ইলুবিলু

অপরাহ্ণ সুসমিতো



অনেক রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে প্রথমে মনে হয় কোথায় আছি আমি? একটু সময় লাগে ভাবতে যে নিজ বিছানায় আছি । এক চোখ খুলে অল্প আলোতে দেয়ালঘড়িতে দেখি ঘড়ির কাটা দুটো উধাও। হোয়াট ?

নিমিষে হাল্কা একটা ভয় মেরুদণ্ড স্পর্শ করল। বিছানা থেকে নামার শক্তি পাচ্ছি না। নিজেকে নিজে ডাকার চেষ্টা করলাম :পোটলাআআআ ।

শুধু আ আ আ বিড়বিড় করলাম মনে হলো। এবার উঠে তাকিয়ে দেখলাম রাত ২:২৯। অন্ধকারে হেঁটে রান্না ঘরে এলাম। কেন জানি না মাঝ রাতে ঘুম ভাঙ্গলে প্রথমে রান্না ঘরে ঢুকি। চোখ পুরো খুলতে মন চাইছে না। মনে হচ্ছিল আমার খাবার টেবিলে শবে বরাতের হালুয়া আর চালের রুটি আছে, খাবো। কিন্তু এ অসম্ভব। কোন সম্ভাবনা নেই। শবে বরাত আসতে এখনো অনেক দেরী।

আচমকা চোখ পড়ল রান্না ঘরের জানালায়, দেখি আগুনের মত দুটো চোখ জ্বলজ্বল করছে জানালায়। তড়াক করে লাফিয়ে উঠলাম। বুকটা ধ্বক করে উঠল;

এটা কি ...

অন্ধকারে আলো জ্বালাব যে সুইচ খুঁজে আর পাচ্ছিলাম না তখন। যা হোক পেলাম মুহূর্তেই। দেখি আমাদের রান্না ঘরের জানালার ওপাশে নিরীহ দর্শন কিউট একটা বিল্লী। প্রাণে পানি এলো।

জানালাটা একটু খোলা। হাত বাড়িয়ে আরেকটু খুলে দিলাম। বিড়ালটা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বিড়ালের তাকানো কিন্তু খুব শার্প । একটু ভয়ের বর্শা আমার পাশ দিয়ে ছুটে গেল।
সে একটু হেঁটে মেঝেতে নিঃশব্দে লাফ দিয়ে নামল। আমার পায়ের কাছে ঘুর ঘুর করছে – ছোট বাচ্চা একটা বিল্লী। বিল্লীটার সাথে আমার কথোপকথন শুরু হলো ইংরেজীতে;

-কি কই থাকো ?
- মিউ
-এত রাতে পরের বাড়িতে কি চাও ?
- মিউ
- তুমি কি ছেলে বিল্লী না মেয়ে বিল্লী ?
- মিউ
-পথ ভুল করে বাসা হারিয়ে ফেলেছ ?
- (নিশ্চুপ )
- খিদে পেয়েছে ?
- ( নিশ্চুপ )

ভাবলাম মৌনতা সম্মতির লক্ষণ। ফ্রিজ খুলে এক পিস রুটি বের করে হাঁটু ভেঙ্গে বসে ওর মুখের সামনে ধরলাম। খাওয়ার কোনো মুড নেই। মুখ ফিরিয়ে নিল। ছোটবেলায় পড়া বিদ্যা মাথায় এলো, ভাবলাম দুধ খেতে দেই। একটা ছোট বাটিতে অল্প দুধ ঢেলে দিলাম। বিড়ালটা সরে গেলো, পছন্দই করল না। কানাডিয়ান বিল্লী কিনা। আত্নমর্যাদা টনটনে । অন্যের বাড়ির জিনিষ খাবে না।

রাগ হল এবার আমার । ( রেগে যাওয়াতে সম্বোধন “তুমি” থেকে “তুই” তে নেমে এলো )
ব্যাটা খাবি না তো এলি কেন এতো রাতে ? ভদ্রলোক এতো রাতে ঘর ছেড়ে বের হয় কখনো ?
-বল কি চাস ?
-মিউ
-প্রেম করতে বেড়িয়েছিস ?
-মিউ
-চলে যাবি ?
-(নিশ্চুপ ও কান খাড়া )

আমি বিল্লীটাকে রান্না ঘরে রেখে শোবার রুমে চলে এলাম। ঘুম আর নেই চোখে। কম্পিউটার অন করলাম। ফেসবুকে লগ-ইন করতেই দেখি ইনবক্সে একটা মেসেজ। অবাক হলাম সাধারণত আমাকে তেমন কেউ মেসেজ দেয় না। মেসেজটা হচ্ছে;

-আমি এখন আপনার বাসায় । হাহাহাহা । আমি আপনার লেখা খুব পছন্দ করি। কী করে এমন লেখেন ? শুনেছি যারা করলা ভাজি খুব খায় তারা নাকি খুব লিখতে পারে । হাহাহাহা । আমি করলা,রুটি বা দুধ পছন্দ করি না। শনিবার আমাদের বাড়িতে অনেক অতিথি আসবে,আসবেন আপনি ? আসলে একটা সারপ্রাইজ আছে। হাহাহাহা। অনেক রান্না করেছি । আসুন না প্লিজ প্লিজ প্লিজ ...

ইতি: ইলুবিলু নামের একটা বিল্লী

আরে ইলুবিলু নামের কোনো বন্ধু তো আমার সাথে বন্ধু তালিকায় নেই ! আশ্চর্য ! কে এই ইলুবিলু ?

দৌড় দিয়ে রান্না ঘরে গেলাম। আরে বিল্লীটা নেই। রান্না ঘরের জানালা বন্ধ। ঘড়িতে এখন
রাত ৩:১১ ...