পাজি হব মরুভূমি

সমর রায়চৌধুরী ও অরুণাভ রাহা রায়

মেটামরফোসিস

প্রথম পংক্তি লিখতেই সাদা কাগজের ওপর শব্দ, বাক্য, যতিচিহ্নগুলির আচরণ দেখে স্তম্ভিত – এ কি! লিখিত পংক্তিটি যে কেঁচোর মতো নড়ছে! এক একটা শব্দ জোঁকের মতো, মাঝেমাঝে মুখ তুলছে এমন যেন শুঁড়, আর সরে যাচ্ছে ক্রমশ; যেতে যেতে সাদা পৃষ্ঠা থেকে ঝুপ করে নীচ মেঝেতে, তারপর সরীসৃপের মতো এঁকেবেঁকে ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে রাস্তায় কোথায় যে মিলিয়ে যায়, আর দেখি না
আবার লিখি। এবার লিখিত শব্দগুলির কিচির মিচির ও ডানার ফর্ফর আওয়াজ শুনে দেখি, জানালা খোলা – বন্ধ করে দিই। কেন? আমি কি তবে ওদের উড়ে যাবার আশঙ্কা করেছিলাম? ফিরে এসে দেখি সাদা কাগজের ওপর কয়েকটি অদৃশ্য ডিম – বাক্যটি উধাও, দরজা হাট করে খোলা!
তখন দূরে কে জেন কাকে বলছে – বাব্বা, এত মদ গিলেছে যে ঠিক মতো দাঁড়াতেই পারছে না। কাকে বলছে? কে পারছে না দাঁড়াতে, বুঝিনা...
লিখি!... আশ্চর্য, আমার হস্তাক্ষর টেবিলে উপচে পড়া মদের মতোই তরল হয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে চলেছে সরু রেখায়, সাদা পৃষ্ঠা থেকে ফোঁটা ফোঁটা ঝরে চলেছে শব্দ, পালিশ করা এক জুতোর ওপর...
লজ্জায় কুঁকড়ে গিয়ে বলি – স্যরি, ভেরি স্যরি।
প্রত্যুত্তরে জুতো বললেন – নেভার মাইণ্ড, একটু পরেই শুকিয়ে যাবে।


রক্ত

সারাদিন আকাশ থেকে ঝিরঝিরে রক্ত বৃষ্টি। তার ভেতর রাস্তায় নির্জন পথিকহীন একটি কালো ছাতা নিজেই ভেসে ভেসে হেঁটে চলেছে আপন খেয়ালে। ঘরে ট্যাপ ঘোরাতেই জলের কল থেকে তোড়ে রক্ত। শীত খুব সারারাত হিম। ভোরে গাছের পাতা চুঁইয়ে চুঁইয়ে টুপটাপ রক্তের শিশির শুধু, অসাবধানে আঙুল কেটে গেলে ক্ষতস্থান থেকে ঝরে পড়ে অশ্রু শহরের নালা-নর্দমা-পরিখাগুলি কিন্তু রক্তে থৈ থৈ...


বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর এখন দেখি রহস্যময় লাল কুয়াশায় ক্রমশই ঢাকা পড়ে যাচ্ছে চতুর্দিক। ঢং ঢং একটানা বেজে চলা অপর বিশ্বের সুদূর ও অলীক ঘণ্টাধ্বনির ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে চেতনা। দেখছি প্রকাণ্ড এক বিস্ফারিত চোখ আমার মাথার ওপর শূন্যে, যেন মেঘের শকুন, মুখের মতো হাঁ করছে, কখনো বা দাপাচ্ছে ছিন্ন-শির মুর্গী যেমন। চোখ থেকে উড়ে যাচ্ছে লাল অশ্রুর করুণ টিয়া ও সাদা থুতুর হিংস্র পায়রা, অনর্গল, অক্লান্ত ও অবিরাম...


