বেতলার সাধারণ অধিবেশন

যশোধরা রায়চৌধুরী ও অগ্নি রায়

একজন লেখক একবার বলেছিলেন, আমি গদ্য লিখি সর্বসাধারনের জন্য, প্রবন্ধ লিখি পন্ডিতদের জন্য, আর কবিতা লিখি নিজের জন্য।
কবিতার জন্যেই এই যে আলাদা তাকটা তৈরি করলেন, লেখক,
তিনি তো মূলাধারে কবিই।
আমরা দেখেছি, নিজে অনেকরকম লেখা লিখলেও, নিজেকে কবি বলেই পরিচয় দিতে ঢের ঢের বেশি পছন্দ করেন অনেক লেখক।
হয়ত মানুষ তাকে ছাপ দিয়েছে অন্য কিছুর। যেমন অগ্নি রায় কবি , আমার আপনার কাছে , বহু মানুষের কাছে তিনি সাংবাদিক।

কেন কবিতার জন্য এই একটু বাড়তি, তুলে রাখা ভালবাসা? কেন এত মায়া আমাদের, কবিতার প্রতি? যার বাজার মূল্য, সর্বজনগ্রাহ্য ভাবেই, সবচেয়ে কম, প্রায় ব্যস্তানুপাতিকভাবে যার পাঠকপ্রিয়তা হ্রাস পায়, যত বেশি কবি হয়ে ওঠেন মুখচোরা ও আত্মচারী?

গভীরতম, গোপনতম কথাগুলি কবি লেখেন তাঁর কবিতায়, এবং হ্যাঁ, সত্যিই নিজের জন্য।
জনগণের জন্য লেখা কবিতাকে ঠিক কবিতা বলেই মনে হয় না। সেগুলোকে কেউ কেউ বলেন অকবিতা, কেউ কেউ বলেন পদ্য, কেউ কেউ পোস্টার।
জনগণ অবশ্য সেগুলোকে কবিতা ভেবেই ওয়াটস্যাপে ওয়াটস্যাপে শেয়ার করেন। তাতে দোষও কিছু নেই। শব্দ তো, হাজার হোক, পেটো বা চোরাই মদ তো নয়।
তবু, কিছু কবির মন খারাপ হয়, কেননা তাঁর কবিতা এতটাই গোপনচারী শব্দমালা যে এভাবে বহু জনে জনে শেয়ার হবে না কোনদিন।
অগ্নি এমনই কবি, আমার মনে হয়।

মুশকিল হল, কবিতার এই বিশেষ জায়গা, এর মূলে ঠিক মানুষের কোন অনুভূতি কাজ করছে, তাকে তুলে রাখার এই অদ্ভুত বাসনা, শেয়ার না হলেই তাকে ভাল ভাবার মতই, দুর্লভের আনন্দ, এগুলো বোঝানো প্রায় অসম্ভব।
ঠিক যেমন অসম্ভব, বলা, একজন মানুষ কেন কবিতা লেখে।

ইন্টারনেটে দেখেছি ‘হাউ টু রাইট পোয়েট্রি ‘দিয়ে গুগলালেই একগুচ্ছ সাইট বেরোয়ে। আচ্ছা তাহলে কবিতা শুধুই কারুকর্ম বা স্কিল?
নাহ, আমার তা মত নয়। আমার মতে, কবিতাপ্রক্রিয়া ব্যাখ্যাতীত। মগজের নানা কোণা থেকে নানা স্মৃতি অনুষঙ্গ অ্যাসোসিয়েশন এসে যায় শব্দ আকারে। আর সেটাকে আন এডিটেড ভাবে বসান কোন কোন কবি। যত বেশি যুক্তি শৃঙ্খল তত বেশি কবিতার হত্যা, এভাবেই হয়ত তথাকথিত আধুনিক, ইভোকেটিভ, অনুষঙ্গপ্রধান কবিতার কথা বলা যায়।
অগ্নি রায়ের কবিতা যেমন ।


