পরীদের সাথে কয়েকদিন

রীতা রায়



প্রতিদিনের মত আজও ঘুমচোখে ঠাকুমার কাছে এসে গলা জড়িয়ে ধরে তুলতুল। বলে, ঠাকুমা আজ পরীদের গল্প শোনাও ,আমি ঘুমবো।গান শুনিয়ে গল্প বলে যেসব ছোটদের ঘুম পাড়ানো হয় তুলতুল সেই ছোটদের দলে।রোজ ঘুমের সময় একটা করে গল্প শোনাতেই হবে।রাজপুত্রের গল্প, চাঁদের দেশের গল্প, সবার্থপর দৈত্যের গল্প।গল্প শোনাতেই হবে।
মিষ্টি সুন্দর মেয়ে এই তুলতুল।তাই আদর করে নাম রেখেছে ঠাকুমা মিষ্টিমধুরা।
সে ছিল এক আজব দেশ... তুলতুলের মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে গল্প শুরু করল ঠাকুমা।পরীর দেশের গল্প।গল্প শুনতে শুনতে নানা ধরনের প্রশ্ন করছিল তুলতুল ।পরীরা কোথায় থাকে।তারা কীভাবে কথা বলে। তারা দেখতে কেমন।
ঠাকুমা শোনালেন সিন্ডারেলার গল্পটা।সেই পরীর কথা।যে সব ছেলেমেয়েরা দুষ্টুমি করেনা তাদের পরী খুব ভালবাসে,তাদের কথা শোনে,তাদের উপকার করে।যারা হিংসুটে দুষ্টু তাদের কাছে কখনো আসেনা ওরা।

আজকের গল্পটা খুব সুন্দর।ঠাকুমাকে আরও জড়িয়ে ধরল।চোখ দুটো বুজে আসছে।মিষ্টি একটা গানের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছে তুলতুল।কিছুক্ষণ পরে সে দেখতে পেল,সুন্দর একটা পরী তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।নীল আকাশের মত ডানার রঙ।গায়ের রঙ গোলাপী,মাথায় ফুলের মুকুট।এক হাতে ধরা একটা সোনার কাঠি।মেঘের মত চুল।মুখে হাসি।

পরী তুলতুলকে বলল,যারা খুব ভাল,যারা আমাদের দেখতে চায়,তাদের কাছে আমরা আসি।পরী আরও বলল,যারা কাউকে হিংসে করেনা,সবাইকে ভালবাসে,তাদের আমাদের দেশে নিয়ে যাই।সেখানে অনেক পরী আছে।লালপরী ,হলদেপরী ,সবুজপরী।তাছাড়া আকাশপরী জলপরী। কত প্রজাপতি,তাদের কত রং,ফুলে ফুলে মধু খেয়ে বেড়ায়।সুন্দর বাতাস বইতে থাকে।পাখী গান গায় শিস দেয়, কথা বলে।সেখানে শুধু আনন্দ ,কোনও দুঃখ নেই।একথা শোনার পর তুলতুল বলে,আমি তোমার সাথে যাবো।

১/৩
পরী বলল, তোমায় আমাদের দেশে নিয়ে যাবো।এই জন্যই তো এসেছি।কিন্তু তোমার এই পোষাকে যাওয়া হবেনা। আনন্দে নেচে উঠল তুলতুল, তবে কি আমাকে সিন্ডারেলার মত সাজিয়ে নিয়ে যাবে?পরী বলল, তুমি ঠীকই বলেছ, সোনার কাঠী ছুঁইয়ে তোমার পোষাকটা শুধু পালটে দেবো।
তুলতুলের আবার প্রশ্ন, আমরা কোন গাড়তে যাবো তোমাদের দেশে?
পরী হেসে বলল,তুমি তো আমার সাথে যাবে।তার জন্য কোনও গাড়ীর দরকারই হবেনা।আমরা আকাশপথে যাবো।
তুলতুলকে পরীবলল,এসো,আমার কাছে এসো। পা থেকে মাথা পর্যন্ত সোনার যাদু কাঠি বুলিয়ে দিল সে।তুলতুল দেখতে দেখতে আরও সুন্দর হল।পোষাকটা হল রাজকন্যার মত।
পরী তুলতুলকে নিয়ে আকাশপথে রওনা হল।পরীর একহাতে যাদুদন্ড,আর এক হাতে তুলতুল।
তুলতুল দেখল, পৃথিবী থেকে অনেক দূরে উঠে এসেছে।আকাশ পথে যেতে যেতে তার আর আনন্দ ধরেনা।
অবশেষে তুলতুল পরীদের দেশে এল।

