পাখি সিম্ফনি ও ক্যালাইডোস্কোপ

মেঘ অদিতি ও তমাল রায়




আর কিছু না-
তোমার চোখেও আছে সম্পূর্ণ দুপুর
এপ্রিল নামের সন্ধ্যা

অথচ ঈশ্বর জানেন
আকাশ থেকে বিরহ নামলে
কোন অন্ধতায় আমি এখনো
খুঁজে বেড়াই চাবি


মৃদু হাসি আড়াল করে রেখে গেলে আলো
বসন্ত এলে তোমার জানার বাইরে রইল
ফুল বিক্রেতার চোখ

বন্ধ দরজার ভেতর ভেতর ছড়ালো আলোর ফাঁদ
আমাকে দিলে তুমি বাহারি ক্যালাইডোস্কোপ
শিখেছো তুমিও কম ছল!

এবার আমাকে গিলে নিক রঙিন কাচ
মধ্যরাতের বসন্ত উৎসব।


কাঠপেন্সিলের গায়ে রেণু রেণু সকাল
পাখি নামে- এসব সকালের ইজেলে
একটু ডানা কাঁপা, একটু ঝাপটে ওঠা
আর ধোঁয়া থেকে ঝিকিয়ে ওঠা কফি

দেয়ালে রোদ মেখে তুমি হেসে ফেললে
দূরভাষে ভেসে আসে মন্টোভানির অর্কেস্ট্রা-
সাম ডে উই উই’ল মিট আগেইন..

তোমার মুখে পুরো ধুলোর আস্তর; ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট
বেজে চলেছে অর্কেস্ট্রা.. সাম ডে উই উইল..



কে যেন ভেতর থেকে ডাকে
বাইরে গরাদহীন জানলা
আমি আছি, এইটুকু জেনে শূন্যে ভেসে থাকে ‘ না’

যতিচিহ্নে গভীরতা, তোমাকে চিনেছে স্তব্ধতা
আমি জানি গ্রহন, বর্জন আর নিরাসক্তি, ক্ষমা..
সব আজ যোগীর ধ্যানের মতো
স্বরূপের বহু আগে
রোপিত হয়েছিল তোমার দু’চোখ

কে তবু বাইরে থেকে ডাকে!
যতদূর দেখা যায়- দিগন্তরেখায়
ঘুমের চিঠিরা যায় উড়ে..



কখনো ইচ্ছে করে চুম্বনের আগুন জ্বেলে পাখি উড়িয়ে দিই পৃথিবীর আনাচকানাচ। অবিরাম ধর্ষণের গায়ে এই যে কয়েদ হয়ে আছি; অথচ সেফ জোনে আছি ভেবে তুমি-আমি বোকার মত সঙ্গম করে চলেছি, এই কি জীবন?

এ্যাসাইলামে পাগলা ঘন্টি বাজছে। যে ভাষায় তোমাকে গুছিয়ে রাখতে যাচ্ছি, সেখানেই মৃতদেহ, আগুনে ড্রাগন। আমি কি আছি? লালের মাঝে, ডুবতে বসেছি। উঁহু ,শুধু রঙ ভেবো না। অত সারল্য নিয়ে পৃথিবী চলে না। দেখো আমাদের প্রতিটি অঙ্গ থেকে কীভাবে ঝরে পড়ছে লাল।

আর ওই এক ক্যালাইডোস্কোপ আমার হাতে ধরিয়ে তুমি ইঙ্গিত রেখেছো জানলায়।

জানলা খুললে কী দেখতে পাব? হাড়গোড়, টুকরো কাচ, বিপন্নতা? আমাদের অর্কেস্ট্রায় কখনো বাজবে না জয়গান, সরলতম মিলনের সুর? ফুলগুলো এখনো তো ফোটে!

বরং স্থির হই, তোমার নাম নিই গভীর প্রশান্তিতে। বন্ধ দরজা যত খুলে দিই। হৃৎপিণ্ডের লাবডুবে এবার তো পরাগায়ন হোক। শূন্যস্থান জুড়ে দিক পাখিদের ডানা।

অপহৃত সময়, আকাশের বিউগলে জেগে বলো, আছি...

