পলাশিয়া

পলাশ দে ও সুদীপ চট্টোপাধ্যায়



অবৈধ
চাবুক চাবুক সমুদ্র হাসার শব্দ আর নুন
পা ভিজছে ওপরে কলিংবেল

তুমি কি মন্হন করবে আবার?
লুঠ করবে যত কাঁকড়ার বেইমানি!

বালি আর কেয়াবন সেলাই করে পাখি
তোমার স্বামীর কণ্ঠে
শিস ঢেলে দিয়ে চুপ করো, চুপ

অবৈধ বলে কিছু নেই আপেল ও কামড়ে

শয়তান
রাধাভাব বানান করে হুমকি দিচ্ছে
দুহাতে টলতে টলতে অনেকটা বিড়বিড়

রাবণে মেজাজ ঢুকলো
ঢুকছে আলজিভ পর্যন্ত কান্না

আমার কি আর হিম্মত বলো
জল শুকিয়ে ভিজিয়ে দি' ব্রম্ভান্ড

কী আর একা ওই তোমার যোনিদেশ

একই সঙ্গে প্রণাম এবং সম্ভোগ করি


চুপ

ঠোঁট খুঁড়তে খুঁড়তে গণকবর
দিগন্ত মৌন এখানে সর্বগ্রাসে তবু চমকে উঠলো

তুমি কার ফকির?
বন্ধুদোষে আসমান ঝাপসা হয়েছে কতবার!
সেই তো মায়া তোমাকে খুঁজতে
খুঁজতে সভ্যতা ধ্বংস করে দিল
এরপর রেলা মানায় বলো!
কাঁকড়াকে চুমু প্রশিক্ষণ, মানাচ্ছে?

চাঁদ হাপিস। নেই মাটির স্মৃতি।
খাওয়া বলতে সালোকসংশ্লেষ

গণকবর তারপর কোনোভাবে পাবলিক হয়ে ওঠে
উঠে, ঠোঁটের অভাবে একা একায় আত্মরতি ...



ব্রহ্মডাঙা। জিভ তলিয়ে যাচ্ছে হাওয়ার ভেতর। আর ওই স্বপ্নের চুরমার। আহা গোসাঁই, তোমার বাঁকানদী পরম্পরা ঘুরিয়ে দিচ্ছে কেবল। একটাও টুকরো নেই, নেই ফার্ন কিংবা শৈবাল— শুধুই শীৎকার, ওই...ওই শব্দটুকুই এক বিশাল কূর্ম হয়ে ধারণ করছে সভ্যতা, আর “ঢুকছে আলজিভ পর্যন্ত কান্না”, তাকে ধারণ করতে গিয়ে দেখি অনন্তের ধ্যান স্থানভেদে ছড়িয়ে আছে সমগ্র অস্তিত্ব নিয়ে, যেন বটফলের অন্তিম বিন্দুটির ভেতরেও সেই একই প্রাণের সুপ্তি, সেই আবিশ্ব চেতনার নির্যাস, দেওয়া ও নেওয়ার মাঝে সেই শাশ্বত সাঁকোটি আপন মহিমায় চির ভাস্বর। সে তো হাঁ মুখে দেখিয়ে দিচ্ছে ব্রহ্মাণ্ডের হালচাল, উৎসের ধারাবিবরণী। আর আমি ও আমরা কেমন পরতে পরতে খুলে যাচ্ছি বিশ্বচরাচরে, কোষে ও কলায়, ক্রোমোজোমের সুসজ্জিত ভঙ্গিমায়। তবে কি ‘প্রণাম’ই তার দোসর, ‘সম্ভোগ’ই তার জন্মক্ষণ! দেখ দেখি, এ কেমন ইব্‌লিশমতি, পূর্বাপর ত্রিমাত্রিক গল্প বলছে সে— ধর্ম সংঘর্ষ আর সংগম; আর বারবার, তু্মি, কাটছ বলেই, সে, জোড়া লাগাচ্ছে নিজেকে

