গেট টু গেদার

সুমী সিকানদার



ওয়াই ফাই ডাইনিং
নামকরা কুক
বাবা-মা -ছেলে-মেয়ে
হ্যাপি হ্যাপি মুখ।

মা’র চাই লো-ফ্যাট
মেয়ে চায় গ্রিল
চারজনে চার পদ
নেই কোন মিল।

কারো মুখে নেই কথা
কারো নেই খুঁত
চারজনে অনস্ক্রিনে
হয়েছেন জুৎ।

আম্মুর সেলফি
টপাটপ ছবি
গোটা কুড়ি ফেইসবুকে
দেয়া তার হবি।

বাবা কানে হেড ফোনে
বিজি আলাপেই
চারজনে একসাথে
কথা যেন নেই।

বড় ছেলে গেইমে আছে
পুরোটাই ফেইমে
ডাকো যদি জবাবটা
দেবে থেমে থেমে।

কন্যাটি আহ্লাদী
সকলের ছোট
আইফোনে ডাঁই হয়ে
আঙ্গুলেতে ক্ষত।

অনটাইম শেষ হলো
ফ্যামিলি ডিনার
শেষবেলা এক ফ্রেমে
গেট -টু- গেদার।।



আঁকার খাতা

ছোট্ট করে বলছি শোনো
ভালাগেনা পড়া
সত্যি বলছি আমার শুধু
ভাল্লাগে আঁক করা।

দুপুর হলে মা ঘুমালে
জুতো জোড়া হাতে
দিব্যি আমি পালিয়ে গেছি
পাঁচিল বেয়ে ছাতে।

ছাতে বসে আঁকতে কষে
নেই তো কোন ভয়
সারাদুপুর মামনিটার
খুব ভাল ঘুম হয়

ফুল এঁকেছি মৌমাছিটাও
আঁকছি রবির রঙ
আঁকছি গরু রাখাল বালক
কাকতাড়ুয়া সং।

বারবীপুতুল নেই তা বলে
দুঃখ মোটেও নেই
এক নিমেষেই আঁকতে পারি
সিন্ডারেলাকেই ।

‘’ বাবা’’ এঁকে ডাকতে আমার
ইচ্ছে হলো আজই
আকাশ থেকে দেখলে ’’ বাবা’’
আসতে হবেন রাজী।

তখন আমি ছবি তো নয়
আসল বাবা নিয়ে
আঙ্গুল ধরে ঠিক দাঁড়াতাম
মায়ের ঘরে গিয়ে।
ঘুম ভাঙ্গা মা দেখতো অবাক
আঁকা বাবা নয়,
আকাশটাতে একলা বাবা’র
লাগছিলো খুব ভয়।

তাই তো আমি আঙ্গুল ধরে
নিয়ে এলাম ছাতে
আকাশটাতে তারা থাকুক
বাবা আমার হাতে।