শেষ অলীক

অতনু বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিদ্যুৎলেখা ঘোষ




রীতি মেনে কিছু হয় না জানি, গোঁয়ার গোবিন্দের এই
তাকানো করিশমা সরাতে সরাতে ভোর হল। রাতের
বাসিটুকু আর এই ক্ষেত্রফল পেলমেটের কোনায় লাগিয়ে
শহরে ছড়াতে ছাই বিষুব
আর খোঁচা দিয়ে জানালায় ফেলে আসা
ভাগের অসংখ্য পরিহাসগুলি এই ব্লেড নামক
বিস্তারের দিকে
ছুঁড়ে দিতেই নগর কীর্তন চায় গ্লাসের রেখে আসা জল। জলের তলায় রাখা অলীকের শেষ বায়নাগুলি।


সরানো দ্রাঘিমা ছেয়ে আসছে পুজো মনে করে, মেধায়
কাটানো ভোর শুধু ভুলে গেলো এখনো দেওয়ালে যতখানি
রাত লেগে আছে তার বিশ বাঁও খেরোর খাতায় মিশে
আছে অলীক বাসনা । পুজো, সেতো মিলিত মানুষের
ফুল বেলপাতা । অথবা সিঁড়ি গুণে উঠতে
উঠতে যতদূর বাড়ি দেখা যায়, ততদূর অলীক ।
মধ্যমা পাঠাচ্ছে পাখিদের রব। টাওয়াল দিয়ে
ঢেকে রাখা কিছুটা চোখের পাতায় এখনো মন্ত্র উচ্চারণ ।
তারপর গোঁত্তা খেতে খেতে একটা বিছানার দিকে এখনো
বেঁধে রাখা অলীক । দরজার কাটানো অলীক ।

শেষটা ভাবতে ভাবতে এই ওভেন মাতানো রান্নাপত্র। মাসের
কিনার। প্যাভিলিয়ন থেকে নোটস পাঠাচ্ছে কমরেড যুথিকার
রাম্পের দিকে। নগ্ন মানুষের কোথাও তো হাটের বাজারে
চাপানো অলীকেরা সব ভোর হলো। সাম্রাজ্য পেলো।
কিউ খুলে নেমে আসছে পাতা । বারি ভেঙে নিয়ে যাবে
জল। আর এইসব ভাবতে ভাবতেই পিঙ্কি ফ্রয়েড
গোলাপি বেলুন ওড়ালেন। মিশে যাচ্ছে গানের পাড়া।
যে পাড়ায় অলীক সুন্দরী আজ সন্ধ্যায় গাইবেন বুকের বাহার ।

হোমের নিরাপদ যতটাই দেখা যায় চারপাশে । ততটাই
মাস্তুল। আর ততটাই ট্রেজারি থেকে এঁকে আনা নতুন
বছরের দানাপানি।
পারি না বলছে না দানা। গুঁড়োও বলছে না আজ
ছিটকে যাবে না সওয়ারের কাছে। সারাই শোনাতে ।
হ্যান্ডব্যাগ থেকে যে চাবির গোছা রাখা হল , তাদের শরতে
দেখি খুঁটে খায় অলীক টেবিল। নিকনের চোখ।
ছাপের বেহায়া নিয়ে
নিজেকে এসবের মাঝে বড় ইদানীং লাগে। শিস্ জলে
ধুয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে পাড়ের শিরা উপশিরা।
ব্যথার সাটারে আজ যতগুলো ক্লিক, ততক্ষণ লিখতে
পেরেছি পত্রবাহকের স্বরগ্রামে।
তুমি বাহরিন। তোমার তীব্র আলোর মাতৃকায়
যে অন্তর্বর্তী এখনো ঝাঁপিয়ে পড়ে -- তাদের
মেঘে মেঘে আমিই পাঠাবো উঠোনের অলীক ।
দু চারটে ডিপো ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া ঘোষিত অলীক ।

চমকে উঠা অবসর নিয়ে আনন্দের উপায় খুঁজতে
চলে যাচ্ছে আকাশ । বসানো তালিম তার শীত পাঠাচ্ছে
নদীর দিকে। মলাটের তারা খুলে কেউ পড়তে শুরু করলো।
তালে তালে জলের রুটম্যাপ। বোজানো ডানার ভেতর
মানুষের গানই এখন গাইছে অলীক।
বাচ্চারা আর নিরপেক্ষ নয়।ক্যাডবেরি হাওয়ায় ওদের
মাউস টাঙানো পর্দায় লিখে রাখা পড়ন্ত নিয়ে
মায়ের অপেক্ষায় যে বিনিময়ের বিপদ
তার দু চারটে গোলাপ এখনো অলীক বাজারে দেখো গুটিয়ে
ফেলেছে মেঝের জন্মান্তর ।
রং- এর হ্যাভ থেকে নিজের কাঁথায় ওড়া সবুজ কোলাজেই।
তারপর দাঁড়ালেই স্থির। দাগের পিছল বানানে গলে পড়া মোম
আর ঝুটমুট ত্রাণের অলীক।

