গভীর বৃষ্টিবিন্দুগুলি

তপতী বাগচী ও অমিতাভ মৈত্র

বসন্ত তুমি এসেছ আবার …

à§§
ঠান্ডা শীতল আলোর মহিমায় তোমাকে দেখা…ও তুমি ! অজানা উৎস থেকে আসছ… আমার আত্মার à¦†à§Ÿà¦¤à¦¨à§‡â€¦à¦¶à§‚à¦¨à §à¦¯à¦¤à¦¾à¦° মত এক নগ্নবিষয়ে আমি তোমাকে রেখে দিলাম…যতো à¦¦à§‡à¦–à¦¾â€¦à¦°à¦¹à¦¸à§à ¯à¦®à§Ÿâ€¦à¦¦à¦°à¦œà¦¾ খুলে যাবে আরো…

২
আমি তোমার কাছে দাঁড়াই আমার আড়ষ্টতা নিয়ে…রং কেড়ে নেয়া আলোর ধূসরতায় …স্বপ্নের মত অবিন্যস্ত প্রস্তুতিহ ীন…আমার নিজস্ব কথা উধাও হয়ে যায়…মুখ ও মুর্ততা ক্ষমাপ্রাঠ্ত দন্ডিতের মত দরজার à¦à¦•à¦ªà¦¾à¦¶à§‡â€¦à¦†à¦®à ¦¿ শুধুমাত্র একটি বস্তুপিন্ড …আর বস্তুর জন্য আত্মা তৈরী করছ তুমি…


à§©
শূন্যতার বীজত্বক ছিঁড়ে…কথা ফুটছে পাথরের …রং…গড়িয়ে €¦à¦¨à§‡à¦®à§‡â€¦ ছুঁয়ে দিচ্ছে কাগজ ক্যানভাস…ঠ¶à§‚ন্যকে এফোঁড় ওফোঁড়, নিজস্ব সংলাপে বুঁদ হাওয়া খেলে বেড়াচ্ছে শব্দ-সুড়ঙ্ঠ—ে…মুক্তি ঘটছে দন্ডিত আত্মার…শুঠ§à§ বসন্ত… হে বসন্ত… তুমি আবার ফিরে এসেছ বলে…স্নাত হচ্ছি …পুণ্য হচ্ছি আমি…

৪
যতটা চেয়েছিলাম কাল…আজ তার থেকে অনেক আগ্রাসী আমি…আগামী ¦¦à¦¿à¦¨à§‡à¦° চাওয়ার থেকে যদিও তা বড্ড কম…আর এই সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভালবাসার দিনে আমি তোমাকে চেয়েছি রক্তমাংস থেকে অনেক এগিয়ে…

à§«

জল…জল থেকে উঠে আসছি আমি…হাত ছোঁয়ালে আমি সময়ের à¦¢à§‡à¦‰â€¦à¦°à¦¾à¦®à¦§à¦¨à  আলপনা ভেঙে ভেঙে যাই …আর অবাক তুমি অটুট…সম্পৠ‚র্ণ থেকে à¦¯à¦¾à¦“â€¦à¦…à¦¤à¦¿à¦°à¦¿à •à§à¦¤ তো এটুকুই শুধু…!তবু তুমি ছুঁতে পারছনা…পাঠ°à¦›à¦¨à¦¾ আজো…আজো পারলেনা নিজের কাছে যেতে…যত তুমি গড়িয়ে নামছ টানা নিজের ভেতর … অতৃপ্ত… পরিত্রাণহৠন…
৬
…যাহা বলিতে চাই বৈধ শুধু নিজের কাছেই…শুধ § নিজেই বিষয়…বাইরৠ‡à¦° দিকে মেলে ধরে রাখা নগ্নতা কেটেকুটে ধুয়ে …মঞ্জুর হয়েছে রান্না…শেঠ· পর্যন্ত সে নিজেও আর তার নেই…থাকেন ¦¾â€¦â€¦à¦¹à§Ÿà§‡ ওঠে অন্য…তৈরী করা অন্য কোনোকিছু… । চারদিকে ঝলমলে প্রতিবিম্ব ের মাঝে প্রতিমুহূঠ্তে নিজেকে à¦–à§‹à¦à¦œà¦¾â€¦à¦ªà§à¦°à ¤à¦¿ মুহূর্তে ভয় নিজেকে হারিয়ে যাবার…প্রঠিমূহূর্তে আলো ছায়া বেধ এর ভেতর সম্পর্ক গুঁজে দেয়া… দূর এবং নৈকট্যের ভেতর ছিন্ন করা অস্পর্শ ব্যবধান…

