পিড়িং এর একদিন প্রতিদিন

তমাল রায়



শুরুর কথা
মাম্মি বেরিয়ে যায় সকাল আটটা। পিড়িং তখন ঘুমের দেশে। পাপা অফিস যাবার পথে ওকে স্কুলে ড্রপ করে দিয়ে যায়। পিড়িং এর হাত পা মাথা সব বাকিদের মতই। কিন্তু বাকিরা দুষ্টু না। কেবল ও দুষ্টু খুবই। তাই ওর কোনো বন্ধু নেই। কেউ মেশে না ওর সাথে। ও একাই। ম্যামেরা সব্বাই ছোট্টবেলায় শান্ত ছিলো খুব! তাই ওকে ম্যাম বসায় নিজের একদম সামনে। আর পিড়িং অত বড় আলফাবেটগুলো কে বোর্ডে দেখে কিছু বুঝেই ওঠার আগেই তারা পিংপং বলের মত নাচে,আর ভ্যানিশ। টিফিনে আয়ুষ বলে তোর বাবা এলিফ্যান্ট। ও বলে তোর বাবা মানকি। প্রেম সিং বলে তোর বাবা ইডিয়ট,ও বলে তোর বাবা পিগ...ব্যস। পানিশমেন্ট দেয় ম্যামেরা। এলিফ্যান্ট বললে খারাপ না,পিগ বললেই খারাপ,ও কিছু বোঝেনা। স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফিরেই ও এক ছুটে খরগোশদের কাছে...ঢোলু,ভোলু আর রাজ। রাজটা ছোট তাকেই ওর পছন্দ। মায়া আন্টির ডাক পড়েছে – পিড়িং চান কর...পিড়িং,ও...পিড়িং... এখন বাড়িতে কাক চিল বসবে না মায়া আন্টির হাঁকডাকে। আর মায়া আন্টি যত চেঁচাবে পিড়িং চুপ করে থাকবে...

চান টান...
পিড়িং চান কর। চান কর বলার পর এইমাত্র সে স্নানে ঢুকেছে। এখন ও মনের সুখে চান করবে...
- পিড়িং বেরো এবার
পিড়িং এর স্নান শেষ হবে কি,এখন ও জামা প্যান্ট কাচছে। নো রিপ্লাই।
- কি’রে বেরো
- কিরে বেরো
- আর কতক্ষণ?
- আর কতক্ষণ?
- দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা
- দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা
- আমায় মুখ ভেংচাস? যা বলি তাই কপি করিস!
আন্টি রাগ করে আসতে গিয়ে পা পিছলে আলুরদম। বাথরুম থেকে জল পড়েছে বাইরে, এবার গামছা জড়িয়ে ও বেরিয়ে আসে। মুখে জলের ঝাপটা দেয়। আর মায়া আন্টি খপাৎ করে ওকে জাপটে ধরে। এবার গা মোছা,খাওয়া। খাওয়া মানে ছোটা ভীম দেখতে দেখতে,ছুটকি,ঢোলু,ভোলু, জগগু , কালুয়াদের সাথে ও তখন ঢোলকপুর রাজ্যে। অনেক মজা...
- আরে মুখে গাল তোল....
খাওয়া শেষ হলেই কোনো রকমে একছুটে খরগোশদের রাজত্বে...


খরগোশ খরগোশ
পিড়িং এর দুটো হাত। রাজের চারটে। মাম্মি অবশ্য বলেছে রাজের দুটো হাত,আর দুটো পা। তো বাবা হাতগুলো স্যানিটাইজার দিয়ে ধুবি না? ব্রাশ করবি না? খাবি যখন তখন যেমন তেমন,এ’কিরে। এই জন্য রাজকে ও ইলম্যানারড বলে। নেলস গুলো দেখ,ইয়া বড় বড়। ও নেল কাটার দিয়ে কাটতে গেল,কিছুতেই কাটবে না। এবার? আরে খরগোশ বলে কি মানুষ না? আর কি বাঁদর দেখ,খিমছে দিয়েছে। এখন কি ব্যথা,রক্ত বেরোচ্ছিলো। মাম্মি আসুক,আজ,তারপর তোকে দেবে...বলা যায়না মাম্মি হয়ত পিড়িংকেই মারবে । বলবে- হোল্ড ইওর ইয়ারস পিড়িং। এন্ড স্ট্যান্ড হোল ইভনিং। নো পিড়িং ডোন্ট ক্রাই। পিড়িং কিন্তু নট কাঁদবে না। কেবল ঠোঁট উল্টে,চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবে। দুষ্টুদের কাঁদতে নেই! তারপর নো ফুডিং,নো স্টাডি...আর রাজ তোরও হবে,দেখিস...বলে টলে চকাস চকাস করে চারটে চুমু খেলো রাজকে। মাম্মি দেখলেই বকতো। এবার কল্মী শাক নিয়ে এসে একটা একটা করে খাওয়াচ্ছে,আর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে – সোনাটা মনাটা খেয়ে নাও,রাগ করে না পিলিজ।