তার সেই আপাত-ব্যাখ্যাতীত কবিতার শব্দগুলো ঘেঁটেঘুঁটে যদি বার করে আনতে চাই তার অর্থ, কাজটা প্রচন্ড বিফলতায় পর্যবসিত হতেই পারে খুব শীঘ্র।
প্রথমত , কবিতা প্রজাপতির মত। যার উড়ান ও সৌন্দর্য আমাদের বিনোদ করে, কিন্তু যাকে সাঁড়াশি ও আঙুলের ব্যবহারে ব্যবচ্ছেদ করা, চটকাচটকি, খুঁটে খুঁটে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখাটা, আমার মতে মঙ্গলজনক হয়না, তবু রামকৃষ্ণ কথিত “লোকশিক্ষে”র জন্য, এমন করাই হয়। দ্বিতীয়ত, আমার তো মাঝে মাঝে এই ব্যাখ্যা করা, টীকা টীপ্পনি করাকে বেশ অশ্লীল লাগে। একজন কবির অভিপ্রায় তো আমার অভিপ্রায় না-ই হতে পারে, তখন আমি কীভাবে বুঝব, যে ওই ঐ শব্দ কবি কেন তখন লিখেছিল! এই গোটা ব্যাপারটায় একটা ক্ষমতা প্রদর্শনও মাঝে মাঝে কাজ করে। সমালোচক, বা ব্যাখ্যাকারী হয় কবিকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেন অথবা তুলো ধুনে মহাশত্রু হন। এতটা সময় নষ্ট কেন করা বাপু! মনে হয় ওই সময়ে আরো দুটি কবিতা লেখা হয়ে যেত।

তবুও কবিতাকে খুলে খুলে আবার জোড়া দিয়ে দিয়ে বোঝার নিবিড় সন্ধানী চেষ্টায় আমাদের অন্ধ বিশ্বাস যায় না। এই বিষয়ে আমার জানা এক অনেক পুরনো গল্প বলি। এক কারিগর জন্ম ইশতক লেখাপড়া না শিখে, মোটরসাইকেল ও স্কুটার শিখেছে। সে তার শিক্ষানবিশি করেছে যন্ত্র সারাবার কারখানায়। ধরা যাক সেটা একটা স্কুটারের কারখানা। বাইকের কারখানা।

লোকটা আজন্ম যন্ত্র শিখেছে, যন্ত্র পড়েছে, বাইক জুড়েছে, বাইক বলেছে।
ইয়ামাহা স্কুটারের প্রতি তার লোভ একটাই কারণে। ওটা সে ভাঙা পায়নি, ওটা সে জোড়া দেয়নি। তাই ইদানীং একটু টাকা হাতে পেয়েই সে একটি ইয়ামাহা স্কুটার কেনে। না, তাতে সে চড়ে না, চালায় না সে স্কুটার টা।
সে শুধু প্রতি অংশ খোলে, নাটবল্টু এবং সমস্ত জোড়। খুলে খুলে এই স্কুটারকে পরিণত করে একটি যন্ত্রাংশের জাঙ্ক-এ।

তারপর আবার জোড়া দেয়।
জোড়া দিয়ে যেটা পায় তাকে কি আর অবিকল আগের ইয়ামাহা স্কুটারটা বলা যায়? এটা একটা দার্শনিক প্রশ্ন।
তবে এভাবে খুলে ও জোড়া দিয়ে অনেকে শিখে যায় আরো একটি ইয়ামাহা তোইরির ছক ও সিদ্ধি। যদি ভেতরের ম্যাজিক হাপিশ হয়ে যায়, তাহলে বলব , আসল ইয়ামাহার ম্যাজিক তার করায়ত্ব নয়।
এখানে ইয়ামাহা শব্দটির জায়গায় কবিতা শব্দটি বসান পাঠক। কবিতাকে খুলে ও জোড়া দিয়ে সেভাবেই কি কবিরা আয়ত্ত করেন তাঁদের শিল্প? না, তবু, তবু আমাকে অগ্নির কবিতাকে প্রজাপতি অথবা ইয়ামাহার মত ভেঙে গুঁড়িয়ে দেখতে হচ্ছে।
কারণ তমাল নইলে আমাকে অব্যাহতি দেবে না!


