ছোটনের পড়া

বৃতি হক



আজ দুপুরের অদ্ভুতুড়ে কান্ডখানা শুনবে তবে? হোঁচট খেয়ে
গেলাম পড়ে ছাদের ওপর, তাই শুধু নয়-
দেখতে পেলাম অবাক হয়ে, যাচ্ছি পড়ে আকাশ থেকে অঝোরধারায়
বৃষ্টিকণায়, শহরজুড়ে জল থৈ থৈ – তোমার ছাতায় টাপুর টুপুর মধুর সুরে -
চিনতে বুঝি পারছো তাকে, বলো তো মা? কে সেই ছেলে?

আমি বুঝি দস্যি ছোটন? নিউটনের চুল-শূন্য মাথায় আপেল হয়ে
এক বিকেলে পড়ার ফলেই তত্ত্ব এলো! জ্ঞানের ভাঁড়ার বাড়লো সবার—
হাসলে কেন? মৃদুস্বরে খুব শাসালেও- “দুষ্টু ভীষণ! পড়তে বসো!”

আমার মতন সুবোধ ছেলে আর কি পাবে? বিশ্বজোড়া? পড়তে আমার
ভালোই লাগে, বই-খাতা আর কলম ছাড়াই পড়তে পারি, হরেকভাবে-
এই যে দ্যাখো, ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে পড়ি, কালবোশেখির ঝড়ের তোড়ে
আমের মতন, কিংবা ধরো, শিশির হয়ে ঘাসের ওপর পড়ছি ভোরে---
বই খাতা সব শিকেয় নাহয় তোলাই থাকুক। কি হয় তাতে?

রাত্রি হলে ঝাঁপিয়ে পড়ি তোমার বুকে -- চোখটি বুজেই নতুন জামা
নতুন জুতো পরতে পারি, পরীর সাথে ঘুরতে পারি, জানবে তখন অবশেষে
লক্ষী মায়ের কোলটি ঘেঁষে ঘুমের দেশে আজীবনের লক্ষী ছোটন।