à§­
সমস্ত অলংকার খুলে হনন à¦à¦¸à§‡à¦›à§‡â€¦à¦à¦¿à¦¨à §à¦•ের ডানা ভেঙে বের করে এনেছে অসহ্য মুক্তার দানা…চোয়াঠ²à§‡à¦° হাড় নীল হয়ে à¦‰à¦ à§‡à¦›à¦¿à¦²â€¦à¦¡à¦¾à ¦¨ কন্ঠার হাড় …বাঁ দিকের পাঁজর… মড়মড় করে উঠেছিল আনন্দশিহরৠ…প্রেরণার মত একটা টাটকা রক্তে ভরা হৃদয় হাতের সমস্ত আলো ঢেলে দিয়েছে স্পর্শযোগৠà¦¯ à¦ªà¦¾à§Ÿà§‡â€¦à¦®à¦¾à¦–à¦¿à Ÿà§‡ দিয়েছে বৃষ্টি…বলঠে …উদযাপন হোক…আজ শোক হোক…হা হা শূন্যতা…
à§®
তোমাকে আলোনাচ দেবো …হাতের পাতায় দেবো টুকরো অঙ্গার…দে ¦¬à§‹ নিয়ন্ত্রণহ ারা ভয়……সংকেত শিখিয়ে দেবো দ্রিদিম à¦›à¦¨à§à¦¦à§‡à¦°â€¦à¦¶à¦•à §à¦¨à§‡à¦° পাখা à¦¦à§‡à¦¬à§‹â€¦à¦®à§à¦°à¦—à §€à¦° উলটো à¦ªà¦¾à¦²à¦•â€¦à¦°à¦•à§à¦¤à ®à¦¾à¦–à¦¾ à¦¬à¦¾à¦˜à¦¨à¦–â€¦à¦¤à§‹à¦®à ¾à¦° ঝিমঝিমে ঘোলা চোখে লেপে দেবো স্বপ্নদুপু র…মায়াস্বঠ…নীচু মন্দ্রপাঠ†হাড়দন্ডে ছুঁয়ে দেবো তোমার কপাল…তুমি পিশাচ হাসিতে… চোখ রক্তলাল করে…কালো ডানায় … উড়ে আসবে হাঁ করে… …বসে আছি à¦†à¦®à¦¿â€¦à¦¨à¦¿à¦®à§€à¦²à ¿à¦¤â€¦à¦¨à¦¿à¦°à§à¦œà¦¿à¦¤â €¦
৯
à¦¶à¦¿à¦–à¦¿à§Ÿà§‡à¦›à¦¿à¦²à ‡â€¦à¦¤à§‹à¦®à¦¾à¦° আলোর বাইরে কিছু নেই আর… à¦…à¦¨à§à¦§à¦•à¦¾à¦°â€¦à¦®à ‡à¦˜à¦à§œâ€¦à¦¤à¦¤à¦Ÿà¦¾ তৃষ্ণা …ততটা বিন্দু বিন্দু জল…ভীষণ উন্মাদ স্রোত নেই তোমার বাইরে্, সামনে পেছনের ঘোর à¦…à¦¨à¦¿à¦¶à§à¦šà§Ÿâ€¦à¦†à ¦à¦¿à¦® হিংস্রতা কোথাও নেই আর তোমার মতন…ততটা আনন্দ –যন্ত্রণা-à °à¦¹à¦¸à§à¦¯à¦­à§‡à¦¦ বা…তোমার বাইরে নেই নিরুপায় জন্ম-মৃত্যৠখেলা…তুমি বলেছ বলে আজ আর নতুন মুখশ্রী খুঁজিনা…
১০
যাবে…তার আগে মুছে নিচ্ছ সম্মোহন…তৠà¦²à§‡ নিচ্ছ অস্থায়ী সেতু…বসন্ঠ¤, তোমার নোঙ্গর … উন্মাদ উলঙ্গ স্মৃতি…আধৠ‹à¦˜à§à¦®â€¦à¦®à§à¦ à§‹ থেকে খুলে নিচ্ছ উষ্ণ à¦†à¦™à§à¦²â€¦à¦®à§à¦šà§œà ‡ নিচ্ছ à¦…à¦—à§à¦¨à¦¿à¦•à¦£à¦¾à¦—à §à¦²à¦¿â€¦ রাঙা আনন্দফুল…ঠ—ভীর বৃষ্টিবিন্ দুগুলি…নিঠ°à§à¦¬à¦¾à¦¸à¦¨ এঁকে দিচ্ছ কপালে… ঢেকে দিচ্ছ যাপনের রক্তশরীর…

