জীমুত, তোমাকে ভেবে

সাঈদা মিমি ও ম্যারিনা নাসরীন



০১
জীমূত
তোমাকে হারিয়েছি, পথশ্রমে
উদভ্রান্ত
তীর
হৃদপিণ্ডে লক্ষ্যভেদী...
তীর্থে পেরুলো স্পর্শলোভী
যৌবন-
অভাবী জরা বৃষ্টিশূন্য শোকে টলমল
জীমূত,
ফেরাতে না পারো বয়স
ভালোবাসা
ফিরিয়ে
দাও
ভোররাতে!
পরানে
সুখের শেষ
তারপর
শবের কাফন হবে মৃত প্রেম।

০২
সাকিবা বললো, তুমি বদলেছ?
কি রকম
জানতে
প্রবৃত্তি হয়নি।
লম্পটের বদলে যাওয়ার ইতিবৃত্ত
সাকিবার কাছ থেকে
শুনতে হবে কেন? বেচারী সাকিবা-
সুদর্শন ফোবিয়ায় ভুগে ভুগে
তোমাকে
ভালোবাসতে
বাসতে
অবসন্ন আজ;
অনামি পোড়া সাকিবা
কতটাই বা বুঝবে তোমার
ওরকম
বদলে যাওয়া
আমার মতন?
আমিতো
অস্হি মজ্জায়
হৃদয়ে হৃদপিন্ডে
চলমান রক্তস্রোতের
ধমনী ছুঁয়ে
ছুঁয়ে
দেখেছি
তোমার নির্মাণ।
০৩
ঘুম আসছে না—
উদভ্রান্ত সাকিবা
কেমন তেড়ে এসেছিল
জনস্রোতে
হারিয়ে যাবে বলে! কি অপার্থিব ভয়ংকর তার
ছুটে চলা
জীমূত,
জীবন শুরুতে তোমার আমার
সংসারের গাঁথুনি নির্মাণে
কতো
দিন
রাত
সজীব উদ্দাম বাঙ্ময়...
একযুগ পেরুলো কি?
দীর্ঘশ্বাস
মরে গেছে
নিষ্পেষনে,
পরাবাস্তব
কাতর
অন্বেষায়...
অবিস্মরণীয় দিন রাত্রির
মাসগুলো
বছরগুলো যেন রূপকথার ধবল পঙ্খীরাজ;
তেপান্তর পেরিয়ে আম্রকানন-
অতলান্তিক থেকে সুমেরু পর্বত,
হায় জীমূত,
কিই বা করার
যদি
ভালোবাসা ফিকে হয়
ঘৃনায়
ধূসর কার্তিকে...
আমি থেমে থাকিনি জীমূত,
প্যানডোরার বাক্স খুলে
উপচে পড়া
শেষ আয়োজন
" আশা "
একবারও কারো হাত আঁকড়ে বলিনি,
পারছি না!
বলিনি, কারন-
আমি চলতে চেয়েছি একা; সহস্রসিদ্ধতায়...