টিয়া,কাক,চড়াই
সন্ধ্যে নামার একটু আগেই ও রুফটপে। এখন পাখীরা বাসায় ফেরে। আর ও প্যারট কাউন্ট করে মায়া আন্টির সাথে। টিয়াগুলো এ সময়ে রোজ বাসায় ফেরে।
-বাসা মানে?
-বাড়ী।
-ও তো বাসা বলছ কেন?
-বাঙাল যে আমরা।
-বাঙাল কারা?
-পরে বলব।
-সব কেন পরে বলবে বল। এখন কিছুতো বল।
-কটা টিয়া গেল? বলতো পিড়িং?
-থার্টি
-কি করে জানলে?
-কাউন্ট করলাম।
-মিথ্যে বল কেন,এত,তিনটে গেল,বলে তিরিশটা। বৌদি আসুক আজ।
- আসুক। আমিও বলব আন্টি মিথ্যে বলছে।
-আন্টি স্টোরি বল একটা
-না বলবনা।
- আচ্ছা বলতো কটা বক?
- বক মানে?
- সাদা পাখী গুলো
- হান্ড্রেডস
- আবার মিথ্যে বলছিস...
- ইউ আর লাইং। আয়াম নট।
- আচ্ছা!
- আর ছোট পাখী গুলো,চড়াই?
- স্প্যারোজ
- আরে অত আমি জানি না’কি
- কেন জানোনা? পড়নি তুমি?
- না’তো। পড়লে তো তোর মার মত চাকরি করতাম।
- এবার একটা স্টোরি বল।
- না,বলবো না।

-কেন বলবে না?
-আজ তুই বলবি।
-না,প্রীত এর আন্টি বলে,তনয়ারও,তুমি কেন বলবে না?
- প্রীত আর তনয়া খুব ভদ্র,তোর মত নয়।
-ভদ্র মানে কি? ডিসেন্ট না ডিসিপ্লিনড?
-তুই নোস। মানে যাই হোক।
-উফফ! আন্টি খুব ঝগড়া কর তো। আমি না ছোট।
-ওহ অমনি ছোট? দাঁড়াও তোমায় আমি নাম্বার দেব। দেখি কটা রিওয়ার্ড পয়েন্ট পাও।
-লাগবে না,ওরে আমার দিদিমণিরে ।
-আন্টি,মাইনাস পেলে,
-তাই পাবো,তোর কি?
-আবার মাইনাস...
-দাঁড়া তোর হচ্ছে এবার...
পিড়িং পালিয়েছে এবার। আর আন্টি ওকে তন্ন তন্ন করেও খুঁজে পাচ্ছে না। কি মজা!!



উটপাখী
পিড়িং এর চার চারটে ইয়া বড় সাদা পাথর আছে,অস্ট্রিচের ডিম। না আসলে,পাথরগুলো ও কুড়িয়ে পেয়েছিলো ফুলডুংরি গিয়ে,কিন্তু ও বলে ওগুলো অস্ট্রিচেরই...আস্কড পাপা
-এখানে অস্ট্রিচ ছিলো অনেক,তাই না পাপা?
-হবে হয়ত
-ধুর তুমি কিছুই জানোনা।
ওই পাথর গুলোকে ও রোজ টর্চ লাইট দিয়ে গরম করে। যাকে বলে ওম দেওয়া। একদিন নিশ্চিত বেবী অস্ট্রিচ বেরিয়ে আসবে। আর সেদিন ওর খুব আনন্দ হবে...আচ্ছা ক্যামেল তো ডেজার্টে থাকে,অস্ট্রিচ তাহলে কোথায়? পাপা জিজ্ঞেস করেছিলো -কেন? উটপাখি আর উট,ভাই বোন তো? পাপা স্মাইলড। তো তাহলে ঠিক বলছে? আর বেবি অস্ট্রিচগুলো জন্মালে ওকে ডেজার্টে নিয়ে যাবে,কি মজা! ও আজ মাইক্রোওভেনে পুরে গরম করেছে পাথরগুলো প্রায় এক ঘন্টা। মাম্মি আসলে আন্টি যদি বলে দেয় তাহলেই কেলো। তাহলে ও কি আর ডেজার্টে যাবে না? এখন ও মুখ গোঁজ করে বসে। সন্ধ্যে নামছে। মশকুইটোজ আর সিংগিং দেইয়ার ইভনিং প্রেয়ার...আর চট চট করে চড় মারছে পিড়িং,কিন্তু বদগুলো কিছুতেই যাচ্ছে না...

