আত্মহত্যা নামক ইউরেকা খেলাধুলো

রীনা ভৌমিক ও অনরণ্য

ব্যাক্তিগত

সেই ভোর থেকে ছায়ার নিকষ ছেনে
রোদ নিংড়ে রামধনু জমাচ্ছি
রুক্ষ ঠোকরের শুনশানে
জংলী আঁচড়ের দগদগে অহঙ্গকার
আজ যে চোখদুটিতে রূপকথা দিতে
তার লবণ জলে অসংখ্য মাছ আর মাছরাঙার
আত্মহত্যা
কেউ জানলোনা
শুকনো ফুল আর মরা প্রজাপতির মাঝখানে
একটা ম্যাজিকাল জীবন
ক্রুশবিদ্ধ হয়ে গেল।

নিঃসঙ্গতা
শূন্যতায় ঝুলে থাকে দিন
হোঁচট যতই দিক নীলরঙ হলুদ আঙ্গিক...
পরিযায়ী জলবাস্পে উড়ি মেঘময়...
ডানা জুড়ে আদরের নিঃসঙ্গ বলয়...

সম্পর্ক
বৃত্তগুলো পরস্পর স্পর্শক ছুঁইয়ে থাকে অথচ সান্নিধ্য
থেকে দূর,যেমন ঈশ্বর।ঈশ্বর বোধ থেকে উঠে আসা নির্জন আদতে শব্দের গুলজার।
স্পর্শময়তায় স্নান দেয় চুপচাপ চুপচাপ
মধ্যাহ্ন সূর্যের কাছে শিখি ‘তুমি’ নামক মিথের অনুকূলে
যে গোলাপ চাষ; আদৌ সেখানে কোনো চাষভূমি বা
বাসভূমি ছিলো না। আরোহী অবরোহী ক্রমে যা ছিলো;
নৃসিংহের ঊড়ুতে গোধুলির রক্তপাত!
একজীবন তোলপাড়ে কারো কারো হাসিল একফোঁটা
জোনাকী। হাই জোনাকী,আলোর অলৌকিক!
তুমি কি জানো তোমার আগুন?
দিব্বি হাসছি খেলছি,প্রাত্যহিক রাজপাট ঘোসলা বানাচ্ছি
আবার লুকোচুরিও। নয়ন্সুখ সম্পর্কের ভাঁজে ঘুমন্ত ভিসুভিয়াস।
কান পেতে শোনো,সত্যিই অগ্নুৎপাত

সন্তান
প্লাবিত মগ্নমুখে যেদিন আমিও ইউরেকা। সামুদ্রিক
বরফ ঠেলে ছুঁইয়ে ফেলি অচেনা দোসর। কচি হাতে
আঁকড়িয়ে নতুন জন্মের দিকে ফিরি।ফেলে আসা
ক্ষুব্ধ নদী,কায়াকল্পে জেগে ওঠো অন্য ঠিকানায়...
এভাবেই অনন্তের গল্পেরা পায়ে পায়ে...মোচড়ে ...
অবাক বিস্ময়ে দেখি অন্য এক রাজপাট
আমাকে নিঃস্ব করে রহস্যের তুরুপের ত্রাস...
আমারই তৈলচিত্রে নতুন আঙ্গিক রেখে যায়...

