জঙ্গল

প্রথম ভট্টাচার্য



প্রথম ভট্টাচার্য
বয়স: আট বছর


একটা জঙ্গল ছিল। খুব গভীর। এত গভীর যে কেউ জানত না ভিতরে কী আছে। শুধু গাছ আর গাছ। আর অনেক অদ্ভুত জন্তু জানোয়ার। জঙ্গলের পাশে একটা গ্রাম ছিল। তারা কেউ জঙ্গলে ঢুকত না।
একদিন গ্রামের কয়েকটা ছেলে চোর পুলিশ খেলছিল। একটা ছেলে পুলিশ হয়ে যখন চোখ বন্ধ করে এক-দুই গুনছে, তখন বাকিরা লুকিয়ে পড়ল। ছেলেটা চোখ খুলে কারোকে দেখতে না পেয়ে ভাবল সবাই জঙ্গলে গিয়ে লুকিয়েছে বোধহয়, তাই জঙ্গলে ঢুকে খুঁজতে গেল।
এদিকে তার বন্ধুরা দেখল তাকে জঙ্গলে ঢুকতে। তারা ভয় পেয়ে তাদের বাবাদের গিয়ে বলল। সাহসী তিন চার জন লাঠি নিয়ে ছেলেটাকে খুঁজতে জঙ্গলে ঢুকল। কিছুই দেখতে পায় না, অন্ধকার। কিছুটা যেতে হঠাত দেখল মাঝখানে অনেকটা জায়গা ফাঁকা, সুন্দর একটা পুকুর, তাতে অনেক মাছ। পুকুরের পাশে একটা কুঁড়েঘর, সেখানে একজন মুনিঋষি ধ্যান করছেন।
গ্রামের লোকেরা মুনিঋষির কাছে যেতে তিনি খুব রেগে বললেন, “কেন এসেছ তোমরা? এই জঙ্গলে মানুষ ঢোকে না, জানো না?” তারা ভয়ে ভয়ে বলল, “আসলে আমাদের গ্রামের একটা ছেলেকে খুঁজতে এসেছি।” তিনি তখন শান্ত হয়ে বললেন, “ছেলেটা নিরাপদ আছে। এদিকে আসেনি, ওইদিকে আছে, যাও। কিন্তু আর কখনো জঙ্গলে এসোনা।”
মুনিঋষির কথামতো তারা সেইদিকে গিয়ে ছেলেটাকে খুঁজে পেল। সে খুব ভয় পেয়ে গেছিল। ভেবেছিল হারিয়ে গেছে। নিশ্চিন্ত হয়ে সকলে ভাবল আর একবার মুনিঋষির কাছে গিয়ে তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে আসবে। আবার সেদিকে গেল সকলে, কিন্তু অনেক খুঁজে খুঁজেও সেই পুকুর, কুঁড়েঘর, মুনিঋষি কিছুই খুঁজে পেল না। কোথাও কিছু নেই। শেষে তারা ওখান থেকেই মুনিঋষিকে প্রণাম জানিয়ে গ্রামে ফিরে এল।
সকলে পরে বলল, উনি ছিলেন জঙ্গলের রাজা। মানুষ যদি জঙ্গলে ঢোকে তাহলে জঙ্গল নষ্ট হয়ে যাবে তাই উনি কারোকে ঢুকতে দেন না।
------------------------------------------------------------ -