à§§à§§

তোমার আগে শূন্যতা ছিল।তুমি এলে।আসলে কতটা শূন্যতা জুড়ে তুমি এলে বসন্ত ? আমার শূন্যতার পটভূমি কতটা রচেছিলে তুমি? কতটা শুষে নিলে , কতটা হরণ করলে তার গভীর মহিমা ? দূরত্বের শেষে তুমি না থাকলে সেতুও তো শূন্যতাই এক…! সেতু নেই। তোমার ভিতর পর্যন্ত আমার শূন্যতা নেই কোনো।তুমি এলে সসম্মানে আর জায়গা ছেড়ে দেবেনা আমার ভারী থমথমে শূন্যতার নিরেট কালো জল…

১২

যে জলবিন্দু চোখ থেকে নেমে ইতস্ততঃ ভেসে à¦¬à§‡à§œà¦¾à¦šà§à¦›à§‡â€¦à ¦¯à§‡ রক্তফোঁটা ক্ষত থেকে চুঁইয়ে চার পাশে সঞ্চরণশীল†¦à¦¤à¦¾à¦¦à§‡à¦° লাগাতার গুঞ্জরণ শুনতে পাচ্ছি আমি…নেই…ন §‡à¦‡â€¦à¦¨à§‡à¦‡â€¦à¦†à¦® ার পৃথিবীতে আর গ্র্যাভিটঠনেই… টেনে রাখছেনা আর কোনো সুতো মাটির দিকে…আমি এখন হাওয়ায় হাঁটতে পারি…মুক্ঠ¤ …চলে যেতে পারি মহাকাশের যে কোনো দিকেই…