অগ্নির কয়েকটি কবিতায় চোখ রাখা যাক।





বেতলার সাধারণ অধিবেশন

এক
অস্ত্যর্থকভাবে দাঁড়ালো চিতা। শালজঙ্গলের ফাঁকেফোঁকরে উদ্যত দোলনা। তাকে ঘিরে ধাতু-গহনা, হাট থেকে মার্কা দেওয়া গাভিন, বিয়ারের ফাঁকা বোতলে হাঁড়িয়া — বিক্রিবাটা চলছে। এই সবকিছুর মধ্যেই পায়ে পায়ে এসে অস্ত্যর্থকভাবে দাঁড়ালো চিতা।

দুই
চারটি মানুষ চার রকম ভাবে প্রস্রাব করে। চারটি শেয়াল করে না। চারটি মানুষ চার গুনিতক অসীম সংখ্যকভাবে ভয় পেতে পারে, চারটি ফাঁদ দেখে। চারটি শেয়াল পারে না। সুঁড়িপথে বিভক্ত হত্যাজঙ্গল ঠিক শুরু বা শেষ হয় না কোথাও। প্রত্যেকটি রাত তাকে উপুড়হস্ত করে ঢেলে দেয়। বোধহয় গরল

তিন
চোখের পিছনে শেয়ালকাঁটার বর্গান্তর ঘটে। উঁচু গুহা যে সংকেত পাঠায় তাতে সন্তপ্ত কুয়াশা লেগে রয়েছে। যেন খাপখোলা রূপোলী বাঘ! তদুপরি ভোরবেলা। কালশিটেয় সেজেছে ভিতরের মহিমা, যা কেবল পাপে প্রিয় হয়। যা কেবল সন্দেহে রূপবান। যার জারিকেন ভর্তি ভয়ে শেষে না কাপড়েচোপড়ে হয়ে যায়…


চার
কাছাকাছিই পাথর। ওড়না সরিয়ে তার সবুজ বুকে হাত দেওয়া। তারপর হাতুড়ির দাগ চিনে চিনে গভীর রাতে হাতি ঘাসের সরিয়ে পথ চিনে বাড়ি ফেরা। কাঁধে, ভোরের লাশ। বাংলোয় ফিরলে এক নোটিস জারি হবে। বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং থেকে ম্নান রমনী নেমে এসে হাতঘড়িটা খুলে নেবে। কপালের চুল সরাবে। মৃত ও বধির কানে মন্ত্র দেবে