****



যেখানে জলছাপ,আলো ও আঁধার,ঘুম ভাঙার পর জেগে উঠছে ছায়ারা,মেধাবী রোদ থেকে কিছু দূর বা কাছে,হেঁটে যাচ্ছে আমাদের পাখীজন্ম,ধুসর থেকে বর্ণিল বিচ্ছুরণে,ঘুম ভাঙছে এসো আলো,সহজ হও অনিমিখ সত্য উচ্চারণে।

ধর সে কোনো এক সন্ধ্যে যখন বিস্তৃত হচ্ছে নীলের পূর্ণ অবগাহনে, শান্ত সে অবসরে যন্ত্রণা আঁকছে ফুল, তোমারই শরীরে, বাতাস চলে যাবার আগে যেমন বলে - এ জীবন আদতে খুশীর, খুশীদের...গাছের পাতারা কেন জানি তোমার অনুভবে স্থির, রাত এলো মন্দ্রিত আকাশবাণী হয়ে-জেনো ব্যথা অনুভবই জন্ম দেয় অমূল্য মুক্তোর সৃষ্টির অথবা কবিতার, অ-পর ঝরে পড়ছে দিগন্তরেখায়... দূরের নদীতে তখন বক নামলো, একাই। যেভাবে শিল্প একার, যন্ত্রণার...

অন্ধ সে অন্ধকারে শব্দ হলো ফুল। ধর ফুলের বাগানে ঘুরতে গিয়েছো তুমি, ফুল খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে গেলে অপ্রস্তাবিত তেমন কোনো অন্ধকারে, অথচ অপেক্ষার সে শব্দঘরে এখন দুপুর জমে আছে হিমাঙ্কের কিছু নীচে, বাইরের মৃদু আলো আসলে আলো নয়, অন্ধতার প্রতিফলনজনিত কিছু কুড়নো নুড়িপাথর, সবুজ জমে আছে গায়ে...ক্যালেন্ডারে এপ্রিল আসলে আসলে তেমন কিছুর প্রতীক্ষা থাকে, অথচ সেই কাক ভোরে বেরিয়েও দেখো ট্রেনটা পৌঁছলো না কোথাও, একে কি বিরহ বলবে? নাকি অসমাপ্ত কিছু শব্দকোষ, অক্ষরের সাথে অক্ষর জুড়লেও যেখানে অর্থবহ কিছুই নির্মাণ হয় না আজও, অথচ বল শব্দই তো সে ব্রহ্ম, যে হাজার বছরের অন্ধতার পাহাড়কে ছুরি দিয়ে ফালা ফালা করে কেটে দিতে ভাস্কর্য গড়ে তোলে, তুলে আনে আলো, বন্ধ সে ছবিঘরে শূন্যতার চাবি ঘুরছে তুমি একটু একটু করে প্রকাশিত অথচ কাপ আর ঠোঁট, আলো আর প্রতিফলন, গান আর গায়কির মাঝে কি করে যেন শুয়ে আছে তোমার সমস্ত না পাওয়া ইচ্ছেরা...গড়িয়ে যেতে গিয়েও যারা থমকে দাঁড়িয়ে একচুল মায়া আসলে জুড়ে দিতে পারতো এ পথ, অথচ পারলো না, কেন জানিনা, তাই অসমাপিকা ক্রিয়ায় দাঁড়িয়ে আকাশ... মাটি ছুঁতে গিয়েও যে ছোঁয়া যাচ্ছে না...অথচ..