প্যামপার অলীককে ফিরতি ট্রাকে পাঠিয়েছি জুতো
পরিয়ে । জামা পরিয়ে। জরুরি মায়ের বাচ্চারা এইসব
দেখেছে সারাদিন । তোমার উপুড় পাল্লায় প্রতিটি ভূমিকা
সমেত ফিরে এলো কাঁপন। আর ডাকতে ডাকতে
পুতুলের হাঁটা শিখে নিলো এইবার উঁচু উঁচু গোলাপি অলীক ।
আমাকে জেরক্স কোরো না। শুধু স্ক্যান করে দেখো
বোতামের পোয়াতি থেকে সূচিপত্রের যে ফিতে খুলে
গেছে, তাই দিয়ে এখন ফেনাদের দোহাই । ফটোদের ধরে বসে থাকা ।
হাঁটু মুড়ে এখনো কল্প বিজ্ঞান আর কমিকস্ মাদুরে
এই যে থমকে দাঁড়ানো
সেই ব্যবধান ঢাকনা খুলছে। হাওয়া । লাগামহীন বছরের
তারিখ । আর জ্বলছে ক্যালেন্ডার মাখা নিউইয়ার।
বাজিতে বাজিতে পিকস্ ভাঙছে তখন অ্যাশট্রের
নতুন অলীক।
************