এই পুরোটাই যেন রক্তের মাংসাশী এক ময়ূর, বুঝতে পারছি, এখন দরকার অবিলম্বে তাকে ধরে মুখে পুরে নেওয়া; না হলে ওই ডানা মেলা চোখের আগ্রাসী ক্রেংকার থেকে কিছুতেই কেউই আর নিস্তার পাবে না



শস্যশ্যামলা মরুভূমি

সরষের তেল গুঁড়ো করতে করতে আজ এত রাত হয়ে গেল যে প্রেসার কুকারে বকের ছায়া সেদ্ধ করে রাখবো, তা আর হলো না। কাল আবার ভোর ভোর ঘুম থেকে উঠে যেতে হবে পাখির ডাক কুড়াতে। ক্ষেতে বপন করতে হবে বৃষ্টির বীজ... এসব আর ভালো লাগছে না। এখন আমার শুধু পাজি হতে ইচ্ছা করছে। পাজিদের দেখে ভাবতাম পাজি হওয়া খুব সহজ, এখন দেখছি মোটেই তেমন নয়। চেষ্টা করছি কিন্তু কিছুতেই পারছি না পাজি হতে। অন্যায়, অবৈধ, অশ্লীল কাজগুলি খুব টানছে আমাকে ভেতর থেকে। বিবেক আটকে রেখেছে। যেতে দিচ্ছে না, অক্টোপাসের মতো ধরে রেখেছে শক্ত করে আমাকে। গাজোয়ারি সহ্য হচ্ছে না। বিবেক আমি মোটেই পছন্দ করি না। থুতু ছেটাই বিবেকের গায়ে। থুতু ছেটাতে ছেটাতেই তো একদিন আমি সত্যিকারের পরিপূর্ণ পাজি হয়ে উঠব, ঠিক কিনা বলো? তবে পাশাপাশি, পাজিরা যা যা খায়, যা যা বলে, যা যা করে, সেই সবকিছু আমাকে লক্ষ্য করতে হবে, নিপুণভাবে আয়ত্ত করতে হবে। সময় খুব কম। কাল থেকেই শুরু করা প্রয়োজন। রাতটুকু বাকি। ঘুমোলে চলবে না। সরষের তেল গুঁড়ো করা, বকের ছায়া সেদ্ধ করা, ক্ষেতে বৃষ্টির বীজ বোনা বা মাঠে ঘাটে পাখির ডাক খুঁজতে বের হওয়া এখন থেকে বন্ধ। এখন আমি পাজি হবো। পাজি হয়ে পাজিদের শুকনো ভূমধ্যসাগর, পাজিদের শস্যশ্যামলা সাহারা মরুভূমি দেখতে দেখতে দূরে চলে গিয়ে, মহাকাশের পাজি গ্রহনক্ষত্রগুলিকে আমিও চাই পাজির মতো হাসতে হাসতে কিছুটা উত্যক্ত করতে



অমঙ্গল চিহ্ন

সধারণ, পোকায় কাটা কাঁকর মেশানো চাল ৫০ টাকা কে.জি, সরষের তেল ১৩০ টাকা লিটার, মুসুরির ডাল ১২০ টাকা। উচ্চতা ৮০০০ ফিট, তাপমাত্রা মাইনাস ৪ ডিগ্রী – এই আমাদের মনের পাহাড়, কুয়াশার নরম, আর এই হচ্ছে সেই হৃদয়ের আকাশ, যার ব্যালকনিতে এসে রোজ রাতে দাঁড়ায় চাঁদ, মৃত্যুহীন। এখানে প্রবল অন্ধকারের দাপটে গাছপালার মাতামাতি দাপাদাপি লক্ষ্যণীয়। অন্ধকারের প্রবল ঝাপটায় দূরে কোথাও একটা লণ্ঠন ভেঙে পড়লো, আমি শুনতে পেলাম তার নৈঃশব্দ্য। ডেকে উঠল কুকুরের ছায়া। একটা ব্রিজ ধসে পড়লো মৌমাছির আক্রমণে। বাড়ির চালের ওপর একটা পাখি উড়ে এসে বসতেই বাড়িটা হুড়মুড় করে ধুলিস্যাৎ। চারদিকে অমঙ্গলের চিহ্ন। বাইরের রাস্তায় রাস্তায় রাশি রাশি পেরেক আর কাঁচের টুকরো, সবাইকে বাধ্য করা হচ্ছে তার ওপর দিয়ে খালি পায়ে হাঁটতে, যদি তাতে পা কেটে কারো রক্ত বের হয় তবে তাকে জরিমানা। শোনা যাচ্ছে কর সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা এবার হবে গতবারের চার গুণ। আমরা তো আমাদের হাত-পা বন্ধক দিয়েও মাথাটা বাঁচিয়ে রেখেছি দুর্দিনের ভরসা ও আশ্রয় হিসাবে। গোপনে মাটির তলায় পুঁতে রাখছি আমাদের যাবতীয় হেঁচকি, কান্না, আবেগ ও অনুভূতি। কিন্তু শোনা যাচ্ছে কোথায় নাকি কি পরীক্ষার ফলে জানা গেছে এবং অনুমান, অচিরেই এই অঞ্চলের মানুষের মাথা থেকে শিং বের হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দেহ ভরে যাবে পালকে। পাখিরা তখন মানুষের ডিম দিয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে বেরিয়ে পড়বে কাজে। এইসব চিন্তায়, ভয়ের গহনে, অতলে তলিয়ে যেতে যেতে একটা মই নিয়ে এসে চেষ্টা করছি ওপরে ওঠার, কিন্তু ওপরটা আর-ও, আর-ও উপরে উঠেই যাচ্ছে ক্রমশ