অনন্তপুর থেকে কিছুটা এগোলে যেখানে শীত খোলা রোদে উপুড় হয়ে শুয়ে, কি করে যেন দেখা হয়ে গেছিলো তিন বন্ধুর, আনন্দ, বেদনা আর শান্তির। না, ওরা কিছু বলছিলো না। চুপকথা গুলো ঝিল্লির মতই বুদবুদ হয়ে উড়ে যাচ্ছিলো কোথাও। আপাতত ওরা হাতে হাত ছুঁয়ে বসে, যেভাবে মৃতদেহ স্পর্শ করে থাকে স্বজন। বসন্তঋতু আগমনে কি করে যেন বিষাদ বিসমিল্লার সুর ভেসে আসছিলো দূরে অথবা কাছে কোথাও থেকে, যেন মনে কর এ কোনো অসুখ, গুটি বসন্ত থেকে প্রজাপতি রূপান্তরের মাঝে কি করে যেন থমকে গেছে সময়। ক্যালেন্ডারে গোল করে দাগানো তারিখ, দূরে পাতাদের আগমনের শব্দ ধ্বনি। এ আসলে অবয়বহীন কোনো শুক-সারির মৃদু গুঞ্জরন উড়ে যেতে গিয়ে ফ্রিজড...পোড়া গন্ধ পাও? সুখ উথলোলে যেমন দগ্ধতার চামড়া পোড়া গন্ধ! পাও? বল, পাও না? রিং হীন চাকা গুলো ধর তোমাকেই গোল করে ঘুরছে, রিং নেই তাই আকৃতি নেই, টেরা বাঁকা, থেঁতলে যাওয়া, যাকে তুমি বিশ্বাস বলে চিনতে সে যেমন থেঁতলে গেছিলো কোনো এক সকাল বেলায়, এর পর কর্পোরেশনের গাড়ি এসে যখন ধুয়ে দিচ্ছে পথ, গাঢ় লাল ফিকে হতে হতে গোলাপী, বসন্ত আকাশের নীল রঙ ছুঁলো জল, আর বাহারি বর্ণের বিচ্ছুরণে চোখ ধাঁধিয়ে গেল অজান্তে, বাগানে বাগানে তখন নামহীন সর্বনামের মোহ বিচ্ছুরণ, পাখীরাও ডাকতে ভুলে গেছে কবেই, দেখো তাকাও, কেন এ আঁখি আজও সজল, কালো শাপলার বেড়া ভেঙে যে ঝাঁপ দিতে প্রস্তুত কোনো মায়া মৃদঙ্গ সন্ধানে, ঠিক তখনই দেখো পুব আকাশের ওই কিনার বেয়ে সে উঠে আসছে একা, ডাকটিকিটের উড়ালে, সে হয়ত কোনো অপাপবিদ্ধ নওল কিশোর, হাতে উঁচু করে ধরে রাখা রডোডেনড্রন, পাহাড়কে অপারেশন বসন্ত ভেবে সে খুঁজে নিয়ে এসেছে স্রেফ তোমারই জন্য, আর বন্ধ দরজা ঠেলে কিছুতেই পৌঁছতে পারছে না তোমার আজন্মের তপস্যা, অত বাহারি আলোয় চোখ ধাঁধানো আঁধার আসলে তোমারই সকরুণ যাপন, ওকে কিছু অন্ধকার দিও, জল বাতাসাও। কিছু স্পেশ দিও, জাম্পকাটে বেলুন উড়বে দেখো ঠিক, কাচ কাচেদের ছলনা বিভ্রম থেকে দূরে, যদি পারো চিনো তাকে, হাত চিঠি দিও বা আড়ালে, হাতে নিয়ে নিজের আঁখি কেশ, গোপনে পাঠ কর মন্ত্র, দেখো আলো আসিতেছে, মৃদু অথচ সুবাসিত কোমল গান্ধার।

