শালিয়ানা

রমিত দে ও পিয়াল রায়



“ তেতোমুখে সীমান্ত সিঁদুরের দিকে উড়ে চলেছে তুতিপাখি
আর গল্প তৈরি হচ্ছে একটা গাছতলা নিয়ে

ছোটখাটো ইটের টুকরো , পেঁপের ডাটি
গড়পড়তায় পা ছড়িয়ে বসে কি বিরাট প্রশ্রয়
আত্মীয়ার প্রস্রাব থেকে উঠে আসে আত্মার সনাক্তীকরণ
আর পাখিগুলি তাদের প্রকাশিতে বিভক্ত হয়ে যায় ...

চোখের ঠুলি খুলে পড়ে গেলে মায়ের পাগল ছেলের
প্রতিটা অন্ধতাই হালিশহর আর কুমারহট্ট ছেড়ে অপরাহ্ণের দিকে গড়ায়

এসো, গড়িয়ে এসো, গতরাত্রিতে দেখা স্বপ্নের মতন
ঠিকঠাক খুঁজে বের করো সেই অস্থিরতা, বৃষ্টির বড়
ফোঁটা পড়ল যার উপর এইমাত্র
এসো, একটি আয়নাকে তুমি তুচ্ছ প্রতিপন্ন করো

হেডলাইটে ধাঁধিয়ে যাওয়া হত্যা দেখবে বলে
আজ বোবা বৃহন্নলা জামার ভেতর লুকিয়ে নিয়ে এসেছে জানলা
আমরাও মাটি তুলছি গাছের ভাষা থেকে
ভাষা থেকে ভর তুলে ফেলে দিচ্ছি থালার বাইরে
উড়ে আসছে অসংখ্য সপ্লিন্টার ...

সংকর রক্তের উপর কলের গান চালিয়েও
এই গল্প আমরা গাইতে পারছি না কিছুতেই ...”


ইচ্ছে না হলে ফিরবো না। ইচ্ছে না হলে ফুটবো না ফুল হয়ে। যে যেভাবে ভালো থাকে সে সেভাবে ভালো থাক। মধু বুকে সুরভিত থাকা ফুলের ভালো থাকা। সেই মধু আহরণে মধুপের ভালো থাকা। ভালো থাকার ইচ্ছে নিয়েই মেঘ জমে, বৃষ্টি হয়, ধুয়ে যায় ম্লান তারিখগুলো। এইসব আবেগ যদি না মথিত করে, দলিত করে, ছিন্ন করে, ভিন্ন করে তোমারই সত্বা থেকে তোমাকে ,কবিতাকে ছুঁতে পারবে না তুমি। অথচ এখন কবিতাকে বড় প্রয়োজন। হৃদয় তো আর ভেজা পোশাক নয় যে রোদে দিলেই পরিধানযোগ্য হয়ে উঠবে। সে নিয়মিত চর্চা দাবী করে বসে। কি এক বিষণ্ণতার ছায়া ঘিরে থাকে হৃদয়ের আশপাশ। মেঘলা মাঠের দিনেও ভাসে না জলজ হাওয়ার স্রোত। কেউ একজন ঘুমিয়ে থাকে। নিঃশব্দে তার চুলে প্রেমের মন্ত্র পড়ে কোনো অশরীরী হাত। সৌন্দর্যায়ন ঘনীভূত হতে থাকে মিঠাপানির মতন। তবু সেই লাল মাছ, নীলমাছ , সবুজ মাছের দল লুকিয়ে থাকে জানলা ঘিরে থাকা বারচের ছায়ায় ছায়ায়। মুখ ফোটে না তাদের। শুধু চোখে চোখে মিলিয়ে নেয় দরকারি কথা অথবা মনে পড়ার সান্ধ্যসঙ্গীতগুলি। এ যেন সেই চিরায়ত কাছে আসা দূরে যাওয়া, দূরে যাওয়া কাছে আসার পূর্বপাঠের পুনরালচনা। একটা মেঘ তারপর আরেকটা মেঘ তারপর আরো একটা মেঘ পেড়িয়ে যাওয়া শুধু – মেঘের কালো রাস্তাটা আর শেষ হয় না কোথাও। সুতরাং নিজের কাজটি করে যেতেই হয়। আয়নার থেকে দূরে যেতে পারো তুমি কিন্তু নিজের ছায়াকে কীভাবে ভুল বোঝাবে? চোখদুটোকে ঘুম পাড়িয়ে রাখবে তুমি, মন কে বশীভূত করবে কোন বিদ্যায়? সদাই ধেয়ানে যার শব্দের একান্ত ঘূর্ণমান একাকীত্ব ? এক মারণসময় তন্ত্রের প্রতি স্পন্দনে পুরনো মুদ্রাদোষের মতো ফিরে ফিরে আসে। তাকে আসতেই হয় নইলে সে বাঁচে না। তুমি তো অসমর্থ নও চোখের ভাষা পড়ে নিতে, কারো না-বলা কথার আকুতি তোমায় ছুঁয়ে থাকে দিনভর তবু তোমার হাতে বাজেনা আত্মার নির্ঘুম একতারা। মাত্র একটা তারেও বাজিয়ে তোলার ক্ষমতা নেই ঝঙ্কৃত প্রলয়ের নতুন অধ্যায় ! সবটাই বড় অল্প, বড় হীন, বড় সংকীর্ণ। একটা বই যার মাঝের কয়েকটি পাতা ছিঁড়ে কেউ বানিয়েছে কাচের বাড়ি, কেউ তুলেছে নির্বিকার ঝড় আবার কেউবা অণুবীক্ষণের নিভৃতে ফুটিয়েছে অসুখের গন্ধ। অপেক্ষা তাই আরও এক সমার্থক শব্দ হয়ে ওঠে তোমার নামের। তাই শৈশব নয়, কৈশোর নয়, যৌবন নয় – চোখে ভাসে চিলেকোঠা আর মাতাল হাওয়ায় উড়তে থাকা লাল চেকশার্ট।