পেরেছি জীমূত,
তুমি বিহীন আমি বাঁচতে
নির্লিপ্ত অহংকারে।
***


মীনা বাজারে সেদিন খুব ভিড় ছিল। কাউন্টারে লম্বা কিউ। আমার সামনে বেশ কজন বিদেশিনী। সম্ভবত কোরিয়ান। ট্রলি ভর্তি বাজার। ভেজিটেবল, ফ্রুটস আর ফ্রোজেন খাবার বেশী। আমার সিরিয়াল আসতে দেরী হবে। মোবাইলে চোখ রেখে ফেসবুকের নিউজ ফিড স্ক্রল করে যাচ্ছিলাম। মনে হলো কেউ নাম ধরে আমাকে ডাকছে।
লাইনের দুজন পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ভদ্রমহিলা। ক্ষীণদেহী। চোখের নীচে ছাই রঙের পুরু শ্যাডো। আসলে সেটা শ্যাডো নয় ক্লান্তির ছাপ। কাঁচা পাকা বব কাট চুল। দাঁড়ানোর ভঙ্গি কিছুটা কুঁজো। পোশাক আশাকে অগোছালো। আমি কি তাঁকে চিনি? জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালাম।
চিনতে পারছ না? আমি সাকিবা।
সাকিবা? মাত্র ছয় বছরে কোন মানুষের চেহারায় এত পরিবর্তন আসে ওকে না দেখলে বুঝতাম না। হুড়মুড় করে রাজ্যের স্মৃতি আমার মনের ফিতায় ডিসপ্লে হতে থাকে।
জীমূত, কি অদ্ভুতুড়ে নাম! আমার মনে আছে, ভার্সিটিতে ছেলেটার সাথে পরিচয়ের প্রথমদিনই কথাটি বলেছিলাম আমি। ছেলেটি শান্ত স্বরে আমার কাছে জানতে চেয়েছিল ‘জীমূত’ শব্দের অর্থ আমি জানি কিনা। এইচএসসিতে বাংলায় লেটার পেয়েছি । কবিতার খেরো খাতায় বেশ কিছু কবিতা জমা হয়ে গিয়েছে ততদিনে। স্মৃতির ভাণ্ডারে স্তুপীকৃত বাংলা শব্দ নিয়ে অহংকার কম ছিল না। কিন্তু তন্ন তন্ন করে খুঁজেও আমি সে ভাণ্ডার থেকে শব্দটি বের করে আনতে পারলাম না। সন্দেহ হল, এই ধরণের শব্দ বাংলা অভিধানে আছে কিনা। তবে সেদিকে না গিয়ে বেশ উঁচু গলাতে বললাম, আগেতে দর্শনধারী পরেতে গুণবিচারী। শ্রুতিমধুর যদি না হয় অর্থ জেনে কি হবে? এবারেও ও রেগে গেল না। বলল ঘরে ফিরে যেন আমি বাংলা অভিধান খুলে শব্দটির অর্থ দেখি। সত্যি আমি দেখেছিলাম, জীমূত অর্থ মেঘ বা পর্বত। তবে ওর ক্ষেত্রে মেঘটা অ্যাপ্রপ্রিয়েট।
জীমূত নাম শব্দ হিসেবে সুন্দর নাকি অসুন্দর সেটা হয়ত বিচার যোগ্য কিন্তু এ নামের অধিকারী ছেলেটার সৌন্দর্য ছিল সকল সন্দেহের ঊর্ধ্বে। ও এত সুন্দর যে, দুই একটা কথা বলার পরেই আমার খুব ইচ্ছা হয়েছিল ওর কপালের উপর থেকে এলেমেলো চুল গুলো যত্ন করে সরিয়ে দেই। রুচি বলছিল ওর মনেও নাকি এমন ভাবনা এসেছিল। ও সাহস করেনি, আমি সাহস করেছিলাম। আমাদের ক্লাসের প্রায় প্রতিটা মেয়ে মনে মনে জীমূতের প্রেমে পড়েছিল। সুতরাং ক্যাফেটেরিয়া বা সিনেমা হলে ওর পাশের সীট দখলে রীতিমত প্রতিযোগিতা চলত। ধীরে ধীরে আমি পিছিয়ে পড়েছিলাম বা হয়ত সেটাই ছিল এগিয়ে থাকা। সবথেকে দূরের সীটে বসতাম। অয়ন, সাব্বির বা শম্পা যে কারো পাশে। তুমুল আড্ডার মধ্যমনি জীমূত, কিন্তু আমি কেন্দ্রীভূত অন্য কারো সাথে। বিষয়টা কি জীমূতের ইগোতে আঘাত করেছিল ? হবে হয়ত। নয়ত কেনইবা ও নানান ছুতোয় আমাকেই কাছে টেনে নিতে লাগলো। এভাবেই ও আমাকে এত কাছে নিল যে আমাদের মধ্যে আর কোন স্পেস ছিল না।