ভালো আর মন্দের কি করে যেন দেখা হয়ে যায় পাহাড়চূড়ায়, আর ওরা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে আত্মা বিনিময় করে, যেভাবে দিনের শরীরে রাত, আর রাতের শরীরে দিন, আর নীচে ভয়াল খাদ, সামনে সুউচ্চ বরফমোড়া সোনালী শৃঙ্গ। বৈপরীত্যের আসলে কোনো নির্দিষ্ট ঘর নেই, কেবল গলনাঙ্ক পেরোলে কি করে যেন দৃশ্যের জন্ম হয়...দূরে, কাছে...কুয়াশা সফরে তখন ভোর নামছে, উপত্যকায়...
এখন সকাল নামছে মৃদু আলোর পথ বেয়ে। ওই যে দূরের পেয়ারা গাছটায় এখন অকারণেই অনেক টিয়াপাখীর ঝাঁক। ঘুম যখন ভাঙে তখন ও স্লেটের মত অন্ধকারে ঢাকা ছিলো আশপাশ। তারপর আবার কখন ঘুমিয়ে পড়েছি। এই মাত্র সকাল হল। আর আলো, আলোরা হেঁটে হেঁটে আসছে কি মিষ্টি...একটু আগে চড়াইগুলো কাছে এসে হাঁটছিলো, যে ঘরে আমি থাকি, তার দেওয়ালগুলো খুলে নিয়ে গেছিলো কবেই কারা যেন। আর আমার আমার এই চৌকিটা যাতে শুয়ে তা যেন ঘন কোনো অরণ্যে পেতে রাখা, এমনটা হয় জানো কখনো, তোমার নির্দিষ্ট কোনো অক্ষরেখা নেই, দ্রাঘিমাও নেই, তুমি আছো সেটুকুই সব, আর সেই সবুজাভ অরণ্যে কখন যেন রাত এসেছিলো নিঃশব্দে, শব্দ বলতে কেবল ঝিঁ ঝিঁ ডাক। দু একটা ট্রি ট্রি পাখীর মাঝে মাঝে চীৎকার করে উড়ে যাওয়া ছাড়া সেই বিস্তীর্ণ অন্ধকারে আর কোনো শব্দই ছিলো না। এখন সকাল,আর দেওয়ালহীন ছাদহীন আমি দেখছি কি করে কেঁপে কেঁপে সকাল ঢেউ তুলতে তুলতে এগিয়ে এলো। এ অগ্রসরমানতার কোনো শব্দ ছিলো না, যেন তুলি দিয়ে রঙ চড়াতে চড়াতে কখন সাদা হয়ে গেল ক্যানভাস, ইজেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটা কালো বিন্দু, সে নড়ছে খুব ধীর...আর কি করে যেন আঁকা হয়ে যাচ্ছে ধোঁয়া...আলোর গায়ে রোদ্দুর পড়লে সে কি করে যেন বাস্প হয়েই ওঠে, নইলে চোখের কোণে কি যেন উঁকি দিচ্ছে অজান্তে...ওকে কি বলে ডাকি? কি? মিষ্টি বলব? ওমা কি করে যেন বিন্দুটা টের পেয়ে গেছে,আর ও হঠাৎ চলা শুরু করেছে...প্রথম ধীর...সরলরেখা বরাবর, আর ধীরে ধীরে ও কি করে যেন উঠছে নামতে শুরু করেছে দ্রুত...সুর শুনতে পাও? রিচার্ড ক্লেডারম্যান...দেখো লক্ষ্য কর, পিয়ানোর রিড গুল দ্রুত উঠছে...নামছে...আর হ্যাঁ...বিন্দু,থেকে বিন্দুরা ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত, নামছে, উঠছে...ছড়িয়ে পড়ছে মূর্ছনা...সুর...সুর...সুর... কখনো নিশ্চিত দেখা হয়ে যাবে আবার...ওই সাদা রিড গুলো সুখ, আর কালোগুলো দুঃখ...এখন ওরা হাত ধরেই হাঁটছে...মানে দেখা হবেই...হ্যালো...তুমি কি শুনতে পাচ্ছো???? মধুময় পৃথিবীর এই ধূলিকণা রাজ্যটি আমার। তুমি বললে তোমার...আর দেওয়াল হীন ছাদ হীন এই অরণ্যে কোথা থেকে সিঁড়ি নামিয়ে দিয়েছে সূর্য...আর ওই পথেই কি এসেছিলাম? প্রস্থান তবে কোন পথে? চোখ বন্ধ না করেই দেখতে পাচ্ছি অজস্র ধূলিকণা, ব্রহ্মান্ড বিন্দু...সাদা অথবা কালো...এরাই এরাই কি সংগঠন? এই মুষ্টি সমষ্টি হলেই কি প্রাণ এসে পৌঁছয় পৃথিবীতে...আর পাখী...আলো...ধুলিকণা...আলো ..অন্ধকার...দূর থেকে দেখছি বিশাল ইজেলে ছড়িয়ে যাচ্ছে গড়িয়ে যাচ্ছে বিন্দুরা...আর সুর...আহ বেঁচে থাকা।

