গান ও রক্তপাত

রিমি দে ও লালন পাহাড়িয়া




বহুল প্রচারিত রক্তপাতের পর
নিবন্ধটি পাহাড় ও কর্কশ নিয়ে ......

এতটা রক্তপাত মানে পাঁচ মাসের বিরতি

পাখিগুলো
নিশ্চিন্তে এক একটি উপন্যাস হয়ে ওঠে নীরবে
....

ঢেউয়ের ডান দিকের ক্ষতটি
আকাশ আকাশ বলে চিৎকার করছিল

ক্ষতটির বামদিকে নীলের গাঢ
অক্ষতটির লাল জুড়ে
আমি লেগে আছি জতুগৃহে

কথা ছিল আলোগুলো
কথা ছিল
নদী ও ভীষণ ভূষণ
একটু একটু করে ধ্বংসাবশেষ

এমন গানের কথা- পাখি
সুরারোপে দুপুর কাতর

অপরাহ্ণের স্রোতে ততক্ষণে হলুদ সংকেত

সমুদ্রের ওপারে বসে হাততালির ভাণ
যেন দৃষ্টি যথারীতি
যেন চশমার কুয়াশায় আমাদের
ভাগাভাগি বেড়ে ওঠা অবিকল
তবে
এত যে রক্তারক্তি
এত যে মুখরা অন্তরা গোটা মাঘমাস জুড়ে !

ততটা লেগে থাকা নয়
ততটা নিঃশব্দে বয়ে চলে
ছায়া ছায়া ছুঁয়ে থাকা নয়

হেমন্তের কন্ঠলগ্ন দুপুরের কাছাকাছি
গভীর
একটি অন্তহীন ও দেয়ালের নদি বরাবর
পাথরেই নিমজ্জিত থাকি
গুনগুন

ঝড় ও জলসার মাঝামাঝি পূব বরাবর
সরলরেখা উড়িয়েছিলাম
কয়েক হাজার বছর পর ঝলসানো
আলো খুঁড়ে বেরিয়ে
আসে আমি ও আমার কঙ্কাল

এই সুমধুর পিতৃপক্ষে
গাঁ ও শ্রাবণ গানভাসি জলে কাঁদে

হেসে কুটিপাটি হয় বাঁকানো কঙ্কাল

দুখন্ড পাথরের নীচে সাদা পাতাল

অগোচরে
আলো খেয়ে থাকে আমার বিন্যাস

*********


জেনো তুমি এ পাহাড়িয়া পথ কর্কশ ও মেদুর হলে সকালিয়া রোদ... পাখী, পাখীরা গান গাইতে এসে কি করে যেন প্রস্তরীভূত, আর যে পথে বৃষ্টি নামে, শোণিতস্রোত নেমে আসছে অজান্তে, এরপর পাপ(?)বিদ্ধ হবে এ পথ, বিশ্রাম অথবা সাময়িক যতিচিহ্নের শেষে উপন্যাসের উপক্রমণিকার আপাতত শুরুয়াৎ...
পাহাড়িয়া এ সম্পদরাশিতে কি করে যেন মৃদু আলো – যেভাবে জন্ম নেয় ক্ষতচিহ্ন - জন্মদাগ,নীলাভ ক্রুশিফিক্সনের মাঝে অমোঘ জাগ্রত বিবেক, হে আকাশ তুমি জাগরুক থেকো, সমস্ত রতিচিহ্নে আজো বহ্নিমান ঘর গেরস্থালি, পুড়ে যাচ্ছে ইচ্ছেকুসুম, জল আনো জল, সঙ্গম থেকে সংযমে যে আলোর বর্হিগমন, পায়ূ ও নিনাদ ঘটিলে পরে রাত নামে পাখীর ডানায়...দেখ, ঝরে পড়ছে ক্ষত থেকে অক্ষতযোনী পথে ঢেউউউ.... বিরামহীন অজানা সঙ্গীত....

এরপর শৈবাল ও জলের মাঝে কি করে মাছ এলো, কি করে জলজ গল্পরা বুদবুদসম উঠে আসে, সন্ধ্যা ট্রাপিজের খেলাতে দেখাতে এসে হারিয়ে যায় শহরের আলোপথে... আলোরা কথা হয়ে ট্রাফিক সিগনাল পেরোতে গিয়ে লাল... লাল ঝরে পড়লে কথাদের ফিরে আসতে হয়, কথার শরীরে বৈধব্য আনতে হলে খুলে নিচ্ছে আলো, অন্ধকারের শাড়ি পরানো হচ্ছে নির্বিঘ্নে...নদী যে বহমান শিলা - পাললিকে সে লিখে রাখছে অমোঘ ধ্বংস কথা, ভ্যাটিকান বিপ্লব... কিছুপর সৌধ হবে, মিনার, রাতপাখীদের কনসার্ট বসলে আলোচনায় আসবে সেই সব দুপুরের কথা, হলুদ আলো ফেলে যারা মাপছিলো জীবন, অথবা মৃত্যু- বেদনা ও রুদ্ধতার প্রকৃত শিখর যাত্রায়...