ঢাকে কাঠি পড়লো। ইচ্ছের কাছে হাঁটু মুড়ে বসি , একটা নগ্ন ভোর দাও আমায়। আর মুঠো মুঠো সাদামাটায় কমলার ফোঁটা দেওয়া ত্বক। যার গায়ের গন্ধে জনসন হার মানে । আর বাইফোকাল মেনে নিতে কিছুটা কসমিক স্পষ্টতা । এসব অরিহন্ত বলতে বলতে মগজে কু ঝিক ঝিক...। দূরে দূরে বেশ কয়েকটা স্টেশন। পাড়ি জমিয়েছিলাম কবে কোন নীহারিকা বেয়ে সেসব হাইবারনেশনে থাকে বলে হয়তো ক্রমতালিকা বলে দিতে পারি না। তবে কোথাও কখনো যাওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে পরিত্যক্ত টায়ার, ট্রেনের বাঁশি, দূরপাল্লার হর্ন সেসব মনে করিয়ে দিতে সাহায্য করে । কোথাও না যাওয়ার রেললাইনের উপর জং ধরা ওয়াগনগুলো জড়িয়ে ম্যালেরিয়াপাতা লতাগুল্মে পুরে রাখা আছে পূর্বজন্ম। কেবল ভোরের শহরের পাগল জানে সে খবর। একবার পিছু নিয়েছিলাম, ঘুরে ঘুরে ওরা কার সাথে শরীরের কাদা ছোপ আর চুলে জড়ানো আঠার খবর ফাঁস করে সেকথা জানতে । হাঁ মুখো ওয়াগনের ভিতর দেওয়ালে পাগলদের বিড়বিড় ধাক্কা খায়। তারপর অলিগলি পেরিয়ে মাথার ভেতরে রাস্তা তৈরি করতে চায়..। বিস্কোরণ.. ধোঁয়াশা কেটে যাওয়ার আগেই আবার..আরো অসংখ্যবার.. অসংগঠিত শ্রমিক , সবুজ খুন ভূভাগ , গান পয়েন্টে সত্তরোর্ধার শরীরের পরে কিশোরীর উপর উপর্যুপরি..কিনারে খাঁজে ঘসা লেগে ঠিকরে ওঠে অলীক ।
দশ দিকের প্ররোচনা মাড়িয়ে গেলে তুমি জয়ী । আমি কেবল অনুমান করে নিই এই কনস্টিলেশানের সমগ্র ঘন ফল মানে অলীক । অথচ ভূর্জপত্রে এখনো কত শত জামিনের অ্যাপিল । ওদিকে বেলতলা ফুল বেলপাতা আর দেবীর বোধন । জানলার পাশের সিটে বসে দেখেছি উল্টো দিকের সিটের ছেলেটাকে গুঁড়ো চিনি বসানো টফি ছাড়া আর কিছু মনে হয়নি । ওর কর্নিয়া নিকন হয়ে উঠলে যতদূর পাশাপাশি দৌড়নো কাশ দেখে নিতে সুবিধে হতো । যেটুকু বর্গক্ষেত্রে লেপ্টে আছি তার বেশি জয়ী হয়ে উঠতে পারিনি । বরং প্রথম ঋতুদাগের পর শুরু হয়ে গিয়েছিলো ভুতের আলাপচারিতা । মাঝে মাঝেই এ ডাল সে ডাল তারপর আবার দাঁত ক্যালানো হাসি নিয়ে দুই ভুরুর মাঝখানে তার ফিরে আসা । এর নাম আসক্তি দেওয়া যেতে পারে ।
অন্ধকার টানেল পেরোতে পেরোতে ভাবি আগের হল্ট স্টেশনে যার লটারি টিকিটের শেষ তিনটে সংখ্যা মিলে গেল সে , নাকি দীর্ঘ সময় অন্ত্রে বর্জ্য নিয়ে হাঁসফাঁস করতে করতে অবশেষে স্টেশনে সুলভে মুক্তি দিতে পারলো সে সাম্রাজ্য পেলো । ফিরে আসার পর ভুতুড়ে আসক্তি তাকে ধুয়ে তুলতে তুলতে যেসব কথা বলি সেসব শুনে সিং দরজা ও খিড়কি দুটোর গায়েই লিখে রাখে তার বিজয়কাহিনী। তারপর যাবতীয় পাওয়া শূন্য করে, পূর্ণ করে যেভাবে গর্ভিণী আশাবরীতে , গারো পাহাড়ে মাদলের বোলে সেভাবে মিলে যায় ব্যালান্স শিট ।
সাদা কাপড়ের হোমে তবু কিছু অধিকার থাকে । একটি ভিক্ষাপাত্র , পরিধেয় দুখানা । যেখানে আলাপের শুরু তারপরও তো অনিবার্য ছিল তান - জোড় - মার ডালা...। দিনগত বেহায়া ঝলক তেমনি অবিরাম অবচেতন প্রবাহে কতখানি আরও ভেসে যাওয়া যায় অলীক সাঁতরে ? অন্তর্বর্তী ক্ষত চেয়েছে প্রলেপে ' কেবল ' আশ্লেষ। চলার পথে ধুলোর সঙ্গে পোকামাকড় সরাতে তাই অধিকারে থাকে সম্মার্জনী আর এইসব প্রেমকলা লিপিবদ্ধ করে রাখতে পুঁথিপত্তরও। এমনই আবহে আছে বহিলারা , ধারাপাত , অম্বিকা নগর , পরেশনাথ । সুতোর আঁশ কিংবা পাহাড়ে ওঠার সরঞ্জাম কিছু পাওয়া যায় নি আকাশ ঝাপানো জামার ভিতরে । গাঢ় নিঃশ্বাসে বুকের ভিতর ঘুলঘুলিতে প্রবেশ করে অলীক সুরভি ।
যেটুকু বর্গক্ষেত্রে লেপ্টে আছি তার বেশি জয়ী হয়ে উঠতে পারিনি । আমি কেবল অনুমান করে নিই এই কনস্টিলেশনের সমগ্র ঘন ফল মানে অলীক । কুন্দলপুরের শিশু বিদ্যালয়ে উচ্চগ্রামে আবৃত্ত হয় যেসব নীতিমালা , কিছুদিন পরে সেসব মিথ্যে হয়ে যাবে কারো কারো কাছে । রিড ওনলির পর মুছে যাবে মাউস ক্লিকে । তবু ও ছোট ছোট ঢেউয়ের মাথায় এখনও নৌকো চতুর্যাম । সিলি সিলি করেও পাঁচটি শীল , পারা না পারার ক্রিজ লাইনে পিছলে সামলে যেতে যেতে । এই যে তিন ভাগ সরসতা , ওর চেয়ে ভালো ড্রাইভার আর দেখিনি । জলের রেখা ধরে রুটম্যাপ পেয়ে যাই আসক্তির ভিতর আপাদ স্নানে ।
....universe, a part limited in time and space. He experiences himself, his thoughts and feeling as something separated from the rest, a kind of optical delusion of his consciousness. This delusion is a kind of prison for us, restricting us to our personal desires and to affection for a few persons nearest to us. Our task must be to free ourselves from this prison by widening our circle of compassion to embrace all living creatures and the whole of nature in its beauty....

মৃতদেহ থেকে আড়াল তুলে নিলে ফেরা লেখা থাকে । জ্বলন্ত রাবণের গা থেকে খুলে পড়ছে দশেরা । সেদিন মর্গ থেকে বেরিয়ে পড়েছে একটা দুটো অলীক । মৃত বধূটির আনন্দ অবসরে । যতক্ষণ তার আসক্তির কাঁধে সহবাসে সে, ততক্ষণ এই রণিত গ্রস্ততার নাম দেওয়া যায় তীর্থঙ্কর । অলীক আর আসক্তি দোসর হয়ে বহু যুগ আগে পাশাপাশি বহু দূর হেঁটে গিয়েছিলো একই অন্বিষ্টে নীল সুরের মিহিন শুনতে শুনতে । মৃত বধূটির কানে সেই সুরের পোয়াতি দানা এসে ছুঁয়ে গেল বুঝিবা । জামার খুঁটে চোখ মুছে সঙ্গে সঙ্গে ছিলো ছোট ছোট পায়ের...অলীক সুন্দরী.....