ছেঁড়া জামার ও কিছু উপকথা থাকে, যেমন প্রতিটি বালিশের, আর দাগ, বেদাগ...জন্মদাহ কখন, জন্মদাগে রূপান্তরিত, তখন স্বপ্নের ডানায় অ-সুখ আসছে পর্যটনে, ছায়াদের তুমি নাম দিও রমলা, বা বিমলা, হা-ক্লান্ত যাপনেও যারা গোপন অথচ সুগন্ধী, লাইট-ক্যামেরা-একশন... আলো এভাবেই... আলো সরে যায় যেভাবে পর্দা, মুখ আলো আঁধারি, সেইভাবে ছায়াবাজি প্রবল সে সব দুপুর যখন হলুদ অধিকন্তুতে, আঁকা হচ্ছে প্রস্তর নির্মিত কোনো অ-সুখ বাতাস, কি করে যেন টুপ করে ছায়া ঢুকে পড়ে, জানো দুপুর জুড়ে, কেবল মায়া, মায়ারা, আর আয়না ভেঙে পড়ছে কোনো অজানা ভয়ে, তখন কি চোখের পাতা কাঁপছিলো? ক্রমাগত বেজে চলেছিলো ক্রাডলে রাখা ফোন? আর বাজতেই থাকছিলো, আর তখন বুঝি সেই বেড়ালটা আসে, পাঁচিল ডিঙিয়ে? আর কে যেন অপেক্ষায়...ভেতর ঘরে ডাক পড়েছে, বুকের কাছে মুখ গুঁজে মৃদু মিউ মিউ, সেই সব জানালাগুলোর গরাদ কে খুলে নিলো? আসলে কি এই মায়া, মোহ, সুখ দুঃখের জাফরি কাটা আলো ছায়ায় তখন এক্কা দোক্কা খেলছে, খেলে যাচ্ছে অসীম কোনো শূণ্যতা, যার রঙ পীতবর্ণ,পান্ডুর হতে হতে কেবলই মুখ ভেসে আছে, শরীর কই গো? শরীর? এরপর গ্রহণ আসবে, বর্জনও, তুমি কি সেই গ্রহণ বর্জনের পথের ধারে বসেই কুড়াচ্ছিলে কাঠ-কুটো, মাটি বা নুড়ি পাথর? সেখানে কি নুন ছুঁয়ে আছে, আর শ্যাওলা? সে সব দুপুর জুড়ে বৃষ্টি হত খুব, বৃষ্টি শেষে রামধনু দেখা দিলে, আবার শুরু সে সেতু নির্মাণপর্ব, রামায়ণে যেমন ছিলো, তবে সেতু আরোহণ পর্বের পূর্বে, কিছু বহ্নিশিখার সামনে দাঁড়াতেই হয়, পোড়াতে হয় একে একে প্রেম, প্রীতি, মোহ, মাৎসর্য, ঘৃণা ও ক্রোধ আর লোভ। লোভের জিহবা পুড়ে গেলে, একে একে আরো কত কি, স্মৃতি শৈশব মায়া,যা সাথে রইলো বহ্নিমানতা শেষে ফিনিক্স পাখীর ঠোঁটে বিশুদ্ধ বাইশ ক্যারাট শুদ্ধ,উঠে আসছে তারা। কেবল মৌন জ্ঞান, বুদ্ধ হয়ে ওঠা,তাকে যতি চিহ্নে চিনো। স্পষ্ট বিরত থাকো, আরও কিছু কাল, তারপর পা বাড়িও, নির্জনতা থেকে আরও এক গভীর নির্জন পথে...পথে যেতে দেখা হবে সেই সব আত্মাদের সাথে, ডাকটিকিটের গায়ে যারা রেখে গেছে চুম্বন স্মৃতিও আশরীর অবগাহন ময় সঙ্গীত, স্থির হও, দৃকপাত হোক সামনে, প্রসারিত ঘুম থেকে যতিচিহ্নে...অথবা পালকময় উড়াল... দেখো উড়ে যাচ্ছে ঘুম,পালক,আকাশ সাক্ষী থাক,উড়ে যাচ্ছে অবিরাম আনন্দঅশ্রুময় ঘুম উপত্যকায় তখন সন্ধ্যের ধুনি জ্বলছে,ধিকি ধিকি,ধোঁয়া দেখতে পাও? বল,পাও,প্রেম হে অনন্ত ঐশ্বর্যময় পরম? শুনতে পাও সেতু ডাকছে,বিচ্ছিন্ন টুকরো সময় জুড়ে আকাশ নির্মাণ হচ্ছে আলখাল্লায়, বাউল সন্ধ্যে আসছে যেন ধীর অরন্ধন রাত্রির আঁচলে...