******
ভোর হল এই মাত্র খবর এইখানে। আর কিছু নেই,হয়ত আছে...রাত গভীর হলে সেই সব ছায়া,যাদের সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধের ফলে,অবিরাম রক্তক্ষরণ,দেখো ঠিক সেই রক্তপাতের মধ্যেই পরে আছে,ভোরের ধর্ষণ পত্র। তাকে তুমি সংবাদ বলেই চিনেছো,যা আমার ধর্ষণ,তা নৈর্বক্তিকে সংবাদই...কি মজা তাই না? ধর আকাশ থেকে ঝরে পড়ছে নুন,নোনা জলে কি আর মাছ বাঁচে?মাছরাঙা সকাল? রয়্যালগুলি গুলোকে সেই শৈশবের মত কুড়োতে গিয়ে রঙ কুড়াও,না'কি ধূসর অক্ষরমালা? যে বাক্সতে ভরে রাখলে,ওখানেই রামধনু রাখা ছিলো প্রজাপতির ডানায়,কবেই তারা মরে ভুত! কৌটো খুলে দেখ,কিছু অস্থি ও মজ্জার জীবাশ্ম। এখনো বেঁচেই আছি! এ যাদুবিদ্যা হরিদাসীও শিখেছিলো,রহিমা খাতুন ও। বেঁচে থাকা আসলে কত মৃত্যুর যোগফল,বল?
সেই কবে আসবে বলে দাঁড় করিয়ে রেখে গেলে,এরপর আকাশে মেঘ জমলো,কিন্তু বৃষ্টি কই? রুক্ষু মাটি খরাদগ্ধ। দহনেও প্রেম আসে,আলোয় মৃত্যু বান। দ্যাখো আমি কাঁদছি কিন্তু অশ্রু কই,কেবল অষ্টমির চাঁদের মত একটা ধারালো কাস্তে ঝুলে,কিছু দূরে একলা তালগাছ,আদুরে বাতাস সব সফরে গেছে,আর ফেরেনি। এরপর?
স্পর্শদেরও কিছু গল্প আছে,আলো পায়নি বলে,কেমন তামাটে,ওখানে পিকনিক করে গেছিলো কিছু ফুর্তিবান মানুষ! এই যে একলা জীবন থেকে দূরে কিছু মৃদু আলো চলাচল,সেখানে শব্দরা বুদ বুদ হয়ে ভেসে ওঠার আগেই ডুবে গেল,বল এ জলজ জীবনে,আর অক্সিজেন কই? সর্বনামের বড় বিভ্রান্তি হে! 'তুমি'। তুমি কে? 'আমি'? আমি গুলো হাইড্রেনে মিশে বয়ে চলেছে,গঙ্গার দিকে,মরা ভ্রুণ,বাহ্য,ইতর শব্দ ও প্রাণীর সাথে আমিগুলোও ভেসে চললো বেহুলাঘাটে...এরপর স্বর্গ,স্বর্গে কি কেবল দেবতার প্রবেশ? দেবতা কি শুধুই পুরুষ? আমি চললাম ভেসে আর তুমি মৃদু হারিকেন বা জোনাকি হবার স্বপ্নে কত কি করলে,হাসলে,কাঁদলে,রান্ নাবাটি,খেলনাকুটো,আগুন তো চিনলে না? না'কি সেই সব আগুন ও আজ বিশ্বাসহন্তারক,চিতার আগুন,সেও বুঝি তোমায় বা আমায় ছোঁবে না? এত হীন এ পরাভূমে আর কত কত তেপান্তরের মাঠ পেরোলে বল রূপকথা আসে?
ওই তবু ভোর আসছে,রাত শেষে,পেটে লাথি মৃদু,গুমরে উঠছে শরীর,তবু দেখ ন'মাস গর্ভধারণ করবো কোনো এক আলোরই তো। বরফ গলিয়ে,রাত কে দাঁতে কেটে ভোর আনছি শুধু অনাগত তোকে ভেবেই,হে ভবিষ্যৎ,তুই বাবা গর্ভশ্রাব হবি জেনেও...
এ জীবন আসলে ঝুলন মেলার নাগরদোলা,ওঠা নামা,ভালোবাসা প্রেম ও পিরিত সব ঠেলা ভ্যানে চাপিয়ে সংসার নামক মেলার মাঠে হেঁটে চলেছি একাই। মেলা শেষে পরিত্যক্ততায় পড়ে ভাঙা খেলনা,এ জীবন তোমার,কালো ধোঁয়া ছেড়ে অনন্তে মিলাবে আজ কাল পরশুর ল্যান্ডস্কেপে,আপাতত শ্বাসবন্ধ! তুই আয়, তোকেও শেখাতে হবে, এই প্রকৌশল, আলো-আঁধার, যুদ্ধ ক্ষেত্রের কিছু মায়াবী রূপটান, আর কোথাও ধ্রুবতারার উঠবে বলে হাপিত্যেশ প্রতীক্ষাযাপন