দ্বিধা

বুঝতে পারছি না। বুঝতে পারছি না কি করা উচিত। বুঝতে পারছি না শুয়ে থাকা ভালো, না উঠে পড়া? কথাটা বলবো? না ব’লবো না? ক্ষমা চাইবো? না ব’লবো যা করেছি বেশ করেছি? বুঝতে পারছি না কে আমার বন্ধু আর কে-ই বা শত্রু। চুপচাপ থাকা ভালো, না প্রতিবাদ করা? বুঝতে পারছি না একটু মাছ কিনবো, না অনেকটা সব্জি? বউকে নিয়ে কাল শ্বশুড়বাড়ি যাবো, না বন্ধুদের সাথে মদের ঠেকে? পাশের বাড়ির বউটি ক’দিন ধরেই সিগন্যাল দিচ্ছে, তার সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়াটা উচিত হবে? না হবে না? বুঝতে পারছি না। আকশে মেঘ দেখছি, ছাতাটা নেবো, না নেবো না সাথে, ঠিক করতে পারছি না। টাকাটা ধার ক’রবো, না আংটিটা বেচে দেবো? ঘরের চাল সারাবো, না ভবিষ্যৎ লাভের আশায় আলুর বস্তা স্টক কোরবো, কোনটা আগে তাই ভাবছি। এই ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে দেবো, না দেবো না তাই নিয়ে আমি দোটানায়। কাল মিছিলে যাবো, না বলে দেবো শরীর খারাপ? ঘর থেকে বেরিয়েই সামনে রাস্তা, আর কে না জানে সব সময়ই রাস্তার দু’টো দিক থাকে? দু’দিক দিয়েই যাওয়া যায়, আমি কোনদিক দিয়ে যাবো – উভয়সঙ্কটে। বিষ এনে রেখেছি গোপনে, সেটা নিয়ে বসে বসে এখন ভাবছি খাবো? না, খাবো না?

*************
আমার বুকের ছায়া আমি রোজ সেদ্ধ করে রাখি প্রেসার কুকারে। কিন্তু আজ সরষের তেল গুঁড়ো করতে বসে এত রাত হয়ে গেল যে, বুকের ছায়া সেদ্ধ করার সময় পেলাম না। কাল ভোরবেলা পাখির ডাক কুড়োতে যাব, তাই আজ তাড়াতাড়ি ঘুম। কাল আরও কত কাজ! কালই জিরেতে বৃষ্টির বীজগুলো বুনে ফেলতে হবে। কিন্তু হায়! আজ আমার খুব দুষ্টু হতে ইচ্ছে করছে কেন জানি না। দুষ্টু হওয়া কি আর মুখের কথা! আমি চাইলেও কোনও অন্যায় কাজ করতে পারি না কখনও। আমার বিবেক আক্টোপাসের মতো জড়িয়ে ধরে আমাকে। আমি ছাড়াবার চেষ্টা করি। থুতু ছেটাই। এই থুতু ছেটাতে ছেটাতেই আমি পাজি হয়ে যাব একদিন। সম্পূর্ণ পাজি। পাজিদের মতোই আমি অনেক নোংড়া কাজ করব। খুব দ্রুত পাজি হব আমি। কেননা এ জীবনে সময় খুব কম। রাত পোহালেই কাজ শুরু কারা বড় দরকার। ভাবছি, শুধু এই রাতটুকু বাকি। যদি ঘুমিয়ে পড়ি, সময় অপচয় হবে। অতএব ঘুমোনো বারণ। কাল তবে বৃষ্টির বীজগুলো বুনতে যাব না আর। প্রেসার কুকারেও তেল গুঁড়ো করা, বুকের ছায়া সেদ্ধ করা বন্ধ করে দেব। আমি শুধু পাজি হব, শুধু পাজি হব আমি। পাজি হওয়া ছাড়া আর কোনও কাজ নেই আমার। পাজি হওয়া মাত্রই রুক্ষ ভূমধ্যসাগর, পাজিদের সাহারা মরু দেখব। দেখতে দেখতে অনেক দূরে চলে যাব। দূর আকাশের পাজি পাজি নক্ষত্রদের আমিও সাদা দাঁত বের করে হাসতে হাসতে বিরক্ত করব খুব।