প্রতীক্ষার ডানায় উড়ছে ঋতুযাপনের গল্পরা, নকশীকাঁথায় দুঃখ লেখা হলে, ব্লটিং শুষে নেয় বর্তমানের কাব্যকলা। কাতরোক্তি গুলো ছোটো টিলা হয়ে ছড়িয়ে নদীর দুপারে, দেখ এখানেই সুবর্ণরেখার জন্ম হয়েছিলো, এখন নেই, নেই আর আছের মাঝে পড়ে আছে বালির চর, জীবন যেমন থাকে, অবসন্ন, কিন্তু দাহ্যতা আবহমান...

চম্পাহাটি মোড় থেকে চব্বিশ মাইল গেলে, যে মোড়, তার থেকে উত্তরে গেলে ভগবানগোলা, ভগবান টগবান সব মিছে অথবা এনরমাস গোল, গোওওওল। শিরিষ গাছের নীচে, যেখানে মৃদু রাত উষার সন্ধানে ব্যাপৃত, সেখানেই দু:স্বপ্ন মন্থনে আন্দোলিত, ভোর স্বপ্নের মত লাজুক ও বোকা ছেলেটি আড়াই পাক না মেনে পূবের দিকে গেল, সে তোমার প্রেমিক। অথচ আপাত সেফ কলোকুয়াল পৃথিবীর বাসিন্দা তাকে চিনতে পারেনি, সে জল আঁকলে আঁকা হত নদী, বানভাসি দুকূল, সে আকাশ আঁকলে মেঘ জমত অঢেল, তারপর তো বৃষ্টি এলো আকাশ ঝেঁপে...ভিজে শার্সিতে ছাঁট লাগেনি তোমার? চুম্বন পৃথিবীতে তখন ঘোর শ্বাসকষ্ট, মৈথুনে প্রবেশিত বিপন্নতা, অথচ দ্যাখো তাম্বুল স্পর্শ করে ভুর্জপত্রে সে লিখে রাখলো তোমারই নাম,পাখী-ভোরে হরি নাম সংকীর্তন এর মাঝে লক্ষ্য স্থির অথচ অনিশ্চিত পদক্ষেপে সে খুঁজতে বেরুলো তোমায়, যেমনটা কলম্বাসের হয়েছিল
... উইন্ডোশপিং নগরীর সেই সব মায়া দ্বিপ্রহর জুড়ে তখন কি প্রবল আগুন, দাউ দাউ পুড়ছে ঘর-বাহির-উঠোন-চৌহদ্দি, রতি শ্বাসঘন সে ভোর রাতে আর ধীর শান্ত পদক্ষেপে উঠে বসলো রাঙামাটি লোকালে, সকাল কখন কল্মিশাক ছুঁয়ে,মাঠ-ঘাট-নদী-নালা পেরিয়ে যাবার সময় দুগগা দুগগা বলছিলো দুপুরের সূর্যমুখী, সে আশ্চর্য ভ্রমণে অতীত কি করে যেন পিছিয়ে যাবার আগে, বর্তমানকে ধরিয়ে দিচ্ছিলো উড়ন্ত ট্রেন হাতল, বিকেল যখন লাল রক্তিমাভা লজ্জ্বাবস্ত্র পরালো আকাশেকে ,লাল গড়িয়ে আসছে তোমার বন্ধ দরজার নীচ দিয়ে,সে বিষণ্ণ আলো-আঁধারিকে বাহারি রঙিন কাচে, আলো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে