শব্দে ফিউশন

বারীন ঘোষাল ও স্বপন রায়



হরিণ বেচারা

পর কলানো জল
হাইড-আউট থেকে ওয়াটার-হোলে
চেম্বার্সের চাঁদ
খাচ্ছে হরিণটাকে আতসহারারা


ভাবী ও ভাবী
ট্রাউজারের ভেতরে একজঙ্গল
টেনে ধরছি সৈনিকটাকে
ভাবীজীর ছবিটি দেখিও
লারেলাপ্পা গানান মৃতদের

শব্দে ফিউশন

এই যে আমি অণু ফনু কবিতা লিখছি
মানবিক পারমানবিক ঘোলানো শব্দদের
নিউট্রন অক্ষর
গুলিগুলো ফাটবেনা তো



১.

চাঁদ, চাঁদের ডিম! ডিম হল কুসুমের প্রস্তাবনা,ডিম নয়, ডিমের খোলস।এর ভেতরে
কুসুম, কুসুমের মন, যা ডিমের সঙ্গে চাঁদের তুলনামূলক আলোচনায় গা ছেড়ে দেয়,চাঁদ উঁকি মারে গোপন ডেরায়!

‘ I saw it, but I did not see within it…’ (inferno/ canto-xxi)
চাঁদ, পাপস্য পরীবেদনায় একটু যেন ‘তোমায় দেখে ফেলেছি’ টাইপের!পরী নাম যখন, দেখার আর কি আছে!পরী কুসুমের খোলস নয়, কুসুম পরীর বেদনা নিতে নিতে ভায়া মানিক, ভায়া ভার্জিল ন’পাক ঘুরেও নাপাক থেকে গেল! ‘মন নাই’ ব’লে থেকে গেল আমাদের ডিমগ্ন চাঁদ দেখা ঘরে, আমাদের ত্যানারিমার্কা হাইডআউটে!

এবার হরিণ দেখে সে!জল পড়ছে না খসছে? কুরঙ্গনয়নার গামিনীপ্রভাবে দাঁড়িয়ে যায় রোম, রোমের সাম্রাজ্যে থাকা পতাকাদণ্ডটি! বৌদিকে বলে, যাই!
বাইকের চাবি বাড়িয়ে দেয় বৌদি, ‘ইহাঁ কাল ক্যা হোগা কিসনে জানা..’ গাইতে গাইতে দেওর ফুড়ুৎ....
কাল পুরা রামায়ণ হোগা, সে কি জানিত না?

চেম্বার চেম্বারস... শুবার্ট-এর ‘কুইনটেট ইন সি’র সঙ্গে বাইফোকাল চ’লে যাচ্ছে, কামরায় নিরীক্ষাযৌন আলো, সেখানে পরী বা কুসুম! চাঁদ ঢালছে পারফেক্ট সিনট্যাক্স, পিছু নেয়া দিওয়ানা দেওর এখন উঠবে, পতাকা ওড়াবে সীমানা পেরিয়ে!চেম্বারে যারা গাইতো তারা ব্যবসা না বুঝে কি করলো? পরী বা কুসুম’কে তারা যে রাস্তায় নিয়ে যাবে ভেবেছিল, যে রাস্তার আছে চেরাকামুক সিঁথি, জঙ্গলের দ্রুতিম হরিণ, তারা শধু বাজিয়ে দিল, ব্যস?

হরিণের মাংস খেলোনা?

২.

যুদ্ধ
যুদ্ধ আর অপরাধ
যুদ্ধ, দেশপ্রেম, মিডিয়া
সৈনিক
বাড়িতে শুকনো পাতার অপেক্ষা, ওড়ে!

যুদ্ধঃ ১.তারা ঢুকে এল, মারলো ২.আমরা ঢুকে গেলাম, মারলাম!
অপরাধ আর কি বা হ’লেই বা কি?
‘I don't think necessity is the mother of invention - invention, in my opinion, arises directly from idleness, possibly also from laziness. To save oneself trouble.’
আলস্যে ছিলাম তাই ঢুকে এল, ওরা অলস ছিল আমরাও ঢুকে গেলাম!যুদ্ধ এ ভাবে হয় নাকি, ক্রাইমের ডিসেকশন হতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ? আগাথা ক্রিস্টির সঙ্গে কফিতে তর্ক হল, কাফি! মৃত সৈনিকদের আমরা শ্রদ্ধা জানালাম! একমত হলাম যে যুদ্ধে অলস হ’লে চলবে না, যুদ্ধ আলস্যের আরাধ্য নয়, স্যান্ডউইচ যেমন!

মৃত সৈনিকের ছোঁয়া পেয়ে চিঠির গায়ে রাখা ছবিটি বিধবা হতে থাকে!যুদ্ধের দুটো রঙ, লাল আর সাদা!আমি দেশ দেখি, প্রেম দেখি, ক্যমেরা ঘুরতে থাকে, চিঠ্‌ঠি আঈ হ্যায়, আঈ হ্যায়, চিঠ্‌ঠি আঈ হ্যায়....তাতে ধুলো আর বৃষ্টির ছাঁট ক্রিসক্রস করে...ভাবীজির ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে সেনাবাহিনীর কেউ কেউ....ক্যমেরা ধরতে চায় উড়ন্ত চিঠি...দেওর বাইক থেকে নেমে ছুটে যায় পরীর দিকে....পরীকে সত্যিই মনে হয় ডানাকাটা...রক্তাত্ত...

