টুইংকল টুইংকল লিটল স্টার

তমাল রায়



আগডুম আর বাগডুম খুব দুষ্টুমি করছিলো। একবার নাগরদোলায় চড়ছে, একবার যাত্রাদলের রাবণের দশটা মুখ খুলে,একটা করে দিচ্ছে,সীতার চুল খুলে নিচ্ছে,আর সব্বাই হো হো হাসছে। কিড - ভুতেদের প্লেটাইম যেমন হয়। সময়টা রাত্তির। বেলগাছে বসা বেম্মদত্তির খুব রাগ হল,আর সে গিয়ে বকে দিলো ওদের। আগডুম বাগডুম তো চুপ। খানিক ভাবলো,আর তারপর কাতুকুতু দিতে লাগলো ইয়া ঢ্যাঙা ওই বেম্ম কে। আর সেও হাসছে খুব। আর হাসছে মহুল, মেহরিশ, পদ্য,আলেখ্য,দীপ্ত...
এসব হত জানো। তারপর সব কেমন গোমড়ামুখো হুমদো হুলো হয়ে গেল। মুখগুলো বাংলার পাঁচ। মাথা চুলকোয় আর কি সব ভাবে লোকজন। আর এসব হলেই শীত এসে যায় কেমন করে যেন । খুব শীত পড়ল,বড়দের পাপেই হয়তবা । বাগানে ঢোকা বন্ধ শিশুদের। রাস্তায় কেউ নেই । খুব ঠান্ডা। শয়তান কুয়াশা,আর বরফ চাবুক চালাচ্ছে বেধড়ক,উত্তুরে বাতাস রাক্ষুসে হাসি হাসছে ,আলোর মুখে ঠুলি পরিয়ে দিয়েছে ডাইনী বুড়িটা । ফুলগুলোর খুব কষ্টগো। এই হাড় কাঁপা শীতে পারে ? জ্যাক আর জিল গেছিলো পাহাড়ে,নামতে গিয়ে বরফে পা হড়কে জ্যাক দুম পটাশ,কি হবে বলতো এখন...আকাশ কালো। পাখি নেই,পশু নেই,জল যে খাবে,তারও উপায় নেই। জমে বরফ! ওরা সব্বাই মিলে তখন স্প্রিং দেবীর কাছে গিয়ে হাজির। স্প্রিং দেবী খুব মিষ্টি,আর গেলেই বাচ্চাদের কোথা থেকে হাত বাড়িয়ে চকোলেট ক্যাডবেরী চিপস সব দেয়। তার মাথার ওপর মেঘের মুকুট,হাত থেকে ছোট নদী বেরিয়ে গেছে একটা,সেই নদীতে হাসেরা খেলে,পদ্ম,শালুক ভেসে থাকে। সামনে র‍্যাবিট,বেবী ডগস,লিটল প্যারট,স্প্যারোজরা গান গায়। ওরা যেতেই স্প্রিং দেবী হেসে বললো - কি হয়েছেগো তোমাদের। এমন মুখ শুকনো কেন বাচ্চারা? আমি তো তোমাদের বন্ধু...সব শুনলো। সে বললো,আচ্ছা যাও আমি ডেমন,গোস্ট,আর মনস্টারদের খুব বকবো,যাও তোমরা ... ছোটরা বলে – আর আন্টি, পাশ থেকে কে বলে আন্টি কি’রে গডেস কে কেউ আন্টি বলে? স্প্রিং দেবী বুঝেছে সে কথা। হেসেই বললো
- আচ্ছা না’হয় আন্টিই। কি বলবে বলতো...সবাই একসাথে বলে উঠলো - আর বড়রা? ওরাও তো কত বকে...কেবল পড়তে বলে,খেলতে দেখলেই হাঁক পাড়ে – চলে এসোওওও... পড়তে বস। আর স্কুলের ব্যাগ কি ভারী, বওয়া যায় না। স্কুলের আন্টিরাও কেবল বকে...
স্প্রিং দেবী বললেন – বুঝেছি বুঝেছি। ঠিক আছে বড়দেরকেও আমি বুঝিয়ে বলব,পড়বে আবার খেলবেও...
ওরা তখন স্প্রিং দেবীকে চকোলেট ,চিপস,ড্রয়িং আর আর অনেক ট্যাটু দিলো গিফট।



ফেরার পথেই দেখলো ব্লু স্কাই হাসতে হাসতে বলছে – হ্যালো বেবিজ ,স্পিং উইন্ড বলছে – হাই নাও টুগেদার উই উইল প্লে। বরফ গলে গেছে। ছোট নদী অনেক বক বকম করতে করতে চলে গেল বেবিজদের দিকে পাপ্পি ছুঁড়ে দিয়ে,বললো – এসো বন্ধুরা,আমরা অনেক গপ্প করব। গাছগুলো লম্বা শীত ঘুম থেকে উঠে হাই তুলছে। ফ্লাওয়ারসরা ঘুম চোখ খুলে পিট পিট করে তাকিয়ে... বারডসরা গান গাইছে.... উফফ কত দিন পর এমন একটা সকাল। ওরা হই হই করে নেমে পড়লো বাগানে,শহরের পথে,গ্রামের লাল মাটির রাস্তায় যে যেখানে ছিলো। যেসব কিডসরা মাম্মির কোলে উঠেছিলো তারাও ফোকলা দাঁত বার করে হাসছে খুউব।
স্প্রিং দেবী বলেছিলো – বেবিজ, বড়দের মধ্যেও আছে বেবিরা। অনেক ধাক্কা ধাক্কি,আর টাইম নামে একটা এনিমি আছে,তার সাথে লড়তে লড়তে ওরা খুউব টায়ার্ড। তাই ওরা রামগরুদের ছানা হয়ে গেছে। সব ঠিক হয়ে যাবে।
সব কি আর ঠিক হয় কখনো। ১৪ নভেম্বর এক চাচাজি জন্মেছিলো ভারতবর্ষে। বড়দের কাছে তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু উনি তোমাদের ফ্রেন্ড ছিলেন। আর তাই ওনার জন্মদিন মানেই তোমাদের দিন। শিশুদিবস। আর তোমাদের মাথায় রেখে আমরা বুড়ো আর বড়র দল আজ সব্বাই ছোট্ট। এবার ঐহিক ছোটোদের... হ য ব র ল।
আর হ্যাঁ,বড়রা
হজমি খেলে হজম হবে তাই ভেবে কেউ হজমি খায়
খেতে বড় ভাল্লাগে তাই,পেটুক খালি হজমি খায়
এই কার্য কারণের দুনিয়াদারি ছাড়ুন। শুনুন শুধু এই এক দিন নয়,বাকি ৩৬৪ দিনও শিশুই থাকুন । আমরাও ছোট ,ওরাও। ছোটরা দুষ্টু হয় কিন্তু নিষ্ঠুর নয়। টুইংকল টুইংকল লিটল স্টার...ছোট তারাগুলোয় আজ আকাশ ভরে উঠুক...আলো হয়ে ভালো হয়ে...পাঠে থাকুন ঐহিকে,শিশুদের স্পর্শ করে। বাচ্চারা তোমরাও পড় কিন্তু।