অজস্র মুহূর্ত আমরা লিখে দিয়েছিলাম সময়ের গায়ে। সেসব দ্রুতগামী সময়ের গল্প ছিল উন্মাতাল আর টরেটপ্পা গানের। অচিরেই টেবিলের দু’ধারের দুটো মধ্যমা মিতালী করতে শিখে গিয়েছিল। কাঁটা চামচের টুংটাং রিদমের সাথে অন্তরালের চার পায়ের ছোঁয়াছুঁয়ির খেলাও জমে উঠেছিল সাড়ম্বরে। কিন্তু ওটুকু স্পর্শে ওরা তৃপ্ত নয়। তারা একসময় বেপরোয়া হয়ে উঠল। রেস্টুরেন্টের কোণে থামের আড়ালের টেবিলটি জুটিদের কাছে সবথেকে আকর্ষণীয় ছিল। খালি পাওয়াই মুস্কিল। একদিন ঠিক দুপুরে টেবিলটি খালি ছিল আর রেস্টুরেন্ট ক্লায়েন্ট শূন্য। সেদিনই ওর পুরুষ ঠোঁটের আমন্ত্রণে মেয়ে অধরটি প্রবল ভাবে কেঁপে উঠেছিল। কি যে আগুন ছিল সেদিনের সেই আমন্ত্রণে যে পুরো শরীর জুড়ে দাউদাউ করে জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যেতে লাগলো। ক্রমান্বয়ে আমার অস্থি মজ্জায় ওর নির্মাণ চলতে থাকে। আমারই ধমনীতে বয়ে চলা রক্তের চলমান স্রোতে জীমূতের নাম মিশে যায় ।
জীমূতের বাবা চিটাগাং শহরের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। রুলিং পার্টির নেতা। দেদার টাকার মালিক। এমনটাই ওর কাছে শুনেছিলাম। ছেলের আরাম আয়েসের জন্য কোন ত্রুটি রাখেননি তিনি। ভার্সিটির কাছে দুইরুমের একটা এপার্টমেন্ট ভাড়া করে দিয়েছেন। রান্নার জন্য এবং ছেলের সেবার জন্য মা বাড়ি থেকে লোক পাঠিয়েছেন দুজন। পুরো একটা সংসার। ওর নির্জন ঘরের নেশায় আমরা প্রায়ই দুপুরকালীন সময়গুলোর ক্লাস ফাঁকি দিতে শুরু করেছিলাম। আমার বাবা মা ছিলেন ভিন শহরে। মায়ের সাথে প্রতিদিন ফোনে কথা হতো। জীমূতের বুকে শুয়ে কতদিন মাকে নির্দ্বিধায় বলে দিয়েছি , মা আমি একটা নোট লিখছি পরে ফোন ব্যাক করব। যে তিনজন সিনিয়র আপুর সাথে উত্তরায় পার্টনারশিপে বাসা নিয়েছিলাম তাঁরাও যার যার প্রাইভেসিতে দারুণ বিশ্বাসী ছিল। সুতরাং আমাকে সাবধান করার জন্য আমি ছাড়া আর কেউ এই শহরে ছিল না। এক মেঘলা সন্ধ্যায় যখন জীমূতের বেষ্টনী থেকে মুক্ত হয়ে আমি ঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আমার গ্রীবায় নাক ডুবিয়ে খুব আহ্লাদ করে ও বলল, প্লিজ আজকের রাত এখানে থেকে যাও।
মুহূর্তখানি ভেবে বলেছিলাম, যাও থেকে গেলাম।
