লাল চোখ

আযরাহ দীপান্বিতা তিতলি


আযরাহ দীপান্বিতা তিতলি
বয়স: ৯ বছর ২ মাস

ঘটনাটি শুরু হয় ১৮ ডিসেম্বর ২০০২ এ। রাজা রাত ১১টায় কথা বলছিল ফোনে। কথা বলা শেষ হয়েছে রাত আড়াইটায়। সে ঘরে যাচ্ছে ,হঠাৎ দেখল কিছু একটা নড়ে উঠল! সে তাকিয়ে দেখল কিছুই নেই। তালগাছের দিকে তাকাতেই দেখল দুটো টকটকে লাল চোখ তার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। সকালে পরিবারের কাউকে বলল না। তবে তার ঘনিষ্ট বন্ধু রাহুল ও ছোট দুটি বোন সীতা ও সতীকে বলল। তারা বিশ্বাস করল এবং একটু কনফিউজড। প্ল্যান করতে লাগল রাতে কী করবে। রাত হলে সে আবার ওখান দিয়ে যাচ্ছে ,এবার সে একা নয়, সীতা, সতী ও রাহুল আছে তার সঙ্গে। তারা তালগাছের দিকে তাকাল । এবার দেখল তিন তিনটি চোখ ! দুটি নয়। দুই যুবতীর হাতে মশাল, দুই যুবকের হাতে বন্দুক, কোমরে ছুরি আর একটা করে টর্চলাইট।
রাহুল ও রাজা লালচোখ লক্ষ্য করে লাইট মারল, ফলে তিনটি চোখ উধাও হয়ে গেল। কিন্তু আবার চোখ তিনটি তাদের দিকে চেয়ে দেখল। তখন ভোর হয়ে এসেছে। তারা তাড়াতাড়ি ঘরে গেল। সকালে রাজা শুনল তাদের বাবা দেবব্রত চৌধুরীর ঘনিষ্ট বন্ধু সুমিত দত্ত ১৮ ডিসেম্বর মানে যেদিন রাজা লালচোখ দেখতে পায়, তার আগের দিন তিনি মারা যান, আর এটাও জানতে পারে যে, তাঁকে খুন করা হয়েছে। কে খুন করেছে তারা জানে না। রাজা, রাহুল, সীতা ও সতী ঘেঁটেঘুঁটে দেখল- তাদের বাবার বন্ধুকে তাঁর তিন ছেলে ও দুই মেয়ে মেরেছে। তাঁর প্রমাণ আছে রাহুলের কাছে। তাই তারা পুলিশকে বলে তাদেরকে জেলে ঢুকায়। তাঁর কয়েকদিন পর একটা চিঠি পেল গাড়িতে। তাতে লেখা আছেঃ
“অনেকদিন পর শান্তি পেলাম। আমার ছেলেমেয়েদের শাস্তি পাওয়া উচিত। আমার সম্পত্তি দিয়ে তোর দাদারবাড়ির গ্রামটা উন্নত কর। ইতিঃ সুমিত দত্ত, মানে- তোর বাবার বন্ধু।
তাঁর কথায় গ্রামটা আরো উন্নত হয়। প্রতিটি স্কুলে একটি পাঠাগার তৈরি হয়। মেয়েদেরকে সে পাঠাগারে পড়তে দেয়া হয়।



পুষ্পিতা/ আযরাহ দীপান্বিতা তিতলি

নরখাদকের পাশে
যে শিউলিতলা হাসে
তাঁর তরুণ আলোর চোখ
তাঁর আলতারাঙা ঠোঁট
চোখ দুটি তার নীলপদ্ম
ঠোঁট দুটি তার জবা
তোমার মত পুষ্পিতা।