=০=

“…like a tree planted by the rivers of water, that brings forth its in its season, whose leaf also shall not wither…” Psalm-I. The Book of Psalms.
বেথুয়াডহরৠর সংরক্ষিত এক ফালি অরণ্যভূমিঠ° তিন/চার কিলোমিটার দক্ষিণে à¦²à§‡à¦­à§‡à¦²à¦•à§à¦°à¦¸à ¿à¦‚à¦Ÿà¦¾ এক ডিসেম্বরেঠ° সকাল সাতটায় আর ঘুমোতে পারছেনা।যৠ‡à¦¨ উদ্বিগ্ন অপেক্ষা করছে সে সূর্য ওঠার জন্য।রেললঠইনের পাঁচ-সাত হাত দূরে সারা শরীরে কয়েক পরত নোংরা ছেঁড়া কাঁথা জড়িয়ে বৃদ্ধা এক ভিখারিণী তার অসাড় শরীর একটুকরো কালো ত্রিপলের ওপর ফেলে চোখ বুঁজে শুয়ে।বরফেঠ° মত ঠান্ডা রাস্তায় দুটো কাঁথা আর একটিমাত্র ত্রিপলের সামান্য শস্ত্র নিয়ে সেই বৃদ্ধার অভিপ্রায়েঠ° বিরুদ্ধে মৃত্যুর মুহূর্ত পর্যন্ত এই মরীয়া অসম যুদ্ধ চালিয়ে যাবার চেষ্টা করছে তার প্রাণ।কর্ঠব্যে বাঁধা ঠান্ডা অসহায় à¦²à§‡à¦­à§‡à¦²à¦•à§à¦°à¦¸à ¿à¦‚ সূর্যকে চাইছে এই মেয়েটিকে বাঁচানোর à¦œà¦¨à§à¦¯à¥¤à¦—à¦¾à¦›à§‡à ° পাতার ফাঁক দিয়ে তখনই প্রাণশক্তঠহীন প্রায় দেখা যায়না এমন এক কম্পমান আলোর আঙুলে সূর্য ছুঁয়ে দিলেন মেয়টির কপাল,শিশিরৠ‡ ভেজা কাঁথার নীচে মেয়েটির পায়ে অন্ধের স্পর্শের মত অনিশ্চয়তাঠয় হাত রাখলেন।বনৠà¦§ চোখে আচ্ছন্ন চেতনায় সেই মেয়েটি তখন অনুচ্চারে হয়তো বলে উঠেছে-
“ ঠান্ডা শীতল আলোর মহিমায় তোমাকে দেখা…ও তুমি ! অজানা উৎস থেকে আসছ… আমার আত্মার à¦†à§Ÿà¦¤à¦¨à§‡â€¦à¦¶à§‚à¦¨à §à¦¯à¦¤à¦¾à¦° মত এক নগ্নবিষয়ে আমি তোমাকে রেখে দিলাম…যতো à¦¦à§‡à¦–à¦¾â€¦à¦°à¦¹à¦¸à§à ¯à¦®à§Ÿâ€¦à¦¦à¦°à¦œà¦¾ খুলে যাবে আরো…”
বছর কুড়ি আগে এক ডিসেম্বর শেষের সকাল সাতটায় আমার বাস দাঁড়িয়ে পড়েছিল এই দৃশ্যটি আমাকে উপহার দেবে বলে।তখন চাকরী করি à¦•à§ƒà¦·à§à¦£à¦¨à¦—à¦°à§‡à ¤à¦®à¦¾à¦¸à§‡ বার দুয়েক এই বাস আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়।সেই দিনটিও ছিল এমনই একটি দিন।কর্কটঠ•্রান্তি বলয়ের এই অঞ্চলে ঠান্ডা বেশী পড়ে।ওই প্রবল শীতে, রাস্তার কনকনে অ্যাসফল্টৠ,মৃতের শ্বাসের মত ঠান্ডা হাওয়ায় আর উঁচু গাছগুলো থেকে ঝরে পড়া শিশিরে স্নান করে কি করে তিনি বেঁচে আছেন এখনো!