ন্যায় অন্যায়, পাপ পুণ্য, কোন ভাবনাই মনে আসেনি। সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে শুধু জীমূত। আমাদের যৌথ দিনগুলো যেন রূপকথার ধবল পঙ্খিরাজ। আর রাতগুলো রেসের ঘোড়া। লাগামহীন ছুটে চলতে থাকে তেপান্তর থেকে তেপান্তরে।
অপটু হাতে দুরুমে আমার রাজপাট সাজালাম। ঘরকন্নার একাগ্রতায় ভার্সিটি আমার কাছে গুরুত্বহীন হয়ে গিয়েছিল। মনে হয়েছিল এই ছয়শ বর্গফুটে আমার পুরো দুনিয়াদারী। বর্তমান, ভবিষ্যৎ। রান্না ঘরের নুনের কৌটা থেকে শুরু করে ব্যলকনির বারান্দার মানিপ্ল্যান্ট পর্যন্ত প্রতিটি অণু পরমাণুতে আমি রেণু রেণু ভালবাসা ছড়িয়ে দিয়েছিলাম। ঘর দোর জুড়ে অদ্ভুত একটা ঘ্রাণ ছিল। প্রাগৈতিহাসিক কালে ফেলে আসা বুনো বাঁশ পাতার মত । মাদকতায় ভরা। বুঁদ হয়েছিলাম। কখনো মনেই আসেনি এই ঘরের ভিতটাই অন্যের নামে। আমি আগাছার মত শুধু বেড়ে উঠছি। ডাল পালা ছড়িয়ে যাচ্ছি অনধিকার চর্চায়।
ভার্সিটিতে বন্ধুরা কানাকানি শুরু করেছে। রূহানী একদিন বলেই বসল, তুই এটা ঠিক করছিস? কনসিভ করলে জীমূত স্বীকার করবে? ঠোঁট উল্টে জবাব দিলাম, না করলেইবা কি! সাব্বির খুব কঠিন ভাবে হুশিয়ার করেছিল, আখের ছোবড়া চিনিস? দু’দিন পর জীমূত তোকে ছোবড়ার মত ফেলে দেবে দেখিস। বিয়েটা করে ফ্যাল। ওকেও কঠিনভাবে বলে দিলাম, নিজের চরকায় তেল দে। জীমূতকে আমি কখনো বিয়ের কথা বলিনি। বিয়ে তো একটা কাগজের দলিল মাত্র। মনের বন্ধনের কাছে সে নস্যি নয় কি! ভালবাসার সাথে তার সম্পর্ক কোথায়? - এমনটি ভাবনা ছিল আমার। দুর্দমনীয় অহমে সমাজ, সংস্কার সবকিছু পায়ে দলে চলে যেতে চেয়েছিলাম।
একদিন সন্ধ্যায় আচমকা মা বাবা হাজির হলেন। কে বা কারা তাঁদেরকে আমার বর্তমান অবস্থানের খবর পৌঁছে দিয়েছে। আমার শিক্ষক বাবা ছিলেন তাল পুকুরের মত গভীর আর শান্ত। কিন্তু সেদিন প্রচণ্ড ক্রোধ আর অভিমানে তার মুখের প্রতিটি রেখা বদলে গিয়েছিল। মা আমাকে ঘরের এক কোণে ডেকে নিয়ে বললেন, বিয়ে ছাড়া এভাবে কোন পুরুষের সাথে বাস করা মেয়েদেরকে আমাদের সমাজে কি বলে জানিস? পারলে জেনে নিস। মাত্র পনের মিনিটে তাঁরা আমাকে চিরতরের জন্য ব্যান করে চলে গেলেন। এক দলা কষ্ট বুক ঠেলে গলা অবধি উঠে এসেছিল, সবার অলক্ষে গিলে ফেললাম।
এর কয়েকদিন বাদেই জীমূতকে বদলে যেতে দেখলাম। অথবা ও হয়ত ভাল হয়ে থাকার অভিনয় ছেড়ে দিয়েছিল। আমার সংস্পর্শ ওর শরীর মন কোথাও আর উষ্ণতা ছড়াতে পারছিল না। ক্রমেই ভালবাসার জ্বর সেরে আমাদের শরীর বোধ হল শীতল হয়েছে। দ্রুত গতির রেসের ঘোড়া প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। রূপকথার পঙ্খিরাজের ডানা কেটে ফেলেছে