পরীদের দেশ দেখে তো তুলতুল অবাক।নানা ধরনের পরীদের সাথে আলাপ হল।লালপরী সবুজপরী হলদেপরী আকশপরী জলপরী। ে যেন পরীদের মেলা। চারিদিক দিয়ে পরীরা তুলতুলকে ঘিরে ধরেছে।কথা বলছে হাসছে নিজেদের মধ্যে।তুলতুলের সাথে একে একে সবার আলাপ হল।

নীলপরী বলল,আমার ফুল ফলের বাগান দেখবে চল।নীলপরী তার ফুলের বাগানে নিয়ে এল।তুলতুল দেখল বাগানেনানা ধরনেরনীল ফুল ফুটে আছে।প্রজাপতিগুলো ফুলেফুলে খেলে বেড়াচ্ছে।ওদের গ্যের রঙও নীল।কারো হালকা নীল,কারোবা গাঢ় নীল।নানা ধরনের নীল রঙের পাখীর মেলা বসেছে ফুলের বাগানে।তুলতুলকে দেখে পাখীরা আনন্দেশিস দিচ্ছে কথা বপ্লছে।নীল আকাশের নীচে নীলের সমারোহেওপুর্ব সুন্দর দেখাচ্ছে।তুলতুল পরীকে বলল,কী সুন্দর এখানকার সবকিছু।

কিছুদিনের মধ্যেই সবাইকে আপন করে নিয়েছে তুলতুল।ওর মিষ্টি সবভাব দিয়ে।পরীরা ওকে খুব ভালবাসে।নানারকম ফুল পাখী প্রজাপতির মধ্যে তুলতুল মিশে গেছে।গাছে গাছে কাঠবেড়ালি ঘুরে বেড়ায়।তুলতুল কাঠবেড়ালীর সাথে খেলা করে।

২/৩
রোজ সকালে তুলতুলের ঘুম ভহেঙ্গে যায় পাখীদের মিষ্টি মধুর ডাকে।সকালে ফুলের বাগানে যায়,প্রজাপতিরসাথে খেলা করে।সাজি ভরে ফুল তুলে পরীরানীকে দেয়।নানাধরনের গল্প শোনে পরীদের কাছে।পৃথিবীর কথা ভুলে যায়।সবসময় ছুটেছুটে কাজ করে।হেসে কথা বলে।সবাইকে ভালবাসে।হরিনের বাচ্চাদের আদর করে।এভাবেই দিন চলে যায়।

পুরোনো অভ্যাসটা তুলতুলের কিন্তু এখনও যায়নি।ঘুমের মধ্যে ওর গল্প চাইই চাই।রোজকার মত গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ে তুলতুল। আকাশে মেঘ করে বৃষ্টি এল।কড়াত করে বাজ পড়ল যেন কোথায়।

ঘুম ভেঙ্গে গেল তুলতুলের।পরীরানী,বলে ডেকে উঠল।
নীলপরী লালপরী কোথায়? ওরাতো এইখানেই ছিল।
ঠাকুমা বলল,ঘুমের মধ্যে অত হাসছিলি কেন?
নিশ্চয়ই খুব সুন্দর স্বপ্ন দেখছিলি?
তুলতুল পাশ ফিরে শোয়।
চোখ বুজে ভাবতে লাগল,আবার পরীরা যদি আসে।