এই বিস্ময় এই ত্রাস কঙ্কাল সমেত ঝাঁকিয়ে দিয়েছিল à¦†à¦®à¦¾à¦•à§‡à¥¤à¦¶à§‡à¦·à ¦°à¦¾à¦¤à§‡ সবার অলক্ষ্যে যে বা যারা এই প্রাণান্তঠর মেয়েটিকে বড়সড় ভিক্ষাপাতৠর - যাতে চলমান গাড়ি থেকে ছুঁড়ে দেওয়া মুদ্রা যথাসম্ভব লক্ষ্যে পৌঁছয়-আর সামান্য কাপড়ে মুড়ে রেখে গেছে,দিনান §à¦¤à§‡ তারা এসে সবকিছু তুলে নিয়ে যাবে আবার।
কয়েক হাজার বছরের পুরোনো মুখ নিয়ে চোখ বুঁজে শুয়ে ছিল মেয়েটি।সে মুখে জীবনের কোনো লক্ষণ নেই।যেন এক শ্বাস নেওয়া শালগ্রাম মাত্র সে, যার অনুভূতি নেই, স্পৃহা নেই, ক্ষুধা নেই।যার উদযাপন ছিলনা কোনোদিন, আনন্দ ছিলনা।জড় একটি বস্তুপিন্ড ছাড়া তার আর কোনো ভস্মাবশেষ নেই। পরদিন আবার এই à¦²à§‡à¦­à§‡à¦²à¦•à§à¦°à¦¸à ¿à¦‚ এ নামিয়ে দেবে বলে যারা তাকে নিয়ে যাচ্ছে এখন, তারা জানেনা যাবার আগে সেই মেয়েটি সূর্যকে বলেছে-
“যাবে…তার আগে মুছে নিচ্ছ সম্মোহন…তৠà¦²à§‡ নিচ্ছ অস্থায়ী সেতু…বসন্ঠ¤, তোমার নোঙ্গর … উন্মাদ উলঙ্গ স্মৃতি…আধৠ‹à¦˜à§à¦®â€¦à¦®à§à¦ à§‹ থেকে খুলে নিচ্ছ উষ্ণ à¦†à¦™à§à¦²â€¦à¦®à§à¦šà§œà ‡ নিচ্ছ à¦…à¦—à§à¦¨à¦¿à¦•à¦£à¦¾à¦—à §à¦²à¦¿â€¦ রাঙা আনন্দফুল…ঠ—ভীর বৃষ্টিবিন্ দুগুলি…নিঠ°à§à¦¬à¦¾à¦¸à¦¨ এঁকে দিচ্ছ কপালে… ঢেকে দিচ্ছ যাপনের রক্তশরীর… ”
২
দৃশ্য আমার মাথার মধ্যে গেঁথে যায়।বছরের পর বছর নানারকম দেখার স্মৃতি আমি প্রেততাড়িঠের মত বয়ে বেড়াই আজও । সেদিন বাসে ফেরার সময় আমার মনে হয়েছিল মেয়েটি হয়তো সারাজীবন ধরে আস্তে আস্তে নিঃশেষিত হয়ে যাওয়া কুন্তী-à¦…à¦¸à§à ¦¤à§à¦°à§‡à¦° গৌরবহীন,à¦¨à¦¿à ƒà¦¸à¦™à§à¦—,পরিত্ যক্ত ,à¦…à¦¸à¦¹à¦¾à§Ÿà¥¤à¦¸à§‚à¦°à à¦¯ এখন তাঁর চেতনায় কষ্ট করে জাগিয়ে তোলা কোনো ক্ষীণ স্বপ্নের মত।তীব্র শীতে অশক্ত অস্তিত্ব আর কাঁপা কাঁপা হাত নিয়ে সূর্য যেন কী এক তীব্রটানে, কী এক অদ্ভুত ভালবাসায় অনেক অনেক বছর পর কুন্তীর কাছে ফিরে এসেছেন আবার,ফুরিয়ৠ‡ আসা কুন্তীকে প্রজ্জ্বলি ত করতে ।
“আমি তোমার কাছে দাঁড়াই আমার আড়ষ্টতা নিয়ে…রং কেড়ে নেয়া আলোর ধূসরতায় …স্বপ্নের মত অবিন্যস্ত প্রস্তুতিহ ীন…আমার নিজস্ব কথা উধাও হয়ে যায়…মুখ ও মূর্ততা ক্ষমাপ্রাঠ্ত দন্ডিতের মত দরজার একপাশে… আমি শুধুমাত্র একটি বস্তুপিন্ড …আর বস্তুর জন্য আত্মা তৈরী করছ তুমি…”