বেতলা শব্দটি টেনে আনে আমাদের অতিপ্রিয় জঙ্গলভ্রমণের রূপকথা। ডাঞ্চিবাবু, পশ্চিমে যায়। কলকাতা থেকে গিয়ে শিকার করে, বেতলার জঙ্গলে ঘাইহরিণীর ডাক শুনে জীবনানন্দের কবিতা ভেবে অর্গ্যাসমিক আনন্দ পায়। সেই বেতলা। তার সঙ্গে অগ্নি যুক্ত করলেন ‘সাধারণ অধিবেশন’ শব্দবন্ধটি। এই শব্দবন্ধের মধ্যে একরকমের আমলাতান্ত্রিক গন্ধ কবিতাটাকে শ্লেষের দিকে ঠেলতে থাকে।
এরপর কবিতা পড়তে শুরু করে আমরা উপরিউক্ত ঐসব অভিপ্রায়গুলোকেই বার বার নানাভাবে “ইলাস্ট্রেটেড” দেখব। উদাহরণসহ ব্যাখ্যা হতে দেখব।
অস্ত্যর্থকভাবে দাঁড়াল চিতা। একটা আত্মপ্রত্যয়ী চিতার সঙ্গে সকলের মুখোমুখি দেখে হচ্ছে। সেই সব ডাঞ্চি বাঙালিবাবুদের। তারা শালজঙ্গলের পিকনিক কাম শপিং স্প্রি তে এসেছে। পাশাপাশি ব্ল্যাক মেটালের গয়না কেনাবেচা আছে আর বিয়ারের ফাঁকা বোতলে হাড়িয়াও। গাভিন শব্দে চোরা টান, দ্বর্থ্যবোধের( যদিও গাভিন শব্দটির ব্যবহার দেখছি গর্ভিণী-র অপভ্রংশ হিসেবেই, কিন্তু এই কনটেক্সটে গাভিন মানে গাই... এটাই বুঝে নিলাম, আবার সেই কবির অভিপ্রায় বোঝার ব্যর্থ চেষ্টা ) । ডবকা মেয়ে অথবা মার্কা দেওয়া গরু , কোনটা বেশি কেনে বেড়াতে গেলে বাঙালি বাবু, বুঝ জন যে জান সন্ধান। সঙ্গে সঙ্গে চিতা দেখাটাও একটা পণ্য, কমোডিটি। দাঁড়াল এসে রাজকীয় ভঙ্গিমায়।
দুই নম্বরে ভয় এল। চিতা দেখে না শেয়াল দেখে? তবে ভয়ে পেচ্ছাপ করার একটা অনুষঙ্গ এল। আবার মানুষের মানুষত্বের অহংকারও। কারণ মানুষেরা বিভিন্ন ভঙ্গিতে পেচ্ছাপ করে। এটা তাদের প্রিরোগেটিভ। অধিকার। সেই অধিকারকে তুচ্ছ করছে জঙ্গল। ফাঁদ। আর তারপরেই গরল ঢেলে দেওয়ার অনুষঙ্গ। রাত, সুঁড়িপথ, হত্যা। সবকটা অনুষঙ্গ এক তারে বেজে উঠল। মানুষের করা হত্যাসরঞ্জাম আবার মানুষেরই ভয় পাওয়া পশুকে। অথচ পশুরা মানুষের এই সব ফাঁদ বোঝে না।
তিন নম্বরে দুটো ধারার মত ছবি বইছে। একদিকে পাচ্ছি জারিকেন কালশিটে অথবা শেয়ালকাঁটা। রুক্ষ আর শহুরে চোখে দেখা। অন্যদিকে কুয়াশা, গুহা। আর অনেকটা আবেগ মুখর শব্দাবলীও। পাপে প্রিয় সন্দেহে রূপবান। অনেকটা ঝাঁপ দেওয়া হল , বেশ কিছুটা বলা হল।
সবচেয়ে সুন্দর, ঝকঝকে করে বলা হল, বাঘের উপমাটিকে। বাঘ, শোনা যায় ( আমি চোখে দেখিনি ) যখন জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে তখন সত্যিই বিদ্যুৎ ঝলক অথবা খাপখোলা তরোয়ালের মতই চোখ ঝলসে দেয়, চমক লাগায়। দ্রুতগামী, রাজকীয়, বাঘের আবির্ভাবের সচকিত একটা ছবি ফুটল এখানে। যদিও তা উপমায়। উঁচু গুহায় লেগে থাকা সন্তপ্ত কুয়াশাটাকেই দেখে ওরকম মনে হল কি? স্পষ্ট নয়।
চার, এবার শেষ হচ্ছে জঙ্গলে ঘোরাফেরা। হেঁটে হেঁটে ফিরে আসছে ডাঞ্চিবাবুরা। পাথরের বুক থেকে সবুজ ওড়না সরিয়ে দেখছে মাংস। হাতুড়ির দাগ চিনে ফেরা। আবার সেই কর্কশ মানুষী শব্দ, হাতুড়ি। তাছাড়া নোটিশ, লাশ, বিজ্ঞাপন , হোর্ডিং। এগুলো সব ভীষণ শহুরে শব্দ। যত জঙ্গলভ্রমণ শেষ হচ্ছে আমরা যেন ততটাই ফিরে আসছি আবার পুরনো এক আবহে , শহরের জীবনে। বাংলোয় ফিরে এসে মৃত ও বধিরেরা বসে বা শুয়ে পড়ছে, হাতঘড়ি খুলে নিচ্ছে রমণী। কোন রমণী? স্বপ্নের তথা বিজ্ঞাপনের। এখন যে দুটো সমার্থক।
গোটা কবিতাটায় ভোরবেলা জঙ্গল ভ্রমণ করে আসার একটা সিনেমা সিনেমা ছবি আদল তৈরি হল যেন। জার্নি হল একটা। তার ভেতরে চোরাগোপ্তা অনেক প্রেম-কাম-হত্যা-ভয়-কাপ রুষতা। লুকিয়ে চুরিয়ে নেওয়া সুখ। আর বাঘের সেই ম্যাজেস্টিক, চোখে ধাঁধাঁ লাগানো অস্তিময় দাঁড়ানো।
ক্লিয়ার? ক্লিয়ার।