কেউ। ওরা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে থাকে। ফলে খুব দ্রুত আমাদের মধ্যে স্পেস বাড়তে লাগলো। একই বিছানায় দুজন মানুষ দুটি দ্বীপের মত মাঝে অসীম জলরাশি। আমাকে একটা ভয় শঙ্কা পেঁচিয়ে ধরল। যে কাগজটির কোন মুল্যই আমার কাছে ছিল না সেটির প্রয়োজন বোধ করলাম। মায়ের সেই কথাটি মনে হল। আমি আসলে জীমূতের কে? জীমূতকে বললাম, চল আমরা বিয়ে করি। ও অশ্লীল ভঙ্গীতে ভেংচি কাটল, এতদিন বিয়ে না করেই আমার সাথে শুয়েছ আরও কিছুদিন নাহয় থেকে যাও।
জীমূতের শরীরী ভাষা বদলে গিয়েছিল। ওর ভেতরের অন্ধকার রূপ আমার সামনে উন্মোচিত হতে লাগলো। ও বহুগামী ছিল। এবং ওর পিতা কয়েকজন স্ত্রীর স্বামী ছিলেন। তিনি চিটাগাং নয়, দুবাই প্রবাসী ছিলেন। জীমূতের মাকে তিনি পরিত্যাগ করেছিলেন। তবে জীমূতকে প্রতিমাসে মোটা অঙ্কের দিরহাম পাঠাতেন। ওর বাসার রান্নার ছেলেটি এসব আমাকে জানিয়েছিল। যে ঘর গেরস্থালির মোহে আমি আমার লেখাপড়া লাটে তুলে দিয়েছিলাম সেই রাজপাট আমার কাছে বন্দী শালা হয়ে উঠল। কিন্তু যাবার জায়গা ছিল না। এই সমাজে মেয়েদের যাবার জন্য কটা জায়গাই বা থাকে। বাবা মায়ের কাছে ফিরে যাবার মুখ নেই। প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতাম, ফিরতাম সন্ধ্যায়। যে কোন ধরণের একটা চাকরি আমার দরকার ছিল আর একটা থাকার জায়গা।

জীমূতের মোবাইলের টেক্সট দেখে আগেই নিশ্চিত হয়েছিলাম ওর জীবনে আমার জায়গায় অন্য কেউ ইন করেছে। একদিন দুপুরে ঘরে ফিরে দেখলাম ওর বুকে শুয়ে নিঃসাড় ঘুমিয়ে আছে মেয়েটি। মেয়েটিকে আমি চিনি। সাকিবা। আমাদের ব্যাচের। ট্রিপল-ই ডিপার্টমেন্টে পড়ে।
আমি যখন ওর ঘর ছেড়ে চলে আসি তখনও ওরা বেঘোরে ঘুমোচ্ছিল।
সাকিবা কি এখনও জীমূতের সাথে আছে? প্রশ্নটি করা ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছি না।
সাকিবা নিজেই বলে,
আমার অবস্থা দেখে অবাক হয়েছ? প্যান্ডোরার বাক্স থেকে সবশেষে উপচে পড়া “আশা” টুকু তুমি পেয়েছিলে আমি পাইনি। সবাই কি সবকিছু পায় বল? জীমূত এতটা বদলে গিয়েছিল যে মাত্র ছয়মাসে আমাকে ব্যবহার করা টিস্যুর মত ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল। জানো, আমি এখনো রাতে ঘুমাতে পারি না।
সাকিবা এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে জবাবের অপেক্ষা করে না। অনেকটা চাবি দেওয়া পুতুলের মত হেলেদুলে হেঁটে চলে যায়।
অনামি পোড়া সাকিবা
কতটাই বা বুঝবে তোমার
ওরকম
বদলে যাওয়া
আমার মতন?
আমিতো
অস্হি মজ্জায়
হৃদয়ে হৃৎপিন্ডে
চলমান রক্তস্রোতের
ধমনী ছুঁয়ে
ছুঁয়ে
দেখেছি
তোমার নির্মাণ।