সূর্য-সেই সুমহান,সেই নিঃসঙ্গ পরিব্রাজক দেবতা-à¦œà§€à¦¬à¦¨à ‡à¦° শেষপ্রান্ঠে এসেছেন তাঁর বহুপুরোনো ক্ষণমুহূরৠà¦¤à§‡à¦° সঙ্গীর কাছে।তাঁর ভুলে যাওয়া নারীটির কাছে।গাঢ় নিশ্চেতনা থেকে আস্তে আস্তে যেন জেগে উঠছেন সেই নারী।
“জল…জল থেকে উঠে আসছি আমি…হাত ছোঁয়ালে আমি সময়ের à¦¢à§‡à¦‰â€¦à¦°à¦¾à¦®à¦§à¦¨à  আলপনা ভেঙে ভেঙে যাই …আর অবাক, তুমি অটুট…সম্পৠ‚র্ণ থেকে à¦¯à¦¾à¦“â€¦à¦…à¦¤à¦¿à¦°à¦¿à •à§à¦¤ তো এটুকুই শুধু…!তবু তুমি ছুঁতে পারছনা…পাঠ°à¦›à¦¨à¦¾ আজো…আজো পারলেনা নিজের কাছে যেতে…যত তুমি গড়িয়ে নামছ টানা নিজের ভেতর … অতৃপ্ত… পরিত্রাণহৠন…”
সময় নিবিষ্ট করেছে তাকে,à¦†à¦¤à§à¦®à¦¸à §à¦¥ অন্তর্মুখৠ€ করেছে।তার ভেতরে জেগে উঠেছে অনেকদূর দেখতে পাওয়ার চোখ।এই চোখে আর কোনো মোহ মায়াঞ্জন নেই।তার হয়তো মনে হচ্ছে-
“শূন্যতার বীজত্বক ছিঁড়ে…কথা ফুটছে পাথরের …রং…গড়িয়ে €¦à¦¨à§‡à¦®à§‡â€¦ ছুঁয়ে দিচ্ছে কাগজ ক্যানভাস…ঠ¶à§‚ন্যকে এফোঁড় ওফোঁড়, নিজস্ব সংলাপে বুঁদ হাওয়া খেলে বেড়াচ্ছে শব্দ-সুড়ঙ্ঠ—ে…মুক্তি ঘটছে দন্ডিত আত্মার…শুঠ§à§ বসন্ত… হে বসন্ত… তুমি আবার ফিরে এসেছ বলে…স্নাত হচ্ছি …পুণ্য হচ্ছি আমি…”
শূন্যতার বীজত্বক ছিঁড়ে যাচ্ছে, কিন্তু সারাজীবন জুড়ে যে শূন্যতা অর্জন করে যাই আমরা তার গাঢ় রেশ আমাদের অস্তিত্বে মিশে à¦¥à¦¾à¦•à§‡à¥¤à¦ªà§‚à¦°à§à £à¦¤à¦¾ দিতে যে আসছে,কতটা শূন্যতা জুড়ে তার এই আসা!
“ তোমার আগে শূন্যতা ছিল।তুমি এলে।আসলে কতটা শূন্যতা জুড়ে তুমি এলে বসন্ত ? আমার শূন্যতার পটভূমি কতটা রচেছিলে তুমি? কতটা শুষে নিলে , কতটা হরণ করলে তার গভীর মহিমা ? দূরত্বের শেষে তুমি না থাকলে সেতুও তো শূন্যতাই এক…! সেতু নেই। তোমার ভিতর পর্যন্ত আমার শূন্যতা নেই কোনো।তুমি এলে সসম্মানে আর জায়গা ছেড়ে দেবেনা আমার ভারী থমথমে শূন্যতার নিরেট কালো জল…”
à§©
পাতার ফাঁক দিয়ে অস্ফুট আলোর একটি রেখা এক মৃত্যুস্পর ্শিত নারীর কপাল কাঁপা আঙুলে ছুঁয়ে আছে।লেভেল ¦•্রসিংএ আমার বাস দু’মিনিট দাঁড়িয়ে ছিল।যার সৌজন্যে এই ঝলক-à¦¦à§‡à¦–à¦¾à¥¤à¦à ¦° বাইরে আমি কিছু দেখিনি।প্ঠ°à¦¬à§€à¦£ সূর্য আর প্রবীণা নারীটির মধ্যে কোনো সংলাপ কল্পনা করিনি আমি,যদিও নানা মুহূর্তে বারবার আমার কাছে ফিরে এসেছে দৃশ্যটি।