আহা রূপান্তর
লিখতে বসে প্রথম লাইনটা লিখতেই লিখিত শব্দগুলো খতার ওপর চলতে শুরু করল।তাদের কাচের মতো নড়তে দেখে আমি অবাক। মুহূর্তে দেখি— শব্দেরা জোঁকের মতোন, মাঝেমধ্যে মুখ তুলে তাকাচ্ছে। সরে যাচ্ছে দূরে দূরে হঠাত পৃষ্ঠা থেকে মাটিতে পড়তেই সরীসৃপের হয়ে গেল। এবং বুকে ভড় দিয়ে চৌকাঠ পেরিয়ে কোথায় যে মিলিয়ে গেল... আমি আমি দেখতে পাই না।
ফের লেখা নিয়ে বসি। লিখতে গিয়ে টের পাই শব্দের কিচির মিচির শব্দ আর ডানার আওয়াজ। দেখি যে, জানালাগুলি খোলা। আমি লেখার টেবিল থেকে উঠে জনলা বন্ধ করে দিই। কিন্তু কেন? শব্দেরা কি ওই জানলা দিয়ে উড়ে পালিয়ে যেত? লিখতে বসে তবে কি আমি আর কোনও শব্দ খুঁজে পেতাম না? ভেতরে আশঙ্কা জাগে। ফিরে আসা মাত্রই দেখতে পাই, যে বাক্যটি লিখেছিলাম সেটা আর নেই। তার বদলে পৃষ্ঠার ওপর পড়ে রয়েছে কয়েকটা অদৃশ্য ডিম।
এই মুহূর্তে অস্পষ্ট শুনতে পাই— “এত মদ গিলেছ যে, ঠিক মতো দাঁড়াতেই পারছো না।” কথাটা এতটাই অস্পষ্ট যে, কে কাকে বলছে কিছুই বোঝা গেল না।
আবার লিখি! আবারও লিখি। আমার হাতের লেখা গ্লাস উপচে টেবিলে পরা মদের মতো গড়িয়ে যায় সরলরেখায়। কাগজের শূন্যের ওপর ফোঁটা ফোটা ঝরে পড়ছে শব্দ। যেন পালিশ হচ্ছে জুতো।
আমি লজ্জায় কুঁকড়ে যাই, বলি: ‘সরি’।
জুতো আমাকে উত্তর দেয়— ‘চাপ নেই, শুকোবে এক্ষুণি!’

রক্তাক্ত

আজ সারাদিনমান বৃষ্টির মতো রক্ত পড়ছে আকাশ থেকে। রাস্তার ওপরে ভেসে উঠছে আকতা মাথাহীন কালো ছাতা। ছাতাটি নিজের মতো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। কল দিয়ে জলের বদলে রক্ত পড়ছে। ভোর থেকে গাছের পাতা চুইয়ে রক্ত পড়ছে, যেন শিশির। বেখেয়ালে হাতের ক্ষত থেকে কান্না ঝরে পড়ছে শহরের বুকে। কিন্তু ড্রেনগুলি উপচে পড়ছে রক্তে।

বৃষ্টি থেমে গেছে কিছুক্ষণ আগে। এখন দেখছি— রক্তের লাল কুয়াশায় ঢেকে গেছে সমস্ত দিক। আমার চেতনাও ঢেকে গেছে সুদূর পৃথিবীর ঘণ্টাধ্বনিতে। মুণ্ডু কাটা মুর্গীর মতো একখণ্ড শকুনমেঘ ছটফট ক্রছে মাথার ওপর। চোখ তুললে উড়ে যাচ্ছে করুণ টিয়ে, থুতু থেকে হিংস্র পায়রা।

আমি বুঝতে পারছি সমস্তটাই রক্তের ময়ূর এক। অতএব তাঁকে মুখে পুরে নেওয়া খুব দরকার। নাহলে ডানা ঝাপটানো ক্রেংকার স্বর থেকে কেউ মুক্তি পাবে না!

