মিলন হবে কত দিনে . . .

তপেশ দাশগুপ্ত ও রঙ্গন রায়

চাঁদনি
গলা ফাটিয়ে সুনন্দা কে কখনো ডাকতে পারিনি
বুকে তার ফাটা ফাটা দাগ রয়ে গেছে

রসদ
আমি আর বিজন
জঙ্গলে গাছের তলায়
দুজনের হাতে রাইফেল
একা হলে দুজনেই সুনন্দাকে ফোন করি
দুজনের ঐ টুকুই সুনন্দা
দুজনের হাতে রাইফেল টোটাভরা

ফেলে আসা জীবন
বাড়ি মেরামত হচ্ছে
সুনন্দা কয়দিন প্লাস্টারিং কে ওয়্যারিং বলে বলে মাথা গুলিয়ে দিচ্ছে
ওর বাবা ইলেকট্রিক্যাল আমি সিভিল
ওর ওয়্যারিং কে এখন আমি প্লাস্টারিং বলে ধরতে পারি

নদীর পাড়ে
দিনশেষে সুনন্দাকে ফোন করবো
নির্জনে নদীর পাশে এসে দাঁড়ালাম
মোবাইল খুলে সুনন্দাদের চড়া ফ্লুরোসেন্ট বাতির ঝাঁঝ চোখে এল
অন্ধকারে দাঁড়িয়ে ঐ আলোর দিকে কথা গেলে টিউনিং মেলে না
মোবাইল রেখে দিই
অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা আর একটা লোকের সাথে কথা বলি
এইভাবে একদিন ফোনের ব্যাবহার কমে যেতে পারে
কথারা অমোঘ হয়ে উঠবে
বাসনের হিসেবের সাথে কাচভাঙ্গার হিসেব জুড়বে না
সুনন্দা ততদিন থেকো
অন্ধকার নির্জনে আমরা দুজনে কথা বলব

রুপকথা
আমাকে যারা কবিতা লেখা শেখাতে চেয়েছিল
সুনন্দা কে তারা দেখেনি
।***********

অন্ধকার করে এলো নদীর জলে। আগুন নিভতে নিভতে ছাই। কালির মতো ছলাৎ শব্দে এ সুহেনারা সফর ঘোর লাগিয়ে দিলো। করলার শীতল হাওয়া গোধূলীকে চুম্বন করে চলে যাচ্ছে নৌকার ছই। গাঢ় জলের তরঙ্গ দুলে উঠে আসতে পারে প্রেম। বর্ষায় ভিজতে ইচ্ছে করতেই পারে তা বলে শরতে?
সদর গার্লসের নীলসাদা রিবন দেখতে পেয়ে যেতে পারো হে সন্ধ্যবকাশ। এই নদীর উপরেই দোলনা ব্রীজে অপেক্ষা তোমার জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে। সাইকেল চেন ছিড়ে অকেজো। তুমি কি বোঝোনা আমার বুকের চিনচিনে জ্বালা? মাথা হ্যাং হয়ে যাচ্ছে কদিন , খুব কষ্ট - একটা লেখা নামছে না - একটা বই পড়া হয়ে উঠছেনা কিছুতেই ... তোমাদের বাড়িতে কারেন্ট আছে? তুমি নিজেকে বন্দী করে রেখেছো কেন? নিজেকে বন্দী রাখা ঠিক নয় , দেখছোনা কেমন জলো হাওয়ায় ভরে উঠছে জলশহর . . . এভাবেই তো হেঁটে যেতে পারি অ্যালি থেকে আড্ডাঘর। নিজেকে বন্দী রাখা ঠিক নয় সুনন্দা , অথচ এখন জানালা খুলে দেওয়ার সময় ফুরিয়েছে , পাখি সব ফিরে যেতে যেতে তোমারই প্রতিক্ষায় ইলেক্ট্রিক তারে ঝুলিয়ে দেওয়া ডানায় মেলে দিয়েছে প্রেক্ষাপট -
আমার এত হরতাল এত টরতাল কিচ্ছু ভাল্লাগেনা সুনন্দা , এসব রাইফেল আমি বিক্রি করে দেবো ,নিয়ে আসবো অজস্র রিফিল , তোমাকে চিঠি লিখতে বসতে হবে সমস্ত রাত . . .
হে পেপারওয়েট ,তুমি তো সাক্ষী এই ফ্লুরোসেন্টের চড়া আলো। এইমাত্র হাইমাস্ট লাইট জ্বলে উঠতে পারে , গোধূলির বিষাদ ভরা যে লোকটা এইমাত্র নদী থেকে উঠে এলো সমস্ত শরীরে জল নিয়ে - ফোটা ফোটা করে ঝরে পড়ছে তোমার অশ্রুর মতো - তুমি কি এখন কাঁদছো সুনন্দা? তুমি কাঁদলে সমস্ত জলপাইগুড়ি তে ১৯৬৮ ফিরে আসতে পারে . . .
একটা নীল খামে ভরে রেখেছি এইসব অ্যান্ড্রয়েড দিন - এভাবেই আমরা আবার শুরু করে ফেলতে পারি টেলিপ্যাথি। কদিন আসতে পারিনি বলে তুমি কি রাগ করেছো সুনন্দা? বাড়িতে রাজমিস্ত্রীর কাজ চলছে , আমার সংগ্রহের মোটামুটি সংখ্যাগুরু বইগুলোকে তুমিতো দেখেছো অজস্রবার- সেগুলোকেই একটু খাতির যত্ন করে নিতে . . . আহা! সেই নির্জন লাইব্রেরীতে তোমার সামনে বসে থাকার সেই ইচ্ছা ... আমি এইখানে রোজ দাড়িয়ে থাকতে পারি , তুমি রোজ না এসেও আমায় ভুলিয়ে রাখতে পারো এ এমনি সুরমূর্ছনা - এ এমনি ককটেল জাদু . . . 'মুসাফির হুঁ ইয়ারো' বেজে উঠছে বেহালার তারে , এক অভাবনীয় টানে খুলে যাচ্ছে সমস্ত আঢাকা ... আমি পরতে পরতে জড়িয়ে নিচ্ছি এই অভিমান ...
হে বেহালাবাদক , তোমার সঙ্গে বদল হচ্ছে ভালবাসা , তুমি কি এবার বাজিয়ে উঠতে পারো দেহতত্ত্ব - ভাটিয়াল সুর ... এ মাটির অসীম কৃপায় তুমি গান হয়ে ধরা দিয়েছো নিরীশ্বর -
" আর না হবে মোর মানব জনম "
আহাহা! সুনন্দা , তুমি কি শুনছো এই সুর এই কথা - ঘড়ির কাটা ছুঁয়ে চলে যাচ্ছে সন্ধ্যা - জ্বরের পারদ নেমে যাচ্ছে আচমকা - অনেকটা অবকাশচিন্তাসুর মগ্ন হয়ে কাটিয়ে দেওয়া , সন্ধ্যের তীব্র ভালবাসা শাড়ির মতো খুলে নিচ্ছে নগ্নতা। মাথাটা ফাঁক হয়ে যাচ্ছে আর টোটোয় চড়ে তুমি বারবার ফিরে যাচ্ছো বান্ধবী . . . অজস্র ঝিঝিপোকা মনে পড়িয়ে দিচ্ছে 'জয়দেব'