যৠন বলতে চেয়েছে,তাদ §‡à¦° জন্য কিছু একটা করার ছিল আমার,যা আমি করিনি।মনে হলো সেই নির্বাক চলচ্চিত্রৠর মত ছবিটি যেন নিখুঁত একটি ভাষা তাদের জন্য পেয়ে গেছে কবিতাটির মধ্যে।এতদঠন ধরে যা শুধু দৃশ্য হয়েই ছিল-কবিতার ভাষায় আজ যেন পূর্ণতা পেল।স্তিমঠত সুরের রেশ যেন ধরে আছে কবিতাটি।ঝঠকার থেমে যাওয়া সেতারের তারগুলি যেভাবে রণন ও স্মৃতি ধরে রাখে সুরের।কবিঠ¤à¦¾à¦Ÿà¦¿ আমি একটি পরিপূর্ণ শুদ্ধতম রাগসংগীত হিসেবেই পেলাম।সেই একই আলাপ,বিস্তঠ¾à¦°,মুখড়া ছুঁয়ে আবার ছড়িয়ে পড়া। এবং অনবসিত অবসান এই কবিতাটি জুড়ে।এভাবৠই জেগে উঠছে সে নিজেও যেন, যেভাবে সেই নারীটি-
“ যতটা চেয়েছিলাম কাল…আজ তার থেকে অনেক আগ্রাসী আমি…আগামী ¦¦à¦¿à¦¨à§‡à¦° চাওয়ার থেকে যদিও তা বড্ড কম…আর এই সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভালবাসার দিনে আমি তোমাকে চেয়েছি রক্তমাংস থেকে অনেক এগিয়ে…”
পরবর্তী তিনটি টুকরো যেন সেই নারীটির প্যাশন, জীবনতৃষ্ণঠএবং চূড়ান্ত বিন্দুটি ছুঁয়ে নেওয়ার মত- যা ফেটে পড়ছে আনন্দশিহরৠ, প্রতিটি অণুর বিস্ফোরণে যে ভেসে যাচ্ছে সুধারসে…এঠ¬à¦‚ মৃত্যুর দিকে।
“ সমস্ত অলংকার খুলে হনন à¦à¦¸à§‡à¦›à§‡â€¦à¦à¦¿à¦¨à §à¦•ের ডানা ভেঙে বের করে এনেছে অসহ্য মুক্তার দানা…চোয়াঠ²à§‡à¦° হাড় নীল হয়ে à¦‰à¦ à§‡à¦›à¦¿à¦²â€¦à¦¡à¦¾à ¦¨ কন্ঠার হাড় …বাঁ দিকের পাঁজর… মড়মড় করে উঠেছিল আনন্দশিহরৠ…প্রেরণার মত একটা টাটকা রক্তে ভরা হৃদয় হাতের সমস্ত আলো ঢেলে দিয়েছে স্পর্শযোগৠà¦¯ à¦ªà¦¾à§Ÿà§‡â€¦à¦®à¦¾à¦–à¦¿à Ÿà§‡ দিয়েছে বৃষ্টি…বলঠে …উদযাপন হোক…আজ শোক হোক…হা হা শূন্যতা…
“ তোমাকে আলোনাচ দেবো …হাতের পাতায় দেবো টুকরো অঙ্গার…দে ¦¬à§‹ নিয়ন্ত্রণহ ারা ভয়……সংকেত শিখিয়ে দেবো দ্রিদিম à¦›à¦¨à§à¦¦à§‡à¦°â€¦à¦¶à¦•à §à¦¨à§‡à¦° পাখা à¦¦à§‡à¦¬à§‹â€¦à¦®à§à¦°à¦—à §€à¦° উলটো à¦ªà¦¾à¦²à¦•â€¦à¦°à¦•à§à¦¤à ®à¦¾à¦–à¦¾ à¦¬à¦¾à¦˜à¦¨à¦–â€¦à¦¤à§‹à¦®à ¾à¦° ঝিমঝিমে ঘোলা চোখে লেপে দেবো স্বপ্নদুপু র…মায়াস্বঠ…নীচু মন্দ্রপাঠ†হাড়দন্ডে ছুঁয়ে দেবো তোমার কপাল…তুমি পিশাচ হাসিতে… চোখ রক্তলাল করে…কালো ডানায় … উড়ে আসবে হাঁ করে… …বসে আছি à¦†à¦®à¦¿â€¦à¦¨à¦¿à¦®à§€à¦²à ¿à¦¤â€¦à¦¨à¦¿à¦°à§à¦œà¦¿à¦¤â €¦â€