অ-মাঙ্গলিক সিম্বল

জঘন্য চাল ৫০ টাকা কিলো, তেল ১৩০ টাকা এবং মুসুর ডাল ১২০ টাকা। আমাদের মনের পাহাড়ের উচ্চতা ৮০০০ ফিট। সেখানকার তাপমাত্রা হোক মাইনাস ৪ ডিগ্রি। আমাদের মনের ব্যালকনীতে এসে রোজ রাতে চাঁদ দাঁড়িয়ে থাকে, একলা। রাত্রিবেলা, তুমুল অন্ধকারে গাছেদের ছটফটানি দেখার মতো। দূরে শব্দহীন লণ্ঠন ভেঙে পড়ে। ডেকে ওঠে কুকুরের ছায়া। মৌমাছিদের তীব্র শক্তি ভেঙে ফেলে একটা প্রকাণ্ড ব্রীজ। কি অদ্ভুত; পাখির পায়ের ছোঁয়ায় আজ ভেঙে পড়ে বাড়ি। চতুর্দিক থেকে ভেসে উঠছে অ-মাঙ্গলিক সিম্বল। দূরের রাস্তায় পড়ে আছে অনেক পেরেক আর কাচের খুচরো। এর ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে হবে নাকি! পা থেকে রক্ত বেরলেই তোমরা জরিমানা, কেন করো? রক্ত বেরবে, তবু জরিমানা! এবার তো চারগুন কর দিতে হবে! ফলে বন্ধক রাখি কিছু কিছু শরীর। মাটির বহু নীচে রেখে দিই কান্নার শরীর, আবেগ ও হেঁচকি! কিন্তু হায়, আমাদের মাথা থেকে শিং বেরিয়ে আসবে। আগামীদের দেহে গজিয়ে উঠবে গহন পালক। পাখিরা স্কালে মানুষের ডিম দিয়ে অমলেট বানাবে। এসব চিন্তায় আমি কেবল নীচে নেমে যাই। আর মই বেয়ে প্রাণপণ ওপরে ওঠার চেষ্টা করি। কিন্তু দেখি—আকাশ উঠে যাচ্ছে আরও ওপরে।

জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানে
কী যে করব ইদানীং কিছুতেই বুঝতে পারছি না। শুয়ে পড়ব না উঠে দাঁড়াব তাও তো বুঝতে পারছি না। কোন কথাটা আজ তোমাকে বলব? কোনটাই বা বলা উচিৎ নয় একদম। মাফ চাইব কি? নাকি ভাববো—যা করেছি বেশ করেছি! কে আমার বন্ধু আজ আমি ভুলে গেছি। কে আমার শত্রু মনে পড়ছে না কিছুতেই। মুখ বন্ধ করে বসে থাকবো চুপচাপ নাকি জেহাদ ঘোষণা করব, প্রতিবাদ গড়ব দিকে দিকে। মাছ খাবো না আমিষাশী হব আজ—তা নিয়ে সংশয় হচ্ছে! পাশের বাড়ির বউটি... উফঃ সিগন্যাল দিচ্ছে বেশ কয়েকদিন ধরে, তাঁকে গ্রহণ করব কি? আকাশ মেঘময়—ছাতা নিয়ে বেরব কি? আজ টাকা ধার করি? না বরং আংটিটাই বেঁচে দিই! কী যে করি! আজ চাল সরাব নাকি আলুর বস্তা স্টক করব ভবিষ্যতের জন্য! কোন ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেব তাই নিয়ে বড় ধন্দে আছি। আজ এই ছেলে ভালো লাগে তো কাল ওই ছেলে। কাল মিছিলে যাব নাকি অসুস্থ বলে কাটিয়ে দেব বুঝতে পারছি না। বাড়ি থেকে বেরলেই রাস্তা—আর আমরা সবাই জানি যে রাস্তার দুটি দিক থাকে। দুদিক দিয়েই যাওয়া যায়—আমি কোন দিক দিয়ে যাব? ঘরে যে বিষ এনে রেখেছি চুপিসারে! সেটা খাবো কি খাবো না বলে দাও কেউ।