প্রায়শ্চিত্তমূলক

ইন্দ্রনীল বক্সী ও নীরব

অ্যাসমাটিক-১

তামাম অচেনা ভয় একজোট
এখুনি কুস্তির আখড়ায় আছড়ে ফেলেছে
পেশীর চিৎকার
উড়ন্ত মশকে প্রয়োজনের জল
মাথার দুপাশে আধাসামরিক জলপাই

অ্যারোক্যাট-মানে বিস্তীর্ণ ইনহেলার
প্রয়োজনের শ্বাস
প্রশ্বাস পর্যন্ত কিনে ফেলা যায় আচমকাই
রাস্পবেরী ঘ্রাণের মাদক পিছু
রাংতায় মুড়েছি খুচরো আহ্লাদ
আহ্লাদ মানে
তুমি
তোমাদের সবকটি প্রজাতি
ওরা শ্লোক ভেবে ভুলকরে
অবুঝ আওড়ে গ্যাছে
স্মৃতিময় ব্রেলবুক


অ্যাসমাটিক-২
গোলঘরে বন্দি ফুটবলার
বল
ছটা পোলের দুরন্ত জ্যামিতি
শব্দের ছবি কঠিন গানেদের
সহজলভ্যতায় রাখো

পেন্ডুলাম ঘড়ি আজকাল বিরল
কারখানার বারান্দায় ইদানীং
মানিপ্ল্যান্ট দোলে...
আর ফসফরাস জ্বলে ওঠে
নির্জন অডিটোরিয়াম

ঘরের জানালায় এক
মুখোস রেখেছি
ছৌ
মানে লোকনাচ
অনুবাদে মন দিয়েছি ইদানীং
নিজস্ব চেতনার



অ্যাসমাটিক -৩
ম্যুরাল? সাড়ে তিনফুটি
ছোপ ছোপ বিমৃশ্য
পাবলিক টয়লেট

কুড়ানো মোজা ঘরে তুলে এনে দেখি
অনর্থক জোরাজুরি-এ আমার নয়
একবারও
বরং সেই ভালো কয়েক গাছি
ভেঙে পড়া পিয়ানোর দাঁত
শ্বাসনালী পর্যাপ্ত নয়
নেবুলাইজার আসন্ন

পশলা বৃষ্টিতে তোমার
কপালে বিন্দু বিন্দু...
আমি ভাবি নিছক চর্মরোগ
মলাসকাম



*********

কতদিন বেঁচে থাকা যায়, এই বিষয়টা এখনও খুব নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অরইণ্য জঙ্গলার মাঝে বান্দিয়াছি ঘর। খাদের ধারে দাঁড়ালে চোখে পড়ে নিস্তব্ধ সূর্যের দেশ। যেতে পারি... যে-কোনো দিকেই আমি চলে যেতে পারি... পিছনের দিকে এগিয়ে চলুন, কন্ডাকটরের এই আপ্তবাক্যে এতোকাল ভরসা রেখে এখানে চলতে সুবিধে পাওয়া যাচ্ছে বিস্তর।

সিস্টেমটা অদ্ভুত। সামনে তাকাতে গেলে পিছনে ফিরতে হয়। মানে, যেটা আপনি এতোদিন সামনে বলে জানতেন সেই দিকে তাকানোর কথা বলছি। অর্থাৎ, এগিয়ে চলার জন্য পিছনের দিকে তাকানোটা জরুরী। বোঝা গেল?

এখন প্রশ্ন হচ্ছে – মানে প্রথম প্রশ্ন – এখানকার থেকে প্রচলিত অর্থে মুক্তি পাওয়া যায় কি না। মুক্তির একটা মানে অপেক্ষাকৃত খারাপ জায়গা থেকে তুলনায় ভালো কোনো জায়গায় যাওয়া। ধরুন, সোনারপুর ছেড়ে বালিগঞ্জ। বা সিরিয়া থেকে কলকাতা।

ঘুম ভেঙ্গে একের পর এক দরজা খুলে পরিচালক যখন গন্তব্যে এলেন, তখন একবার ভাবনা হল – এই যে পরমাণু বোমার আড়তের ওপরে বসে থাকা, টেকটনিকের খামখেয়ালের ভয়কে শিয়রে নিয়ে শুয়ে থাকা, কালোজামার আতঙ্ককে পাশে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো – এর থেকে বেরিয়ে একটা অন্যতর দেশ – কোথায় গেলে পাবে কেহ? দেশ ছাড়ো। শহর থেকে শহরান্তরে পালাও – এমন ভাবনা এলো মাঝে। তবে নিশ্চিন্তে বসে ভাবার তো উপায় নেই আর! কত নতুন নতুন খবরের চ্যানেল। কত নতুন তাঁদের খবর। এর-ওর শক্তির কত নতুন নতুন তুলনা। কে কার দেশ কত সহজে গুঁড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব! তা একটা সময় ঠিক হল – ওই নেকড়েকন্যা, সিংহ ও চিত্রব্যাঘ্র – ওরাই থাক। ওরা চেনা।

এরই মধ্যে মধ্যে চেনা সুরে নতুন গান ভেসে আসে মাঝে মাঝে। গান নয় ঠিক। গুনগুন কথার মত। স্বগতোক্তির মত। ইন একসিতু ইস্রায়েল দে ঈগীপ্তো! সুরটা চেনা। গঠনে নতুনত্ব আছে তবুও। নতুন দিনের নতুন কথা। মাংসল রবিবারের গান সব। আমরা গঙ্গাতীরের মানুষ। আমাদের মধ্যরাতে ঈশ্বরের দেশে সবে অস্ত যায় সূর্য। আর ওই যে দেশে যাওয়া যায় এখনও – সেখানে হয়তো সবে সূর্যদেব উদিত হলেন।

এই অল্প অন্ধকারে – অন্ধকার দেখি না কতদিন – জিহ্বার আগুন নিবে-যাওয়া – ওই বিশাল ফ্ল্যাটবাড়ীর ঢালু গায়ে দাঁড়িয়েছে এক সুন্দর বেশ্যা – তার চোখ আমি দেখতে পাই। পাশের জোয়ান লোকটাকে সে জড়িয়ে ধরেছে। তবু আমি তার চোখ দেখতে পাই। সেই মুহূর্তে সব শব্দকে ছাপিয়ে কানের পর্দা ছিঁড়েখুঁড়ে গেয়ে ওঠেন ফ্র্যানজ লিস্ট। পতনের শব্দের মতন। And I squeeze the universe into a ball! বেশ্যার স্বেদবিন্দুকে মনে হয় চামড়ার অসুখ!

মৃতেরা এ-পৃথিবীতে ফেরে না কখনও।

রাতের খাবারের সঙ্গে দইটা যেন না দেয়। বড়ো নষ্ট হওয়ার গন্ধ