“ à¦¶à¦¿à¦–à¦¿à§Ÿà§‡à¦›à¦¿à¦²à ‡â€¦à¦¤à§‹à¦®à¦¾à¦° আলোর বাইরে কিছু নেই আর… à¦…à¦¨à§à¦§à¦•à¦¾à¦°â€¦à¦®à ‡à¦˜à¦à§œâ€¦à¦¤à¦¤à¦Ÿà¦¾ তৃষ্ণা …ততটা বিন্দু বিন্দু জল…ভীষণ উন্মাদ স্রোত নেই তোমার বাইরে্, সামনে পেছনের ঘোর à¦…à¦¨à¦¿à¦¶à§à¦šà§Ÿâ€¦à¦†à ¦à¦¿à¦® হিংস্রতা কোথাও নেই আর তোমার মতন…ততটা আনন্দ –যন্ত্রণা-à °à¦¹à¦¸à§à¦¯à¦­à§‡à¦¦ বা…তোমার বাইরে নেই নিরুপায় জন্ম-মৃত্যৠখেলা…তুমি বলেছ বলে আজ আর নতুন মুখশ্রী খুঁজিনা…”
অক্টোবরের এই দুপুরে আমার সামনে হাত ধরাধরি করে হাসতে হাসতে এগিয়ে আসছে আমার দেখা সেই কুড়ি বছর আগের দৃশ্যটির কুশীলব। তারা ছিল অসম্পূর্ণ,à –à¦¨à§à¦¡à¦¾à¦‚à¦¶, চলৎশক্তিহৠন।কবিতার ভাষায় তারা পূর্ণ নিজেদের ফিরে পেল কুড়ি বৎসর প্রার্থনা ও প্রতীক্ষাঠ° পর।আমার ভাবতে ভাল লাগছে অনুচ্চ মন্ত্রের মত সম্মোহন ছড়িয়ে দেওয়া এই কবিতাটি হয়তো এবার আমাকেও মুক্তি দেবে কোনোভাবে-য §‡à¦­à¦¾à¦¬à§‡ একটি ভাল কবিতা আমাকে পরিশুদ্ধ করে,ছড়িয়ে যেতে দেয়।আমার অনেক অন্তর্গত ভাবনায় কবিতাটি সমর্থনের মত সাড়া à¦¦à¦¿à§Ÿà§‡à¦›à§‡à¥¤à¦šà§‹à ¦–ধাঁধাঁনো কোনো চমক নেই,চেপে বসা মোটা দাগের অলংকরণের চেষ্টাও নেই,কোনো আরোপিত সপ্রতিভতা নেই। কবিতাটি যেন অবিশ্রাম ঢেউএর মত ভেসে উঠছে, ভেঙে পড়ছে, হারিয়ে যাচ্ছে। একটু একটু ভাসাচ্ছে, একটু একটু পা রাখতে দিচ্ছে মাটিতে-
“ যে জলবিন্দু চোখ থেকে নেমে ইতস্ততঃ ভেসে à¦¬à§‡à§œà¦¾à¦šà§à¦›à§‡â€¦à ¦¯à§‡ রক্তফোঁটা ক্ষত থেকে চুঁইয়ে চার পাশে সঞ্চরণশীল†¦à¦¤à¦¾à¦¦à§‡à¦° লাগাতার গুঞ্জরণ শুনতে পাচ্ছি আমি…নেই…ন §‡à¦‡â€¦à¦¨à§‡à¦‡â€¦à¦†à¦® ার পৃথিবীতে আর গ্র্যাভিটঠনেই… টেনে রাখছেনা আর কোনো সুতো মাটির দিকে…আমি এখন হাওয়ায় হাঁটতে পারি…মুক্ঠ¤ …চলে যেতে পারি মহাকাশের যে কোনো দিকেই…”
লেখাটির একেবারে শুরুতে The Book of Psalms থেকে যে অংশটি উদ্ধৃত হয়েছে সেখানেই ফিরে যাই এবার।জলের নদীর ধারে দাঁড়িয়ে থাকা গাছটির মত এই গাঢ় অন্তরতম কবিতাগুলিঠ“ সারাজীবন শ্যামলছায়ঠও ফল দিয়ে যাবে।পাতা ঝরে যাবেনা কখোনো এই গাছের।কখন §‹ ফুরিয়ে যাবেনা এই কবিতাগুলিঠ° আবেদন।
=০=