“ গাঁদাফুলের গন্ধ ঢুকে বসে আছে কুয়াশা টাঙ্গানো মানুষের গভীর বনে ...
স্নানের মাথা সর্দিতে খুব ভারী
দুশো বছরের স্যাঁতলার ওপর দিয়ে তবু সে সাবধানে হাঁটে
তবু সে উড়ে যাওয়া ফানুসদের ধরে ধরে
ফেনার মূল্য বোঝানোর চেষ্টা করে

আর ওই সাবানের গায়েই হেলান দিয়ে আমাদের
সূর্য না লাগা সিঁড়ি
ছোট ছোট লালমরিচ থেকে আমাদের নতুন বউ
নটে চচ্চড়ি সেলাই করে সারারাত শুকনো খটখটে

তক্ষকের ছায়ার তলায় শুধু চানের দোকান
তবু সে ভিজছে না
কেউ বলছে না ভিজে আনাজের মজুরি বেশি

তবে কি খিল যদি পচে যায় তাই প্রতিটা দরজাই দন্ডিত !
চুল উঠে গেলেও চুন দিয়ে শূন্যতা মোছে প্রতিটা দেওয়াল !

শুধু কুড়োচ্ছে তালশাঁস, শুধু কুড়োচ্ছে মেয়েটিকে
আর মেয়েটির আদুরেপানা দেখছে ওর ভেতর ঘাপটি মেরে বসে থাকা মেয়েটি

যেন স্কুল থেকে এখুনি বেরোবে মানুষের তাড়া খাওয়া ডাঁড়াস
জলরঙে আঁকা জঙ্গলটা শুরু হবে এখুনি ...”