উৎসব আখ্যায়িত করতে যে চাইছিলো ঈর্ষার লোভাতুর সুরায়িত সে আঁখি আসলে সবুজ- ডাইন- সমরাস্ত্রমুখী প্রাচীন কলঙ্কিত যে কোনো পাপময় পাষাণী প্রাসাদের গ্র‍্যান্ড -মহাকাল। পারাবতপ্রিয় রুদ্ধতাকে অভিমান ভেবে সে প্রেমিক যখন গোধুলি আকাশের মেঘ চিহ্নদেখে রওয়ানা দিলো, তোমার উদ্দেশ্যে পেরিয়ে যাচ্ছে ট্রেন,সাথে নিয়ে আসছে নামক টাইম এসাইলামে কি করে যেন তখন পাগলাঘণ্টি বাজছে তুমুল, আগুণ না'কি অপ্রস্তাবিত সে পলায়ন রেখা যাতে না পেরোতে পারো,তাই স্বার্থসর্বস্ব পাগল বা কামুকের দল টেনে ধরছে পা, হাত, দাঁত এগিয়ে আসছে,দাঁত,উচ্চাভিলাষী সে অক্ষরেখায় বিপদ সংকেত বাজছে প্রবল আরোহণী...এক দুই তিন চার...অন্ধভিখিরির মত হাতড়ে হাতড়ে সে চিনে নিচ্ছে আলো, আলোর গা থেকে ছায়াদের উৎপাটিত করে রাজপথে সে কোন সন্নাসী উপগুপ্তর ন্যায় ধীর অথচ দৃপ্ত প্রশান্তিময় মুখে এগিয়ে চলেছে প্রেতযোনি ময় সে অন্ধ অন্ধতা থেকে শুধু তোমাকেই বিচ্ছিন্ন করতে,হে প্রেম,হে সুসংবাদ, হে আলো বিকশিত হও, দেখো এখনো পাখী ডাকছে,রামধনু আলোয় আবাহন করা হচ্ছে সে শক্তিকে, নারীকে, অসুর নিধনে প্রবেশ করছে মৃদু সুগন্ধি দেবীপক্ষ। মন্তেভানির সিম্ফনিতে আন্দোলিত ক্ষিতি অপ ব্যোম, দূরে কোথাও ক্যানভাস জুড়ে ঝরে পড়ছে শিউলি,কাশ আর পদ্মের মঞ্চে তখন দেবীবরণের প্রস্তুতি, হে মহাকাল শুনতে পাচ্ছো,অমানিশি অবসানে ইথার তরঙ্গে ভেসে আসছে-বাজলো তোমার আলোর বেণু...

শ্মশানের পাশেই কি করে যেন বয়ে যায় নদী, শেষ অথচ বহমান এ সত্যই কি জন্মান্তরে আবহমান বহ্নিশিখা? বহ্নিশেষে পড়ে থাকে ছাই! নৈর্ব্যক্তিকে যাকে তুমি বিষম ও ত্রিভূজে চিনেছ,পাখীজন্ম শেষে পড়ে থাকে পালক,চেয়ে দ্যাখো, রঙ উড়ে যাচ্ছে, শেড, ঘুম-ঘুম অনিত্য থেকে বারান্দা দোলাচল, অন্ধতা শেষে, আলো, ছায়াপথ কি করে গ্যালাক্সি...উপসংহারে লেখা রইল, স্থির হও, আঁখি মুদ্রিত। বুদ্ধ যেভাবে জন্মায়, হীনতা থেকে গ্লানি ছুঁয়ে প্রশান্তি টার্মিনালে।