ভালো ভুত
পিড়িং এর ছোট্ট ঘরে এখন সন্ধ্যে নেমেছে। মা ফেরেনি। বাবা আরও পরে ফিরবে। মায়া আন্টি কিচেনে। একটু আগেও পিড়িং দেখছিল ঠাকুরমার ঝুলি। ভুত দাদু। দাদুর সাথে কি ভাব হয়ে গেছে ছেলে মেয়ে দুটোর। মায়া আন্টি টিভির সাউন্ড কমাতে বলেছে। ও মিউট করে দেখতে দেখতে শুয়ে রয়েছে। এবার ওর মাথার কাছে বঙ্কু এসে হাজির। বঙ্কু মায়া আন্টির ছেলে। ক'মাস হল ডেঙ্গুতে মারা গেছে। এখন পিড়িং এর সাথে লুডো খেলছে। ওরতো আর বন্ধু নেই দুষ্টু বলে,বঙ্কু দাদা ছিলো। আর পিড়িং ওকে জিজ্ঞেস করে চলেছে হাজার প্রশ্ন।
-বঙ্কু দাদা,ওখানে কি খুব শীত? মশা কামড়ায়,তোমার কি মশকুইটো রিপেলান্ট আছে? বার্গার পাওয়া যায়? কাপ নুডলস? কেমন খেতে,রাজ কে নিয়ে যাওয়া যাবে? আমি গেলে কি টিকিট লাগবে?
-তুই যাবি,পিড়িং?
মস্ত করে মাথা নেড়ে পিড়িং ব্যাগ গুছোচ্ছে। রাজকে যে কি’সে করে নেবে? পিড়িং এর পুতুল রাখার বালতি ব্যাগটা থেকে সদ্য পাওয়া ডল নিশিকেই ও কেবল নিলো,আর ওই ব্যাগেই রাজ ও একসাথে। এবার ও বঙ্কু দাদার হাত ধরে বেরুতে যাবার সময়,রাজ ফুরুস করে লাফ দিয়েছে,আর খাটের নীচে লুকিয়েছে,- উফফ এত জ্বালায় রাজটা। ও বঙ্কু দাদা খোঁজো তো,জানলার পর্দাগুলো উড়ছে। আর একটা আলো বাইরের দিকে ভুস করে চলে গেল। এবার মাম্মি ঢুকলো,মায়া কাঁদো কেন? পিড়িং বলেই চলেছে বঙ্কু দাদা,কই গেলে...আসো...আসো...কি'গো...

স্টাডি টাইম
পিড়িং এর স্টাডিতে বসলেই মাথা চুলকায়। পা চুলকায়। আর খুব ঘুম পায়। ফ্র্যাকশনের ম্যাথসগুলো কেমন এলার্জির মত। ও ইচ্ছে করেই ভুল করে। মাম্মি যাতে জলদি ছেড়ে দেয়। মাম্মির খুব রাগ ওঠে। খানিকক্ষণ পরপরই ও উশখুশ করে রান্নার মাসী এসেছে, ঝর্ণা দি। ও গিয়ে বলবে আমায় মামলেট করে দাও। আর তার সাথে রাজ্যের গল্প। তোমার কটা মেয়ে? কটা ছেলে? তোমার দেশ কি পাঁচমুড়ো গ্রামের কাছে...? অমল কে চেনো? দইওয়ালা...
- পিড়িং...পিড়িং
পিড়িং আসবে। টয়লেট পাবে অনেকবার। হাই তুলবে। কি বিরক্তিই যে লাগে পড়তে। এর থেকে লেখা ভালো। হোমওয়ার্ক করতে বসে পিড়িং ঘুমিয়ে পড়বেই...আর মাম্মি ধাঁই ধাঁই ক’ঘা দিতেই কান্না। এভাবেই পড়া শেষ।
এবার খাবার আসার আগে ও বসে গেছে ড্রয়িং খাতা নিয়ে,মাঝে মায়া আন্টির কাছে গিয়ে দেখে নিয়েছে মেম বউ,ভুতু,আর কি কি যেন,মাম্মি হাঁক পাড়তেই...
ও ড্রয়িংএ...


