ঝাঁপিয়ে পড়ল শেয়ালের উপর, শেয়াল প্রস্তুত হয়েই বসেছিল একটা বড় পাথরের উপর, সিংহ ঝাঁপ দেয়া মাত্র সে লাফ দিল পেছনে, পাথরের আঘাতে সিংহের চোয়াল হয়ে গেল দু’ভাগ। রাগে-ব্যথায়-অপমানে সিংহ গর্জন করতে করতে বনভূমি কাঁপিয়ে তুলল। তবে গর্জনই সার, চোয়াল ছাড়া না যা শিকার ধরা, না যায় মাংস খাওয়া।
এভাবেই সিংহ বেঁচে রইল আরো কিছুদিন। মাঝে মাঝে শেয়াল এসে দেখে যায় সিংহ মরল কি না। মরেনি দেখে ‘অথর্ব ’ বলে গালি দিয়ে চলে যায়। সিংহ অনেক কষ্টে অসহায় চোখ মেলে দেখে শেয়ালের ভারিক্কি চালের হাঁটা। শেয়াল হেলেদুলে চলতে চলতে ভাবে- ‘ব্যাটা মরলে বুদ্ধিবলে বনের রাজা হবার চেষ্টা করতে হয় একবার। সিংহের প্রথমদিককার বাচ্চাগুলি কৌশলে খেয়ে তার সামনে বুক চাপড়ে কেঁদেছি বলে কিছুই বুঝতে পারেনি, শেষের দিকের বাচ্চাগুলি এখনো ছোট, আবার এ’বনে বাঘও নেই। সব পশুরা এরই মধ্যে জেনেছে আমি তাদের নিজের মত ভালোবাসি। ফাঁকতালে কিছুদিন রাজসুখ ভোগ করা গেলে অসুবিধা কোথায়!’