তুমি কবির কাছে , গায়কের কাছে, রাজনীতিকের কাছে, নগরের প্রধান দৌবারিকের কাছে, অর্থনীতিবিদের কাছে, প্রকৃতিবিদের কাছে, সমালোচকের কাছে, আধিকারিকের কাছে গিয়ে হাত পেতে দাঁড়াও। সেই ছোট্ট মেয়েটি যেমন চেনা-অচেনা- স্বল্পচেনা মানুষের কাছে হাত পেতে বলে ‘দাওও’ তুমিও তেমনি হাত পেতে বলো, ‘ দাও, তোমার হৃদয়ের আলো থেকে একটু আমায় দাও, আমার হৃদয়ে বড় অন্ধকার’ । কেউ দেবে না। দিতে চাইবে না বলে নয় তাদের কাছে নেই বলে। পৃথিবীর সব হৃদয়ে এখন অন্ধকারের চাষ। ঘন , তরল , অর্ধতরল, গ্যাসীয় অন্ধকার। রোদ বিমুক্ত, আলো বিমুক্ত , হাওয়া বিমুক্ত কুঠুরিটিকে বেশ করে আগল দিয়ে সুদৃশ্য আসবাবে সাজিয়ে তারা ভালো আছে। সেখানে তোমার মতো অনাহূতের প্রবেশ নিষেধ। অন্ধকারে তোমার হৃদয় ধীরেধীরে কালো হয়ে যাচ্ছে। কালো জলের নদী বেরিয়ে আসার আগে তুমি ভালবাসতে চাও কোন এক জন্মান্ধ মানবকে। রূপমোহ বিভাসিত অজ্ঞতা তোমাকে ছায়া দিতে পারেনি। হৃদয়ের অবিভাজ্য ছায়ার আশ্রয়। তুমি এক জন্মান্ধ যুবকের কথা জানো যে ক্ষয়ে যাওয়া মানুষের গল্প বলে। যার কোন মার্সিডিজ বেনজ নেই। আছে শুধু আয়ত দুটি দৃষ্টিহীন চোখ। মানুষটার প্রতিটা গল্পে এক একটা অশ্রুর রঙ একেক রকম। এই মানুষটাই একদিন তোমাকে বলেছিলো, ‘চোখের জল বড় নিষ্ঠুর , নিজের পাওনা আদায় করে নিতে জানে’ । মনে মনে জেদ তৈরি করে দেয় মৃত্যুর সুঘ্রাণ একদিন স্পষ্টভাবে নিতে। সেই শেখাবে তোমায় কীভাবে মেলে ধরতে হয় , কীভাবে মিলিয়ে নিতে হয় ইন্দ্রিয়ের সাথে অতীন্দ্রিয়ের চেতনাপ্রবাহকে। তুমি তো এখনো তার সন্ধান পাওনি যাকে পেলে সর্বাগ্রে আসে ভালোবাসা। তুমি যা পেয়েছো তা হল অসুখজারিত কতকগুলি ক্লিন্ন দীর্ণ নৌবিদ্যা। তাদের না আছে রূপ, না আছে রস, না আছে ব্যাপ্তির অভিমান। আছে শুধু বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র। একটা নিরেট দেওয়াল যেখানে ধাক্কা খেয়ে মৃত্যুও গোহারা হেরে হয়ে পড়ে জড়বাদী।


“ ফিলে করা ভেটকি , ওতে শালফুল গুঁজে দিলেই
একটা সোনালি মথকে সেমুহূর্তে খারিজ করলো একটা রূপোলি মেয়ে
স্মৃতি আর সরণের মাঝে এই সেই সূক্ষ্ম দ্বন্দ্বযুদ্ধ

আমি তার কথা বলতে পারি যার পাতা খুব কালচে
সে আমার কথা শুনতে থাকে যার কাণ্ড বড় শক্ত

আমরা আসলে বালিশে মুখ গোঁজা বেগুনী ব্যথা ছাড়া কিছু নই
শোওয়ার ঘরটা রয়ে গেছে শুভেচ্ছা জানিয়ে
রান্নাঘরটাও একই ভাবে রাধার শাপে
নেই বলতে কেবল অবতারণার মুহূর্তটি

খোলাখুলি বলেই ফেলি বয়সটা বুঝতে শিখিয়েছে
ঠোঁট চিপে ফিকফিক হাসা মানে
হরিণের গন্ধবহ বাতাস নিরস্ত্র এতদূর এসে পড়েছে
আর আপনি হাড়কাটা গলির সামনে দাঁড়িয়ে ভাবছেন
বোধহয় চটিজোড়া ফেলে এসেছেন অর্থপূর্ণ সাঁকোর কাছে

ইতিমধ্যেই আপনি মারা গেছেন
অথচ তুখোড় ভাবে সাজানো ঘণ্টা দুঘন্টার
শিয়ালকাঁটা আর সুড়কির চূর্ণ দিয়ে
পাখিটুকু ফাঁকফোঁকর দিয়ে মুখে পড়ছে
ওই হয়ত পিতৃপুরুষের পঙ্গু কপাল