রূপকথা রূপকথা

পিড়িং মণি পিড়িং মণি
করছ তুমি কি?
এই দ্যাখো না আন্টি
আমি ছবি এঁকেছি
পিড়িং এর ছবি জুড়ে একটা মস্ত লম্বা মেয়ে শুয়ে,মাথায় তার দুটো লাল ফিতে ঝুঁটি,আবার একটা হীরে বসানো মুকুট ও। আর পুটকি পুটকি কত্ত লোক,ওকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছে,মাটিতে। মেয়েটার নাম পিড়িং সিন্ডারেলা ট্রাভেলার...আসলে একটু আগেও পিড়িং ওয়াজ রোমিং দেয়ার ইনফ্রন্ট অব বুলন্দ দরোয়াজা। আকবর দা গ্রেট কেম,এন্ড গ্রিটেড হার,টোল্ড হার টু সিট। সি সেইড আয়াম বিজি। নাও আয়াম গোয়িং ফর আ ট্যুর,উইদ মাই ফ্রেন্ড,গ্যালিভার। পিড়িং আসলে পিড়িং নয়,সিন্ডারেলা...ওর দুটো ডানাও আছে,আর সেই ডানা মেলে ও উড়তেও পারে আকাশে,পাখীর মত। উড়তে উড়তে মেঘেদের সাথে দেখা। মেঘেরা জিজ্ঞেস করলো – কোথায় চললে হে পিড়িং রাণী,পিড়িং বললো – এখন আমি হারিতে গো ক্লাশ শুরু হয়ে যাবে,বলেই জিভ কাটলো। সরি,লিলিপুটদের দেশে চললাম। ও আর ওর ফ্রেন্ড গ্যালিভার উড়ে উড়ে এসেছে এই লিলিপুটদের দেশে,আর কি একটা জংলী ফুলের গন্ধে ওরা দুজনেই ঘুমিয়ে গেছিলো। আর এরা বেঁধে দিয়েছে ওদের। পিরিং অনেকক্ষণ ধরে ওঠার চেষ্টা করছে,কিছুতেই পারছে না। আর লিলিপুটরা কি সুইট। ওকে বর্ষা দিয়ে খোঁচালেও ওর কাতুকুতু লাগছে। আর খুব হাসছে। ওর খুব কাশি পেল,যেই না কেশেছে অমনি তিনটে লিলিপুট তার হাওয়ার তোড়ে উড়ে গিয়ে পড়ল পাশের নদীটায়,এবার পিড়িং এর খুব কষ্ট লাগলো। ডুবে যাবে না’তো। ভাবলো আঙুলটা বাড়ায়,ধুর বাঁধাতো। কি করে পারবে। এবার উঠতে গিয়ে পারলো না,একপাশে গ্যালিভার ট্রাভেলস,আর একপাশ সিন্ডারেলার বুকস আর ড্রয়িং খাতার মাঝে ও শুয়ে,গা খুব গরম। জ্বর এসেছে। মাম্মি মুখের কাছে বসে,পিড়িং তুমি কোথায় ছিলে এতক্ষণ? লিলিপুট লিলিপুট করছ....পিড়িং কথা বলল না,রাগ হয়েছে মাম্মির ওপর,পাশ ফিরে শুলো। মাম্মি লাইট নিভিয়ে চলে গেল।

লাস্ট মিশন

আজ ও কিছু খাবে না। সব তেঁতো লাগে খুব। কেউ ওকে বোঝে না! স্নিকারটা পরে নিয়েছে। ত এখন বেরিয়ে পড়বে একা। ও’তো একাই! একটা হিল কিনবে,সেটার মাথায় ও বসাবে র‍্যাফ্লেসিয়া গাছ আর রোডোডেনড্রন, একটা রিভার কিনবে, তাতে বোট রাখবে,ও বঙ্কু দাদা,রাজ ওরা বেড়াতে যাবে। রেড আর ব্ল্যাক মলিরা বন্ধু হবে। এখন একটা শিপ কিনেছে...কিছু চিপস,আর কুড়কুড়ে,ললিপপ... অনেকদূর
যাবেতো ...হারিয়ে যদি ফেলে তাই জিওমেট্রি বক্স থেকে কম্পাসটা এনেছে। এখন সমুদ্রের মাঝে ও একা,আর সাথে কেবল রাজ। ওরা দুই বন্ধু একসাথেই আছে। তাই ভয়ের কিছু নেই। সি ওয়েভস খুব জোর। কিন্তু শিপ তো শিপ তাই ভেসে চলেছে...ভোর হবার আগে ও একটা ল্যান্ড খুঁজে পাবেই। আর সেটার নাম দেবে পিড়িং আইল্যান্ড। ফ্ল্যাগ উড়িয়ে বলবে ‘উই আর উইনার’। আর তখন সি’র ওপার থেকে মাম্মি ডাকবে,পাপাও...পিড়িং ফিরে আয়... ও আর ফিরবে না। তোমরা এসো দেখি এখানে...আমার আইল্যান্ডে...আমি আর যাবো না...
ভোর হচ্ছে ওরা মানে পিড়িং আর রাজ মনে হয় একটা ল্যান্ড এবার খুঁজে পাবেই...আর একটা ওর নিজের স্কাই,ডিপ ব্লু....যার নীচে যা খুশী করা যায়।