কী এমন অস্তিত্বের আবরণ, কী এমন বারুদ গলানো সৌন্দর্য— তুমি যতটাই দেখাচ্ছ পথ, সে ততটাই প্রস্তুত। তোমার ‘রাধাভাব’ উলটে দেখি কী অবিরল ধারা, কী নয়নাভিরাম প্রপাত, পিঠে লবণাক্ত চাবুক সমুদ্র বুনছে, বুনছে হাসির পেখম, আমি তার আগে প্রথম বর্ণ বসিয়ে বৈধ বলি। তবে কি ‘মন্থন’ হবে, আবার উঠে আসবে অমৃতের কলস? আর ওই ঐশ্বরিক লাম্পট্য, চির অবহেলিত অসুর, প্রবঞ্চনার বাতাবরণ— তোমাদের ধর্মমঙ্গল পুড়িয়ে আবার কোনো ষড়যন্ত্রের পুরাণ গড়ে তুলবে গোপনে। তখন আবার ছয়টি রিপুর সাম্যাবস্থা খুলে, সাজাবে নিজের মতো, গেঁথে দেবে নিজের সিদ্ধান্ত, যার কোনো পাপ নেই কোনো পূণ্য নেই, কেবলই প্রতিষ্ঠা। তার নান্দনিক ইশারাটুকু দাঁড়িয়ে থাকবে মাংসল তৃপ্তির দ্যোতক হয়ে, তবু কি মন নেই, মনন? এ প্রশ্ন আলোর আগে আগে যায়, অন্ধকারেরও
হয়তো এও এক প্রত্নতত্ত্বের উড়াল, গোপন বাৎস্যায়ন; মনের বিবাহ হলে ঝরে পড়ে বৈধ পুরুষ, তখন যেটুকু ‘শিস’ আর যতদূর শিস্ন তার আগে ও পিছে “অবৈধ বলে কিছু নেই আপেল ও কামড়ে”

এভাবেই জারিত হল ঋণ। দানা দানা শব্দহরিণ— আহ্‌, এখানে কোনো লিরিক নেই গো, নেই কোনো বিশল্যকরণী। তবে কেনো টোটেম রেখেছ ঠোঁটে, চোখে ‘গণকবর’! বিরুদ্ধ জ্যোৎস্নার ভেতরে কেউ কি নামিয়ে রাখছে ছায়ামারীচ, চিৎকার বেঁকে গিয়ে তৈরি করছে জন্মান্ধ ঘাতক আর ওই সহ্য, সহ্যাতিরিক্ত, সহ্যাতীত... নাহ্‌, ‘দিগন্ত মৌন এখানে’, চরাচর নিঃস্ব, ঋক্ত— এই তার ফকিরি, এই তার মায়া, এমন বিচ্ছেদ “বন্ধুদোষে আসমান ঝাপসা হয়েছে কতবার!”। অথচ, ঘূর্ণির মতো, সাবেকি বিশ্বাসের মতো, এই ‘সভ্যতা’ পদ্মপাতায় ওই জলবিন্দুটির কাছে যেতে চেয়েছে বারবার, বারবার নিজের করতলে চেনা রেখার পাশে একটি উষ্ণ ঘামের ফোঁটাকে মিলিয়ে যেতে দেখেছে বাতাসে, হিল্লোলে, কান্নায়, আর ধ্বংসের ধারালো মুখের সামনে দাঁড়িয়ে আমরা আরো একবার শিখতে চাইছি, শেখাতে চাইছি ততধিক ধারালো চুম্বনরীতি। জীবনের আদি পর্বে, সবুজ থেকে আলাদা হতে গিয়ে, কখনও কি সেই অন্তিম সালোকসংশ্লেষ আমাদের ভেতর চারিয়ে দিয়েছিল কোনো গোপন কোড, যা আমাদের নেগেট করতে শেখালো ‘মাটির স্মৃতি’, আর সেই বিশেষ ক্ষণে, প্রকৃত প্রস্তাবে, চাঁদের চিরায়ত পিঠ থেকে সরে গিয়েছিল সূর্যের জ্যোতি?

অতঃপর প্রচণ্ড অভিনয়, অতঃপর নিখুঁত রিমেক... এবং সিনেমা চলছে, ঘাম ও ঘ্রাণে, সংরাগ ও সংঘর্ষে, ধর্ম ও ধর্ষণে, শুক্র ও শোণিতে, আঃ ও আত্মরতিতে।