এভাবেই খাঁচার ভেতরেই আপনি বেঁচে থাকুন
গিঁথে আছে গুপ্তঘাতক, দূরে, ওই দূরে
জানবেন গ্রিলটি সাড়া দেবে
নির্জনতা ভালো করে গোঁজা থাকলে
গুজব রটে যাবে আপনি আর কোন নদী নন
কিমবা নুড়ির ভেতর পড়ে থাকা একটা পিছল নিসর্গ

এতদিনের চুক্তি বদলে
‘বিপরীত হাওয়ায় চুলগুলো উড়ে যাওয়া গেটকিপারের সবুজ নিশান’ ...”

অনেকক্ষণ থেকে সবুজ পোকাটা জানলায় বসে লক্ষ্য করছে তোমাকে। গতরাতে ভেঙে পড়া সম্পর্কের আওয়াজ পেয়েছিল ও। তাই কিছু জানতে চাইছে হয়ত। তোমাকে নিয়ে তোমার প্রেমিকের হাজারো সমস্যা। আলোকিত বন্ধু হলেও সুবিধেজনক প্রেমিকা হতে পারো নি তুমি। কিছুটা গল্প কিছুটা ব্যক্তিগত উক্তি চালাচালি হয়েছে মাত্র। নেশাতুর হরিণের দিব্যমাল্যের বিভা তুমি তুলে এনেছো। বুকের প্রাচীন পাঠাগারে দিয়েছ ধূপধুনোর অর্ঘ্য। অথচ পূর্ণ জ্যোৎস্নায় আকাশের পাশাপাশি প্রিয়মুখ দেখনি। প্রেমকে আলিঙ্গন কর নি সৃষ্টিশীল প্রয়াসে। একটা প্রকাণ্ড মাঠ তাই শুকিয়ে গেলো শিকড়ে পানি না পেয়ে। অন্ধকারে একটা লণ্ঠন একাই দাঁড়িয়ে রইলো ভিজে জমির গা ঘেঁষে। মনে করে দ্যাখো তুমি অরণ্য চেয়েছিলে, এক ঘন নীল অরণ্য।নীল ঈর্ষার নয়, বিষাদের নয় – কেবল নীল অতলের। মাঠের বুকে ঘন আঙুল বুলিয়ে দিলে যে নীল অরণ্য জন্ম নেয় , এ হল সেই নীল। এখানে ভেক নেই আছে শুদ্ধতা। এই অরণ্যের প্রতিটা পাতায় বৃষ্টির উজ্জ্বল বিন্দুই জ্যোৎস্নার ধারনে সক্ষম। এই একমাত্র জ্যোৎস্না যা নাবিকহীন জাহাজকেও পার করে অকূল দরিয়া। মিঠে গলায় গান হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চিকচিকে বালির চরে। কোথায় সেই বাউল মুর্শিদ? তুমি যার মুরিদ হতে চেয়েছিলে? কুয়াশার ঢেউ পেরিয়ে যেতে চেয়েছিলে তিনমহলা ঐশ্বর্যে ? চোরাস্রোতে মজে সৃষ্টির আনন্দচেতনায় বঞ্চিত হয়েছ। যে আনন্দ বারবার আঘাত করেছিল তোমার বন্ধ দরজায়। তুমিও দেখেছিলে কিভাবে বসন্ত মিশে থাকে প্রতিটা বর্ষায়। তুমি এও জানো বর্ষা কীভাবে ক্যালেন্ডারে দেগে দিয়েছিলো সেপ্টেম্বরের ক্ষত। ক্ষত মানে বিশ্বাসের ইলিউশন। অথবা পরিত্যক্ত এক শহর। শুধু জেগে থাকতে হবে বলেই জেগে থাকতে চাওনা তুমি আর। শুধু হাত ধরতে বলেই তুমি চাওনা হাতে জমিয়ে রাখতে উত্তাপ। তুমি ধরিয়ে দিতে চাও নিজেকে – একথা বলেছিলে বর্ষার কাছে কোনোদিন? বলেছিলে কোনোদিন , মন্দিরে পাথর নয় দেবতাকে বাঁচিয়ে রাখতে জানে বলেই আজও পবিত্র শব্দরা ঘণ্টাধ্বনি তোলে। তুমি এসব জেনে গেছ বললেই লক্ষ হাত ছুটে এসে চেপে ধরবে তোমার মুখ কেননা মন্দির তাদের কছে এক অলীক শিল্পকলা আর দেবতা নেহাতই কাকতালীয় মুখ। “মেঘ এখানে এসে অন্যমনস্ক হয়ে যায়” ।

