সোনাই দেশ

অদ্বিতীয়া ধর পদ্য



অদ্বিতীয়া ধর পদ্য
বয়স: ১০+


আমি শ্রেয়া। আমি চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। আমি গান করি, নাচ করি, ছবি আঁকি, আবৃত্তি শিখি এবং পড়াশুনা করি, আর অভিনয় শিখি। খেলার একটুও সময় পাই না। একটুও ভালো লাগে না। আজ শনিবার। আজকে পড়ার স্যার আসবে। স্যার যাওয়ার পরে স্যার এর হোমওয়ার্ক করতে হবে। রবিবারে গানের ম্যাডাম আসবে। অনেক সময় গান করতে হবে। সোমবারে ছবি আঁকার স্যার আসবে। ছবি আঁকতে হবে। স্যার যাওয়ার পরে আমার ছোট্ট বিড়ালটা নিয়ে একটু সময় খেলার সুযোগ পাই। তারপরই পড়ায় বসে যেতে হয়। মঙ্গলবার নাচের ম্যাডাম আসবে। কষ্ট করে নাচতে হবে। গরমে ঘেমে কার নাচতে ইচ্ছে করে? যাক ম্যাডাম যাওয়ার পর গান চর্চা করতে হবে। বুধবারে আবৃত্তি শিখতে যেতে হবে। বাসায় এসে নাচ প্র্যাকটিস করতে হবে। বৃহস্পতিবারে অভিনয় শিখতে যেতে হবে। ১ ঘন্টা শিখে বাসায় এসে ছবি আঁকার হোমওয়ার্ক করতে হবে। আর এই সবের মধ্যে স্কুল আর স্কুলের হোমওয়ার্ক তো আছেই। আমি বড় হয়ে কী হতে চাই তা আমি নিজেও জানি না। কখনো ডাক্তার, কখনো ইঞ্জিনিয়ার, কখনও শিল্পী, কখনও নৃত্যশিল্পী, কখনো আরটিস্ট, কখনো অভিনেত্রী, কখনো আবৃত্তিকার, কখনো বিজ্ঞানী, কখনো খেলোয়াড়, কখনো পুলিশ অফিসার, কখনো টিচার, কখনো গল্পকার, কখনো পাখি আর কখনো প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি। আমি জানি না আমি কী হতে পারবো। আমার ইচ্ছা সবসময় খেলা করা, টিভি দেখা, গেম খেলা আর গল্পের বই পড়া। কিন্তু দেখো এগুলো কিচ্ছু করতে পারি না। একদিন আমি পড়াশুনা সেরে বারান্দায় বসে ছিলাম। এমন সময় একটা ছোট্ট পাখি এসে বারান্দার রেলিং এ এসে বসলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম আমার তোমার নাম কি ছোট্ট পাখি? সে বলল, আমার নাম উড়নি। উড়নি বললো, তোমার নাম কি? আমি বললাম, আমার নাম শ্রেয়া। একসময় মনে হলো আমরা জানি একজন আরেকজনের কত আপন। এভাবেই কাজের ফাঁকে ফাঁকে আমরা একজন আরেকজনের সাথে গল্প করতাম। খেলা করতাম এভাবে একদিন আমরা গল্প করছি। তখন উড়নি বলল, শ্রেয়া আমি একটা খবর নিয়ে এসেছি। আমি কী খবর? সে বললো, দারুণ খবর, আমি বললাম, কী? কী? বলনা বলনা। সে বললো, এত ব্যস্ত হচ্ছ কেন? আমি বলছি তো তোমাকে দারুণ খবরটা। জান শ্রেয়া, অনেক অনেক দূরের একটা দেশ আছে নাম তার সোনাই দেশ। আমি বললাম, এটা আবার কেমন খবর উড়নি? অনেক অনেক দূরে তো অনেক দেশ আছে। তার নামটা একটু অদ্ভুত হলেও এই খবর তো মোটেই কাজের না। উড়নি বললো, যাক বাবা রেগে গেলে কেন? সব কথাটা শুনেই না শ্রেয়া। আমি বললাম, আচ্ছা তবে সব কথা খুলে বলো। উড়নি বললো, হ্যাঁ হ্যাঁ বলছি। সেখানে আমাদের মতো সবাই একরকম আছে। কিন্তু সেখানে না আছে পড়াশুনা, না আছে গান, না আছে নাচ. না আছে আবৃত্তি, না আছে ছবি আঁকা, না আছে অভিনয়। সেখানে বড় হয়ে তুমি যা হতে চাও তাই হতে পারবে। সেখানে শুধু খেলা করা, টিভি দেখা, গেম খেলা, গল্পের বই পড়া। বুঝতে পারছো তো কী দেশ সেটা। আমি শুনে অবাক মনে ভীষণ অবাক। আমি বললাম, আমি আজকেই যাব সেখানে, আজকেই। উড়নি বললো, আজকে তো আর যাওয়া যাবে না শ্রেয়া। আমি বললাম, তাহলে কবে যাব উড়নি। আর কিভাবেই বা যাব। সেই ব্যবস্থা আমার কাছে আছে। চল আমরা আর পাঁচদিন পরে রওনা হই। আমি বললাম, আমি যে আর থাকতে পারছি না। পাঁচদিন আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে। আমার খুশিও তত বাড়ছে। কিন্তু তার সাথে আমার মা, বাবা, টিচার, বন্ধু-বান্ধব সবাইকে ফেলে চলে যাচ্ছি যে। না না তা ছাড়া তো উড়নি বলেছে সেখানে সবাই একরকম আছে। তাহলে সেখানে নিশ্চই অন্য মা-বাবা আছে। পাঁচদিনের দিন উড়নি এসে গেছে। আমি সব সেরে এখনি চলে যাব। আমি মা বাবার আদন নিয়ে নিলাম। এখন উড়নি উড়ে উড়ে সেই যায়গায় নিয়ে এলো। সেখানে দেখলাম একটি সোনার নাও আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা সোনার নাও এ উঠলাম। অনেক সময় লাগলো সেই দেশে যেতে। যাওয়ার পথে আমাদের সাথে দেখা হলো অন্য শ্রেয়া আর উড়নির। তারা শ্রেয়ারও মনে হয় খেলতে খেলতে আর ভালো লাগে না। তার তো একটু পড়াশুনা দরকার। সেখানে গিয়ে আমরা দেখলাম উড়নি যা যা বলেছে তা সব একরকম। সে যেন এক স্বপ্নের রাজ্য। এখানে পড়াশুনা, গান-বাজনা, নাচ, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, অভিনয় কিচ্ছু লাগে না। মনে মনে ভাবলাম, আমি এদেশ থেকে আর ফিরবই না।