"স্পর্শ সুখ , চঞ্চল সে নয়নের দৃষ্টিরসযুত ,
মুখপদ্মসৌরভ সে , সুধা - স্রাবী বঙ্কিম বচন ,
সেই বিম্বাধর শোভা , চিত্তে মম রয়েছে মুদ্রিত ,
মন লগ্ন তার মনে , ------ কিসে বাড়ে বিরহ বেদন? "

ধীরে ধীরে সকলেই ফিরে যাচ্ছে ডিয়ারের হাত ধরে
হে অপেক্ষা , তুমি কি এখনো অপেক্ষা করতে জানো? এভাবে বারবার চিন্তার স্রোত চলে আসে মাথায় , রাত ৮ টার পা ছুয়ে ফিরে যেতে হবে নতুন পাড়া - নখের ভেতর জমে উঠছে আজকের এই দেখা না হওয়া ... তুমি তো আগে বারবার মাথা গুলিয়ে দিতে , তোমার ভুল গুলো আমার কাছে ঠিক হয়ে যেতো।
রাত্রির কৃষ্ণগহ্বর প্রিয় কিছু সহবাস মনে পড়ে যাচ্ছে , এ তো সবে শারদবেলা - শীতকাল কবে আসবে সুনন্দা? তোমাকে চিৎকার করে ডাকতে পারিনা বলে তুমি কি ফের আঘাত দিয়ে যাবে? তোমার ঠোঁটে ফাটা ফাটা দাগ মুছে ফেলো বরং , ভেস্লিন হয়ে যাক ঘুমন্ত ঠোঁট . . . তোমার চুলের গন্ধ - শরীরের গন্ধ চাপা পড়ে যাবে কমলালেবুর আড়ালে , শীতকাল আসছে শীঘ্রই , রিক্সার আড়াল থেকে ভুরু তুলে তুমি এক জানালা কপট ভালবাসা ছুঁড়ে দিও ,
আমার গোড়ালির ফাটা দাগ মুছে যাবে
আমার বুকে জ্বালা জুড়িয়ে যাবে
আমার জ্বরের ঘোর কেটে যাবে
আমি আবার কবিতা লিখে ফেলতে পারবো , কেউ শেখাতে আসতে পারবেনা সুনন্দা , ওরা তোমায় কোনদিন দেখতে পারবেনা - আমি কি তোমায় সত্যি সত্যি দেখে ফেলেছি?
চিমনির ধোঁয়ায় চোখে জল চলে এলো , তোবড়ানো বিয়ারের ক্যান পড়ে আছে , পড়ে আছে সিগারেটের ছাই ...
কবিতা লেখার খাতা ছুঁড়ে ফেলে দিতে নেই , সুনন্দারা চলে যেতে পারে . . .