আগাথা ক্রিস্টির অভনয়ে পরী আর পরীর চরিত্রে কুসুম!আগাথা এরপরে যুদ্ধ আর অপরাধ নিয়ে লিখবে! ‘Kill one man, and you are a murderer. Kill millions of men, and you are a conqueror. Kill them all, and you are a god.’(Jean Rostand / thoughts of a biologist)….পরী ভাবলো, কুসুম ভাবলো না!কুসুমকে তো এই প্রশ্নই করা হবে, শরীর শরীর, তোমার মন নাই কুসুম?

মিডিয়া শরীর চায়, মাঝে মাঝে খায়!কালকের শিডিউলে শুধু মিডিয়া! শরীর যুদ্ধের কাছে হেরে যাচ্ছে, মিডিয়া বেরিয়ে আসছে গোয়েবেলস-এর হাঁ থেকে, ভাগ্যিস ব্যাটার জটা ছিল না!কাল পরী একবার আগাথা হবে, একবার কুসুম....

কাল মৃতদেহে ফুল দেওয়া হবে!গান-স্যালুট!

কেঁপে উঠবে বিধবারা, মনে রেখো, শুকনো পাতা ওড়ার সময়...

৩.

হেনরী স্টিমসন হনিমুনে যাবে ক্যুয়েটো! সেক্রেটারি অফ ওয়ার ব’লে কথা!তার নির্দেশে ক্যুয়েটো থেকে দ্বিতীয় এটম বম্ব্‌ ফেলার জন্য বেছে নেয়া হল নাগাসাকি!
‘oh, where have you been, my blue-eyed son?
And where have you been my darling young one?
I’ve stumbled on the side of twelve misty mountains
i’ve walked and i’ve crawled on six crooked highways
i’ve stepped in the middle of seven sad forests
i’ve been out in front of a dozen dead oceans
i’ve been ten thossand miles in the mouth of a graveyard
And it’s a hard, it’s a hard, it’s a hard, and it’s a hard
it’s a hard rain’s a-gonna fall...’
হনিমুন বাঁচিয়ে দিল আর হনিমুনই মেরে ফেললো! বব ডিলান যতই গেয়ে থাকুন, ‘it’s a hard rain’s a-gonna fall..’ আমরা গা গরম করি নিউক্লিয়ার বোমার আগুনে! একটা মোটামত নিউজ অ্যাংকর’কে চেঁচাতে দেখে ডোডো প্রায়শই জিগগেস করে, বাবা লোকটা চেঁচায় কেন এভাবে,ওর বাবা ওকে বকেনা?
বাবা হাসে! দেশপ্রেম জাপানীদেরও ছিল, আছে! তবে ওই ‘hard rain’ এর পরে গুণগত পার্থক্য এসেছে, আগে যে শাসকরা ছিল উদ্ধত, চীৎকৃত তারাই এখন হিরোশিমার জাতীয় ফুল করেছে ওলিয়েন্ডার’কে! পারমানবিক বিস্ফোরণের পরে জন্মে ওঠা প্রথম প্রাণ!

একটি বা আরো বেশি ইলেকট্রনের আদরে থাকা অ্যাটমের নিউক্লিয়াস কেন এক বা ততোধিক প্রটোন এবং একই হারে থাকা নিউট্রনের ফেসভ্যালু এ নিয়ে পাঠককে বোর করবো না! কবিতার উৎসে যেন ঘৃণার ঘেন্না না থাকে, থাকলে বিস্ফোরণ হতে পারে! যদিও বেঁচে থাকা মৃত্যুর চেয়ে বড় নয়, তবে মৃত্যু এক কঠিন বর্ষার রসায়নে এলে খুব একটা শ্যাম-সমানও হবেনা!

হেনরি স্টিমসন তার ছেলেদের কি বলে ডাকতো, লিটল বয় না ফ্যাট ম্যান? অনেক পরেও মেঘ দেখলে তার গা গুলিয়ে উঠতো না, কারণ ক্যুয়েটোয় কোন মেঘই ছিলনা সেদিন! রসায়নিক বৃষ্টি তাকে ছুঁতে পারেনি!
সে সেক্রেটারি অফ ওয়ার ছিল!
সে হনিমুনে ছিল!

আর ‘এনোলা-গে’ নামের সেই এয়ারক্র্যাফটে রাখা ছিল বারোটা সায়নায়েড ক্যাপসুল! এটম বম্ব্‌ ফেলতে গিয়ে যদি কোন গোলমাল হয় তাহলে বারো জন পাইলট সায়নায়েড ক্যাপসুল খেয়ে ভেসে যেত চিরনিদ্রার দেশে!

হলে, শুধু বারো জন মারা যেত!
না হওয়ায়, মারা গিয়েছিল এক লক্ষ বিরানব্বই হাজার!
না হওয়ায় মরে বেঁচেছিল আরো কয়েকলক্ষ!

যাদের আমরা মানুষ বলি.....