ক্যালেন্ডারে সাতচল্লিশ আসলে কিভাবে যেন বাস্পের জন্ম হয় - আ ট্রেন ফ্রম লাহোর...কাতারে কাতারে গোরু, মোষ, মানুষ ভেসে চলেছে যেভাবে ইথারে ভাসে সুখ, অপার ঐশ্বর্যমালা, আর দেখ দর্শক! দেখ পুরুষ! হাততালি দিচ্ছে মাটি ও জল খুশীতে(!) ধর্ষক আকাশ জুড়ে ভেঙে পড়ছে রক্ত, দূরে কোথাও রেডিওতে ভেসে আসছে... আমার যে সব দিতে হবে সেতো আমি জানি, চ্যানেল পাল্টালেই বিভাজনে ছেনালী রোদ্দুর - ক্যায়ে কহি মুঝে জংলী কাহে...আপাতত শান্তি, বিরহিনী পৌষ পেরোলে কি করে যেন মাঘ আসছে সুরের মুখড়া নিয়ে, বেলা বাড়লে মধুযাম পেরিয়ে যসে পৌঁছাবে ঝালায়... সম্ভব হলে কর্ণে তুলো রেখো, মুছে রেখো চশমা, ছেঁড়া হাওয়াই এখন নিধুবাবুর টপ্পা শোনাবে, মজা আনলিমিটেড...
এরপরও কি করে যেন সন্ধ্যে নামে, ভোর থেকে সন্ধ্যের পথজুড়ে অবিরাম ঘর্ষণ...পার্কস্ট্রীটে বৃষ্টি নামলে তবু জেনো শব্দেরও কি করে যেন ক্লান্তি আসে, পোট্রেট থেকে পোট্রেটে ভীড় জমাচ্ছে মধুলোভীর দল, মাকড়সার জাল বিস্তারে, দ্রুত হেঁটে চলে গেল অমোঘ নির্জন সেই সব চুপকথা-গল্পের দল। যাদের তেমন হয়ে ওঠাও হল না কখনোই! হেমন্তের শস্যক্ষেত জুড়ে কুয়াশা নামছে, দেওয়াল বেয়ে নদী বহমান,আর মাথায় পেরেক লাগিয়ে কারা যেন ক্রুশিফায়েড হল সজ্ঞানেই(!)...দেওয়ালের মাঝে, দেওয়ালের নীচ থেকে অবিরাম অনন্ত গুম গুম গুম...মনাস্টারির আপাত শান্তিরা আজ বিদ্রোহের পথ খুঁজতে গিয়ে...পড়ে আছে সারিয়েল ট্রাম লাইনে, নারিকেল আর হিজলের বুক থেকে আলেয়া ভেসে উঠলো ভুস করে... জলছবি আঁকছে ভোর... আঁধার বৃত্তে ঘনিয়ে উঠছে অবৈধ ‘সুবাহ’র নাতিদীর্ঘ ছায়া, হে জীবন শুনতে পাও?????

শস্য প্রস্ফুটিত হয়নি তখনও, রাত বি-কাম-ইন... চরাচর, চেয়ার জলসা হয়ে উঠলে ঝড় নামছে অক্ষরেখায়... দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য পাখীদল কি করে যেন প্রবেশিলো ইতিহাসের পাতায়, আর পাতা উড়ে যাচ্ছে, দুপুরগুলো ইতিহাস হয়ে খসে পড়ে আছে কালো শ্লেটের ওপর, ওখানেই চকখড়ি লিখবে অ,আ,ই,ঈ...হাজার দুয়ারি থেকে বারদুয়ারে, প্রত্নতত্ত্বের ডানায় ভীড় করে এলো নন্দীগ্রাম অথবা আদিসপ্তগ্রামের কোনো কঙ্কাল, যা তোমার বা আমার... সকাল গঙ্গার জলে পিতৃতর্পণে মাতলে বুঝো, যেন ক্লোনিং ভিন্ন আর কিছুই ছিলো না ইহজগতে, যেন নারীকূলের ভাগ্যাকাশ অলওয়েজ ‘শাইনিং ইন্ডিয়া’...নির্লজ্জ্ব আলোর রোশনাই আজও স্বাধীনতা দিবস...

এইসব মুনি অগ্যস্তর গোচর... অথবা কানামাছি বৃত্তান্ত একবার আলোর রোশনাই... দিনগুলো পুরুষ অথবা হিটলার হয়ে স্টিম রোলার চালিয়ে গিয়াছে ইহকালীন নিতান্ত সাদা ও মাটা জীবনের সমতলে ... আপাতত অ-পর এ জীবন নিয়ে মৃদু বিন্যাস... ঘুম আসছে ঘুম... আলো খাচ্ছে আলো, জ্যোৎস্নার হা-মুখ দর্পণে দেখে শিহরিত না হয়ে শুয়ে আছো, আর নদী বয়ে যাচ্ছে শরীরের ওপর দিয়ে,দূরের পাহাড় বেয়ে নেমে আসছে শোণিত ফল্গুধারা... বিশ্রুত পাখীডাকে এ জীবন আসলে অর্ধ-দগ্ধ, ফোকলা এক না-মানুষী উপক্রমণিকাই...