দুপুর কথা


অথচ দুপুর এলো
লেখা, তুমিও কেন এলেনা তার পেটে?
পোয়াতি ব্যথার নুন স্বাদ নিয়ে,
রক্তচাপ? ডাক্তারি নিষেধ?
যে দুপুরে বারণ নেই,
নিকোটিনের লুকনো তেতো নেই
তামিল নায়িকার সিল্ক নেই গায়ে
সে-ও তো কখনও উঠে আসে
কাটাপুকুর মাঠঘাট থেকে,
তার গায়ে পাতলা সুতির মতো জড়ানো আঁষগন্ধ
সে বিস্মৃতির সঙ্গে মিশে ভলিবল খেলে
সুখা পাপের মত মিশে যায়
দুপুরের ভাতঘুমে, অনায়াস কড়পাকে।
দুপুর বর্ণপরিচয় জানে, শরীর শেখায়
প্রোমোটার-পূর্ব শহরের নাভি ও নৌকায়
দুলে ওঠে সে সব আনাজপাতি,
খোলামরিচের গন্ধে উজ্জ্বল
সেইসব দুপুর, টিফিন বাক্সের কোনায়
শৈশবের মত লেগে আছে,
লেখা
তোমারও তো এসে বসার কথা ছিল
দুপুরের ওইসব প্রবাদ মাদুরে



এই কবিতা নস্টালজিয়ার গন্ধবিধুর। প্রতি পরতে পরতে খুলে যাচ্ছে হাজারো অনুষঙ্গের দরজা ও কপাট। একে একে ভেতরের ঘরে ঢুকছি পা টিপে টিপে। অগ্নির শৈশব, আমার শৈশব, কৈশোরের। কৈশোরের গন্ধ মাখা সব শব্দ। তালিকা করি।
নিকোটিনের লুকনো তেতো। -> কিশোরের প্রথম লুকিয়ে সিগারেট।
তামিল নায়িকার সিল্ক -> ১৯৭০ -৮০র দশকের সিল্ক স্মিথার চাপা যৌনতার শ্বাস
ভলিবল -> ইশকুল বা পাড়ার মাঠ
ভাতঘুম, দুপুর, বর্ণপরিচয়, শরীর -> দুপুরগুলো কিশোর বয়সে ছিল হয় স্কুলছুট নয় গরমের ছুটির দীর্ঘ দহনে নিজের বা অপরের শরীর উন্মোচন আবিষ্কারের, প্রথম বর্ণপরিচয়ের। যে সময়ে মায়েরা ভাতঘুমে , বাবারা আপিশে। ( সরি ফর দ্য জেন্ডার বায়াস)

প্রোমোটার পূর্ব শহর -> সে সময়ে প্রোমোটার ছিল না, আঁকাচোরা ভাঙা আধভাঙা পাড়াগুলো ছিল
আনাজপাতি, খোলামরিচ -> গন্ধের নস্টালজিয়া
টিফিন বাক্স -> ইস্কুলের অমোঘ অনুষংগ। পরের লাইনের শৈশব লেগে থাকা , বাক্সের কোণায়, অবধারিতভাবে বলে দেয়।
মাদুর -> এখন তো আর দেখা যায়না, মাদুর পেতে বসার সেই অনুষংগ সত্যিই প্রবাদ আজ, সেসব আড্ডা ও নির্জন বসে থাকা।
এই সবকিছুর ঘাট ছুঁয়ে ছুঁয়ে কবিতাটি আসে বিষাদে, অপ্রাপ্তির অনুযোগ নিয়ে। শৈশব কৈশোরের সমস্ত অনুষঙ্গ ধরে ধরে অগ্নির জিজ্ঞাসা এসে পৌঁছয় , কবিতার কাছে প্রশ্ন রাখে, আর্তি রাখে, কেন সে আসেনা এই মধ্যবয়সী দুপুরে। একটা ছবি তৈরি হয় পোয়াতি মেয়ের, এখানে, তাও সার্থক । আর সেটা যেহেতু আসেনা, তাই বাকি সবটাই গর্ভাধানের বহু আগের মৃদু স্মৃতি। যখন দুপুরে কবিতাও আসত, ঐ ঐ নিষিদ্ধ অন্যান্য সুখের পাশাপাশি, অবাধে।