গল্পে গল্পে ভাবো (ভাবানুবাদ)

ফারহানা রহমান



সাফল্য

ঋষিকে প্রায়ই বাবা বা মাস্টারমশাই বলেন যে, পড়ালেখা করে জীবনে সফল হও। মাও প্রায়ই বলত। কিন্তু ঋষি বুঝে উঠতে পারত না সাফল্য আসলে কী? এটা কি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা? খেলাধুলায় ভালো করা? সমাজে খুব নাম করা? অনেক সম্পদের মালিকানা? ঋষি আসলেই সাফল্যকে কোন সংজ্ঞায় ফেলতে পারছিলো না। একদিন ও দাদীকে প্রশ্ন করল, দাদী সাফল্য কাকে বলে। তিনি ঋষিকে বললেন,” সাফল্য হচ্ছে তাই যা তোমাকে সুখী ও পরিতৃপ্ত করে, এটা আর কিছুই নয়। যখন তুমি নিজের এমন অতীতের কথা ভাবো যা তোমাকে সুখী করে, অথবা এমন কিছু সুখকর মুহূর্তের কথা মনে পড়ে যায় যা তোমার মুখে তৃপ্তির হাসি ফোঁটায়, তাই হচ্ছে সাফল্য।“

চেষ্টা না করলে তুমি কিছুই জানতে পারবে না

রুপু জন্ম থেকে অন্ধ। জন্মাবার পর ওর বাবা মা যখন ব্যাপারটা বুঝতে পারল তখন তারা খুই কাান্নাকাটি করত। আস্তে আস্তে বাবা-মা দুজনেই সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা রুপুকে সাহসের সাথেই বড় করবে। সাত বছর বয়সে সে তার মাকে প্রশ্ন করে , “মা আমি কি তোমার সাথে রান্না করতে পারি?” ওর মা ওকে বললো, “চেষ্টা না করলে তুমি কিছুই জানতে পারবে না।“ সে তার মাকে সাহায্য করেছিলো। বারো বছর বয়সে সে তার বাবার কাছে জানতে চাইলো যে সে কি বাইরে গিয়ে খেলতে পারবে? তার বাবা বলেছিলো , “ যতক্ষণ তুমি বাইরে গিয়ে না খেলবে তুমি কিছুই জানতে পারবে না।“ রুপু খুব সাফল্যের সাথে খেলাধুলা করেছিলো। আঠারো বছর বয়সে বিজ্ঞান রুপুর প্রিয় বিষয় হয়ে উঠলো । সে তার বাবা-মার কাছে জানতে চাইলো, “ আমি কি ডাক্তার হতে পাড়বো?” তারা রুপু বলেছিলো যতক্ষণ তুমি চেষ্টা না করবে তুমি বুঝবে না যে তুমি কি করতে পারো, তুমি চেষ্টা করে দেখো ?” রুপু এখন একজন ডাক্তার। রুপু আজ বলছিলো যে, “ আমি আজকে একজন ডাক্তার যে খেলাধুলায় ভীষণ দক্ষ এবং খুব ভালো একজন রাঁধুনি। এর সবই হয়েছে চেষ্টার ফলে । তাই যতক্ষণ তুমি চেষ্টা না করবে তুমি কিছুই জানতে পারবে না । “



অলস - বুদ্ধিমান

একটি কোম্পানিতে দুই শ’র বেশি লোক কাজ করে। তারা প্রায় সবাই খুব বুদ্ধিমান। তবে অফিসের যিনি বড় কর্তা তিনি সব সময়ই বেছে বেছে একজনকেই সমস্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করতে দিতেন। তিনি হচ্ছেন মিস্টার অপু যে কি না অফিসের সবচেয়ে অলস ব্যক্তি। মিস্টার অপু কাজগুলো শেষ করা মাত্রই বড় কর্তা, অন্যান্যদের ডেকে বলতেন তার মত করে কাজ করে দেখাও দিকিনি! সব্বাই জানে ওই লোকটা ভীষণ অলস কিন্তু তার মত কাজের কথা বলায় সবারই খুব রাগ হতে শুরু করলো। একদিন তারা বসের কাছে গিয়ে জানতে চাইল কেন তিনি মিস্টার অপুকেই কঠিন কাজগুলো দেন এবং হয়ে গেলে কেন তিনি সবাইকে বলেন তার মত কাজ করতে। বড় কর্তা হাসলেন, বললেন “ তোমরা সবাই জানো যে অলস ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বুদ্ধিমান। তারা সব সমস্যারই সহজ সমাধান বের করে ফেলে। দ্রুতগতিতে সব কাজ সঠিক উপায়ে কার্যকর করার সহজ একটি উপায় তারা বের করে ফেলে যাতে বাড়তি সময় তারা আলসেমি করে কাটাতে পারে।



ঋণ: অন্তর্জাল