সাংখ্য দর্শন

মাসুদ খান ও আষিক



রাজনীতি
মুখোমুখি দুই স্বরধ্বনি,
সন্ধি করতে চাইছে তারা।

সম্ভব হবে কি সন্ধি,
কোনো অনুনাসিকের মধ্যস্থতা ছাড়া?


অর্থনীতি

নিঃসঙ্গ একটি রেখা চলেছে একাকী, আঁকাবাঁকা,
তরঙ্গ জাগিয়ে শস্যশূন্য ধু-ধু মাঠের ওপর।

কখনো উন্নতি রেখাটির,
কখনো-বা অবনতি তার।

অনেক তরঙ্গ আছে এ জগতে,
কোনো সমীকরণ যাদের জোটে না কখনো ।


সমাজনীতি

চারপাশে অভিজাত অক্ষর। তাদের মধ্য দিয়ে
য-ফলার সঙ্গে লটকে প’ড়ে
দোলকের মতো দুলছে দোদুল, অসভ্য এক হ্রস্ব-উকার
এপাশ-ওপাশ।


নিসর্গনীতি

প্রতিটি কালোকে আরো কালো করে দিয়ে
তবেই তো আলোকিত হয়ে ওঠো হে আলোকছন্দা।

বহু নক্ষত্রকে ম্লান করে দিয়ে,
ঠেলে দিয়ে হিমকৃষ্ণ-গহ্বরের নিয়তির দিকে
তারপরেই-না তুমি অতি-আলোমতি প্রেমকুমারী জ্যোতিষ্কগন্ধা।

আমাদের অগণিত ছোট-ছোট বহুবর্ণ মিথ্যা-
সেসব কুড়িয়ে নিয়ে ব্লিচিংয়ে শোধন ও শ্বেতীভূত ক’রে
তবেই তো সত্যবতী তুমি সত্যানন্দা।

যে-নিয়মে নিয়মিত গ্রহদের বাঁকা বিচলন
সে-নিয়মে কুসুমিত একইসাথে বন আর মন।


***********************



চারকে জানিস তো দেখতে একটু হাবাগোবা, আর পাঁচ খুব নিষ্ঠুর। চোখের দিকে তাকালেই মনে হবে মানুষ খুন করতে পারে...

এক স্কিজোফ্রেনিক বন্ধু বলেছিল আমাকে - সে সংখ্যাদের দেখতে পায়। তাদের নাকি আলাদা আলাদা ব্যক্তিত্ব। জিজ্ঞেস করেছিলাম, ধর তোকে যদি একটা লোককে দেখাই, দেখিয়ে বলি, একে কার মতো দেখতে, দুই, এক না একুশ? তুই বলতে পারবি?

যাহ্‌, কাউকে আবার অন্য কারোর মতন দেখতে হয় নাকি!

আমি জানি না। কিন্তু আমার মনে হয়, হয়। এই যে আমি যখন জলের তলায় চলে গিয়ে আস্তে আস্তে নিজের হাতের দিকে তাকাই - হাতটাকে অনেক বেশী স্বচ্ছ লাগে - মনে হয় এই হাত আমার নয়, কিন্তু অবিকল আমার মতন দেখতে জলের নিচে থাকে আর একজন...

সে শুধু স্বচ্ছতর।

***

সমস্ত রেলব্রীজ আর সমস্ত রাস্তা 'মেরি সপনো কি রানি'-র মতন সমান্তরাল নয়। কিছুদূর একসঙ্গে যাওয়ার পরে, তারা বেঁকে যায়। সেইরকম বাসরাস্তায় আমি দেখছি লোহার থামের ওপর দিয়ে গুমগুম শব্দে দূরে চলে যাওয়া মালবাহী ট্রেন। এক একদিন কী হয় কে জানে, রুদ্ধশ্বাসে কামরা গুনতে থাকি - ট্রেনটাকে রহস্যময় করে, রাস্তা একসময় আমাকে দূরে নিয়ে চলে যায়। আমি কেবল জানতে পারি - অন্তত একচল্লিশটা কামরা ছিল।

কিন্তু কামরা নয়, আজ আমার নজর ছিল রেলব্রীজের থামের ওপর- নীল রঙে কেউ লিখে রেখেছে এক দুই তিন - রাস্তার নাগালের বাইরে চলে গেছে সতেরো নম্বর থাম। আচ্ছা, সতেরো তাহলে কী ভাবছিল তখন...

এক দুই তিন - এইভাবে এগোচ্ছে দেখে ঠিক কখন বুঝেছিল নীল রঙে কেউ তাকে লিখবে না।

***

"সতেরো ঠিক কীরকমের রে?"
বন্ধু বলল - "কেন জানতে চাইছিস বল তো, কী হয়েছে?"

"আরে, বলই না।"
"সতেরো অনেকটা তোর মতো।"

"কয়েকদিন আগেই যে বললি দুটো লোক একরকমের হয় না।"
"কই, এরকম তো বলিনি কখনও।"

***

জলের ভেতরে নিঃশ্বাস নেওয়া যায় না। কিন্তু মেয়েটা পাশ দিয়ে চলে গেলেই আমি তার মিহি পারফিউমের আঁচ পাই। ভাবি, আমি পারি না, কিন্তু সতেরো হয় তো জলের মধ্যে থাকতে থাকতে রপ্ত করে ফেলেছে সেই আশ্চর্য কৌশল।

তাকে ভালো লাগে - কিন্তু কার ভালো লাগে সেই নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে যায়। জলের মধ্যে তার যাওয়া আসা যে মৃদু সুগন্ধপথ ধরে খুঁজে ফেলে, সে কী সতেরো? নাকি আমি? জলের বাইরে যার হাত আর স্বচ্ছ থাকে না। সেই অস্বচ্ছ হাতে তাকে ছুঁয়ে ফেলতে ভয় হয়।

কিন্তু একদিন তাকে ছুঁয়ে ফেলি।
বলি, একটা কথা বলতে চাই, আজগুবি লাগতে পারে কিন্তু একটু,
তোমাকে না, দেখতে ঠিক একের মতো ...