“ তাহার একটি ছায়া আছে
ভাবিতে ভাবিতে ছাকিয়া তুলিতে লাগিলো আলো

অনিদ্রাকে এদিক থেকে প্রকৃত সুপ্রভাত বলে আমি মনে করি
... ... ... ... ... ... ... ... ... ...

ভাবে দুলে ওঠার ভেতর দিয়ে দ্রুত হাসির ভেতর দিয়ে
খোঁচা খোঁচা নৈশ নিয়েই কি পালাবো !

আহা জল, ফুর্তিবাজ, পলুপোকার মত আমায় লুকিয়ে
সারাটাদিন কোথায় কাটিয়ে এলে ?

... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ...

ইতস্তত ছড়ানো, টুকরো, ভাঙা দ্রবণ
খাস হওয়ার আগেই খাদ্যের কবলে পড়েছে যে
ঢাকনার তলায় সে আঢাকা ...

একদা ঝড়ের রাতে গাঢ় ঘুম থেকে জেগে উঠে
বিদীর্ণ নাম দিই তাকে

অনিদ্রার ব্যুৎপত্তিগত অর্থ আলো আর খুলতে পারে না সেদিন
কেবল শব্দ করে ভেঙে যায় অপচয় ...”


তুমি ভাবছো সব শব্দকেই অপচয়ের মতো ভেঙে যেতে দিতে নেই। তুমি ভাবছো সেদিন রাত্রে নির্জন ছাদের রাস্তাটা ধরে আবার হেঁটে যাবে। আবার তাকে বলবে স্পষ্ট রোদের কথা। যদি সে রাজি হয়, বলা তো যায় না কিছুই। খণ্ডগল্পকে কি সে নিয়ে যেতে চাইবে না পূর্ণতার দিকে? চাইতে তো পারে। তুমি তো জানো তার হৃদয়ের স্পষ্ট দুটো অংশ। এক অংশে বজ্রদ্ধত পিনাকপাণির আয়ুর দখল অন্য অংশে বাঁচে সাগরজলে সিক্ত এক দিব্যপুরুষ। পোষাকে তার সুখ-প্রেম-ইচ্ছা-ধ্বনি সহ অখণ্ড বাসনার পুরাকথা। আজ এক পাগলাটে দিন। অকালবর্ষণে ডুবে যাচ্ছে বাগান। চুরি করে পাওয়া আংটিটাকে মনে হচ্ছে কারো মূল্যবান দলিলের মতো। আন জনের অথচ যেন তোমার শোনা প্রিয় সঙ্গীতের মতো। বারান্দায় ফুটে ওঠা ফুলের কোনো রেয়ার স্পিসিসের মতো। বক্তৃতায় আত্মগত অধ্যাপকের অন্ধ চোখের মতো। যৌনতার অবাধ উচ্ছ্বাসের মতো। সেই জলের অংশ অংশ নিয়ে তুমি গড়ে তুলছো বাগানবাড়ির সফেদ রাজহাঁস। যদিও তুমি জানো এ ছায়াচিত্র সামান্য কম্পনও সইতে পারে না। মুষড়ে পড়ে যেন শীতের আপেলগাছ। তারপর একদিন পাহাড়ের খাঁজ থেকে বন্যা উঠে এসে সব ধুয়েমুছে দিয়ে বইতে থাকে। সরে যায় না, পাছে পলির উর্বরতায় গজিয়ে ওঠে নতুন কোন গল্পগাছ। সেও তো তার সহ্য হবে না। আর এভাবে প্রমাণ হয়ে যায় সব বয়ে যাওয়াই আসলে কী ভীষণ মায়াবী। বন্যার পাড়ে লণ্ঠন হাতে দাঁড়িয়ে তুমি তখন ভাবতে ভালোবাসো খোলা মাঠে তুমি আসলে বন্যার সাথে যুক্ত অবিচ্ছিন্ন এক নক্ষত্রের নাম।